Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিয়োগপত্র ইস্যুতে ত্রিধাবিভক্ত প্রাথমিকের শিক্ষকরা, কফিনের শেষ পেরেকের প্রস্তুতি!


এদিকে কতিপয় দাগী শিক্ষক নেতার উসকানিতে পা দিয়ে নিয়োগপত্র না পেয়ে এখন ভুল বুঝতে পারা কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন দৈনিক শিক্ষাডটকম এর সঙ্গে। তারা বলছেন, লিপি-মাহবুবসহ কয়েকজনের উসকানিতে পড়ে ফেসবুকে নানা উসকানি এবং জনগণকে জিম্মি করার ফল টের পাচ্ছেন। তবে, কেউ কেউ দাবি করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনোই অভিযোগ নেই।।

#দৈনিক শিক্ষা #প্রাথমিক শিক্ষক #সহকারী শিক্ষক #নিয়োগ #শিক্ষাসংবাদ

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো জন্য সরকার তাদেরকে বেতন-ভাতা দেয় কিন্তু তারা দিনমান ফেসবুক পোস্ট ও এনজিওর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সময় নষ্ট, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিভাগীয় মামলায় জর্জরিত হয়ে এখন গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করেন। হায়ার অভাবে থাকা কেউ কেউ ফেসবুকে অশালীনভাবে কান্নাকাটিও করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে নেতা সেজে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে থাকেন। এতে সারাদেশের অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষকদের কাছে ধিকৃত তারা।

এই চক্রটির সর্বশেষ অপকর্ম হলো প্রশ্নফাঁসসহ নানা অপরাধে যুক্ত হয়ে প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া কতিপয় হবু শিক্ষককে নানাভাবে উসকানি দিয়ে নানা বিশৃঙ্খলা করিয়েছিলেন বিতর্কিত শিক্ষক নেতারা। লিপি-মাহবুব-কাশেসমহ কয়েকজন দাগীর উসকানিতে পা দিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হওয়ার আগেই ফেসবুকে উসকানিমূলক লেখা, জনগণকে জিম্মি, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা অপরাধ করে ফেলেছেন সহকারি শিক্ষক পদে নতুন উত্তীর্ণদের অনেকেই। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আসছে অক্টোবরে তাদের যোগদানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন সংখ্যা সহস্রাধিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল ২৫ সেপ্টম্বরের পরে তারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানিয়েছেন তাদেরই কেউ কেউ। এক পক্ষ নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে নিজেদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নতুন পরিচয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা। কেউ কেউ নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে চেষ্টা করছেন, আবার অনেকে পুনর্বিবেচনার আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। ফলে একই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের একাংশের মধ্যে নতুন কর্মজীবনের প্রত্যাশা তৈরি হলেও অন্য অংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

১৪ হাজারের কিছু বেশি সহকারি শিক্ষক পদে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে নেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসসহ নানা অপরাধে যুক্ত থাকার তথ্য রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হাতে। নাম প্রকাশে অনিচছুক একাধিক দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একাধিক সূত্রমতে, যারা নিয়োগপত্র পেয়েছেন তাদের বড় অংশই এখন নিয়োগপত্র না পাওয়াদের এড়িয়ে চলছেন। অপরদিকে গুপ্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্তরা ভিন্ন চিন্তা করছেন। তারা রাজপথে নামার প্রস্তুতি হিসেবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ফেসবুক গ্রুপ ও প্রচারমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রচার শুরু করেছেন। অপর একটি অংশ নিয়োগপত্র পেয়েও গোপনে না পাওয়াদের পক্ষে কাজ করছেন। আরেকটা অংশ রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। দলীয় উকিলরা ইতিমধ্যে কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন। বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের ক্লিপিং জোগাড় করছেন। এসব দেখে ও শুনে প্রাথমিকের সাধারণ শিক্ষকরা ছি! ছিক্কার করছেন। তারা বলছেন শিক্ষকতা পেশাটা অন্য পেশার থেকে আলাদা সমাজে তাদের সম্মানটা বেশি কিন্তু কেউ কেউ শিক্ষক পদে চাকরির যোগ্য না। তাদের শুরুটাই মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসততার মধ্য দিয়ে। এমন চলতে থাকলে গত বছর যেমন পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া শিক্ষকদের ওপর অভিভাবকরা চড়াও হয়েছিলেন এবার নিয়োগপত্র ইস্যুতেও তেমনটাই ঘটার আশঙ্কা করছেন।

অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক আনিসুর রহমানের মতে, সরকারি চাকরি মানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই যদি নৈতিক ও আর্থিক এবং সামাজিক অপরাধে যুক্ত হন। আবার ফেসবুকে অশিক্ষকসুলভ আচরণ করেন তাহলে তো সরকার কঠোর হতেই পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও মূল ধারার গণমাধ্যমের সমর্থন জুটবে না তাদের কপালে।

এদিকে কতিপয় দাগী শিক্ষক নেতার উসকানিতে পা দিয়ে নিয়োগপত্র না পেয়ে এখন ভুল বুঝতে পারা কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন দৈনিক শিক্ষাডটকম এর সঙ্গে। তারা বলছেন, লিপি-মাহবুবসহ কয়েকজনের উসকানিতে পড়ে ফেসবুকে নানা উসকানি এবং জনগণকে জিম্মি করার ফল টের পাচ্ছেন। তবে, কেউ কেউ দাবি করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনোই অভিযোগ নেই। তবুও নিয়োগপত্র পাননি।

ideal College

প্রায় ১৪ হাজার চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে এক অংশ চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছেন। অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন। এ ছাড়া এখনো প্রায় ১৫ জেলার নিয়োগপত্র দেওয়া বাকি রয়েছে

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভেরিফিকেশনে বাদ একাধিক চাকরিপ্রার্থী দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রার্থীরা বলেন, তারা শিগগির এই বিষয়ে রিট করবেন। সব জেলার ফল প্রকাশের পরে মোট কতো জন বাদ পড়েছেন সেই সংখ্যাটা জানার অপেক্ষায় তারা।

এদিকে, যেসব প্রার্থী ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল বা অসঙ্গতির কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য তারা সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

Presidency University admission (300x250) 20-08-26

অন্যদিকে, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরাও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

তবে এখনো প্রায় ১৫ জেলার ফল প্রকাশ না হওয়ায় পুরো পরিস্থিতির চিত্র সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়নি। এসব জেলার ফল প্রকাশের পর চূড়ান্ত সুপারিশ, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া এবং অনুত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ও পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।

সব মিলিয়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে তিন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরা নিয়োগের অপেক্ষায়, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা পুনর্বিবেচনা ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিতে এবং বাকি জেলাগুলোর প্রার্থীরা ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।

প্রবীণ শিক্ষক নেতাদের মতে, রিট করা মানে দীর্ঘ আইনী জটিলতায় পড়া। নিয়োগপত্র না পেয়ে রিট করা মানে কফিনের শেষ পেরেক! কারণ, চাকরির বিষয়টা নির্বাহী বিভাগের বিষয়। এসব ঘটনায় আইনী লড়াই চলে বহু বছর। ততোদিনে এসব প্রার্থীর অন্য সরকারি চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যাবে।

অপরদিকে জেলায় জেলায় গড়ে ওঠা রিটের দালালরা প্রস্তুত মামলায় ঢুকিয়ে দিতে। লিপি নামের এক মামলাবাজ ও রিটের দালালদের খপ্পড়ে পড়েছেন নিয়োগপত্র না পাওয়া কয়েকজন হবু শিক্ষক।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিভাইস পার্টির নানা তথ্য প্রমাণ সারাদেশের মূল ধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নিয়োগকালীন বিতর্কিত মহাপরিচালক ও সচিবকে সরকার ইতিমধ্যে শাস্তির মধ্যে রেখেছে।

শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