প্রভাষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:১৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলা-ইংরেজির পর তৃতীয় ভাষা চালুর উদ্যোগ
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় একটি ভাষা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালুর ক্ষেত্রে চীন সরকার সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় একটি ভাষা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালুর ক্ষেত্রে চীন সরকার সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে তৃতীয় ঢাকা-চায়না ডে-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বাংলা আমাদের প্রথম ভাষা, তারপর ইংরেজি। আমাদের দেশে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করা উচিত। খুব স্বাভাবিকভাবেই, চীনের প্রশাসক এবং চীন সরকার এই তৃতীয় ভাষার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী এবং তারা আমাদের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালু করতে সহায়তা করছে। যাই হোক, আমরা চীনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কখনো এ সম্পর্ক মেঘলা ছিল, কখনো রৌদ্রোজ্জ্বল, কখনো ঝোড়ো হয়েছে। আবার কখনো আগের চেয়েও ভালো হয়েছে।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় টিভিইটি খাতের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং এখানে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময় এখনই।
কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ খাতে কোন পথে এগোনো উচিত এবং কোন মডেল অনুসরণ করা যায়, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এআই, কম্পিউটার ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে চীনা মডেলই সেরা মডেল।
চীনে নিজের তৃতীয় সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘হয়তো ২০ ও ৫০ বছর আগে চীনে গিয়েছিলাম। তাদের উন্নয়ন অবিশ্বাস্য, কারণ চীনা শিক্ষার্থীরা—তাদের দেশের জন্য কাজ করছে।’
চীনের জনসংখ্যা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, চীনের জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং দেশটি এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। তবে এরপরও তারা সংকটের মধ্যে রয়েছে। একসময় সেখানে ‘এক পরিবারে এক সন্তান’ নীতি ছিল। এখন দুইয়ের বেশি সন্তান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মানুষ সেই অভ্যাস গড়ে তুলছে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই বিবেচনায় বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মেধার প্রশংসা করে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সময় তিনি দেখেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাই সেরা। জ্ঞান, অধ্যবসায়, মানসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিদেশেও নিজেদের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
১
২ মন্তব্য