সহযোগী অধ্যাপক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ
উপবৃত্তি ২০২৬: কারা পাবে, আবেদনের নিয়ম, টাকা কবে দিবে ও চেক করার উপায়
👉এক ক্লিকে উপবৃত্তি দেয়ার সঠিক তারিখ দেখুন
👉এক ক্লিকে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে
👉উপবৃত্তির টাকা চেক করতে ক্লিক করুন এখানে
প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গুগলে একই প্রশ্ন লিখে খোঁজেন — "উপবৃত্তি কবে দিবে", "উপবৃত্তির টাকা কীভাবে পাবো", "উপবৃত্তির আবেদন কীভাবে করবো"। অথচ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বেশিরভাগ লেখায় হয় ভাসা ভাসা তথ্য, নয়তো পুরনো তারিখ। এই পোস্টে প্রাথমিক থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত সব পর্যায়ের উপবৃত্তির হালনাগাদ তথ্য এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো — কোন কর্মসূচি কোন শ্রেণির জন্য, কত টাকা পাবেন, আবেদন কীভাবে করবেন, টাকা কবে ছাড় হবে এবং টাকা না পেলে কী করবেন।
উপবৃত্তি আসলে কী? (আর বৃত্তির সঙ্গে পার্থক্য)
অনেকেই "বৃত্তি" আর "উপবৃত্তি" গুলিয়ে ফেলেন। পার্থক্যটা পরিষ্কার করে নিন, কারণ দুটোর নিয়ম আলাদা।
বৃত্তি (Scholarship) দেওয়া হয় মেধার ভিত্তিতে — যেমন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বা সাধারণ গ্রেডে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সাল থেকে মাসে ৩০০ বা ২২৫ টাকা করে পাবেন। আর উপবৃত্তি (Stipend) হলো সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ — দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা। উপবৃত্তির জন্য আলাদা মেধা পরীক্ষা দিতে হয় না; শর্ত পূরণ করলেই তালিকাভুক্ত হওয়া যায়।
এক নজরে: কোন শ্রেণিতে কোন উপবৃত্তি
পর্যায় | কর্মসূচির নাম | পরিচালনাকারী | যাদের জন্য |
প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি | প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি (PESP) | প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর | সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী |
৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি | সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি (HSP) | প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট | স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী |
দাখিল ও আলিম | সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি (HSP) | প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট | মাদ্রাসা শিক্ষার্থী |
ডিপ্লোমা ও ভোকেশনাল | কারিগরি উপবৃত্তি | কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর | পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী |
ডিগ্রি (পাস) ১ম বর্ষ | ডিগ্রি উপবৃত্তি | প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি শিক্ষার্থী |
প্রাথমিক উপবৃত্তি ২০২৬: কত টাকা, কারা পাবে
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ "প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা" প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আসবে।
শ্রেণি অনুযায়ী টাকার পরিমাণ
শ্রেণি | পরিবারের ১ জন শিক্ষার্থী | পরিবারের ২ জন শিক্ষার্থী |
প্রাক-প্রাথমিক | মাসে ৭৫ টাকা | — |
১ম থেকে ৫ম শ্রেণি | মাসে ১৫০ টাকা | মাসে ৩০০ টাকা |
৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি (যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই শ্রেণিগুলো চালু আছে) | মাসে ২০০ টাকা | মাসে ৪০০ টাকা |
মনে রাখবেন, একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষার্থী এই উপবৃত্তি পাবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এই হার বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে।
উপবৃত্তি পাওয়ার শর্ত
প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তির জন্য শিশুর বয়স কমপক্ষে ৪ বছর হতে হবে।
প্রতি মাসে পাঠদিবসের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।
২য় থেকে ৮ম শ্রেণির ক্ষেত্রে আগের শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৩ শতাংশ)।
শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে।
অভিভাবকের নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে খোলা সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
টাকা কীভাবে পাবেন
উপবৃত্তির টাকা এখন সরাসরি অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় (G2P পদ্ধতি)। নগদ লাইভ পোর্টালের মাধ্যমে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করা হয়। টাকা জমা হলে মোবাইলে এসএমএস আসে, আর যেকোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে টাকা তোলা যায়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি ২০২৬ (সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি)
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উপবৃত্তি কর্মসূচি পরিচালনা করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। এই "সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির" আওতায় দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় ৬২ লাখ অসচ্ছল শিক্ষার্থী প্রতি বছর উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা পায়। বছরে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিইএফটিএন পদ্ধতিতে বিতরণ করা হয়।
প্রতি কিস্তিতে কত টাকা পাবেন
