Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:১১ অপরাহ্ণ

আর এস খতিয়ান অনুসন্ধান - অনলাইনে খতিয়ান বের করার নিয়ম, ফি ও সার্টিফাইড কপি ২০২৬

জমি কেনা-বেচা, নামজারি বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা প্রমাণ — সব ক্ষেত্রেই প্রথমে দরকার হয় খতিয়ান। আর এখন ঘরে বসেই অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান (RS khatian online search) করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পর্চা পোর্টাল dlrms.land.gov.bd-তে গিয়ে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা বাছাই করে খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিলেই খতিয়ানের তথ্য দেখা যায়। এই গাইডে জানুন — আর এস খতিয়ান কী, অন্যান্য খতিয়ানের সঙ্গে পার্থক্য, ধাপে ধাপে অনলাইন অনুসন্ধানের নিয়ম, সার্টিফাইড কপির আবেদন ও ফি, খতিয়ান পড়ার নিয়ম এবং ভুয়া খতিয়ান চেনার উপায়।


সবুজ ফসলের মাঠে জমির প্লট — খতিয়ানে প্রতিটি দাগের মালিকানা ও পরিমাণের রেকর্ড থাকে

খতিয়ান কী

খতিয়ান হলো জমির মালিকানার সরকারি রেকর্ড। সহজ ভাষায় — কোন মৌজায়, কোন দাগে, কতটুকু জমি, কার নামে রেকর্ড আছে, জমির শ্রেণী কী, খাজনা কত — এই সব তথ্যের লিখিত দলিলই খতিয়ান। একে অনেকে পর্চা (porcha) নামেও চেনেন। ভূমি জরিপের সময় মৌজার নকশা তৈরির পর খতিয়ান ফরমের প্রতিটি কলাম জরিপ কর্মচারীরা পূরণ করেন — এই প্রক্রিয়াকে বলে খানাপুরি।

আর এস খতিয়ান কী

আর এস (RS) মানে Revisional Survey বা সংশোধনী জরিপ। ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ আইনের পর প্রস্তুত এস এ খতিয়ানে অনেক ভুলত্রুটি রয়ে গিয়েছিল, কারণ তখন জরিপ কর্মচারীরা মাঠে না গিয়েই সি এস খতিয়ান সংশোধন করে খতিয়ান তৈরি করেছিলেন। সেই ভুল দূর করতে সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে জমি মাপজোখ করে পুনরায় যে খতিয়ান প্রস্তুত করে, তাই আর এস খতিয়ান নামে পরিচিত। সরকারি আমিনরা মাঠে গিয়ে সরাসরি জমি মেপে এই খতিয়ান তৈরি করেন বলে এতে ভুলত্রুটি তুলনামূলক কম। দেশের অনেক এলাকায় এই খতিয়ান বি এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।

সি এস, এস এ, আর এস, বি এস খতিয়ানের পার্থক্য

জমির একাধিক জরিপে একাধিক খতিয়ান থাকতে পারে। নিচের টেবিলে দেখে নিন কোন খতিয়ান কখন তৈরি হয়েছে:


খতিয়ান

পূর্ণরূপ

জরিপের সময়কাল

মূল বৈশিষ্ট্য

সি এস (CS)

Cadastral Survey

১৮৮৮–১৯৪০ (ব্রিটিশ আমল)

প্রাথমিক খতিয়ান; উপরে বামে "পরগণা" লেখা থাকে

এস এ (SA)

State Acquisition Survey

১৯৫৬–১৯৬২ (বাংলা ১৩৬২)

"৬২র খতিয়ান" নামে পরিচিত; মাঠে না গিয়ে সি এস সংশোধন করে তৈরি

আর এস (RS)

Revisional Survey

১৯৬৫–১৯৯০

সরেজমিনে মাপজোখ করে এস এ-র ভুল সংশোধন; অনেক এলাকায় বি এস নামে পরিচিত

বি এস / বি আর এস (BS/BRS)

Bangladesh Survey

১৯৯০–বর্তমান

সর্বশেষ জরিপ; ঢাকা অঞ্চলে মহানগর/সিটি জরিপ নামে পরিচিত


মনে রাখবেন — আপনার এলাকায় কোন জরিপ সর্বশেষ চূড়ান্ত হয়েছে, সেই খতিয়ানই বর্তমানে প্রযোজ্য। অনেক জেলায় এখনো আর এস খতিয়ানই চূড়ান্ত রেকর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার যেখানে বি এস জরিপ শেষ হয়েছে সেখানে বি আর এস খতিয়ান প্রযোজ্য।

আর এস খতিয়ান কেন লাগে

জমি সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি কাজেই খতিয়ান দরকার হয়:


