Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিরাপত্তা, রিজিক ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা -মোঃ মুজিবুর রহমান

                                    নিরাপত্তা, রিজিক ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

(সূরা কুরাইশের আলোকে মানুষের জীবন, আল্লাহর নিয়ামত ও ইবাদতের শিক্ষা)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষের জীবন আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামতে পরিপূর্ণ। সুস্থতা, নিরাপত্তা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, পরিবার, জ্ঞান, সামর্থ্য—সবই তাঁর দান। মানুষ প্রতিদিন এসব নিয়ামত ভোগ করলেও অনেক সময় সেগুলোর প্রকৃত দাতাকে স্মরণ করে না। অথচ কুরআন আমাদের শেখায়, নিয়ামতের প্রকৃত কৃতজ্ঞতা হলো নিয়ামতদাতার প্রতি ঈমান রাখা, তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করা।

পবিত্র কুরআনের ১০৬তম সূরা সূরা কুরাইশ। এটি মক্কায় অবতীর্ণ চার আয়াতের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ সূরা। এতে কুরাইশদের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ—তাদের বাণিজ্যিক যাত্রার সুযোগ, নিরাপত্তা এবং খাদ্যের ব্যবস্থা—স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে। কারণ তিনিই তাদের ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপদ করেছেন।

কুরাইশের পরিচয় ও মক্কার মর্যাদা

কুরাইশ ছিল মক্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ আরব গোত্র এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এই গোত্রেরই সদস্য ছিলেন। মক্কায় পবিত্র কাবাঘর অবস্থিত হওয়ায় কুরাইশদের সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা ছিল বিশেষ। তারা কাবাঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করত এবং আরবদের মধ্যে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি হয়েছিল।

আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন, যা তাদের জীবন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। তারা শীত ও গ্রীষ্মে বাণিজ্যিক সফর করত। কুরআন তাদের সেই যাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বোঝায়—তাদের ব্যবসা, চলাচল ও নিরাপত্তার পেছনে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে।

শীত ও গ্রীষ্মের বাণিজ্যযাত্রা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ ۝ إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ

অর্থাৎ, কুরাইশদের পরিচিত ও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক যাত্রার কারণে—শীত ও গ্রীষ্মের যাত্রার কারণে।

কুরাইশদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম তাদের জীবিকা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। তারা বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করত। দীর্ঘ মরুভূমির পথ অতিক্রম করে ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ ছিল না। সেখানে ছিল খাদ্য ও পানির সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পথের বিপদ এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি। তবুও আল্লাহ তাদের জন্য এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, যাতে তারা বাণিজ্যিক জীবন পরিচালনা করতে পারে।

এখানে মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—রিজিকের জন্য চেষ্টা করা ইসলামের বিরোধী নয়; বরং বৈধ উপায়ে পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করা প্রশংসনীয়। তবে চেষ্টা করার পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, প্রকৃত রিজিকদাতা আল্লাহ।

ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন, কৃষক জমি চাষ করেন, শ্রমিক শ্রম দেন, শিক্ষক শিক্ষা দেন, চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দেন—মানুষ বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে; কিন্তু সব প্রচেষ্টার ফলপ্রসূ হওয়ার তাওফিক আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

রিজিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ

সূরার শেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুটি বিশেষ নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন—

الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ

অর্থাৎ, যিনি তাদের ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপদ করেছেন।

এই আয়াত মানুষের জীবনের দুটি মৌলিক প্রয়োজনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে—খাদ্য ও নিরাপত্তা।

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাদ্যের মূল্য যেমন অপরিসীম, তেমনি ভীত মানুষের কাছে নিরাপত্তার মূল্যও অসীম। বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে, তবে তার জীবন শান্তিময় হয় না। আবার নিরাপত্তা থাকলেও যদি খাদ্য না থাকে, তবে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। তাই খাদ্য ও নিরাপত্তা উভয়ই মহান আল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত।

আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য পৃথিবীতে অসংখ্য রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন। জমিতে ফসল উৎপন্ন হয়, গাছে ফল ধরে, নদী ও সাগরে খাদ্যের ব্যবস্থা রয়েছে, পশুপাখি মানুষের উপকারে আসে এবং প্রকৃতির অসংখ্য উপাদান মানুষের জীবনকে সহজ করে। মানুষ এগুলো ব্যবহার করে জীবন ধারণ করে।

তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—খাদ্য গ্রহণের সময় খাদ্যের দিকে শুধু না তাকিয়ে খাদ্যদাতার প্রতিও কৃতজ্ঞ হওয়া।

নিরাপত্তা একটি মহান নিয়ামত

সূরা কুরাইশ আমাদের নিরাপত্তার গুরুত্বও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

মানুষ শান্তিতে ঘুমায়, সকালে কর্মস্থলে যায়, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠায়, ব্যবসা-বাণিজ্য করে, মসজিদে যায়, মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করে—এসব স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পেছনে নিরাপত্তার বড় ভূমিকা রয়েছে।