উপবৃত্তির টাকা সাধারণত ৬ মাস পর পর এক কিস্তিতে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বিতরণের ধারা অনুযায়ী প্রতি ৬ মাসের কিস্তির পরিমাণ:
শ্রেণি | প্রতি ৬ মাসে |
৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি | ১,২০০ টাকা |
৮ম শ্রেণি | ১,৫০০ টাকা |
৯ম ও ১০ম শ্রেণি | ১,৮০০ টাকা |
একাদশ শ্রেণি (বিজ্ঞান বিভাগ) | ৩,৯০০ টাকা |
একাদশ শ্রেণি (অন্যান্য বিভাগ) | ৩,৪০০ টাকা |
দ্বাদশ শ্রেণি (বিজ্ঞান বিভাগ) | ৩,৯০০ টাকা |
দ্বাদশ শ্রেণি (অন্যান্য বিভাগ) | ৩,৬০০ টাকা |
এর সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির অর্থও একই সঙ্গে পাঠানো হয়। মাসিক হিসাবে ধরলে ৬ষ্ঠ–৭ম শ্রেণিতে প্রায় ২০০ টাকা, ৯ম–১০মে ৩০০ টাকা এবং একাদশ–দ্বাদশে ৫৬৭ থেকে ৬৫০ টাকা করে পড়ে।
কারা এই উপবৃত্তি পাবেন
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীর তথ্য এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি থাকতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা হয় না — অর্থাৎ বোর্ড রেজিস্ট্রেশন থাকা বাধ্যতামূলক।
নিয়মিত উপস্থিতি ও সন্তোষজনক ফলাফলের শর্ত প্রযোজ্য।
২০২৬ সালে নতুন শিক্ষার্থীদের এন্ট্রি
ট্রাস্টের ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রির কার্যক্রম ৫ এপ্রিল থেকে এইচএসপি-এমআইএস-এ শুরু হয়েছে। আপনার সন্তান এবার ষষ্ঠ বা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে থাকলে প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন তার তথ্য এন্ট্রি হয়েছে কি না।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি
দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আলাদা কোনো কর্মসূচির আওতায় নয় — তারাও সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির (HSP) আওতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সমমান হিসাবে উপবৃত্তি পান। মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়েই এইচএসপি-এমআইএসে তথ্য এন্ট্রি করা হয়। টাকার পরিমাণ ও বিতরণ পদ্ধতি স্কুল-কলেজের মতোই।
কারিগরি শিক্ষা উপবৃত্তি ২০২৬
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় উপবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। "স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP)"-এর আওতায় একসময় ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মাসিক ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি দেওয়া হতো।
বর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছেন এবং হার কত — তা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কার্যালয় বা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নোটিশ বোর্ডে খোঁজ নেওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
ডিগ্রি উপবৃত্তি ২০২৬: ৫,০০০ টাকা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট প্রতি বছর উপবৃত্তি দেয়। নির্বাচিত প্রতিটি শিক্ষার্থী এককালীন ৫,০০০ টাকা পান।
২০২৬ সালের আবেদনের তথ্য
প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী ২০২৬ সালে ডিগ্রি উপবৃত্তির জন্য শুধু ডিগ্রি ১ম বর্ষ (২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষ) এর শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পেরেছেন। আবেদন চলেছিল ১৭ মে থেকে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। আবেদন করতে হয়েছে অনলাইনে, ই-স্টাইপেন্ড পোর্টালে।
আবেদনে যা যা লেগেছে
এইচএসসির রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর
ডিগ্রির রেজিস্ট্রেশন নম্বর
শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর
অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
সক্রিয় মোবাইল নম্বর
৩০০×৩০০ পিক্সেল সাইজের ছবি
বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর
অনলাইন আবেদনের ধাপ
প্রথমে পোর্টালে গিয়ে এইচএসসি রোল, রেজিস্ট্রেশন, ডিগ্রি রেজিস্ট্রেশন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর ৬ সংখ্যার একটি পাসওয়ার্ড সেট করে সেই পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। নিবন্ধন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে "আবেদন করুন" অপশনে ক্লিক করে শিক্ষাগত, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর এবং ছবি আপলোড করে সাবমিট করতে হয়। সাবমিটের আগে সব তথ্য আরেকবার মিলিয়ে নেওয়া জরুরি, কারণ ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম ২০২৬ (সব পর্যায়)
একটা ভুল ধারণা ভাঙা দরকার — ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে কোথাও গিয়ে ফরম পূরণ করতে হয় না। কাজটা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর তথ্য এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি করে দেয়। আপনার করণীয় হলো প্রতিষ্ঠানে সঠিক তথ্য জমা দেওয়া — বিশেষ করে সক্রিয় মোবাইল নম্বর, জন্ম নিবন্ধন এবং বোর্ড রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
প্রাথমিক পর্যায়েও একইভাবে বিদ্যালয়ের মাধ্যমে তালিকা তৈরি হয়; নগদ লাইভ পোর্টালে শিক্ষকরা তথ্য এন্ট্রি করেন। শুধু ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষার্থীকে নিজে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
আবেদনের সময় সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে: শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদ, বোর্ড রেজিস্ট্রেশন নম্বর (৬ষ্ঠ–দ্বাদশ), অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিভাবকের নামে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং সদ্য তোলা ছবি।
