সহকারী শিক্ষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ ২০২৬ - Degree Board Challenge করার নিয়ম, ফি ও অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
➡️এক ক্লিকে ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করুন
➡️ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম দেখতে ক্লিক করুন
➡️Degree 3rd year Board Challenge
ডিগ্রি ৩য় বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশের পর যাদের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, তাদের সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম কী? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের (Result Re-scrutiny) সুযোগ দেয়, যা সবার কাছে বোর্ড চ্যালেঞ্জ বা খাতা চ্যালেঞ্জ (Board Challenge) নামে পরিচিত। কিন্তু কীভাবে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে হয়, কোথায় আবেদন করতে হয়, ফি কত, আর আবেদনের সময়সীমা কবে—এসব না জেনে ভুল করলে টাকা ও সুযোগ দুটোই নষ্ট হতে পারে। এই পোস্টে ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ (Degree Board Challenge / NU Board Challenge) করার সম্পূর্ণ নিয়ম ধাপে ধাপে, বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—যাতে মোবাইল দিয়েই নির্ভুলভাবে অনলাইনে আবেদন (Board Challenge Apply Online) করতে পারেন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ বা ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ কী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভাষায় এই প্রক্রিয়ার নাম ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ (NU Re-scrutiny)। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি বোর্ড চ্যালেঞ্জ, খাতা চ্যালেঞ্জ বা রেজাল্ট চ্যালেঞ্জ নামে পরিচিত। ইংরেজিতে একে বলা হয় Board Challenge বা Result Recheck।
পুনঃনিরীক্ষণে যা যাচাই করা হয়
খাতার প্রতিটি উত্তরের নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কিনা
মোট নম্বর ও গ্রেড (Grade) সঠিকভাবে এন্ট্রি হয়েছে কিনা
কোনো উত্তর ভুলবশত মূল্যায়নহীন (Unmarked) রয়ে গেছে কিনা
গ্রেড পয়েন্ট (Grade Point) হিসাব ঠিক আছে কিনা
পুনঃনিরীক্ষণে যা করা হয় না
খাতা নতুন করে আবার কাটা হয় না
শিক্ষকের দেওয়া নম্বরের ওপর দ্বিমত করে নম্বর বাড়ানো হয় না
উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন (Re-evaluation) করা হয় না
অর্থাৎ, বোর্ড চ্যালেঞ্জে শুধু নম্বর গণনা বা এন্ট্রিজনিত ভুল ধরা পড়লেই ফলাফল পরিবর্তন হয়। এই বাস্তবতা জেনেই বোর্ড চ্যালেঞ্জ কিভাবে করে—সেটা শিখে আবেদন করুন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার আগে যা যা লাগবে
আবেদন শুরু করার আগে নিচের জিনিসগুলো হাতের কাছে রাখুন। এতে বোর্ড চ্যালেঞ্জের অনলাইন আবেদন (Board Challenge Online Apply) দ্রুত ও নির্ভুল হবে।
যা লাগবে | কেন লাগবে |
রেজিস্ট্রেশন নম্বর | পোর্টালে আপনার তথ্য খুঁজতে |
রোল নম্বর | তথ্য মিলিয়ে দেখতে |
সচল মোবাইল নম্বর | আবেদনের আপডেট ও যোগাযোগের জন্য |
যে পত্রগুলো চ্যালেঞ্জ করবেন, সেগুলোর পত্র কোড | সঠিক পত্র নির্বাচনের জন্য |
প্রিন্টার বা প্রিন্টের ব্যবস্থা | পে-স্লিপ (Pay Slip) প্রিন্ট করতে |
ফি পরিশোধের মাধ্যম | বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড বা ব্যাংকে নগদ |
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জের পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। নিচে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম ধাপে ধাপে বিস্তারিত দেওয়া হলো। মোবাইল বা কম্পিউটার—দুটো দিয়েই এই নিয়মে আবেদন করা যায়।
ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করুন
প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এ প্রবেশ করুন
হোমপেজের Services মেনুতে ক্লিক করুন
সেখান থেকে পুনঃনিরীক্ষণ বা Re-scrutiny / Re-evaluation অপশনটি নির্বাচন করুন
এটিই বোর্ড চ্যালেঞ্জের অফিসিয়াল অনলাইন পোর্টাল
মোবাইল ব্যবহারকারীদের পরামর্শ: ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করুন এবং পেজ ঠিকমতো লোড না হলে ডেস্কটপ মোড চালু করে দেখুন। ভিড়ের সময় সার্ভার ধীর হতে পারে—সকাল বা গভীর রাতে চেষ্টা করলে ভালো ফল পাবেন।
ধাপ ২: পরীক্ষার নাম নির্বাচন করুন
পোর্টালে পরীক্ষার তালিকা থেকে Degree Pass Course 3rd Year নির্বাচন করুন
ডিগ্রি ১ম বা ২য় বর্ষ ভুল করে নির্বাচন করবেন না
ভুল পরীক্ষা নির্বাচন করলে আবেদন বাতিল হতে পারে এবং ফি ফেরত পাবেন না
