সহকারী অধ্যাপক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সার্বভৌম মহিমায় জীবনের পরীক্ষা -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সার্বভৌম মহিমায় জীবনের পরীক্ষা
(সূরা আল-মুলকের আলোকে ঈমান, আমল, সৃষ্টি-সৌন্দর্য, তাকওয়া, কৃতজ্ঞতা, রিযিক, তাওয়াক্কুল ও আখিরাতের কাব্যগাথা)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সকল রাজ্য, সকল ক্ষমতা, সকল শাসনভার,
এক আল্লাহর হাতে আছে জগতের অধিকার।
তিনি পরাক্রমশালী, তিনি মহান রব,
তাঁরই হুকুমে চলে আকাশ, পৃথিবী, সব।
যা কিছু আছে জগতে, তাঁরই দান ধরা,
তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কার সাধ্য চলে এক ধারা?
ক্ষমতা পেয়ে মানুষ যেন না করে অহংকার,
আজ যে রাজা, কাল সে হবে মাটির অধিকার।
ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা—সবই ক্ষণস্থায়ী,
আল্লাহর কর্তৃত্ব চিরদিন অক্ষয়-অবিনশ্বর ভাই।
তাই তাঁরই কাছে নত হোক মুমিনের প্রাণ,
তাঁরই বিধান মেনে গড়ুক জীবনের গান।
জীবন যেমন সত্য, তেমনি সত্য মরণ,
দুটিই আল্লাহর সৃষ্টি—গভীর এর কারণ।
কে আমলে উত্তম হবে—সেই পরীক্ষায় প্রাণ,
দুনিয়ার এই সফর যেন দায়িত্বেরই স্থান।
জীবন শুধু ভোগ নয়, জীবন শুধু হাসি নয়,
জীবন মানে আমানত—অবহেলা তার ক্ষয়।
প্রতিটি সকাল প্রশ্ন করে, কী করলে আজ?
প্রতিটি রাত হিসাব চায়—কেমন ছিল কাজ?
বয়স চলে নদীর স্রোতে, সময় ফিরে না,
হারানো দিন কোনোদিন আর ফিরে আসে না।
তাই আজই ভালো হও, আজই করো কাজ,
নেক আমলে সাজাও জীবন, মুছে দাও লাজ।
বেশি কাজ নয় শুধু—উত্তম কাজ চাই,
ইখলাসে সুন্দর হলে আমল মূল্য পায়।
রবের সন্তুষ্টির জন্য করো প্রতিটি কাজ,
তবেই জীবনের পথে ফুটবে সফলতার সাজ।
উঁচু আকাশ তাকিয়ে দেখ, স্তরে স্তরে গড়া,
সৃষ্টির মাঝে খুঁজে দেখো নিখুঁততার ধারা।
চোখ ফিরিয়ে আবার দেখো আকাশেরই পানে,
ত্রুটি খুঁজতে গেলে শেষে ক্লান্ত হবে প্রাণে।
তারকা জ্বলে রাতের বুকে আলোর মালা হয়ে,
নীরব আকাশ শিক্ষা দেয় বিস্ময় জাগিয়ে।
চাঁদের হাসি, রাতের তারা, সূর্যের আলো,
সবই বলে স্রষ্টার সৃষ্টি কত সুন্দর ভালো।
পাহাড়, নদী, সাগর, বন, ফুলের মধুর রং,
পাখির ডাকে ভোরের বেলা, প্রকৃতির অনুরণন।
পাতার শিরায় জীবনের যে সূক্ষ্ম আয়োজন,
স্রষ্টার কুদরত বোঝায় তার প্রতিটি ক্ষণ।
যে মানুষ দেখে, তবু দেখে না সৃষ্টির গভীরতা,
তার চোখ থাকলেও হারায় উপলব্ধির মহত্ত্বতা।
চিন্তা করো, শিক্ষা নাও, জাগাও বিবেক-প্রাণ,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার নিদর্শন করো সন্ধান।
অসীম আকাশ মাথার ওপর, মানুষ কত ক্ষুদ্র,
তবু কেন অহংকারে তার হৃদয় হয় উদ্ধত?
