প্রভাষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
আজকের শিক্ষার্থী এমন এক সময়ে বড় হচ্ছে, যখন একটি মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের পর্দায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাওয়া যায় রচনা, গণিতের সমাধান, অনুবাদ, প্রোগ্রামিং কোড, গবেষণার সারাংশ, এমনকি পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণাগারের বিষয় নয়। এটি শিক্ষার্থীর পড়ার টেবিলে, শিক্ষকের পাঠপরিকল্পনায়, গবেষকের তথ্য বিশ্লেষণে এবং অভিভাবকের উদ্বেগে ঢুকে পড়েছে; কিন্তু এই পরিবর্তনের সামনে আমাদের মৌলিক প্রশ্নটি হওয়া উচিত। এআই কি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আশীর্বাদ, নাকি অভিশাপ? বাস্তবতা হলো, এআই নিজে ভালো বা খারাপ নয়। এটি একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি। এর ব্যবহার যদি দায়িত্বশীল, নৈতিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক হয়, তবে এটি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে পারে, শেখাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করতে পারে এবং শিক্ষকের কাজকে সহজ করতে পারে। বিপরীতে, যদি এআই -কে শুধু দ্রুত উত্তর তৈরির যন্ত্র, পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যম বা চিন্তা না করেই কাজ জমা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি শিক্ষার ভিতকেই দুর্বল করে দিতে পারে।বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এআই -এর সম্পর্ক তাই কেবল প্রযুক্তির সম্পর্ক নয়। এটি শিক্ষার উদ্দেশ্য, মূল্যায়নপদ্ধতি, শিক্ষকতার ভূমিকা, নৈতিকতা, সামাজিক বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি প্রশ্ন।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গত কয়েক দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠ্যপুস্তক, পরীক্ষার্থী এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক অগ্রগতি; কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ এখনো প্রবল। বহু শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করলেও বাস্তবজীবনের সমস্যা সমাধান, যুক্তি দিয়ে মত প্রকাশ, তথ্য যাচাই, দলগত কাজ, গবেষণা, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারে যথেষ্ট দক্ষ হয়ে উঠতে পারে না। এর অন্যতম কারণ হলো পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষা মানে নির্দিষ্ট অধ্যায় শেষ করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মুখস্থ করা, কোচিং বা গাইডবই অনুসরণ করা এবং পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা। এখানে প্রশ্ন করার চেয়ে উত্তর মুখস্থ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ এর বদলে ‘কী লিখলে নম্বর পাওয়া যাবে’ এই চিন্তা প্রাধান্য পায়। শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতাও বিবেচনা করা দরকার। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসংখ্যা বেশি, শিক্ষকের সময় সীমিত এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব, লাইব্রেরি, ইন্টারনেট বা শেখার উপকরণ পর্যাপ্ত নয়। একই শ্রেণিতে কারও শেখার গতি দ্রুত, কারও ধীর। কেউ গণিতে দক্ষ হলেও ভাষায় দুর্বল, কেউ তত্ত্ব বুঝতে পারলেও লিখিতভাবে প্রকাশ করতে পারে না; কিন্তু প্রচলিত একরকমের পাঠদান ও একরকমের পরীক্ষাপদ্ধতি এই ভিন্নতাগুলোকে খুব কমই বিবেচনায় নেয়।ফলে আমরা এমন শিক্ষার্থী তৈরি করার ঝুঁকিতে থাকি, যারা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারে, কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগ করতে দ্বিধায় পড়ে। চাকরির সাক্ষাৎকার, গবেষণাগার, প্রকৌশল প্রকল্প, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা প্রশাসনিক কাজে গিয়ে তখন বোঝা যায়, শুধু মুখস্থজ্ঞান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমস্যা বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই, সিদ্ধান্ত নেওয়া, যোগাযোগ করা এবং পরিবর্তিত পরিবেশে নতুনভাবে শেখার সক্ষমতা
১
২ মন্তব্য