Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

বানর (Monkey) হলো প্রাইমেট (Primate) বর্গভুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী

 বানর অত্যন্ত চতুর, চঞ্চল এবং বুদ্ধিমত্তার জন্য পরিচিত। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬০টিরও বেশি প্রজাতির বানর দেখতে পাওয়া যায়।

​শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য:

​হাত ও পা: বানরের চার হাত-পা গাছের ডালে চড়া এবং কোনো কিছু শক্ত করে ধরার উপযোগী। এদের বৃদ্ধাঙ্কুশ (Thumb) মানুষের মতো হওয়ায় এরা সহজে খাবার বা বস্তু আঁকড়ে ধরতে পারে।

​লেজ: বেশিরভাগ বানরের লম্বা লেজ থাকে। নতুন বিশ্বের (দক্ষিণ আমেরিকা) বানররা লেজকে পঞ্চম হাতের মতো গাছের ডালে ঝোলার কাজে ব্যবহার করে, তবে এশিয়ার বানরদের লেজ মূলত ভারসাম্য রক্ষার কাজে লাগে।

​আকার ও ওজন: প্রজাতিভেদে বানরের আকার ভিন্ন হয়। সবচেয়ে ছোট প্রজাতি 'পিগমি মারমোসেট' মাত্র ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়, আর সবচেয়ে বড় প্রজাতি 'ম্যানড্রিল' প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ৩৫ কেজি বা তার বেশি হতে পারে।

​আবাসস্থল:

​বানর মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন, পাহাড়ি এলাকা এবং খোলা ঘাসবনে বসবাস করে। বাংলাদেশে সাধারণত রেশাস বানর (Rhesus Macaque) এবং বিভিন্ন প্রজাতির হনুমান বা মুখপোড়া বানর বেশি দেখা যায়। এরা সুন্দরবন, চাটগাঁর পাহাড়ি এলাকা, এমনকি ঢাকার বেশ কিছু পুরনো এলাকায় মানুষের কাছাকাছি বাস করে।

​খাদ্যাভ্যাস:

​বানর সর্বভুক প্রাণী। এদের প্রধান খাদ্য ফলমূল, কচি পাতা, বীজ, কন্দ ও শস্যদানা। তবে এরা ছোট ছোট পোকা-মাকড়, পাখির ডিম এবং ছোট সরীসৃপও খেয়ে থাকে।

​স্বভাব ও দলবদ্ধ জীবন:

​সামাজিক প্রাণী: বানর দলবদ্ধভাবে (Troop) বসবাস করতে পছন্দ করে। একটি দলে সাধারণত ১০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত বানর থাকতে পারে।

​যোগাযোগ: এরা বিশেষ ধরনের আওয়াজ, মুখের ভঙ্গি এবং অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে একে অপরের সাথে বার্তা আদান-প্রদান করে।

​গা চুলকানো (Grooming): এরা একে অপরের গায়ের পোকা ও ময়লা পরিষ্কার করে দেয়, যা এদের সামাজিক সম্পর্ক ও বন্ধন দৃঢ় করে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