নিরাপত্তা নষ্ট হলে মানুষের অর্থনীতি, শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের জান-মাল ও সম্মানের নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একজন প্রকৃত মুমিন অন্যের জন্য ভয় ও অশান্তির কারণ হবে না। সে মানুষের অধিকার রক্ষা করবে, অন্যায় থেকে বিরত থাকবে, প্রতারণা করবে না এবং সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা কীভাবে প্রকাশ করতে হয়

আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর বলেছেন—

فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ

অর্থাৎ, “সুতরাং তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে।”

এখানে সূরাটির মূল শিক্ষা অত্যন্ত স্পষ্ট। যিনি রিজিক দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন এবং জীবনধারণের উপকরণ দিয়েছেন—ইবাদতও তাঁরই প্রাপ্য।

অতএব, শুধু মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলাই কৃতজ্ঞতার পূর্ণ রূপ নয়। প্রকৃত কৃতজ্ঞতা হলো—আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা, ফরজ ইবাদত পালন করা, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, হালাল উপার্জন করা এবং তাঁর দেওয়া নিয়ামত সঠিক পথে ব্যবহার করা।

চোখ পেয়েছি—তাই চোখকে হারাম দৃশ্য থেকে বাঁচাতে হবে।
কান পেয়েছি—তাই অশ্লীলতা ও গীবত থেকে কানকে রক্ষা করতে হবে।
জিহ্বা পেয়েছি—তাই মিথ্যা, অপবাদ ও কটু কথা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সম্পদ পেয়েছি—তাই তার হক আদায় করতে হবে।
ক্ষমতা পেয়েছি—তাই দুর্বলকে জুলুম করা যাবে না।
জ্ঞান পেয়েছি—তাই তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

এভাবেই নিয়ামত কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত হয়।

তাওহিদের শিক্ষা

সূরা কুরাইশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো তাওহিদ—শুধু আল্লাহর ইবাদত করা।

কুরাইশদের বলা হয়েছে, তারা যেন “এই ঘরের রবের” ইবাদত করে। অর্থাৎ কাবাঘর সম্মানিত হলেও ইবাদতের যোগ্য কাবাঘর নয়; ইবাদতের যোগ্য হলেন কাবাঘরের রব, মহান আল্লাহ।

এ শিক্ষা ইসলামী আকিদার মৌলিক ভিত্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো সৃষ্টি ইবাদতের যোগ্য নয়। দোয়া, ইবাদত, চূড়ান্ত আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর জন্যই।

ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ইসলামী শিক্ষা

সূরা কুরাইশে বাণিজ্যিক যাত্রার প্রসঙ্গ থাকায় অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।

ইসলাম বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং হালাল উপার্জন, সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিয়েছে। একজন মুসলমান ব্যবসা করবে, সম্পদ অর্জন করবে, পরিবার পরিচালনা করবে এবং সমাজের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করবে—কিন্তু সম্পদ যেন তার হৃদয়ের উপাস্য হয়ে না যায়।

ব্যবসায় প্রতারণা, মাপে কম দেওয়া, মিথ্যা বলা, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা, সুদ ও হারাম লেনদেনে জড়ানো থেকে বেঁচে থাকতে হবে। কারণ সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত এবং এর ব্যবহার সম্পর্কেও মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে।

পরিশ্রম ও তাওয়াক্কুলের সমন্বয়

সূরা কুরাইশ আমাদের আরেকটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কুরাইশরা বাণিজ্যিক সফরে যেত—অর্থাৎ তারা জীবিকার জন্য চেষ্টা করত। একই সঙ্গে আল্লাহ তাদের রিজিক ও নিরাপত্তার নিয়ামত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

এ থেকে বোঝা যায়, তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়। একজন মুমিন প্রয়োজনীয় বৈধ উপায় অবলম্বন করবে, পরিশ্রম করবে, পরিকল্পনা করবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করবে।

কৃষক জমি চাষ করবে, কিন্তু ফসলের ফলন আল্লাহর হাতে।
ব্যবসায়ী সততার সঙ্গে ব্যবসা করবে, কিন্তু লাভ-ক্ষতি আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করবে, কিন্তু জ্ঞান ও সফলতার তাওফিক আল্লাহর পক্ষ থেকে।
চাকরিজীবী দায়িত্ব পালন করবে, কিন্তু রিজিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ।

অতএব, চেষ্টা হবে মানুষের দায়িত্ব; ফলাফলের ওপর ভরসা হবে আল্লাহর প্রতি।

আধুনিক জীবনে সূরা কুরাইশের শিক্ষা

আজকের মানুষও কুরাইশদের মতো নানা নিয়ামত ভোগ করছে। আমাদের ঘরে খাবার আছে, মাথার ওপর ছাদ আছে, চলাচলের ব্যবস্থা আছে, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ আছে, যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে।

কিন্তু আমরা কি এসব নিয়ামতের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করি?

