সহযোগী অধ্যাপক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিক উপবৃত্তি কবে দিবে ২০২৬: আবেদন, যোগ্যতা ও টাকা চেক করার নিয়ম
👉এক ক্লিকে উপবৃত্তি দেয়ার সঠিক তারিখ দেখুন
👉এক ক্লিকে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে
👉উপবৃত্তির টাকা চেক করতে ক্লিক করুন এখানে
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রায় ৬২ লাখ শিক্ষার্থী প্রতি বছর সরকারের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি পায়। কিন্তু টাকা কবে আসবে, কত টাকা পাবেন, আবেদন কীভাবে করতে হয়, তালিকায় নাম আছে কি না — এসব প্রশ্নে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিভ্রান্তিতে থাকেন।
এই পোস্টে মাধ্যমিক পর্যায়ের উপবৃত্তি নিয়ে বিস্তারিত জানুন — ২০২৬ সালের বিতরণের সর্বশেষ খবর, শ্রেণি অনুযায়ী টাকার পরিমাণ, কারা পাবেন, আবেদন ও নিবন্ধনের নিয়ম, টাকা চেক করার পদ্ধতি এবং টাকা না এলে করণীয়।
মাধ্যমিক উপবৃত্তি কী? কারা পরিচালনা করে?
মাধ্যমিক পর্যায়ের উপবৃত্তি দেওয়া হয় সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায়, যা বাস্তবায়ন করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। এর আওতায় দেশের সাধারণ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা পায়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
প্রতি বছর প্রায় ৬২ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির সুবিধা পায়
বছরে প্রায় ২,২০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়
টাকা পাঠানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের BEFTN পদ্ধতিতে, সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে (G2P পদ্ধতি)
২০২৬ সালে উপবৃত্তি কবে দিবে? সর্বশেষ খবর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট: ২০২৬ সালের ২৪ জুন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপবৃত্তি ও টিউশন ফির টাকা বিতরণ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই দফায় দুটি কিস্তির টাকা একসাথে দেওয়া হচ্ছে:
জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ কিস্তি
জানুয়ারি-জুন ২০২৬ কিস্তি
HSP-MIS সফটওয়্যারে নিবন্ধিত ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ ও সমমান শ্রেণির উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট নম্বরে এই টাকা G2P পদ্ধতিতে পাঠানো হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফির টাকাও একই সাথে দেওয়া হচ্ছে।
এরপর কবে দিবে? উপবৃত্তি সাধারণত অর্থবছরের কিস্তি অনুযায়ী বিতরণ হয়। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ কিস্তির বিতরণ কবে শুরু হবে, সে ঘোষণা এখনো আসেনি। ঘোষণা এলে আপনার বিদ্যালয়/কলেজের মাধ্যমে জানতে পারবেন, আর টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হলে এসএমএস পাবেন।
শ্রেণি অনুযায়ী টাকার পরিমাণ
সর্বশেষ প্রকাশিত বিতরণ তালিকা অনুযায়ী ৬ মাসের এক কিস্তিতে শ্রেণিভেদে উপবৃত্তির পরিমাণ:
শ্রেণি | ৬ মাসের কিস্তি |
৬ষ্ঠ শ্রেণি | ১,২০০ টাকা |
৭ম শ্রেণি | ১,২০০ টাকা |
৮ম শ্রেণি | ১,৫০০ টাকা |
৯ম শ্রেণি | ১,৮০০ টাকা |
১০ম শ্রেণি | ১,৮০০ টাকা |
এর সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির টাকাও দেওয়া হয়।
মনে রাখবেন: সরকার সময়ে সময়ে হার ও কিস্তির পরিমাণ সংশোধন করতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করুন।
কারা উপবৃত্তি পাবে? যোগ্যতা
সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি পেতে হলে:
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি বা সমমান (মাদ্রাসা/কারিগরি) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত হতে হবে
অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী হতে হবে — দারিদ্র্য ও অসচ্ছলতার মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়
শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে — রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না
HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি থাকতে হবে
অভিভাবকের নামে সক্রিয় ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
আবেদন ও নিবন্ধন: কীভাবে নাম তালিকায় উঠবে?
মাধ্যমিক উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে কোথাও গিয়ে আবেদন করতে হয় না — পুরো প্রক্রিয়া হয় বিদ্যালয়ের মাধ্যমে:
তথ্য সংগ্রহ: বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে
HSP-MIS এন্ট্রি: বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করে — রেজিস্ট্রেশন নম্বর এন্ট্রি বাধ্যতামূলক
যাচাই-বাছাই: নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী উপযুক্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়
অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন: নির্বাচিত শিক্ষার্থী/অভিভাবকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নম্বর সিস্টেমে যুক্ত করা হয়
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমের উদাহরণ: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণি এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ, নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এন্ট্রি করা হয় — আপনার সন্তান নতুন ভর্তি হলে বিদ্যালয়ে খোঁজ নিন তার তথ্য এন্ট্রি হয়েছে কি না।
উপবৃত্তির টাকা কীভাবে আসে?