ধাপ ৩: রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করুন
আপনার সঠিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Registration Number) লিখে Search বা Next বাটনে ক্লিক করুন
স্ক্রিনে আপনার নাম, কলেজ, রোল নম্বরসহ প্রোফাইল চলে আসবে
সব পত্রের তালিকা ও বর্তমান গ্রেড দেখা যাবে
তথ্য মিলিয়ে নিন—অন্য কারো রেজিস্ট্রেশন নম্বরে আবেদন করলে সেটি অবৈধ হবে
ধাপ ৪: কোন পত্রে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করবেন, তা নির্বাচন করুন
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বোর্ড চ্যালেঞ্জ কিভাবে করে—এই প্রশ্নের উত্তরে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় এখানেই।
পত্রের তালিকা থেকে যে যে পত্রে খাতা চ্যালেঞ্জ করতে চান, সেগুলোর পাশের বক্সে টিক চিহ্ন দিন
পত্র কোড (Subject/Paper Code) খুব সতর্কতার সঙ্গে মিলিয়ে নিন
একবার সাবমিট করার পর পত্র পরিবর্তন বা সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই
ভুল পত্রে আবেদন করলে ফি ফেরত পাবেন না
কোন পত্র নির্বাচন করবেন, তার কৌশল
যে পত্রে পরীক্ষা ভালো দিয়েও অপ্রত্যাশিত ফেল বা কম গ্রেড এসেছে
যে পত্রের নম্বরে স্পষ্ট অসঙ্গতি আছে বলে মনে হচ্ছে
শুধু সন্দেহের বশে অনেকগুলো পত্রে আবেদন করে টাকা নষ্ট করবেন না—প্রতিটি পত্রের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়
ধাপ ৫: মোবাইল নম্বর দিন ও তথ্য নিশ্চিত করুন
একটি সচল মোবাইল নম্বর লিখুন
বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদনের অবস্থা ও পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য এই নম্বরে জানানো হতে পারে
বন্ধ সিম বা ভুল নম্বর দেবেন না
সাবমিট করার আগে পুরো ফরম আরেকবার পড়ে নিন
ধাপ ৬: পে-স্লিপ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করুন
ফরম পূরণ শেষে পে-স্লিপ (Pay Slip) ডাউনলোড করুন
পে-স্লিপে আপনার নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, নির্বাচিত পত্র ও মোট ফির পরিমাণ লেখা থাকবে
পে-স্লিপটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন—ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় এটি লাগবে
মোবাইলে ডাউনলোড করে পরে কম্পিউটার বা ফটোকপির দোকান থেকে প্রিন্ট করতে পারেন
ধাপ ৭: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দিন
পে-স্লিপ নিয়ে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ফি জমা দিন
টাকা জমা দিয়ে ব্যাংকের রশিদ (Receipt) সংগ্রহ করুন ও যত্নে রাখুন
অথবা সোনালী ব্যাংকের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই ফি পরিশোধ করুন
ফি জমা হওয়ার পরই আপনার বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদন সম্পন্ন বলে গণ্য হবে
সতর্কতা: শুধুমাত্র ডাউনলোড করা অফিসিয়াল পে-স্লিপের মাধ্যমেই ফি জমা দিন। ব্যাংকের প্রচলিত অন্য কোনো ফরমে টাকা জমা দিলে আবেদন গণ্য হবে না, এবং পরবর্তী জটিলতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি জমা দেওয়ার সব মাধ্যম
বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি (Board Challenge Fee) জমা দেওয়ার একাধিক মাধ্যম আছে। সুবিধামতো যেকোনোটি ব্যবহার করতে পারেন।
মাধ্যম | কীভাবে জমা দেবেন |
সোনালী ব্যাংক শাখা | পে-স্লিপ নিয়ে যেকোনো শাখায় নগদ জমা |
সোনালী ব্যাংক অনলাইন গেটওয়ে | পোর্টাল থেকে অনলাইন পেমেন্ট |
বিকাশ | অনলাইন গেটওয়েতে বিকাশ নির্বাচন করে পেমেন্ট |
নগদ | অনলাইন গেটওয়েতে নগদ নির্বাচন করে পেমেন্ট |
রকেট | অনলাইন গেটওয়েতে রকেট নির্বাচন করে পেমেন্ট |
ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড | ভিসা, মাস্টারকার্ড, নেক্সাস, ডিবিবিএল কার্ড |
সোনালী ব্যাংক হিসাব | নিজ হিসাবে থেকে অনলাইনে পরিশোধ |
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পেমেন্টের পর ট্রানজেকশন আইডি (Transaction ID) সংরক্ষণ করুন। টাকা কেটে গেলেও আবেদন সম্পন্ন না হলে এই আইডি দিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি কত
বিবরণ | পরিমাণ |
প্রতি পত্রের পুনঃনিরীক্ষণ ফি | ১,০০০ টাকা (সর্বশেষ ডিগ্রি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী) |
১টি পত্রে বোর্ড চ্যালেঞ্জ | ১,০০০ টাকা |
২টি পত্রে বোর্ড চ্যালেঞ্জ | ২,০০০ টাকা |
৩টি পত্রে বোর্ড চ্যালেঞ্জ | ৩,০০০ টাকা |
ফি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি প্রতি পত্র আলাদা করে দিতে হয়
একাধিক পত্রের মোট ফি একবারে জমা দিতে হয়
ফি কোনো অবস্থাতেই ফেরতযোগ্য নয়—ফলাফল পরিবর্তন হোক বা না হোক