একটি নিশ্বাস থেমে গেলে থেমে যায় সব গান,
একটি মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে জীবন-প্রাণ।
যে সম্পদ নিয়ে গর্ব করে, থাকবে না তা চির,
যে ক্ষমতা নিয়ে মাতে, ক্ষমতা হবে ক্ষয়শীল।
যে সৌন্দর্যে মুগ্ধ মানুষ, সময় করে ক্ষয়,
শুধু আল্লাহর মহিমা চিরস্থায়ী হয়।
তাই মানুষ বিনয় শিখুক, ছেড়ে দিক অহংকার,
রবের সামনে নত হোক তার হৃদয়ের দ্বার।
জ্ঞান পেলে বিনয় বাড়ুক, সম্পদে বাড়ুক দান,
ক্ষমতা পেলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা—হোক তার সম্মান।
অস্বীকারের পথ যে ধরে, ভুলে যায় পরকাল,
তার সামনে অপেক্ষা করে ভয়াবহ এক কাল।
জাহান্নামের গর্জন শুনে কেঁপে উঠবে প্রাণ,
সতর্কবাণী এসেছিল—তবু কেন অবহেলা জান?
“তোমাদের কাছে সতর্ককারী আসেনি কি কখনো?”—
সত্যের ডাক এসেছিল, ফিরিয়ে দিলে কেন তা বলো?
তখন আফসোস জাগবে মনে, থাকবে না আর ফেরার পথ,
দুনিয়ার সময় শেষ হলে বন্ধ হবে সব সুযোগ।
তাই ভয়কে শিক্ষা করো, হতাশা করো না,
তাওবার দরজা খোলা আছে—ফিরে এসো না?
ভুলের পরে ফিরে আসা মুমিনেরই গুণ,
রবের রহমত প্রত্যাশী হও, ত্যাগ করো গুনাহের ধুন।
কান দিয়েছেন আল্লাহ—শোনার জন্য সত্য,
চোখ দিয়েছেন দেখার জন্য সৃষ্টির মহত্ত্ব।
অন্তর দিয়েছেন বুঝতে, চিনতে সত্যের পথ,
তবু কেন মানুষ চলে ভুলের অন্ধ রথ?
সত্য কথা শুনে যদি মন না হয় জাগ্রত,
জ্ঞান থেকেও মানুষ থাকে অন্ধ ও বিভ্রান্ত।
শুধু শোনা যথেষ্ট নয়, বুঝতে হবে তা,
সত্য যখন স্পষ্ট হবে, গ্রহণ করতে হবে তা।
অহংকারের দেয়াল ভেঙে সত্যের কাছে এসো,
বিবেক দিয়ে যাচাই করে আলোর পথে বসো।
কুরআনের হিদায়াত হোক জীবনের দিশারি,
সুন্নাহর সুন্দর আদর্শ হোক চলার সহচরী।
মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কত কিছুই হয়,
মানুষ না জানলেও আল্লাহ সবই জানেন নিশ্চয়।
মনের গোপন কথা তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়,
নিভৃত রাতে করা কাজও তাঁর অজানা নয়।
তাই লোক দেখানো নেকি নয়, ইখলাস চাই,
মানুষের প্রশংসার চেয়ে রবের সন্তুষ্টি চাই।
সবার সামনে ভালো হয়ে গোপনে অন্যায় নয়,
মুমিনের অন্তর-বাহির একই পথে রয়।
একাকী যখন থাকো তুমি, মনে রেখো রব,
তোমার কথা, তোমার কাজ—সবই জানেন তিনি সব।
তাকওয়ার আলো জ্বালাও অন্তরেরই ঘরে,
আল্লাহভীতি পথ দেখাবে জীবনের প্রতিটি তরে।
যে ব্যক্তি রবকে ভয় করে অদৃশ্যের মাঝেও,
রহমতের আশা থাকে তার হৃদয়েরই মাঝে।
তাকওয়া শুধু কথার বিষয়—এমন তো নয়,
জীবনের প্রতিটি কাজে তার পরিচয় হয়।
বাজারে তাকওয়া, ঘরে তাকওয়া, কাজে তাকওয়া চাই,
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, জুলুম করো নাই।
ব্যবসাতে সত্য বলো, আমানত রেখো ঠিক,
অন্যের হক নষ্ট করে হয় না মানুষ ঠিক।
গোপনেও পবিত্র থাকো, প্রকাশেও সৎ,
তাকওয়ার ছায়ায় সুন্দর হোক জীবনের পথ।
আল্লাহর ভয় হৃদয়ে থাকলে পাপ থেকে ফেরে প্রাণ,
সেই হৃদয়েই ফুটে ওঠে ঈমানেরই গান।
পৃথিবীকে আল্লাহ করেছেন মানুষের জন্য সহজ,
তাই বলে বসে থাকা নয়—করতে হবে কর্ম।
রিযিকের সন্ধানে চলো, বৈধ পথে চলো,
শ্রমের ঘামে জীবনের সুন্দর ফসল ফলাও।
মাটি চাষে কৃষক যেমন বীজ বোনে প্রাণ,
ব্যবসায়ীও পরিশ্রম করে খোঁজে হালাল ধন।
শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জনে দেয় যে শ্রম-ঘাম,
সফলতার পথে তারই খুলে সম্ভাবনার দ্বার।
তাওয়াক্কুল মানে নয় যে কর্ম থেকে সরে যাওয়া,
উপায় ছেড়ে অলস বসে ভাগ্যের কথা বলা।
চেষ্টা থাকবে হাতে, ভরসা থাকবে রবের ওপর,
এই পথেই মুমিন চলে দৃঢ় হৃদয় নিয়ে নির্ভর।
কে দিয়েছে শস্যভরা মাঠ, কে দিয়েছে বৃষ্টি?