উপবৃত্তির টাকা কবে দিবে ২০২৬
এটাই সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন। সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী:
মাধ্যমিক–উচ্চ মাধ্যমিক (HSP): ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ এবং জানুয়ারি–জুন ২০২৬ — এই দুই কিস্তির উপবৃত্তি ও টিউশন ফির অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে ২৪ জুন ২০২৬ থেকে। এইচএসপি-এমআইএসে থাকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে G2P পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো হচ্ছে। এর পরের কিস্তির তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি; ঘোষণা এলে ট্রাস্টের নোটিশে জানা যাবে।
প্রাথমিক (PESP): উপবৃত্তির টাকা পর্যায়ক্রমে ছাড় করা হয়। আপনার এলাকায় কবে টাকা ঢুকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় বা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা যায়। টাকা ছাড় হলেই অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএস চলে আসে।
ডিগ্রি: আবেদন ও যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে এককালীন ৫,০০০ টাকা পাঠানো হয়।
একটা বিষয় মনে রাখুন — উপবৃত্তির টাকা বছরে একবারে দেওয়া হয় না; কিস্তিতে কিস্তিতে আসে। তাই "এখনো পাইনি" মানেই বাদ পড়েছেন, এমন নয়। আগে দেখুন আপনার তথ্য এমআইএসে ঠিকঠাক এন্ট্রি আছে কি না।
উপবৃত্তির টাকা চেক করার নিয়ম
টাকা এসেছে কি না, তা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট চেক করা:
টাকা জমা হলেই বিকাশ, নগদ বা রকেট থেকে এসএমএস আসে। তাই অভিভাবকের মোবাইল নম্বরটি সচল রাখুন।
ব্যালেন্স দেখতে বিকাশে *২৪৭#, নগদে *১৬৭# ডায়াল করতে পারেন, অথবা সংশ্লিষ্ট অ্যাপে লগইন করুন।
সমন্বিত উপবৃত্তির ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্যাশ আউট চার্জ আপনার কাছ থেকে কাটা হবে না — চার্জের টাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে দেওয়া হয়। তাই পুরো টাকাই তুলতে পারবেন।
এসএমএস না পেলে বিদ্যালয় বা কলেজের অফিসে গিয়ে উপবৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম আছে কি না দেখুন।
ডিগ্রি উপবৃত্তির আবেদনকারীরা ই-স্টাইপেন্ড পোর্টালে লগইন করে আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন।
উপবৃত্তি লগইন: কোন পোর্টালে কী কাজ
এইচএসপি-এমআইএস: ষষ্ঠ–দ্বাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি ও ব্যবস্থাপনা — এটি মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য।
নগদ লাইভ পোর্টাল / PESP-MIS: প্রাথমিক উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি — বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য।
ই-স্টাইপেন্ড পোর্টাল: ডিগ্রি উপবৃত্তির আবেদন ও লগইন — শিক্ষার্থীরা নিজে ব্যবহার করেন।
সাধারণ শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের এই পোর্টালগুলোতে লগইন করার দরকার পড়ে না; তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনের কাজ প্রতিষ্ঠানের।
টাকা না পেলে যা করবেন: সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
মোবাইল নম্বর ভুল বা বন্ধ: সবচেয়ে বেশি ঘটে এটাই। এমআইএসে ভুল নম্বর এন্ট্রি থাকলে টাকা অন্য কোথাও চলে যায় বা আটকে থাকে। দ্রুত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নম্বর সংশোধন করুন।
মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নিজের নামে নয়: উপবৃত্তির নিয়ম অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট অবশ্যই অভিভাবকের নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে খোলা ও সক্রিয় হতে হবে। অন্যের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয় না।
জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে তথ্যের অমিল: নামের বানান বা জন্ম তারিখে গরমিল থাকলে যাচাইয়ে আটকে যায়। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ তথ্য দিন।
উপস্থিতি বা ফলাফলের শর্ত পূরণ না হওয়া: ৮০ শতাংশের কম উপস্থিতি বা নির্ধারিত নম্বর না থাকলে ওই মেয়াদের উপবৃত্তি বন্ধ হতে পারে।
এক পরিবারে দুজনের বেশি শিক্ষার্থী: প্রাথমিক উপবৃত্তিতে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ দুজন পায় — তৃতীয় জনের নাম তালিকায় উঠবে না।
এসবের পরও সমস্যা থাকলে প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা বলুন। তাতে সমাধান না হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস (৬ষ্ঠ–দ্বাদশ) বা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে (প্রাথমিক) লিখিতভাবে জানান।
প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন
উপবৃত্তির টাকা বিতরণের সময় প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়। মনে রাখুন:
উপবৃত্তির টাকা পেতে কাউকে কোনো ফি বা ঘুষ দিতে হয় না।
আপনার অ্যাকাউন্টের পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কখনো কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না — ট্রাস্টের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাতেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
"উপবৃত্তি পাইয়ে দেবো" বলে কেউ টাকা চাইলে সেটা প্রতারণা — সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় শিক্ষা অফিসে জানান।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
উপবৃত্তি আর বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কী?
