Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

চিত্রা হরিণ (Chital/Spotted Deer)

চিত্রা হরিণ (Chital/Spotted Deer), যার বৈজ্ঞানিক নাম Axis axis, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর এবং  হরিণ প্রজাতি। এর নামের অর্থ ‘চিতা’ বা ‘দাগযুক্ত’, কারণ এর গায়ে সুন্দর সাদা ফোঁটা ফোঁটা দাগ থাকে।

​শারীরিক গঠন ও রূপ:

​রং ও দাগ: চিত্রা হরিণের পিঠ এবং পাশের অংশ উজ্জ্বল লালচে-বাদামি রঙের হয়। এই লালচে অংশের ওপরে ছোট ছোট, সুন্দর সাজানো সাদা রঙের অজস্র ফোঁটা দেখা যায়, যা একে অন্যান্য হরিণ থেকে আলাদা করে। এর গলা, পেট, লেজের নিচের অংশ এবং পায়ের ভেতরের অংশ ধবধবে সাদা হয়।

​শিং: শুধুমাত্র পুরুষ হরিণের শিং থাকে। এই শিংগুলো শাখা-প্রশাখা যুক্ত হয়। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হরিণের শিঙে তিনটি করে শাখা থাকে। শিংগুলো প্রতি বছর পড়ে যায় এবং আবার নতুন করে গজায়। পুরুষ হরিণকে দূর থেকে শিং দেখে চেনা সহজ।

​উচ্চতা ও ওজন: এরা মাঝারি আকারের হরিণ। ঘাড় পর্যন্ত উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২ থেকে ৫৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হরিণের ওজন ৭০ থেকে ১১০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, যখন স্ত্রী হরিণ আকারে ছোট এবং হালকা হয় (৪০ থেকে ৬০ কেজি)।

​আবাসস্থল ও বন্টন:

​চিত্রা হরিণ মূলত ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার বনাঞ্চলে বসবাস করে।

​বাংলাদেশে এরা সুন্দরবন এবং নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। এছাড়া কিছু পাহাড়ি বনেও এদের কালেভদ্রে পাওয়া যায়।

​এরা সাধারণত খোলা বনভূমি, ঘাসবন এবং নদী বা হ্রদের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে।

​খাদ্যাভ্যাস ও স্বভাব:

​চিত্রা হরিণ সম্পূর্ণ তৃণভোজী প্রাণী। ঘাস, লতাপাতা, কচি ডাল, ফলমূল এবং গাছের ছাল এদের প্রধান খাবার।

​এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে পছন্দ করে। এক একটি দলে ১০ থেকে ৩০টি হরিণ থাকে। কখনও কখনও এই দল অনেক বড়ও হতে পারে।

​এরা খুবই সতর্ক এবং নিরীহ প্রকৃতির প্রাণী। বিপদ বুঝলে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।

​প্রজনন:

​প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, তবে বর্ষার আগে সবুজ ঘাস উঠলে বাচ্চা প্রসবের প্রকৃষ্ট সময় ধরা হয়।

​স্ত্রী হরিণ ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস গর্ভধারণের পর সাধারণত একটি বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চা হরিণ ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে।

​চিত্রা হরিণ প্রকৃতির এক সুন্দর সৃষ্টি। এটি আমাদের বনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারিদের কারণে এর সংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাই এর সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন।


মন্তব্য করুন

ব্লগ