Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

বিনয়-জ্ঞান-চরিত্রে গড়ে উঠুক আদর্শ শিক্ষার্থী - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                        বিনয়-জ্ঞান-চরিত্রে গড়ে উঠুক

 আদর্শ শিক্ষার্থী

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যাঁর হুকুমে জীবন জাগে, মুছে মনের ভয়,
তাঁরই দানে জ্ঞান প্রস্ফুটে, সত্যের পথে জয়।
তাঁরই নামে হৃদয় জাগে, আলোর নির্মল ভোর,
জ্ঞান ও নেক আমলে গড়ি জীবন সুন্দর ঘোর।

শিক্ষার্থী মানে শুধু নয় যে, বইটি হাতে ধরা,
শিক্ষার্থী মানে জ্ঞান-পথে সত্যের আলো করা।
শিক্ষার্থী মানে স্বপ্ন বোনা, সাধনা অবিরাম,
জ্ঞান-চরিত্রে গড়ে তোলা জীবনের সুন্দর নাম।

বিনয় হবে শিক্ষার্থীর হৃদয়ের অলংকার,
নম্র কথায় ফুটবে যেন চরিত্রেরই ভার।
জ্ঞান পেয়ে যে অহংকারে মাথা নত না করে,
সত্যের পথে বিনয় নিয়ে চলে ধীরে ধীরে।

বড়দের সে শ্রদ্ধা করবে, ছোটদের দেবে মান,
সবার সঙ্গে সুন্দর হবে তার আচরণ-জ্ঞান।
কথায় হবে মিষ্টি মাধুর্য, ব্যবহারে সৌরভ,
বিনয়ী যে শিক্ষার্থী, তার জীবনই গৌরব।

জ্ঞান যতই বাড়ুক তার, বাড়বে তত লাজ,
অহংকারে নয় সে গড়বে সত্যের নির্মল সাজ।
নিজের ভুলে সংশোধন আর সত্য কথায় স্থির,
বিনয়েরই আলোয় হবে তার ভবিষ্যৎ নীর।

পিতা-মাতা জীবনে তার আলোর দুটি দ্বার,
তাঁদের দোয়া সঙ্গে থাকলে সহজ হয় পথচার।
মায়ের স্নেহ, বাবার শ্রম—অমূল্য উপহার,
তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা সন্তানের অঙ্গীকার।

কোমল কথায় কথা বলবে, করবে না অবহেলা,
সেবার মাঝে খুঁজবে সুখ, কাটবে দুঃখের বেলা।
তাঁদের হৃদয় কাঁদায় এমন কথা বলবে না,
তাঁদের হক নষ্ট করে সুখের স্বপ্ন গড়বে না।

কুরআনেরই শিক্ষা মেনে সদাচরণ করে,
পিতা-মাতার সন্তুষ্টি চায় আন্তরিক অন্তরে।
নিজের সুখের আগে তাদের স্বস্তির কথা ভাবে,
এমন সন্তান দোয়ার ছায়ায় শান্তির জীবন পাবে।

শিক্ষক হলেন জ্ঞানের পথে আলোর দিশারী,
অন্ধকারে পথ দেখান, করেন জ্ঞান ভাণ্ডারী।
তাই তো তাঁর সম্মান রাখা শিক্ষার্থীর গুণ,
শ্রদ্ধাভরে পাঠ শুনলে জ্ঞান হবে পূর্ণ।

শিক্ষকের কথা মনোযোগে শুনবে নতশির,
না বুঝিলে প্রশ্ন করবে—হবে না সে অধীর।
ভদ্র ভাষায় জানতে চাইবে, শিখবে ধীরে ধীরে,
শিক্ষকেরই দিকনির্দেশে জ্ঞান বাড়াবে নীরে।

গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জ্ঞান করবে অর্জন,
শিক্ষার পথে সততা হবে জীবনেরই দর্পণ।
শিক্ষক যদি ভুলটি দেখান, নেবে তা সহজে,
ভুল সংশোধন করাই জ্ঞান—চলবে সত্য রোজে।