বৃত্তি মেধাভিত্তিক (পরীক্ষায় ভালো ফলের পুরস্কার), আর উপবৃত্তি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা।
২০২৬ সালে উপবৃত্তির টাকা কবে দিবে?
মাধ্যমিক–উচ্চ মাধ্যমিকের জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ ও জানুয়ারি–জুন ২০২৬ কিস্তির বিতরণ ২৪ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। প্রাথমিকের টাকা পর্যায়ক্রমে ছাড় হয় — বিদ্যালয় থেকে জানা যাবে।
এক পরিবারের দুজন শিক্ষার্থী কি উপবৃত্তি পাবে?
প্রাথমিক উপবৃত্তিতে হ্যাঁ — সর্বোচ্চ দুজন। সমন্বিত উপবৃত্তিতেও পরিবারের একাধিক সন্তান শর্ত পূরণ করলে পেতে পারে।
মোবাইল নম্বর বদলে গেলে কী করবো?
যত দ্রুত সম্ভব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এমআইএসে নতুন নম্বর হালনাগাদ করুন। নম্বর বন্ধ থাকলে টাকা আটকে যেতে পারে।
নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কীভাবে উপবৃত্তি পাবে?
ষষ্ঠ বা একাদশ শ্রেণিতে নতুন ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠান আপনার তথ্য এইচএসপি-এমআইএসে এন্ট্রি করবে। বোর্ড রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়ার পর এন্ট্রি নিশ্চিত করুন।
মাদ্রাসার ছাত্ররা কি উপবৃত্তি পায়?
হ্যাঁ। দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় স্কুল-কলেজের সমান সুবিধা পান।
ডিগ্রি উপবৃত্তিতে কত টাকা দেয়?
নির্বাচিত প্রতি শিক্ষার্থী এককালীন ৫,০০০ টাকা পান।
টাকা না এলে কোথায় যোগাযোগ করবো?
প্রথমে নিজ প্রতিষ্ঠানে, তারপর উপজেলা শিক্ষা অফিসে (মাধ্যমিকের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, প্রাথমিকের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস)।
উপস্থিতি কম থাকলে কি উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যাবে?
হ্যাঁ, হতে পারে। প্রাথমিকে মাসে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক; অন্যান্য পর্যায়েও নিয়মিত উপস্থিতির শর্ত আছে।
বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী কি পাবে?
হ্যাঁ। সমন্বিত উপবৃত্তি সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে টিউশন ফিও দেওয়া হয়।
জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কি উপবৃত্তি পাওয়া যাবে?
না। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক শর্তগুলোর একটি। আগে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে নিন।
কারিগরি (পলিটেকনিক) শিক্ষার্থীরা কীভাবে উপবৃত্তি পাবে?
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ডিপ্লোমা ও ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হয়। বিস্তারিত জানতে নিজ প্রতিষ্ঠানের অফিসে যোগাযোগ করুন।
উপবৃত্তির টাকা তুলতে কি চার্জ লাগে?
সমন্বিত উপবৃত্তির ক্ষেত্রে না — ক্যাশ আউট চার্জ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কাটা হয় না।
শেষ কথা
উপবৃত্তি সরকারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিগুলোর একটি — শুধু ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতেই উপকৃত হয় প্রায় ৬২ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু সঠিক তথ্য না জানার কারণে প্রতি বছর বহু যোগ্য শিক্ষার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ে বা টাকা পেতে দেরি হয়। এই পোস্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিজের বা সন্তানের তথ্য ঠিক আছে কি না যাচাই করুন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, আর পিন-ওটিপির মতো গোপন তথ্য কারো সঙ্গে ভাগ করবেন না।
তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
১৫
২৫ মন্তব্য