  • জমি কেনা-বেচা: কেনার আগে বিক্রেতার নামে খতিয়ান আছে কি না, দাগ ও পরিমাণ মিলছে কি না যাচাই করা জরুরি।

  • নামজারি (খারিজ): ক্রয় বা উত্তরাধিকারসূত্রে জমির নতুন মালিক হলে তার নাম সরকারি খতিয়ানে তোলার প্রক্রিয়াই নামজারি। নামজারির পর নতুন মালিকের নামে খারিজ খতিয়ান তৈরি হয়।

  • ব্যাংক ঋণ: জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি লাগে।

  • মামলা ও উত্তরাধিকার: জমি নিয়ে বিরোধ বা ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারায় খতিয়ানই মূল প্রমাণ।

  • খাজনা পরিশোধ: ভূমি উন্নয়ন কর দিতে দাগ-খতিয়ানের তথ্য প্রয়োজন হয়।


জমি কেনা-বেচার আগে খতিয়ান যাচাই করা জরুরি

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পর্চা পোর্টাল dlrms.land.gov.bd-তে যে কেউ খতিয়ানের তথ্য যাচাই করতে পারেন। তথ্য যাচাই করতে এনআইডি লাগে না। ধাপগুলো:


  1. ওয়েবসাইটে যান: dlrms.land.gov.bd লিংকে প্রবেশ করুন।

  2. বিভাগ বাছাই করুন: আপনার জমি যে বিভাগে, সেটি সিলেক্ট করুন।

  3. জেলা বাছাই করুন: জেলার তালিকা থেকে নিজের জেলা বেছে নিন।

  4. উপজেলা/সার্কেল বাছাই করুন: জেলা সিলেক্ট করলেই উপজেলার নাম দেখা যাবে।

  5. মৌজা বাছাই করুন: জমি যে মৌজায় অবস্থিত, সেটি সিলেক্ট করুন।

  6. খতিয়ান টাইপ বাছাই করুন: সি এস, এস এ, আর এস, বি এস — যেটি খুঁজছেন সেটি বেছে নিন।

  7. তথ্য দিন: খতিয়ান নম্বর, অথবা মালিকের নাম, অথবা দাগ নম্বর ইনপুট দিন।

  8. অনুসন্ধান করুন: ক্যাপচা পূরণ করে "অনুসন্ধান করুন" বোতামে ক্লিক করলেই খতিয়ানের তথ্য দেখাবে।


মনে রাখবেন — অনলাইনে দেখা কপি শুধু তথ্য যাচাইয়ের জন্য। এটি প্রিন্ট করে দেখা গেলেও রেজিস্ট্রি বা আইনি কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। আইনি কাজে লাগবে সার্টিফাইড কপি (নকল)।

কী কী তথ্য দিয়ে খতিয়ান খোঁজা যায়

  • খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সরাসরি নম্বর দিয়ে

  • মালিকের নাম দিয়ে (পিতার নাম দিলে ফলাফল আরও নির্দিষ্ট হয়)

  • দাগ নম্বর দিয়ে

  • জমির ঠিকানা — মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বরের সমন্বয়ে


খতিয়ান নম্বর না জানলেও মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করা যায় — এটাই অনলাইন খতিয়ান অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় সুবিধা।

দাগ নম্বর দিয়ে খতিয়ান বের করার নিয়ম

অনেকের হাতে শুধু দাগ নম্বর থাকে, খতিয়ান নম্বর থাকে না। সেক্ষেত্রে:


  1. dlrms.land.gov.bd-তে গিয়ে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা বাছাই করুন।

  2. খতিয়ান টাইপ (যেমন আর এস) সিলেক্ট করুন।

  3. দাগ নম্বরের ঘরে আপনার দাগ নম্বর লিখুন।

  4. ক্যাপচা দিয়ে অনুসন্ধান করুন — ওই দাগের খতিয়ান নম্বরসহ মালিকের তথ্য দেখা যাবে।


দাগ নম্বর হলো জমি পরিমাপের সময় ক্রম অনুসারে দেওয়া নম্বর বা চিহ্ন। একটি দাগে একাধিক মালিকের অংশ থাকতে পারে — তখন খতিয়ানে প্রত্যেকের অংশ আলাদাভাবে লেখা থাকে।

মৌজা ম্যাপ দেখার নিয়ম

খতিয়ানের পাশাপাশি মৌজা ম্যাপও অনলাইনে দেখা যায়:


  1. পোর্টালে গিয়ে জেলা, উপজেলা/সার্কেল ও মৌজা সিলেক্ট করুন।

  2. সীট (sheet) নম্বর বেছে নিয়ে অনুসন্ধানে ক্লিক করুন।

  3. সীট অনুযায়ী মৌজা ম্যাপের ছোট সংস্করণ দেখতে পাবেন।

  4. প্রয়োজনে "সার্টিফাইড কপি পেতে আবেদন করুন"-এ ক্লিক করে ম্যাপের সার্টিফাইড কপির আবেদন করা যায়।

খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন

অনলাইনে তথ্য মিলে গেলে সার্টিফাইড কপি বা নকলের জন্য আবেদন করুন। নিয়ম:


  1. খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার পর "সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করুন" বোতামে ক্লিক করুন।

  2. ডেলিভারির ধরন বাছুন — সাধারণ অথবা জরুরি।

  3. ডেলিভারি মাধ্যম বাছুন — অফিস কাউন্টার অথবা ডাকযোগে (ডাকযোগে হলে জেলার ভেতরে না বাইরে তা উল্লেখ করুন)।

  4. নাম, ইমেইল, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিন।

  5. পরবর্তী ধাপে পেমেন্ট করুন — কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়), ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ওয়ালেট দিয়ে পরিশোধ করা যায়।

  6. পেমেন্ট সম্পন্ন হলে আবেদন জমা হয়ে যাবে।


ফি: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সার্টিফাইড কপির আবেদন ফি প্রায় ৪০ টাকা (ডেলিভারি মাধ্যম ও ধরনভেদে পরিবর্তন হতে পারে)। আবেদনের জন্য বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হতে হবে এবং এনআইডি যাচাইয়ের পরই আবেদন সম্পন্ন হয়।

অনলাইন কপি বনাম সার্টিফাইড কপি

বিষয়

অনলাইন কপি

সার্টিফাইড কপি

উদ্দেশ্য

শুধু তথ্য যাচাই

রেজিস্ট্রি, মামলা, ব্যাংক ঋণসহ সব আইনি কাজ

ফি

ফ্রি

প্রায় ৪০ টাকা (পরিবর্তন হতে পারে)

এনআইডি

লাগে না

বাধ্যতামূলক

আইনি গ্রহণযোগ্যতা

নেই

আছে

খতিয়ান পড়ার নিয়ম — কলামগুলোর অর্থ

খতিয়ান হাতে পেলে নিচের কলামগুলো বুঝে নিন:


কলাম

অর্থ

খতিয়ান নম্বর

ওই মৌজায় মালিকভিত্তিক রেকর্ডের ক্রমিক নম্বর

দাগ নম্বর

জমির খণ্ড বা প্লটের নম্বর

বাট্টা নম্বর

দাগ বিভক্ত হলে উপ-দাগের নম্বর

মৌজা ও জে এল নম্বর

মৌজার নাম ও জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর

মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা

রেকর্ডীয় মালিকের পরিচয়

জমির শ্রেণী

ধানী, বাস্তু, পুকুর, বাগান ইত্যাদি

জমির পরিমাণ

একর/শতাংশে জমির মোট পরিমাণ ও মালিকের অংশ

খাজনা

বার্ষিক ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ

আর এস খতিয়ান থেকে অংশ বের করার নিয়ম

একটি দাগে একাধিক মালিক থাকলে খতিয়ানে প্রত্যেকের নামের পাশে তার অংশ (যেমন ১/২, ১/৪ বা শতাংশে) লেখা থাকে। মোট জমির পরিমাণকে নিজের অংশ দিয়ে গুণ করলেই নিজের জমির পরিমাণ বের হয়। উদাহরণ — দাগে মোট জমি ৬০ শতাংশ, আপনার অংশ ১/৩ হলে আপনার জমি ২০ শতাংশ।


সরেজমিনে জরিপ — আর এস খতিয়ান তৈরি হয়েছিল মাঠে মেপে, তাই এতে ভুল কম

আর এস খতিয়ান চেনার উপায় (ভুয়া খতিয়ান থেকে সাবধান)

জমি কেনার আগে খতিয়ান আসল কি না যাচাই করা জরুরি। কয়েকটি উপায়:


  • অনলাইনে মিলিয়ে দেখুন: dlrms.land.gov.bd-তে দাগ বা খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করে তথ্য মিলে গেলেই বুঝবেন রেকর্ড ঠিক আছে।

  • ধারাবাহিকতা যাচাই করুন: সি এস থেকে এস এ, এস এ থেকে আর এস — মালিকানার ধারা মিলছে কি না দেখুন। হঠাৎ অচেনা নাম এলে সতর্ক হোন।

  • তফসিল মিলান: দলিলের তফসিলে (মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, চৌহদ্দি, পরিমাণ) যা আছে, খতিয়ানেও তাই আছে কি না মিলিয়ে দেখুন।

  • সার্টিফাইড কপি নিন: সন্দেহ থাকলে ভূমি অফিস থেকে সার্টিফাইড কপি তুলে মূল রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

  • মৌজা ম্যাপ দেখুন: দাগের অবস্থান ও চৌহদ্দি ম্যাপের সঙ্গে মিলছে কি না যাচাই করুন।