বই হবে তার জ্ঞানের সাথী, পাঠ হবে সাধনা,
আজকে শেখা জ্ঞানের আলো কালকে হবে প্রেরণা।
শুধু পরীক্ষার নম্বর পেতে পড়বে না সে বই,
জ্ঞানকে নিয়ে জীবন গড়াই শিক্ষার্থীর জয়।

শ্রেণিকক্ষে বসবে সে ঠিক, মন থাকবে পাঠে,
শিক্ষকেরই ব্যাখ্যা শুনবে মনোযোগের সাথে।
যা বুঝে না, প্রশ্ন করে জানবে তার কারণ,
জ্ঞানপিপাসায় সমৃদ্ধ হবে মনের প্রতিটি কণ।

প্রতিদিনের পড়া যদি প্রতিদিনই পড়ে,
পরীক্ষার ভয় দূরে যাবে, আত্মবিশ্বাস গড়ে।
অল্প অল্প নিয়ম করে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালে,
সাফল্যেরই ফুল ফুটে যায় অধ্যবসায়ের কালে।

ক্লাসে যাবে নিয়ম মেনে, থাকবে সময় ধরে,
অকারণে অনুপস্থিতি রাখবে না সে করে।
সময়মতো বই-খাতা আর প্রয়োজনীয় কাজ,
নিয়ম মেনে সম্পন্ন করবে—এটাই তার সাজ।

সময় যেন অমূল্য ধন, নষ্ট করবে না,
অলসতায় জীবনেরই মূল্য হারাবে না।
সময়কে যে সম্মান করে, সময় তার সাথী,
শৃঙ্খলাতে গড়ে ওঠে জীবনেরই গাঁথি।

সকালের সূর্য শেখায় তাকে কর্মের নতুন গান,
প্রতিদিনই নতুন করে গড়বে নিজের প্রাণ।
আজকের কাজ আজই করবে, কালকে রাখবে না,
সময়ের ঋণ অবহেলায় কখনো শোধ হবে না।

সত্য হবে তার মুখের কথা, সত্য হবে কাজ,
সততারই পবিত্র আলোয় নির্মল হবে সাজ।
পরীক্ষাতে নকল করে নম্বর নেবে না,
মিথ্যা বলে নিজের ভুলটি কখনো ঢাকবে না।

অন্যের লেখা নিজের বলে করবে না গ্রহণ,
অন্যায়েরই পথে গিয়ে হারাবে না মন।
কম নম্বর হোক, তবু হোক সত্য পথে জয়,
সততারই অর্জন শেষে আনে শান্তিময়।

আমানত যদি হাতে আসে রাখবে তার মান,
বিশ্বাস ভেঙে করবে না সে কোনো অবমান।
সত্যবাদী শিক্ষার্থীর থাকে নির্মল মন,
তার চরিত্রে ফুটে ওঠে সুন্দর জীবনধন।

মেধা যদি থাকে তার, পরিশ্রমও চাই,
চেষ্টাহীন প্রতিভাতে সাফল্য কোথায় পাই?
কঠিন হলে ভয় পাবে না, চেষ্টা করবে ফের,
অধ্যবসায় পাহাড় ভাঙে—জানে শিক্ষার্থী ঢের।

একবার যদি ব্যর্থ হয়, থামবে না সে পথ,
ব্যর্থতারই শিক্ষা নিয়ে হবে আরও দৃঢ়।
আজকে যদি কম হয় জ্ঞান, কালকে হবে বেশি,
পরিশ্রমের হাত ধরেই ফুটবে সাফল্য-হাসি।

ঘাম ঝরিয়ে জ্ঞান অর্জন, ধৈর্য ধরে কাজ,
সাধনারই সোনার ফসলে ভরে উঠবে আজ।
আলস্যকে সে দূরে রাখে, কর্মে থাকে মন,
পরিশ্রমী শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল হয় জীবন।

শৃঙ্খলা তার জীবনেরই সুন্দর নিয়মরেখা,
নিজের দায়িত্ব নিজেই শেখে, ভুল হলে নেয় দেখা।
বিদ্যালয়ের নিয়ম মানে, মানে সকল শাসন,
নিয়ম মেনে চললে গড়ে সুন্দর জীবনবাসন।

