সহযোগী অধ্যাপক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
ডিগ্রি উপবৃত্তি ২০২৬: কবে দিবে, আবেদনের নিয়ম ও যোগ্যতা
👉এক ক্লিকে উপবৃত্তি দেয়ার সঠিক তারিখ দেখুন
👉এক ক্লিকে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে
👉উপবৃত্তির টাকা চেক করতে ক্লিক করুন এখানে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে পড়ছেন, কিন্তু টাকার অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে সরকার ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ে উপবৃত্তি দিয়ে আসছে। এই উপবৃত্তি পরিচালনা করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT)।
অনেকেই জানেন না — ডিগ্রির উপবৃত্তি স্কুল-কলেজের উপবৃত্তির মতো নয়। এটার আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা, টাকা পাওয়ার নিয়ম সব আলাদা। আবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বেশিরভাগ তথ্যই পুরনো — ২০২২ বা ২০২৪ সালের নোটিশের কপি-পেস্ট। এই পোস্টে ২০২৬ সালের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত, ধাপে ধাপে আবেদনের নিয়ম এবং টাকা কবে পাবেন — সবকিছু যাচাই করে এক জায়গায় তুলে ধরা হলো।
এক নজরে ডিগ্রি উপবৃত্তি ২০২৬
বিষয় | তথ্য |
পরিচালনাকারী | প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT) |
কারা পাবেন | ডিগ্রি (পাস) ও ফাজিল ১ম, ২য়, ৩য় বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী |
কোন বিশ্ববিদ্যালয় | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় |
আবেদন মাধ্যম | অনলাইন — ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম |
২০২৬ সালের আবেদন | ১৭ মে – ১৪ জুন ২০২৬ (১ম বর্ষ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) |
নির্দেশিকা | স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের উপবৃত্তি দেয়া নির্দেশিকা, ২০২২ |
সুবিধা | উপবৃত্তি + টিউশন ফি + অন্যান্য সুবিধা |
ডিগ্রি উপবৃত্তি কী এবং কারা দেয়
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ২০১২ সালে গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই — আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে না হয়। ট্রাস্ট থেকে চার ধরনের সহায়তা দেওয়া হয় — উপবৃত্তি, ভর্তি সহায়তা, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি ফেলোশিপ এবং চিকিৎসা সহায়তা।
এর মধ্যে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের উপবৃত্তি শুধুমাত্র ডিগ্রি (পাস) এবং ফাজিল (পাস) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য। মনে রাখবেন, এটা অনার্সের উপবৃত্তি নয়, আবার ভর্তি সহায়তাও নয় — তিনটা আলাদা প্রোগ্রাম। ভর্তি সহায়তা এককালীন (স্নাতক পর্যায়ে ৮,০০০ টাকা), আর উপবৃত্তি দেওয়া হয় নির্দেশিকা ২০২২ অনুযায়ী উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য সুবিধা হিসেবে।
একটা জরুরি পার্থক্য বুঝে নিন। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির উপবৃত্তি পরিচালিত হয় সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি (HSP) এর মাধ্যমে, আর ডিগ্রি পর্যায়ের উপবৃত্তি পরিচালিত হয় সরাসরি ট্রাস্টের ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। দুটোর আবেদন পোর্টাল, যোগ্যতা, সময়সূচি — সব আলাদা। তাই স্কুল-কলেজের উপবৃত্তির নিয়ম ডিগ্রির ক্ষেত্রে খাটবে না।
কারা আবেদন করতে পারবেন: যোগ্যতার শর্ত
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও ই-স্টাইপেন্ড পোর্টালে প্রকাশিত শর্তাবলি অনুযায়ী, নিচের সব শর্ত পূরণ করলেই আপনি আবেদনের যোগ্য।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) / ডিগ্রি / ফাজিল (পাস) শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী মানে — প্রথম বর্ষে ভর্তির পর বিরতিহীনভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করতে হবে। ১ম, ২য় বা ৩য় বর্ষের যেকোনো বর্ষে পুনঃভর্তি (re-admission) হলে আপনি অনিয়মিত হিসেবে গণ্য হবেন এবং উপবৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আছে — স্নাতক (পাস) পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বা নির্বাচনী (ইনকোর্স/টেস্ট) পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ শুধু ভর্তি থাকলেই চলবে না, পরীক্ষায় পাস করে পরের বর্ষে উঠতে হবে।