টাকা আসে G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে — সরাসরি সরকার থেকে সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে
মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ/নগদ/রকেট)
ক্যাশ আউট চার্জ ফ্রি: উপবৃত্তির টাকা থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্যাশ আউট চার্জ কাটা হয় না — চার্জের টাকা সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে দেওয়া হয়
টাকা জমা হলে অ্যাকাউন্টে এসএমএস আসে
টাকা এসেছে কি না — যেভাবে চেক করবেন
এসএমএস: টাকা জমা হলে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে এসএমএস আসে — এটাই প্রথম সংকেত
ব্যালেন্স চেক: মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে অথবা USSD কোডে (*247# বিকাশ, *167# নগদ) ব্যালেন্স দেখুন
ব্যাংক হিসাব হলে: সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় বা এটিএমে ব্যালেন্স যাচাই করুন
বিদ্যালয়ে খোঁজ: বিতরণ শুরুর ঘোষণা এলে বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে বা শ্রেণি শিক্ষকের কাছে জানতে চান
বিতরণ শুরু হওয়ার পর সব অ্যাকাউন্টে একদিনে টাকা ঢোকে না — কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।
টাকা না এলে কী করবেন?
ঘোষণা যাচাই করুন: বিতরণ আসলেই শুরু হয়েছে কি না বিদ্যালয়/উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিশ্চিত হোন
তালিকা যাচাই করুন: HSP-MIS-এ আপনার সন্তানের তথ্য এন্ট্রি আছে কি না বিদ্যালয়ে জিজ্ঞেস করুন
অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন: দেওয়া ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরটি সঠিক ও সক্রিয় কি না দেখুন
অভিযোগ জানান: কেউ উপবৃত্তির টাকার বিনিময়ে ফি বা ঘুষ দাবি করলে [email protected] ঠিকানায় লিখিত অভিযোগ জানান
শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ: উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিতভাবে জানান
প্রতারণা থেকে সাবধান!
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে:
আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর, পিন বা ওটিপি কারো সাথে শেয়ার করবেন না
সরকারি কোনো দপ্তর ফোনে বা মেসেজে পিন/ওটিপি চায় না
"উপবৃত্তি পেতে ফি দিন" — এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া; উপবৃত্তির জন্য কোনো ফি লাগে না
সন্দেহজনক কল বা মেসেজ পেলে বিদ্যালয় বা শিক্ষা অফিসে জানান
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
মাধ্যমিক উপবৃত্তি ২০২৬ কবে দিবে?
২০২৬ সালের ২৪ জুন থেকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ ও জানুয়ারি-জুন ২০২৬ — এই দুই কিস্তির টাকা বিতরণ শুরু হয়েছে। পরবর্তী কিস্তির ঘোষণা এখনো আসেনি।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে কত টাকা উপবৃত্তি পাওয়া যায়?
সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ৬ মাসের কিস্তিতে ১,২০০ টাকা।
নবম-দশম শ্রেণিতে কত টাকা?
৬ মাসের কিস্তিতে ১,৮০০ টাকা করে।
উপবৃত্তির জন্য কোথায় আবেদন করতে হয়?
আলাদাভাবে কোথাও আবেদন করতে হয় না। বিদ্যালয় HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করে — আপনার কাজ হলো বিদ্যালয়ে সঠিক তথ্য ও অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া।
রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কি উপবৃত্তি পাওয়া যায়?
না। শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নম্বর HSP-MIS-এ এন্ট্রি বাধ্যতামূলক — এটা ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কি এই উপবৃত্তি পায়?
হ্যাঁ, সমমান শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আসে।
টাকা তুলতে কি চার্জ লাগে?
না। উপবৃত্তির টাকার ক্যাশ আউট চার্জ সুবিধাভোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয় না।
টিউশন ফি কী? কারা পায়?
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির টাকাও সরকার দেয় — উপবৃত্তির সাথেই বিতরণ করা হয়।
আমার সন্তান নতুন ভর্তি হয়েছে — কবে থেকে উপবৃত্তি পাবে?
বিদ্যালয় HSP-MIS-এ তথ্য এন্ট্রি করার পর যাচাই-বাছাই শেষে তালিকায় নাম এলে পরবর্তী কিস্তি থেকে পাবে। বিদ্যালয়ে তথ্য এন্ট্রি হয়েছে কি না জেনে নিন।
উপবৃত্তি কি প্রতি মাসে দেওয়া হয়?
না, কিস্তি ভিত্তিতে দেওয়া হয় — সাধারণত ৬ মাসের টাকা একসাথে।
১৫
২৫ মন্তব্য