Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪ অপরাহ্ণ

নতুন স্বপ্ন, নতুন পথচলা: বি.জে.এস.এম মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ

নতুন স্বপ্ন, নতুন পথচলা: বি.জে.এস.এম মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ


“স্বপ্ন যেখানে সার্থক”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে নরসিংদীর মনোহরদীতে বি.জে.এস.এম মডেল কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠান। নতুন শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টায় কলেজ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার, মেধা ও দক্ষতার সঠিক প্রয়োগ, আত্মবিশ্বাস, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার জন্য পরিকল্পিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে মাদক ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকা, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এবং দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য নবীনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মাহামুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বি.জে.এস.এম মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ জনাব মঞ্জিল মোল্লা।

এ ছাড়া কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, নবীন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পৃথিবীতে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে: অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে একজন শিক্ষার্থীর সামনে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। তবে সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার্থীকে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অনুযায়ী জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জ্ঞানার্জনের পরিধি বিস্তৃত করার পরামর্শ দেন। বিশ্বের পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষার সুযোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা, গবেষণার আগ্রহ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ পাওয়ার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, একাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিজের যোগ্যতা যথাযথভাবে উপস্থাপনের সক্ষমতাও প্রয়োজন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা শুধু তার বর্তমান অবস্থান দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যথাযথ শিক্ষা, পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও সুযোগের সদ্ব্যবহার একজন শিক্ষার্থীকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

নেলসন ম্যান্ডেলার উদাহরণে প্রতিকূলতা জয় করার শিক্ষা

বক্তব্যে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার জীবন ও সংগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জীবনে বাধা আসবেই। কিন্তু বাধার কারণে লক্ষ্য পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, ধৈর্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা একজন মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন—

“তোমরা এখন থেকেই বড় স্বপ্ন দেখবে। তোমাদের লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; নিজেকে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে দেশ ও বিশ্বের যেকোনো জায়গায় তোমরা নিজের যোগ্যতা দিয়ে জায়গা করে নিতে পারো।”

তিনি শিক্ষার্থীদের সময়কে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিদিনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দেন।

“একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তাঁর শিক্ষার্থীর সাফল্য”

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বি.জে.এস.এম মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ জনাব মঞ্জিল মোল্লা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু একটি সুন্দর ভবন, আধুনিক অবকাঠামো কিংবা পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং তাকে ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় অর্জন।

তিনি বলেন—

“একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তাঁর শিক্ষার্থীর সাফল্য।”

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন ভালো ফলাফল করে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করে, কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে—তখন সেই অর্জনের সঙ্গে তার পরিবার, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যও যুক্ত হয়।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নিয়মিত ক্লাস করা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা, পাঠ বুঝে পড়া, দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন করা জরুরি।

তিনি শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব ইউএনও মাহামুদুল হাসানের

প্রধান অতিথি মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মাহামুদুল হাসান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মাদক ও বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পরিবার, শিক্ষা, কর্মজীবন এবং সামগ্রিক সমাজের ওপর পড়ে।

তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো বন্ধু নির্বাচন, সুস্থ জীবনযাপন, নিয়মিত পড়াশোনা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির ব্যবহারেও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

“গ্রামের শিক্ষার্থীও দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারে”

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, তিনিও গ্রামের ছেলে। তাই গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কখনোই এমন ধারণা থাকা উচিত নয় যে শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের সুযোগ কম।

তিনি বলেন, সঠিক প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।

তিনি নবীনদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য একাদশ শ্রেণি থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দেন।

এ ক্ষেত্রে তিনি পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া, নিয়মিত অনুশীলন, সময় ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় সাধারণ জ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাক্ষেত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন—বর্তমান অবস্থান ভবিষ্যৎ সাফল্যের চূড়ান্ত সীমা নয়। একজন শিক্ষার্থী কোথা থেকে এসেছে তার চেয়ে সে কোথায় যেতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছে—তা গুরুত্বপূর্ণ।

খরগোশ-কচ্ছপের গল্পে সাফল্যের বাস্তব শিক্ষা

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন কলেজের প্রভাষক তৌফিক সুলতান। তিনি প্রচলিত খরগোশ ও কচ্ছপের গল্পকে শিক্ষাজীবনের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে সাফল্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গল্পের প্রথম পর্যায়ে খরগোশ নিজের গতি ও সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে কচ্ছপকে অবহেলা করেছিল। অন্যদিকে কচ্ছপ ধীরগতির হলেও থেমে যায়নি। সে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

এই গল্পের সঙ্গে শিক্ষাজীবনের তুলনা করে তিনি বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পর কোনো শিক্ষার্থী যদি আত্মতুষ্ট হয়ে নিয়মিত পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে সে প্রথম দৌড়ের খরগোশের মতো পিছিয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন—

“মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল শেষ নয়; এটি পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি। ভালো ফল করার পর আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝান, জীবনের প্রথম সাফল্য কখনোই আত্মতুষ্টির কারণ হওয়া উচিত নয়। বরং একটি অর্জনকে পরবর্তী অর্জনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

মেধা থাকলেই হবে না, মেধার সঠিক ব্যবহারও জানতে হবে

খরগোশ-কচ্ছপের গল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদাহরণ তুলে তৌফিক সুলতান বলেন, খরগোশ নিজের ভুল বুঝতে পেরে এবার তার মেধা ও সক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগায় এবং বিজয়ী হয়।

এখান থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—মেধা থাকা যথেষ্ট নয়; মেধাকে সঠিক জায়গায়, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল করার সক্ষমতা থাকতে পারে; কিন্তু পরিকল্পনার অভাব, সময়ের অপচয়, অমনোযোগ কিংবা ভুল পদ্ধতির কারণে সেই সক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে রূপান্তরিত নাও হতে পারে।

শুধু পরিশ্রম নয়, সঠিক পথ ও কৌশলও প্রয়োজন

গল্পের তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনে শুধু মেধা কিংবা পরিশ্রম থাকলেই সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। সঠিক পথ, কৌশল ও পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী অনেক সময় প্রচুর সময় পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করে, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় প্রত্যাশিত ফলাফল পায় না। তাই কার্যকর শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজন—

  • নিয়মিত ও মনোযোগী পড়াশোনা;
  • সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা;
  • সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ;
  • দুর্বল বিষয় চিহ্নিত করে কাজ করা;
  • নিয়মিত অনুশীলন ও পুনরাবৃত্তি;
  • শিক্ষকদের পরামর্শ গ্রহণ;
  • প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন;
  • মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার;
  • পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মানসিক শৃঙ্খলা।

তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—

“প্রথম সাফল্যে আত্মতুষ্ট হয়ো না, ব্যর্থতায় হতাশ হয়ো না এবং পরিশ্রম করলেও ভুল পথে থেকো না। লক্ষ্য ঠিক করো, পথ ঠিক করো, নিয়মিত চেষ্টা করো—সাফল্যের সম্ভাবনা তখন অনেক বেড়ে যাবে।”

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের আহ্বান

বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন তৌফিক সুলতান।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর ব্যবহার নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য ও অভ্যাসের ওপর। শিক্ষার্থীরা চাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বমানের শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতির সুযোগ নিতে পারে।

তবে অতিরিক্ত বিনোদন, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

নবীনদের প্রতি শিক্ষকদের প্রত্যাশা

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের সম্মান করা, ভালো বন্ধু নির্বাচন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এবং মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছর একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে একটি ভালো অভ্যাস যেমন ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তেমনি অবহেলা ও সময়ের অপচয় পরবর্তী সময়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই একাদশ শ্রেণির শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ, দৈনিক রুটিন তৈরি, নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির পড়া সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানের বক্তাদের বক্তব্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে আসে—শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানী, দক্ষ, নৈতিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

তাঁরা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সাফল্য শুধু তার সার্টিফিকেট বা ফলাফলের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। তার সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, নৈতিকতা, সামাজিক আচরণ এবং অন্যের প্রতি সম্মানও একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়ের অংশ।

নবীন শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনের শুভকামনা জানিয়ে বক্তারা তাঁদের স্বপ্নবান, সুশিক্ষিত, দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নতুন শিক্ষাবর্ষে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা

২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর আয়োজন ছিল না; বরং তাঁদের নতুন শিক্ষাজীবনের লক্ষ্য, দায়িত্ব, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে পরিগণিত হয়।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও বড় স্বপ্নের বার্তা, প্রধান অতিথি ইউএনও মাহামুদুল হাসানের মাদকমুক্ত ও সচেতন সমাজ গঠনের আহ্বান, অধ্যক্ষ মঞ্জিল মোল্লার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সাফল্যের সম্পর্ক এবং প্রভাষক তৌফিক সুলতানের খরগোশ-কচ্ছপের গল্পের মাধ্যমে পরিকল্পিত পরিশ্রমের শিক্ষা—সব মিলিয়ে নবীনদের সামনে উঠে আসে শিক্ষাজীবনকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর একটি সমন্বিত বার্তা।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য ছিল—স্বপ্ন দেখতে হবে বড়, লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে স্পষ্টভাবে, মেধাকে কাজে লাগাতে হবে সঠিকভাবে, সময়কে মূল্য দিতে হবে এবং সাফল্যের জন্য নিয়মিত ও পরিকল্পিত পরিশ্রম করতে হবে।

নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এই বার্তাই যেন বি.জে.এস.এম মডেল কলেজের নতুন পথচলার প্রত্যয় হয়ে ওঠে—নতুন স্বপ্ন, নতুন লক্ষ্য এবং নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার নতুন অধ্যায়।


মন্তব্য করুন

ব্লগ