শৃঙ্খলা মানে নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ,
ভালো-মন্দ বুঝে নেওয়া, সঠিক পথে গমন।
স্বাধীনতার সঠিক অর্থ দায়িত্বেরই সাথে,
শৃঙ্খলিত জীবন চলে কল্যাণেরই পথে।

মুমিন শিক্ষার্থী আল্লাহকে রাখবে হৃদয় মাঝে,
হালাল পথে চলার চেষ্টা করবে নিজের কাজে।
নামাজ হবে জীবনেরই শান্তির নির্মল দ্বার,
কুরআনেরই আলোয় হবে সত্যপথের পার।

রবের ভয় আর ভালোবাসা রাখবে অন্তরে,
অন্যায় থেকে নিজেকে সে রাখবে দূরে সরে।
মানুষ না দেখলেও সে জানে আল্লাহ দেখেন,
এই বিশ্বাসে পাপের পথে পা বাড়াবে না যেন।

তাকওয়া তার হৃদয়জুড়ে সত্যের বাতি জ্বালে,
আত্মসংযম শেখায় তাকে জীবনেরই কালে।
ইবাদত শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় জীবনের ভার,
আচরণেও ফুটবে তার ঈমানেরই সৌরভধার।

বন্ধুর সুখে হাসবে সে, দুঃখে হবে সাথী,
দুর্বল হলে হাত বাড়াবে, হবে না সে কাঁঠি।
পড়ায় যে পিছিয়ে আছে, শেখাবে তাকে ধরে,
সহযোগিতার হাত বাড়াবে ভালোবাসার তরে।

কাউকে নিয়ে হাসবে না সে, করবে না অপমান,
মানুষকে সে মানুষ জেনে দেবে যথাযথ মান।
হিংসা নয়, সহযোগিতা—হোক শিক্ষার গান,
বন্ধুত্বে গড়ে উঠুক সুন্দর পৃথিবীখান।

চরিত্র হলো মানুষেরই সবচেয়ে বড় পরিচয়,
চেহারা নয়, আচরণেই মানুষ সত্য হয়।
কথায় মিষ্টি, কাজে সৎ, অন্তর হবে শুদ্ধ,
এমন ছাত্র সমাজেরই সম্পদ অমূল্য মুদ্র।

রাগ এলে সে নিজেকে যে সংযত রাখতে জানে,
ক্ষমার পথে এগিয়ে চলে শান্তিরই টানে।
অশ্লীলতা, মিথ্যা, হিংসা রাখবে অনেক দূর,
সুন্দর কথায় সুন্দর হবে তার জীবনসুর।

মোবাইল হবে জ্ঞানের সাথী, সময়-চোর নয়,
প্রযুক্তিকে সঠিক কাজে ব্যবহার করাই জয়।
শিক্ষার জন্য তথ্য নেবে, শিখবে নতুন জ্ঞান,
অযথা সময় নষ্ট করে হারাবে না প্রাণ।

খেলা, ছবি, সামাজিকতা—সবই হবে সীমায়,
সময় যেন হারিয়ে না যায় অপ্রয়োজনীয় মায়ায়।
প্রযুক্তি তার হাতের যন্ত্র, সে হবে নিয়ন্ত্রক,
জ্ঞান অর্জনে ব্যবহার হবে—এই হোক তার লক্ষ্য।

পরিচ্ছন্ন পোশাক, পরিচ্ছন্ন শরীর, পরিচ্ছন্ন ঘর,
সুস্থ জীবন গড়ে তোলে সুন্দর মনোবর।
বই-খাতা আর শ্রেণিকক্ষও রাখবে পরিচ্ছন্ন,
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস করে জীবন হবে ধন্য।

শরীর হবে কর্মক্ষম, মন হবে প্রফুল্ল,
পরিমিত আহার, বিশ্রামে জীবন হবে উজ্জ্বল।
খেলাধুলা, শরীরচর্চা রাখবে নিয়ম করে,
সুস্থ দেহে জ্ঞানের আলো দীপ্ত হবে ভরে।

নিজের দায়িত্ব নিজেই নেবে, অন্যের ঘাড়ে নয়,
কাজ ফেলে সে অজুহাতে খুঁজবে না কোনো ভয়।
বাড়ির কাজে সহযোগী, বিদ্যালয়ে সচেতন,
দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতের রতন।