এস এ খতিয়ান থেকে আর এস খতিয়ান বের করার নিয়ম

পুরনো দলিলে শুধু এস এ খতিয়ান বা দাগ উল্লেখ থাকলে সংশ্লিষ্ট আর এস রেকর্ড এভাবে বের করুন:


  1. dlrms.land.gov.bd-তে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মৌজা বাছুন।

  2. খতিয়ান টাইপ হিসেবে "এস এ" সিলেক্ট করে মালিকের নাম বা দাগ দিয়ে খুঁজুন।

  3. এস এ দাগ নম্বরটি নোট করে এবার খতিয়ান টাইপ "আর এস" সিলেক্ট করুন।

  4. একই মালিকের নাম দিয়ে আর এস খতিয়ানে খুঁজুন — সাধারণত মালিকের নামের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট আর এস খতিয়ান পাওয়া যায়।


মনে রাখবেন, এস এ ও আর এস জরিপে দাগ নম্বর বদলে যেতে পারে। তাই শুধু দাগ নম্বর মিলিয়ে নয়, মালিকের নামের ধারাবাহিকতাও যাচাই করুন।

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না: সব মৌজার সব খতিয়ান এখনো অনলাইনে আপলোড হয়নি। শুরুতে এস এ ও আর এস খতিয়ানের তথ্য আপলোড করা হচ্ছে, ক্রমান্বয়ে বাকিগুলো আসবে। না পেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।


নামের বানান ভুল: পুরনো খতিয়ানে নামের বানান ভিন্নভাবে লেখা থাকতে পারে। নামের অংশবিশেষ দিয়ে খুঁজে দেখুন, অথবা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন।


সার্ভার ধীর বা ক্যাপচা আসছে না: ভূমি সেবার পোর্টালে ভিজিটর বেশি থাকলে মাঝে মাঝে ধীরগতি হয়। কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।


মোবাইলে সমস্যা: মোবাইল ব্রাউজারেও পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ই-খতিয়ান (eKhatian) অ্যাপ ডাউনলোড করেও অনুসন্ধান করা যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করতে কী কী লাগে?

শুধু তথ্য যাচাই করতে কিছুই লাগে না — বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা জানলেই খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজা যায়। সার্টিফাইড কপির আবেদনে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক।


আর এস খতিয়ান কত সালে হয়?

আর এস জরিপ ১৯৬৫ সাল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলে। তবে সব জেলায় একসঙ্গে হয়নি — এলাকাভেদে সময় ভিন্ন।


আর এস খতিয়ান অনলাইন চেক করা যায় কি?

হ্যাঁ। dlrms.land.gov.bd-তে গিয়ে মৌজা ও খতিয়ান টাইপ বেছে খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে যাচাই করা যায়।


অনলাইন কপি দিয়ে কি জমি রেজিস্ট্রি করা যায়?

না। অনলাইন কপি শুধু তথ্য যাচাইয়ের জন্য। রেজিস্ট্রি, মামলা বা ব্যাংক ঋণে লাগবে সার্টিফাইড কপি।


সার্টিফাইড কপি পেতে কত টাকা লাগে?

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আবেদন ফি প্রায় ৪০ টাকা। ডেলিভারি মাধ্যম (অফিস কাউন্টার/ডাকযোগে) ও ধরন (সাধারণ/জরুরি) অনুযায়ী খরচে তারতম্য হতে পারে।


খারিজ খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়?

নামজারির পর তৈরি খারিজ খতিয়ানও একই পোর্টালে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান টাইপ বেছে অনুসন্ধান করা যায়।


বি আর এস খতিয়ান কি অনলাইনে পাওয়া যায়?

যেসব এলাকায় বি এস জরিপের তথ্য আপলোড হয়েছে, সেখানে পাওয়া যায়। না পেলে বুঝবেন ওই এলাকার তথ্য এখনো আপলোড হয়নি।


মৌজা ম্যাপের সার্টিফাইড কপি কীভাবে পাবো?

পোর্টালে মৌজা ও সীট বেছে ম্যাপ দেখার পর "সার্টিফাইড কপি পেতে আবেদন করুন"-এ ক্লিক করে খতিয়ানের মতোই আবেদন ও পেমেন্ট করতে হয়।

উপসংহার

আর এস খতিয়ান অনুসন্ধান এখন আর ভূমি অফিসে লাইন দেওয়ার বিষয় নয় — dlrms.land.gov.bd পোর্টালে কয়েক মিনিটেই খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করা যায়। জমি কেনার আগে অবশ্যই অনলাইনে রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন, আর আইনি কাজের জন্য সার্টিফাইড কপির আবেদন করুন। ফি ও নিয়ম সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