সহকারী শিক্ষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:২৮ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে ছাত্রীদের মহাসড়ক অবরোধ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের অপসারণের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ ছাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর স্কুল চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘এক দফা এক দাবি, মুজিবুর তুই কবে যাবি’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে ভান্ডারিয়া মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৮০ লাখ টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি, তহবিল তছরুপ ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ছাত্রীরা তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেছিল। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়লে ইউএনও তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। কিন্তু তদন্ত কমিটির কাছে সত্য তথ্য দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। এমনকি শিক্ষকেরা অনিয়মের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলে প্রধান শিক্ষক উল্টো ওই ৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধেই সাইবার মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার কারণে শিক্ষকেরা স্কুলে আসতে না পারায় এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় বলে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য। পরে তারা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার পর তারা বিদ্যালয়ে ফিরে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে লিয়াকত মার্কেট ও নতুন হাইওয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে এক দফা এক দাবি মজিবর তুই কবে যাবি বলে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
ঘটনার সময় ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান সরকারি কাজে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলেন। তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে তার প্রতিনিধিদের ঘটনা স্থলে পাঠিয়ে মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তার অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে বিদ্যালয়ে ফিরে যায়। বিকেল ৪টার দিকে ইউএনও নিজে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি তাদের রোববার থেকে নিয়মিত ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করেন।
-(1).gif)


১
১ মন্তব্য