সহকারী শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪ অপরাহ্ণ
E-Porcha Gov BD - অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান, আবেদন ও ডাউনলোডের নিয়ম ২০২৬
জমি কিনতে যাচ্ছেন, নাকি পৈতৃক জমির কাগজ ঠিক আছে কি না যাচাই করতে চান? আগে এর জন্য ভূমি অফিসের বারান্দায় দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন আর সেটা লাগে না। সরকারের ই-পর্চা (E-Porcha) সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে জমির খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়, অনলাইনে খতিয়ানের কপি ডাউনলোড করা যায়, এমনকি সার্টিফাইড কপির জন্যও অনলাইনে আবেদন করা যায়।
এই গাইডে জানুন — ই-পর্চা কী, DLRMS পোর্টালে ধাপে ধাপে খতিয়ান খোঁজার নিয়ম, সার্টিফাইড কপির আবেদন, ফি, মৌজা ম্যাপ ডাউনলোড, মোবাইল অ্যাপ এবং লগইন সংক্রান্ত সব তথ্য।
ই-পর্চা কী
ই-পর্চা হলো ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের (Department of Land Records and Surveys) একটি ডিজিটাল সেবা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা অনলাইনে জমির খতিয়ান বা পর্চার তথ্য অনুসন্ধান করতে পারেন। "পর্চা" শব্দটি এসেছে ফারসি "পারচা" থেকে, যার অর্থ খণ্ড বা টুকরো কাগজ। বাস্তবে পর্চা বলতে জমির মালিকানার খতিয়ানের সেই কাগজটিকেই বোঝায়, যেখানে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও শ্রেণি লেখা থাকে।
আগে খতিয়ানের নকল বা সার্টিফাইড কপি পেতে সংশ্লিষ্ট জেলা রেকর্ড রুম বা ভূমি অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হতো। ই-পর্চা চালুর পর এই পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে চলে এসেছে। ই-পর্চা অনলাইন পোর্টাল কিংবা অ্যাপ ব্যবহার করা যায় পৃথিবীর যেকোনো দেশে বসেই — ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিজের জমির তথ্য যাচাই করতে পারেন।
সংক্ষেপে ই-পর্চা দিয়ে যা যা করা যায়:
খতিয়ান অনুসন্ধান — জেলা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে জমির তথ্য খোঁজা
অনলাইন কপি ডাউনলোড — যাচাইয়ের জন্য খতিয়ানের অনলাইন কপি সংগ্রহ
সার্টিফাইড কপির আবেদন — অফিসিয়াল সিলমোহরযুক্ত সনদপত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন
মৌজা ম্যাপ দেখা ও ডাউনলোড — জমির নকশা বা ম্যাপ সংগ্রহ
আবেদন ট্র্যাকিং — আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানা
DLRMS কী — dlrms.land.gov.bd পোর্টাল
DLRMS-এর পূর্ণরূপ Directorate of Land Records and Surveys Management System — সহজ ভাষায়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনা পোর্টাল। এর ওয়েব ঠিকানা dlrms.land.gov.bd। এই পোর্টালেই ই-পর্চা সেবার মূল কার্যক্রম চলে।
অনেকেই গুগলে "eporcha gov bd" বা "www eporcha gov bd" লিখে খোঁজেন। মনে রাখবেন, ই-পর্চার অফিসিয়াল সেবা পাওয়া যায় dlrms.land.gov.bd পোর্টাল থেকে। এ ছাড়া eporcha.gov.bd ঠিকানাটিও ই-পর্চা সেবার সঙ্গে যুক্ত। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি তথ্য বাতায়ন land.gov.bd-তেও ভূমি সেবার নাগরিক কর্নার রয়েছে, যেখান থেকে খতিয়ানের অনলাইন কপি ডাউনলোডসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়।
ই-পর্চা সংক্রান্ত অফিসিয়াল পোর্টালসমূহ
ই-পর্চা ও ভূমি সেবা নিয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি পোর্টাল আছে। কোনটায় কী পাবেন, এক নজরে দেখে নিন:
পোর্টাল | ঠিকানা | যা পাবেন |
DLRMS (ই-পর্চা) | dlrms.land.gov.bd | খতিয়ান অনুসন্ধান, সার্টিফাইড কপির আবেদন, মৌজা ম্যাপ |
ই-পর্চা | eporcha.gov.bd | ই-পর্চা সেবা পোর্টাল |
ভূমি তথ্য বাতায়ন | land.gov.bd | ভূমি সেবা, নাগরিক কর্নার, খতিয়ান অনলাইন কপি ডাউনলোড |
