সিনিয়র শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:১৯ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
মেধাবীরা গত কয়েক দশক থেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।তার অনেকগুলো কারনের মধ্যে একটি কারণ হল উন্নত জীবনের স্বপ্ন।কিন্তু বাস্তবতা কি?শতকরা কতজন সফল হচ্ছে?এই ধরুন,যারা স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ,আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া বা কানাডায় যাচ্ছে সবাই কি পড়াশোনা শেষ করতে পারছে? শিল্পপতি বা উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের কথা বাদ দিলাম, যারা মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের, তাদের অবস্থা কি?কোন মতে ধার-দেনা করে বা বাবা-মার সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ভর্তি ফি আর ১ম বর্ষের টিউশন ফি দিয়ে তার কাংখিত দেশে কোনমতে যাচ্ছে। কিন্তু ২য় বর্ষ থেকেই অনেকে টাকার অভাবে পড়ে যায়।পার্ট টাইম জব সবার ভাগ্যে জোটেনা।জুটলেও বেতন পর্যাপ্ত না।এটা দিয়ে টিউশন ফি আর থাকা খাওয়ার খরচ মেটানো যায় না।আবার দেশ থেকেও টাকা নেওয়ার উপায় নেই।আবার অনেক দেশে পার্ট টাইম জব করাও আইনত অপরাধ।অনেকে লেখাপড়া মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে রোজগারের ধান্দায় নেমে পড়ে এবং লিগ্যাল স্টেটাস হারিয়ে ফেলে।এই যখন অবস্থা তখন আমাদের নতুন প্রজন্ম বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে দিন দিন।আমার অনেক ছাত্রের কথা জানি যাদের বাবা মার সামর্থ্য নাই তাদেরকে দেশের বাইরে পড়ানোর, তাও তারা বাবা মাকে চাপ দিচ্ছে বিদেশে গিয়ে পড়ার জন্য।আবার অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মাও শখ করে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে ছেলেমেয়েকে বিদেশে পড়তে পাঠাচ্ছেন।এক দিকে শত শত কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে মেধাবীরা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। কতজন মেধাবী উন্নত ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে তার মেধা কাজে লাগাচ্ছে? শতকরা কতজন বিদেশে প্রতিষ্টিত হয়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে?এগুলো নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। গ্লোবালাইজেশনের যুগে হয়তো বিদেশমুখী প্রবণতা রোধ করা যাবেনা।কিন্তু জাতীয় স্বার্থ ও দেশের লাভ-ক্ষতির হিসাবটাওতো করতে হবে।
৫
৬ মন্তব্য