এবারের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে ফি পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট-এর নোটিশে বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি নিশ্চিত করে নিন
বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদনের সময়সীমা
বিষয় | তথ্য |
আবেদন শুরু | ফলাফল প্রকাশের পর অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির তারিখ থেকে |
আবেদনের সময়কাল | সাধারণত ২–৩ সপ্তাহ (বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী) |
ফি জমার শেষ তারিখ | বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ পর্যন্ত |
সময়সীমার পর আবেদন | কোনোভাবেই গ্রহণ করা হয় না |
সময়সীমা নিয়ে কঠোর নিয়ম
নির্ধারিত সময়ের আগে আবেদন ফরম পূরণ, পে-স্লিপ ডাউনলোড বা ফি জমা দেওয়া যায় না
নির্ধারিত সময়ের পরেও কোনো কাজ করা যায় না
শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের শুরুতেই আবেদন সম্পন্ন করুন
ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত আপত্তি জানানো যায়; এরপর আর কোনো আপত্তি গ্রহণ করা হয় না
বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদনে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
অনলাইনে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে যেসব সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়, সেগুলোর সমাধান নিচে দেওয়া হলো।
সমস্যা | সমাধান |
পোর্টালে ঢুকতে পারছি না / সার্ভার ধীর | ভিড়ের সময় এড়িয়ে সকালে বা গভীর রাতে চেষ্টা করুন; অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করুন |
রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলে তথ্য আসছে না | নম্বর ঠিক আছে কিনা মিলিয়ে দেখুন; সঠিক পরীক্ষা (Degree 3rd Year) নির্বাচন করেছেন কিনা যাচাই করুন |
পে-স্লিপ ডাউনলোড হচ্ছে না | পপ-আপ ব্লকার বন্ধ করুন; মোবাইলে ডেস্কটপ মোড চালু করুন |
টাকা কেটে গেছে কিন্তু আবেদন সম্পন্ন হয়নি | ট্রানজেকশন আইডি নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন; না হলে ব্যাংক/গেটওয়ে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন |
ভুল পত্র নির্বাচন করে ফেলেছি | দুঃখজনকভাবে সংশোধনের সুযোগ নেই; তাই সাবমিটের আগে দুবার যাচাই করুন |
ফি জমার রশিদ হারিয়ে গেছে | ব্যাংক শাখায় পে-স্লিপ নম্বর দিয়ে ডুপ্লিকেট রশিদ নিন |
বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফলাফল (NU Re-scrutiny Result) কবে ও কীভাবে দেখবেন
পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল সাধারণত আবেদন শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশ হয়
ফলাফল প্রকাশ হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট-এর নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়
বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্টে (Board Challenge Result) যাদের নম্বরে ভুল ধরা পড়ে, তাদের সংশোধিত গ্রেড আপডেট করা হয়
পরিবর্তন না হলে আগের ফলাফলই বহাল থাকে
পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলই চূড়ান্ত—এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ নেই
ফলাফল পরিবর্তন হলে করণীয়
সংশোধিত ফলাফলের কপি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করুন
সিজিপিএ (CGPA) পুনরায় হিসাব করে নিন
কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগে সংশোধিত ফলাফলের তথ্য জানিয়ে রাখুন
পরবর্তী শ্রেণি বা চাকরির আবেদনে সংশোধিত ফলাফল ব্যবহার করুন
বোর্ড চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
দালাল থেকে সাবধান: "টাকা দিলে বোর্ড চ্যালেঞ্জে ফলাফল বদলে দেবো"—এটি সম্পূর্ণ প্রতারণা। পুনঃনিরীক্ষণে কারো হস্তক্ষেপে নম্বর বাড়ানোর সুযোগ নেই
কোনো ফেসবুক পেজ, ইউটিউবার বা মধ্যস্বত্বভোগীকে টাকা দেবেন না
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ছাড়া ফেসবুকের ভুয়া তারিখ দেখে আগেই ফি জমা দেবেন না
আবেদন শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমেই করুন
ফলাফল সংক্রান্ত তথ্যের জন্য শুধু অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নোটিশেই বিশ্বাস রাখুন
বোর্ড চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম কী?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের Services মেনু থেকে পুনঃনিরীক্ষণ (Re-scrutiny) অপশনে গিয়ে Degree Pass Course 3rd Year নির্বাচন করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করুন, পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দিন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ কিভাবে করে মোবাইল দিয়ে?