মৌজা ম্যাপ পোর্টাল | map.land.gov.bd | মৌজা ম্যাপ অনুসন্ধান ও দেখা |
সেটেলমেন্ট অফিস | settlement.gov.bd | খতিয়ান অনুসন্ধানের বিকল্প পোর্টাল |
সতর্কতা: ই-পর্চার নামে অনেক ভুয়া বা থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট আছে (যেমন e-porcha.com, eporcha.tech ধরনের বেসরকারি সাইট)। তথ্য যাচাইয়ের জন্য এগুলো ব্যবহার করা গেলেও আবেদন ও পেমেন্ট সবসময় উপরের অফিসিয়াল .gov.bd ঠিকানাতেই করবেন।
কেন ই-পর্চা ব্যবহার করবেন
জমি নিয়ে বাংলাদেশে বিরোধের অন্যতম কারণ কাগজপত্রের অস্বচ্ছতা। জমি কেনার আগে, নামজারি করার সময়, ব্যাংক ঋণ নিতে গেলে বা পারিবারিক বণ্টনের ক্ষেত্রে খতিয়ান যাচাই করা জরুরি। ই-পর্চার সুবিধাগুলো হলো:
ঘরে বসেই জমির মালিকানা যাচাই — কার নামে জমি আছে, দাগ নম্বর ঠিক আছে কি না দেখা যায়
ভুয়া খতিয়ান শনাক্ত করা সহজ — অফিসিয়াল রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়
সময় ও খরচ বাঁচে — অফিসে যাতায়াতের ঝামেলা নেই
প্রবাসীরা বিদেশে বসেই নিজের জমির তথ্য দেখতে পারেন
মৌজা ম্যাপ দিয়ে জমির অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
dlrms.land.gov.bd পোর্টালে খতিয়ান অনুসন্ধান করা খুব সহজ। তথ্য খুঁজতে এনআইডি লাগে না — শুধু জমির ঠিকানা-সংক্রান্ত তথ্য জানলেই চলবে। ধাপগুলো:
ব্রাউজারে dlrms.land.gov.bd ঠিকানায় যান।
"খতিয়ান অনুসন্ধান" বা "অনুসন্ধান করুন" অপশনে ক্লিক করুন।
প্রথমে বিভাগ সিলেক্ট করুন।
জেলার তালিকা থেকে নিজের জেলা বাছাই করুন।
উপজেলা বা সার্কেল সিলেক্ট করুন।
মৌজা সিলেক্ট করুন।
খতিয়ানের ধরন বেছে নিন — সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা বিআরএস।
খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম অথবা দাগ নম্বর — যেকোনো একটি তথ্য দিন।
ক্যাপচা পূরণ করে "অনুসন্ধান" বাটনে ক্লিক করুন।
তথ্য ঠিক থাকলে স্ক্রিনে খতিয়ানের বিবরণ দেখা যাবে — মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, খতিয়ান নম্বর, মৌজার নাম ও জমির শ্রেণি। এখান থেকে "বিস্তারিত দেখুন" অপশনে ক্লিক করে পুরো খতিয়ান দেখা যায়।
কী কী তথ্য দিয়ে খতিয়ান খোঁজা যায়
খতিয়ান নম্বর দিয়ে
দাগ নম্বর দিয়ে (দাগ নং দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়গুলোর একটি)
মালিকের নাম দিয়ে
মৌজার নাম, জেলা ও উপজেলা দিয়ে
খতিয়ানের ধরন বুঝে নিন
খতিয়ানের ধরন | জরিপের সময়কাল | পরিচিতি |
সিএস খতিয়ান | ১৮৮৮–১৯৪০ | ব্রিটিশ আমলের প্রথম জরিপ |
এসএ খতিয়ান | ১৯৫৬–১৯৬২ | ৬২-এর খতিয়ান নামে পরিচিত |
আরএস খতিয়ান | ১৯৬৫–১৯৯০ | সরেজমিনে মাপজোখ করা জরিপ |
বিএস/বিআরএস খতিয়ান | ১৯৯০–বর্তমান | হালনাগাদ জরিপ, ঢাকায় সিটি জরিপ নামে পরিচিত |
সার্টিফাইড কপির জন্য অনলাইনে আবেদন
অনলাইনে যে খতিয়ানের কপি দেখা বা ডাউনলোড করা যায়, সেটা শুধু তথ্য যাচাইয়ের জন্য। রেজিস্ট্রি, আদালত বা অন্য কোনো আইনি কাজে ব্যবহার করতে হলে সার্টিফাইড কপি (সিলমোহরযুক্ত অফিসিয়াল নকল) লাগবে। এর জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়।
আবেদনের ধাপ:
dlrms.land.gov.bd পোর্টালে খতিয়ান অনুসন্ধান করে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ানটি বের করুন।
"সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন" বা "Apply for Certified Copy" অপশনে ক্লিক করুন।
আবেদন ফরমে আপনার এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর, নাম ও ঠিকানা দিন। (মনে রাখবেন: শুধু তথ্য দেখতে এনআইডি লাগে না, কিন্তু সার্টিফাইড কপির আবেদনে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক।)
এনআইডি যাচাই হয়ে গেলে আবেদন সম্পন্ন করুন।
নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন — বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং দিয়ে।
পেমেন্ট সফল হলে আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন।
ফি ও পেমেন্ট মাধ্যম
সেবা | ফি (সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী) |
খতিয়ান অনুসন্ধান (তথ্য দেখা) | ফ্রি |
খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি | প্রায় ৪০ টাকা |
খতিয়ানের অনলাইন কপি ডাউনলোড (ভূমি সেবা নাগরিক কর্নার) | প্রায় ১০০ টাকা |
ফি পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের সময় পোর্টালে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত বলে ধরুন। পেমেন্ট করা যায় বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
আবেদন ট্র্যাকিং ও ডেলিভারি
আবেদনের পর পোর্টালের "আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা" বা ট্র্যাকিং অপশনে আবেদন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস জানা যায়। সার্টিফাইড কপি সাধারণত সংশ্লিষ্ট জেলা রেকর্ড রুম থেকে সংগ্রহ করতে হয়, অথবা ডাকযোগে পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ডেলিভারির সময় জেলা ও আবেদনের চাপের উপর নির্ভর করে — সাধারণত কয়েক কর্মদিবস থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে।
মৌজা ম্যাপ দেখা ও ডাউনলোড
খতিয়ানের পাশাপাশি জমির নকশা বা মৌজা ম্যাপও অনলাইনে দেখা যায়। মৌজা ম্যাপে প্রতিটি দাগের অবস্থান, আকৃতি ও পার্শ্ববর্তী দাগের সঙ্গে সম্পর্ক চিহ্নিত থাকে — জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ মেটাতে এটি খুব কাজের।
মৌজা ম্যাপ খোঁজার নিয়ম:
dlrms.land.gov.bd পোর্টালে "মৌজা ম্যাপ" বা "ম্যাপ" সেকশনে যান (বিকল্প: map.land.gov.bd)।
জেলা সিলেক্ট করুন।
উপজেলা বা সার্কেল বেছে নিন।
মৌজা সিলেক্ট করুন।
সীট নম্বর থাকলে দিন, না থাকলে তালিকা থেকে বেছে নিন।
"অনুসন্ধান" করুন — ম্যাপের প্রিভিউ দেখা যাবে।
মৌজা ম্যাপের সার্টিফাইড কপির জন্যও অনলাইনে আবেদন করা যায়। ফি ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির মতোই।
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ই-পর্চা
কম্পিউটার না থাকলে স্মার্টফোন দিয়েই পুরো কাজ করা যায়। কয়েকটি অ্যাপ আছে:
ই-পর্চা অ্যাপ (e porcha app): গুগল প্লে স্টোর থেকে "ই-পর্চা" বা "e porcha" লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যায়। অ্যাপ দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান, আবেদন ও আবেদন ট্র্যাকিং করা যায়। ই-পর্চা অ্যাপ ডাউনলোড সংক্রান্ত কীওয়ার্ডে প্রতি মাসে হাজারো সার্চ হয় — অর্থাৎ চাহিদা অনেক।
ভূমি (Vumi) অ্যাপ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ। এতে খতিয়ান অনুসন্ধান ছাড়াও অনলাইন খাজনা পরিশোধ, নামজারি আবেদনের অবস্থা, মৌজা ম্যাপ ও ডিসিআর ডাউনলোডের মতো সেবা এক জায়গায় পাওয়া যায়। প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ভূমি সেবায় নিবন্ধিত আইডি-পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হয়।
ই-খতিয়ান অ্যাপ: খতিয়ান দেখা, আবেদন ও মৌজা ম্যাপের জন্য আরেকটি সহায়ক অ্যাপ।
মোবাইলে কাজ করার টিপস: ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে ডেস্কটপ মোড চালু করুন, আর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
ই-পর্চায় লগইন ও অ্যাকাউন্ট
একটা বিষয় নিয়ে অনেকের বিভ্রান্তি আছে — ই-পর্চায় লগইন কি বাধ্যতামূলক? উত্তর: না, সব কাজে নয়।
খতিয়ান অনুসন্ধান (তথ্য দেখা): কোনো অ্যাকাউন্ট বা লগইন লাগে না। বিভাগ-জেলা-মৌজা সিলেক্ট করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিলেই তথ্য দেখা যায়।