উপস্থিতির শর্ত
নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে শ্রেণিকক্ষে কমপক্ষে ৭৫% উপস্থিতি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আবশ্যিক বিষয় (বাংলা/ইংরেজি) হিসেবে গণনা করা যেতে পারে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনার উপস্থিতির তথ্য সফটওয়্যারে যাচাই করে, তাই ক্লাসে নিয়মিত যাওয়া শুধু পড়াশোনার জন্য নয়, উপবৃত্তির জন্যও জরুরি।
আর্থিক যোগ্যতা
উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার কম হতে হবে। শুধু আয় নয়, জমির পরিমাণও দেখা হয় —
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে ০.০৫ শতাংশের কম
পৌরসভা এলাকায় ০.২০ শতাংশের কম
অন্যান্য এলাকায় ০.৭৫ শতাংশের কম
আয় ও জমির পরিমাণ সম্পর্কিত সনদপত্র সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে নিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি
আপনি যে কলেজে ভর্তি হয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ স্বীকৃতি এবং পাঠদানের অনুমতি থাকতে হবে। স্বীকৃতি নেই এমন কলেজের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।
যারা অগ্রাধিকার পাবেন
সব যোগ্য শিক্ষার্থীর মধ্যে নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পান —
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী
এতিম শিক্ষার্থী
অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান
নদীভাঙন কবলিত পরিবারের সন্তান
দুস্থ পরিবারের সন্তান
তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী (এদের তালিকা পৃথকভাবে প্রেরণ করতে হয়, সবাই উপবৃত্তি পাওয়ার যোগ্য)
আপনি যদি এই তালিকার মধ্যে পড়েন, তাহলে আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র অবশ্যই সংযুক্ত করবেন।
২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি ও সময়সূচি
২০২৬ সালে ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদন এন্ট্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সময়সূচি ছিল —
ধাপ | তারিখ ও সময় |
শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন | ১৭ মে ২০২৬ সকাল ৯টা – ১৪ জুন ২০২৬ রাত ১১:৫৯ মিনিট |
প্রতিষ্ঠান প্রধানের ফরোয়ার্ড | ১৫ জুন ২০২৬ সকাল ৯টা – ২১ জুন ২০২৬ রাত ১১:৫৯ মিনিট |
এই বিজ্ঞপ্তি ছিল ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (ডিগ্রি ও ফাজিল ১ম বর্ষ) শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রতিষ্ঠান প্রধান আবেদন যাচাই করে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও বাছাই কমিটির রেজুলেশন সফটওয়্যারে আপলোড করে ট্রাস্টে ফরোয়ার্ড করেন।
একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য — পুরো কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। আবেদনের হার্ড কপি ট্রাস্টে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। যারা এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে "হার্ড কপি পাঠাতে হবে" বলে টাকা দাবি করে, তারা প্রতারক — সাবধান থাকুন।
২০২৬ সালের আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তবে প্রতি বছরই নতুন শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের জন্য বিজ্ঞপ্তি আসে। তাই এখন থেকেই কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন, আর ট্রাস্টের ওয়েবসাইট ও ই-স্টাইপেন্ড সিস্টেমের নোটিশ বোর্ডে নজর রাখুন।
অনলাইনে আবেদনের নিয়ম: ধাপে ধাপে
আবেদন করতে হবে ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর মাধ্যমে। পুরো প্রক্রিয়া অনলাইন। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন —
নিবন্ধন করুন: estipend.pmeat.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে "নিবন্ধন" ট্যাবে ক্লিক করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে আগে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
মোবাইল যাচাই করুন: রেজিস্ট্রেশনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে OTP যাবে। সেটি দিয়ে নম্বর যাচাই করুন।
পাসওয়ার্ড সেট করুন: যেকোনো ৬ ডিজিটের পাসওয়ার্ড সেট করুন। এই পাসওয়ার্ড মনে রাখুন — পরে লগইনের জন্য লাগবে।
লগইন করুন: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে "প্রবেশ করুন" ট্যাবে লগইন করুন। ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন।
আবেদন ফরম পূরণ করুন: ড্যাশবোর্ড থেকে "আবেদন করুন" বাটনে ক্লিক করুন। ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক আয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, শ্রেণি ও পরীক্ষার ফলাফল সঠিকভাবে দিন।
কাগজপত্র আপলোড করুন: ছবি, স্বাক্ষর, জন্ম সনদ, অভিভাবকের এনআইডি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশের স্পষ্ট ছবি বা স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
সাবমিট করুন: সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করুন। একবার সাবমিট করার পর তথ্য পরিবর্তন করা যায় না, তাই সাবমিটের আগে দুবার চেক করুন। সাবমিট সফল হলে একটি নিশ্চিতকরণ নম্বর পাবেন — সেটি সংরক্ষণ করে রাখুন।
আবেদনের পর আপনার কলেজ কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে ট্রাস্টে ফরোয়ার্ড করবে। নির্বাচিত হলে মোবাইলে SMS পাবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
আবেদনের আগে নিচের কাগজপত্রগুলো হাতের কাছে রাখুন —
কাগজপত্র | মন্তব্য |
পাসপোর্ট সাইজের ছবি | স্পষ্ট, সাম্প্রতিক |
স্বাক্ষরের ছবি | সাদা কাগজে করে ছবি তুলুন |
জন্ম নিবন্ধন সনদ | ডিজিটাল/অনলাইন কপি |
অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র | পিতা বা মাতার এনআইডি |
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ | নির্ধারিত ফরমে, অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সিলসহ |
আয় ও জমির সনদপত্র | চেয়ারম্যান/মেয়র/গেজেটেড কর্মকর্তার কাছ থেকে |
সর্বশেষ পরীক্ষার ফলাফল | মার্কশিট বা রেজাল্টের কপি |
নগদ অ্যাকাউন্ট | নিজের বা অভিভাবকের সচল অ্যাকাউন্ট |
মনে রাখবেন, টাকা পাঠানো হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। তাই নিজের নামে বা অভিভাবকের নামে একটি সচল নগদ অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি।
উপবৃত্তির টাকা কবে দিবে ও কীভাবে পাবেন
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ট্রাস্ট G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায়। মাঝখানে কলেজ বা অন্য কোনো মাধ্যম নেই — টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে আসে।
টাকা আসার পর মোবাইলে SMS নোটিফিকেশন পাবেন। উপবৃত্তির টাকা সাধারণ অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সের সাথেই যোগ হয়। টাকা এসেছে কিনা নিশ্চিত হতে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও লেনদেনের বিবরণ (স্টেটমেন্ট) চেক করুন।
একটা বিষয় পরিষ্কার করে নিন — ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সুবিধার মধ্যে আছে উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য সুবিধা। সঠিক অঙ্ক নির্দেশিকা ২০২২ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ইন্টারনেটে "ডিগ্রি উপবৃত্তি ৪,৮০০ টাকা" বা "১০,০০০ টাকা" — এমন নির্দিষ্ট অঙ্কের দাবি দেখলে সেটাকে অফিসিয়াল নোটিশের সাথে মিলিয়ে নিন, কারণ ভর্তি সহায়তার অঙ্ক (স্নাতকে ৮,০০০) আর উপবৃত্তির অঙ্ক এক নয়।
যেসব ভুলে আবেদন বাতিল হয়
প্রতি বছর বহু আবেদন ছোট ছোট ভুলের কারণে বাতিল হয়। নিচের ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন —
অনিয়মিত শিক্ষার্থী: কোনো বর্ষে পুনঃভর্তি হয়ে থাকলে আবেদন করবেন না — এটা সরাসরি বাতিলের কারণ।
ভুল তথ্য: আয়, জমির পরিমাণ বা ফলাফলে মিথ্যা তথ্য দিলে যাচাইয়ে ধরা পড়ে আবেদন বাতিল হয়।