অনেক সময় মানুষ যা পেয়েছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে যা পায়নি তা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। ফলে কৃতজ্ঞতার বদলে অভিযোগ বাড়ে, শান্তির বদলে অশান্তি আসে।

সূরা কুরাইশ আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়—নিয়ামতের দিকে তাকাও, নিয়ামতদাতাকে স্মরণ করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।

যে ব্যক্তি প্রতিদিনের ছোট ছোট নিয়ামত উপলব্ধি করতে শেখে, তার অন্তরে কৃতজ্ঞতা জন্মায়। আর যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞ হতে শেখে, সে অহংকার, লোভ ও অস্থিরতা থেকে অনেকটাই রক্ষা পায়।

পরিবার ও সমাজজীবনে শিক্ষা

সূরা কুরাইশের শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার ও সমাজেও এর বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে।

পরিবারে যদি পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকে, তাহলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। স্বামী স্ত্রীর সহযোগিতার মূল্য বুঝবে, স্ত্রী স্বামীর পরিশ্রমের মর্যাদা দেবে, সন্তান মা-বাবার ত্যাগ উপলব্ধি করবে। পারস্পরিক কৃতজ্ঞতা পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

সমাজেও একই শিক্ষা প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি মানুষের উপকারের মূল্য বোঝে, সে অন্যের প্রতি অন্যায় করতে পারে না। সে দুর্বলকে সাহায্য করে, অসহায়কে সহযোগিতা করে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।

নিয়ামত হারানোর আগে মূল্য বোঝা

মানুষ অনেক সময় কোনো নিয়ামত হারানোর পর তার মূল্য উপলব্ধি করে। সুস্থ অবস্থায় সুস্বাস্থ্যের মূল্য বোঝা হয় না; অসুস্থ হলে বোঝা যায়। শান্তির সময় নিরাপত্তার মূল্য বোঝা হয় না; বিপদের সময় বোঝা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলে খাদ্যের মূল্য উপলব্ধি হয় না; ক্ষুধার্ত হলে বোঝা যায়।

তাই মুমিনের জীবন হওয়া উচিত সচেতন ও কৃতজ্ঞতার জীবন। নিয়ামত থাকা অবস্থাতেই নিয়ামতের মর্যাদা বুঝতে হবে এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

আমাদের করণীয়

সূরা কুরাইশের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হলে আমাদের কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে—

১. একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে হবে।
২. তাঁর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হতে হবে।
৩. হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জন করতে হবে।
৪. জীবিকার জন্য পরিশ্রম করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।
৫. খাদ্য ও নিরাপত্তার নিয়ামতের মর্যাদা বুঝতে হবে।
৬. সম্পদকে জীবনের উদ্দেশ্য না বানিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
৭. মানুষের জান-মাল, সম্মান ও অধিকার রক্ষা করতে হবে।
৮. পরিবার ও সমাজে শান্তি, সহযোগিতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৯. অপচয়, অহংকার, লোভ ও অকৃতজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
১০. জীবনের প্রতিটি নিয়ামতকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করতে হবে।

উপসংহার

সূরা কুরাইশ আয়াতে ছোট হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। এতে মানুষের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন—রিজিক ও নিরাপত্তা, জীবিকার জন্য চেষ্টা, নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা, এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি ইবাদত ও আনুগত্যের শিক্ষা একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

কুরাইশদের মতো আমরাও আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি। আমাদের খাদ্য আছে, নিরাপত্তা আছে, পরিবার আছে, জ্ঞান আছে, কর্মের সুযোগ আছে—কিন্তু এসবের কোনোটিই আমাদের নিজস্ব ক্ষমতায় সৃষ্টি হয়নি। সবই মহান আল্লাহর দান।

তাই আমাদের জীবন যেন শুধু নিয়ামত ভোগের জীবন না হয়; বরং নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা, হালাল উপার্জন, ন্যায়নীতি, মানুষের কল্যাণ এবং আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ জীবন হয়।

যিনি ক্ষুধার সময় আহার দেন, ভয় থেকে নিরাপদ রাখেন, জীবিকার পথ খুলে দেন এবং অসংখ্য নিয়ামতে জীবনকে সমৃদ্ধ করেন—তাঁরই ইবাদত করা আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব।

সূরা কুরাইশের সারকথা হলো—আল্লাহর দেওয়া রিজিক ও নিরাপত্তার নিয়ামত স্মরণ করে কৃতজ্ঞচিত্তে একমাত্র তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালনা করা।

হে আল্লাহ, তোমার অগণিত নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার, হালাল রিজিক অর্জনের, মানুষের হক আদায় করার এবং একনিষ্ঠভাবে তোমার ইবাদত করার তাওফিক দাও। আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