সার্টিফাইড কপির আবেদন: এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে যাচাই করে আবেদন করতে হয়।
land.gov.bd নাগরিক কর্নার: খতিয়ানের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে এনআইডি ও সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে ভূমি সেবায় রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের পর লগইন করে পেমেন্ট দিয়ে অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায়।
তাই "e porcha gov bd login" বা "dlrms land gov bd login" লিখে যারা খোঁজেন, তাদের জন্য কথা হলো — শুধু খতিয়ান দেখতে লগইন দরকার নেই; আবেদন বা ডাউনলোডে এনআইডি-ভিত্তিক যাচাই লাগে।
অনলাইন কপি বনাম সার্টিফাইড কপি
বিষয় | অনলাইন কপি | সার্টিফাইড কপি |
উদ্দেশ্য | শুধু তথ্য যাচাই | আইনি ও অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারযোগ্য |
রেজিস্ট্রি/আদালতে গ্রহণযোগ্য | না | হ্যাঁ |
এনআইডি লাগে কি না | না (শুধু দেখতে) | হ্যাঁ |
ফি | প্রায় ১০০ টাকা (ডাউনলোড) | প্রায় ৪০ টাকা |
সংগ্রহ | সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড | আবেদনের পর রেকর্ড রুম/ডাকযোগে |
মনে রাখবেন: অনলাইন কপি প্রিন্ট করে রাখতে পারবেন, কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি বা কোনো আইনি কাজে সেটা ব্যবহার করা যাবে না। আইনি প্রয়োজনে সবসময় সার্টিফাইড কপি নিন।
কোন কোন জেলার রেকর্ড অনলাইনে আছে
একটা বাস্তব সীমাবদ্ধতা জেনে রাখা ভালো — সব জমির তথ্য এখনো অনলাইনে আপলোড হয়নি। পুরনো খতিয়ান, বিশেষ করে কিছু এলাকার সিএস বা এসএ খতিয়ান, অনেক সময় পোর্টালে খুঁজে পাওয়া যায় না। ডিজিটাইজেশনের কাজ ধাপে ধাপে চলছে, তাই নতুন জরিপের (আরএস/বিএস/বিআরএস) রেকর্ড পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পোর্টালে তথ্য না পেলে করণীয়:
বানান ভিন্নভাবে লিখে আবার খুঁজুন (মালিকের নাম বা মৌজার নামের বানান ভুল হতে পারে)
খতিয়ান নম্বরের বদলে দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজুন, অথবা উল্টোটা চেষ্টা করুন
অন্য ধরনের খতিয়ান (যেমন আরএস না পেলে বিএস) সিলেক্ট করে দেখুন
তাতেও না পেলে সংশ্লিষ্ট জেলা রেকর্ড রুম বা উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
সমস্যা | সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান |
খতিয়ান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না | রেকর্ড এখনো ডিজিটাইজ হয়নি; বানান বদলে বা দাগ নম্বর দিয়ে আবার চেষ্টা করুন |
ক্যাপচা মিলছে না | পেজ রিফ্রেশ করে নতুন ক্যাপচা নিন |
পেমেন্ট সফল কিন্তু ডাউনলোড হচ্ছে না | কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন; সমস্যা থাকলে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন |
অনলাইন কপি ডাউনলোডের সময় শেষ | ডাউনলোডের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করুন, নইলে পুনরায় প্রক্রিয়া করতে হতে পারে |
সাইট ধীরগতির বা খুলছে না | অফিস সময়ের বাইরে চেষ্টা করুন; ভিন্ন ব্রাউজার ব্যবহার করুন |
সতর্কতা: প্রতারণা থেকে বাঁচুন
ই-পর্চার নামে ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমে কেউ টাকা চাইলে দেবেন না — ফি শুধু পোর্টালের ভেতরে অনলাইন পেমেন্টে দিন।
"www eporcha gov bd" লিখে সার্চ দিলে অনেক বেসরকারি সাইট আসে। ঠিকানা .gov.bd দিয়ে শেষ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করুন।
আপনার এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর অপরিচিত কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
দালালের মাধ্যমে নয়, নিজে পোর্টাল ব্যবহার করুন — প্রক্রিয়াটি ইচ্ছাকৃতভাবেই সহজ রাখা হয়েছে।
ই-পর্চা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
ই-পর্চা কী?