অস্পষ্ট ছবি: কাগজপত্রের ঝাপসা ছবি আপলোড করলে যাচাইকারী কর্মকর্তা পড়তে পারেন না।
সুপারিশ ছাড়া আবেদন: প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ ছাড়া আবেদন অসম্পূর্ণ থাকে।
ভুল মোবাইল নম্বর: OTP ও পরবর্তী SMS এই নম্বরেই আসে — বন্ধ সিমের নম্বর দেবেন না।
স্বীকৃতিহীন কলেজ: ভর্তির আগে কলেজের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আছে কিনা যাচাই করে নিন।
হেল্পলাইন ও যোগাযোগ
আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় ট্রাস্টের অফিসিয়াল হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন (অফিস চলাকালীন — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা) —
০২-৫৫০০০৪২৮
০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬
০১৭৭৮৯৬৪১৫৬
এছাড়া বিস্তারিত তথ্য পাবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইট এবং ই-স্টাইপেন্ড সিস্টেমের নোটিশ বোর্ডে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ডিগ্রি উপবৃত্তি ২০২৬ এর আবেদন কবে শুরু হয়েছিল?
২০২৬ সালে ১৭ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। এটা ছিল ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রি ও ফাজিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য।
২. ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবে?
হ্যাঁ, তবে শর্ত আছে — ২য় বর্ষে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অভ্যন্তরীণ বা নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং প্রথম বর্ষ থেকে বিরতিহীনভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। কোনো বর্ষে পুনঃভর্তি হলে আবেদন করা যাবে না।
৩. ডিগ্রি ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কি উপবৃত্তি আছে?
হ্যাঁ। ১ম বর্ষে নির্বাচিত হয়ে ধারাবাহিকভাবে উত্তীর্ণ হলে ২য় ও ৩য় বর্ষেও সুবিধা অব্যাহত থাকে। তবে প্রতি বর্ষে নিয়মিত উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
৪. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি পাবে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তির আওতায় নেই।
৫. অনার্সের শিক্ষার্থীরা কি ডিগ্রি উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে?
না। এটা শুধু স্নাতক (পাস)/ডিগ্রি ও ফাজিল (পাস) পর্যায়ের জন্য। অনার্স চতুর্থ বর্ষের মেয়াদি কোর্স, তাই এই নির্দেশনার আওতায় পড়ে না।
৬. উপবৃত্তির টাকা কীভাবে পাবো?
G2P পদ্ধতিতে সরাসরি আপনার বা অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। টাকা জমা হলে SMS পাবেন।
৭. আবেদন করতে কি টাকা লাগে?
না। পুরো আবেদন প্রক্রিয়া বিনামূল্যে এবং অনলাইন। কেউ টাকা দাবি করলে বুঝবেন প্রতারণা করা হচ্ছে।
৮. ফাজিল (পাস) মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবে?
হ্যাঁ। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাজিল (পাস) শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমানভাবে আবেদন করতে পারেন।
৯. একবার নির্বাচিত হলে কি প্রতি বছর নতুন করে আবেদন করতে হবে?
নির্দেশিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে প্রতি বর্ষে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ ও যাচাই হয়। কলেজের নোটিশে চোখ রাখুন।
১০. আবেদনের স্ট্যাটাস কীভাবে জানবো?
ই-স্টাইপেন্ড সিস্টেমে লগইন করে ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের অবস্থা জানতে পারবেন। নির্বাচিত হলে মোবাইলে SMS আসবে।
শেষ কথা
ডিগ্রি উপবৃত্তি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের একটি বড় সহায়তা। কিন্তু সঠিক তথ্য না জানার কারণে প্রতি বছর বহু যোগ্য শিক্ষার্থী আবেদনই করতে পারে না, আবার অনেকে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন বাতিল করে ফেলে। এই পোস্টে ২০২৬ সালের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির আলোকে পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো।
৪
৭ মন্তব্য