প্রতিষ্ঠানের সম্পদ যেন নষ্ট না করে সে,
সবার অধিকারের কথা রাখবে মনে হেসে।
নিজের ভুল স্বীকার করে সংশোধনের মান,
দায়িত্ববোধে গড়ে উঠুক তার সুন্দর প্রাণ।

শিক্ষা নিয়ে শুধু নিজের সুখের কথা নয়,
জ্ঞানকে দিয়ে মানুষেরই কল্যাণ করতে হয়।
দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকবে তার অন্তরে,
সৎ নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন রাখবে আপন করে।

পরিবেশ রক্ষা করবে, রাখবে দেশের মান,
দুর্বল মানুষের পাশে দেবে সহায়তার দান।
অন্যায় দেখে অন্যায়কে সমর্থন করবে না,
ন্যায়ের পথে চলতে গিয়ে সত্যকে হারাবে না।

আমি হব বিনয়ী, সত্যবাদী, সৎ,
জ্ঞান অর্জনে থাকব সদা অটল ও অবিচল।
পিতা-মাতার সম্মান রাখব, রাখব গুরুর মান,
সততারই পথে গড়ব জীবনের সম্মান।

নিয়মিত ক্লাস করব আমি, পড়ব মন দিয়ে,
সময়কে আর নষ্ট করব না অলসতায় গিয়ে।
নকল, মিথ্যা, অন্যায় পথে যাব না কোনোদিন,
চরিত্র দিয়ে গড়ব আমি জীবনের রঙিন দিন।

দুর্বল বন্ধুর পাশে থাকব, করব না অবহেলা,
সহমর্মিতায় সুন্দর হবে জীবনের প্রতিটি বেলা।
অহংকারকে দূরে রেখে বিনয় রাখব মনে,
সত্য ও ন্যায়ের পথেই চলব জীবনজুড়ে।

আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানকে আমি কল্যাণে দেব কাজে,
মানুষেরই উপকার হবে আমার জীবনের মাঝে।
ঈমান, আমল, জ্ঞান, চরিত্র—হোক জীবনের ধন,
এই আদর্শে গড়ে উঠুক আমার প্রতিটি ক্ষণ।

হে আল্লাহ, জ্ঞানের আলো দাও আমাদের প্রাণে,
সত্যের পথে রাখো মোদের তোমারই বিধানে।
বিনয় দাও, চরিত্র দাও, দাও সৎ হওয়ার শক্তি,
অন্যায়ের পথ থেকে রাখো দূরে, দাও নেকির ভক্তি।

পিতা-মাতার সেবা করার তৌফিক দাও মোরে,
শিক্ষকের সম্মান রাখি ভালোবাসা ভরে।
পাঠে মন দিই, সময় মানি, সত্য বলি সদা,
মানুষেরই কল্যাণ করি—এই হোক মোর সাধনা।

জ্ঞান যেন অহংকার না হয়, জ্ঞান হোক আলোর পথ,
আমল দিয়ে সত্য প্রমাণ করি ঈমানেরই রথ।
আজকের ছাত্র আগামী দিনে হবে আলোর প্রাণ,
তার হাতেই গড়ে উঠুক সুন্দর দেশ ও জ্ঞান।

বিনয়ে হোক মাথা নত, জ্ঞানে হোক দীপ্ত প্রাণ,
চরিত্রে হোক নির্মল জীবন—এই হোক শিক্ষার গান।
সততা, শৃঙ্খলা, তাকওয়ায় হোক জীবন আলোকিত,
আদর্শ শিক্ষার্থীর জীবন হোক কল্যাণে সুসজ্জিত।

হে আল্লাহ! আমাদের শিক্ষার্থীদের উপকারী জ্ঞান, উত্তম চরিত্র, বিনয়, তাকওয়া, সততা, আমানতদারি ও সৎকর্মের তৌফিক দাও। তাদের জ্ঞানকে কল্যাণের মাধ্যম এবং চরিত্রকে মানুষের জন্য আদর্শ করে দাও। আমিন।

 

মন্তব্য করুন