ই-পর্চা হলো ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল সেবা, যার মাধ্যমে অনলাইনে জমির খতিয়ান অনুসন্ধান, অনলাইন কপি ডাউনলোড ও সার্টিফাইড কপির আবেদন করা যায়। পোর্টাল: dlrms.land.gov.bd।
E-Porcha gov bd-তে খতিয়ান দেখতে কি টাকা লাগে?
না। শুধু খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা সম্পূর্ণ ফ্রি। টাকা লাগে শুধু অনলাইন কপি ডাউনলোড বা সার্টিফাইড কপির আবেদনের ক্ষেত্রে।
ই-পর্চায় খতিয়ান দেখতে কি এনআইডি লাগে?
না। খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান করে দেখতে এনআইডি লাগে না। তবে সার্টিফাইড কপির আবেদন বা অনলাইন কপি ডাউনলোডের জন্য এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে যাচাই করতে হয়।
পর্চা বের করার নিয়ম কী?
dlrms.land.gov.bd-তে গিয়ে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা ও খতিয়ানের ধরন সিলেক্ট করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করুন।
দাগ নম্বর দিয়ে কি খতিয়ান বের করা যায়?
হ্যাঁ। অনুসন্ধানের সময় খতিয়ান নম্বরের বদলে দাগ নম্বর দিয়েও খতিয়ান খুঁজে পাওয়া যায়।
ই-পর্চার সার্টিফাইড কপির ফি কত?
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪০ টাকা। ফি পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের সময় পোর্টালে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত।
অনলাইন পর্চা কি দলিলের কাজে ব্যবহার করা যায়?
না। অনলাইন কপি শুধু তথ্য যাচাইয়ের জন্য। রেজিস্ট্রি, আদালত বা আইনি কাজে সার্টিফাইড কপি লাগবে।
ই-পর্চা অ্যাপ কোথায় পাব?
গুগল প্লে স্টোরে "ই-পর্চা" বা "e porcha" লিখে সার্চ করুন। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের "ভূমি (Vumi)" অ্যাপেও খতিয়ানসহ সব ভূমি সেবা পাওয়া যায়।
মাঠ পর্চা কী?
জরিপের সময় মাঠ পর্যায়ে খসড়া হিসেবে যে পর্চা তৈরি করা হয়, তাকে মাঠ পর্চা বলে। চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশের আগে এতে ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ থাকে।
পোর্টালে আমার জমির তথ্য পাচ্ছি না কেন?
হয় রেকর্ডটি এখনো ডিজিটাইজ হয়নি, নয়তো নাম/মৌজার বানানে ভিন্নতা আছে। দাগ নম্বর বা অন্য খতিয়ান ধরন দিয়ে আবার চেষ্টা করুন; না পেলে জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করুন।
উপসংহার
ই-পর্চা (E-Porcha) বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সত্যিকারের ডিজিটাল বিপ্লব। dlrms.land.gov.bd থেকে বিনামূল্যে খতিয়ান অনুসন্ধান, অল্প ফিতে সার্টিফাইড কপির আবেদন, মৌজা ম্যাপ দেখা — সবই এখন হাতের মুঠোয়। জমি কেনা-বেচার আগে খতিয়ান যাচাই করা এখন আর কঠিন কিছু নয়; শুধু সঠিক অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন, আর আইনি কাজে সবসময় সার্টিফাইড কপি নিন।
১
১ মন্তব্য