মোবাইলের ক্রোম ব্রাউজার থেকে অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে একই নিয়মে ফরম পূরণ করা যায়। পে-স্লিপ ডাউনলোড করে বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডে ফি জমা দিতে পারবেন।
NU Board Challenge apply করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এর Services মেনু থেকে পুনঃনিরীক্ষণ (Re-scrutiny) অপশনে গিয়ে আবেদন করতে হয়। অন্য কোনো সাইটে আবেদন করবেন না।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি (Board Challenge Fee) কত টাকা?
সর্বশেষ ডিগ্রি ৩য় বর্ষের পুনঃনিরীক্ষণ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি পত্রে ১,০০০ টাকা। এবারের বিজ্ঞপ্তিতে ফি পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল নোটিশ দেখে নিন।
একাধিক পত্রে কি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যায়?
হ্যাঁ। একাধিক পত্র নির্বাচন করে মোট ফি একবারে জমা দিতে হয়। তবে প্রতিটি পত্রের জন্য আলাদা ফি প্রযোজ্য, এবং ফি ফেরত পাওয়া যায় না।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি খাতা আবার দেখা হয়?
না। পুনঃনিরীক্ষণে খাতা নতুন করে কাটা হয় না। শুধু নম্বর যোগ, গ্রেড এন্ট্রি ও কোনো উত্তর মূল্যায়নহীন রয়ে গেছে কিনা—তা যাচাই করা হয়।
বোর্ড চ্যালেঞ্জে ফলাফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা কতটুকু?
নম্বর গণনা বা এন্ট্রিতে প্রকৃত ভুল থাকলেই ফলাফল পরিবর্তন হয়। শুধু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আবেদন করলে ফলাফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফলাফল (Board Challenge Result) কবে প্রকাশ হয়?
আবেদন শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে। ফলাফল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়।
ফি জমা দেওয়ার পর কি আবেদন বাতিল করা যায়?
না। ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন বাতিল বা ফি ফেরতের কোনো সুযোগ নেই। তাই সাবমিটের আগে সব তথ্য দুবার যাচাই করুন।
পুনঃনিরীক্ষণ আবেদনে (পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন) ভুল হলে কী হবে?
ভুল পত্র নির্বাচন বা ভুল তথ্যে আবেদন করলে সেটি সংশোধন করা যায় না এবং ফি ফেরত পাবেন না। তাই প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করুন।
Degree 3rd Year Board Challenge-এর আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ পর্যন্ত। সাধারণত ফলাফল প্রকাশের পর ২–৩ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। নিয়মিত অফিসিয়াল নোটিশ চেক করুন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ না করে কি ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেওয়া ভালো?
পরীক্ষা খারাপ দিয়ে থাকলে হ্যাঁ—ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় নতুন করে ভালো লিখে নম্বর বাড়ানোর বাস্তব সুযোগ আছে। বোর্ড চ্যালেঞ্জ শুধু গণনার ভুল ধরার জন্য।
উপসংহার
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ (Degree Board Challenge) করার নিয়ম এখন আপনার হাতের মুঠোয়। সংক্ষেপে মনে রাখুন—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করুন, সঠিক পত্র কোড নির্বাচন করুন, পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দিন। আর সবচেয়ে জরুরি—অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির সময়সীমা মিস করবেন না। যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলে দেরি না করে আজই বোর্ড চ্যালেঞ্জের অনলাইন আবেদন (NU Board Challenge Apply Online) সম্পন্ন করুন।
১
১ মন্তব্য