কে দিয়েছে ফলের গন্ধ, কে দিয়েছে সৃষ্টি?
কে দিয়েছে বাতাস, পানি, আলো আর প্রাণ?
সবই তো রবের দেওয়া অসংখ্য মহান দান।
হালাল পথে রিযিক খোঁজো, হারাম পথে নয়,
অল্প পেলে হতাশ হয়ো না, বেশি পেলে অহংকার নয়।
রিযিক পেয়ে কৃতজ্ঞ হও, অপচয় করো না,
অন্যের হক নষ্ট করে সুখের স্বপ্ন দেখো না।
নিজের শ্রমে চেষ্টা করো, দোয়া করো প্রাণে,
রিযিকের চূড়ান্ত মালিক এক আল্লাহ জানে।
হালাল অন্নে শান্তি থাকে, হারামে অশান্তি,
কৃতজ্ঞ হৃদয়েই ফুটে রবের দয়ার কান্তি।
মুখে ভর দিয়ে যে চলে, পথ কি পাবে ঠিক?
সামনে-পেছন দেখতে না পেরে হবে সে বিভ্রান্ত।
যে সোজা পথে চলে, তার দিশা থাকে স্পষ্ট,
হিদায়াতের আলো পেলে জীবন হয় সুপ্রশস্ত।
বাঁকা পথে যতই চলি, গন্তব্য হবে দূর,
নফসের টানে হারিয়ে গেলে হৃদয় হয় ভ্রান্ত-অন্ধকার।
আল্লাহর দেওয়া পথেই রয়েছে কল্যাণ,
সত্য, ন্যায় ও তাকওয়াতে গড়ে সুন্দর প্রাণ।
তাই সরল পথে চলি আমরা, সত্যকে করি সাথি,
অন্যায় থেকে দূরে থাকি, হোক জীবন স্বচ্ছ-শুভ্র।
রবের বিধান মেনে চলাই হোক জীবনের মান,
হিদায়াতের আলোয় ভরে উঠুক প্রাণ।
শুনতে দিয়েছেন দুই কান, দেখতে দিয়েছেন চোখ,
চিনতে দিয়েছেন অন্তর—এ দান অমূল্য লোক।
তবু মানুষ কত অল্প কৃতজ্ঞতা জানায়,
নিয়ামত পেয়ে নিয়ামতের দাতাকেই ভুলে যায়।
চোখ যেন দেখে ভালো, হারাম থেকে থাকে দূর,
কান যেন শোনে সত্য, অশ্লীলতা হোক চূর্ণ।
জিহ্বা যেন বলে সত্য, মিথ্যা থেকে রয়,
অন্তর যেন পবিত্র থাকে, হিংসা যেন ক্ষয়।
কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে বলা নয় যে কথা,
নিয়ামতকে সঠিক পথে ব্যবহার করাই ব্যাখ্যা।
আল্লাহ যেসব দান দিয়েছেন, রাখো তার সম্মান,
শোকরগুজার বানাও নিজেকে, জাগাও ঈমান।
আকাশপানে পাখি উড়ে ডানা মেলে যায়,
রবের দেওয়া শক্তি নিয়ে নীল গগনে ধায়।
কখনো ডানা মেলে ধরে, কখনো নেয় গুটিয়ে,
আল্লাহর হুকুমে থাকে আকাশপথে উড়িয়ে।
পাখি কিন্তু খাদ্যের খোঁজে বাসায় বসে রয় না,
উপায় ছেড়ে শুধু বসে থেকে রিযিক পায় না।
সে উড়ে যায়, খোঁজে খাদ্য, করে নিজের কাজ,
তারপরও রবের ওপর রাখে ভরসার সাজ।
মানুষেরও শিক্ষা হলো—চেষ্টা করো প্রাণে,
তারপর ফলের ভার দাও দয়াময় রহমানেরই টানে।
পরিশ্রম ও তাওয়াক্কুল পাশাপাশি থাক,
এই ভারসাম্যে জীবনের পথ সুন্দর হোক আজ।
পৃথিবী স্থির মনে হলেও সবই রবের হাতে,
এক মুহূর্তে বদলে যেতে পারে জীবনপথের গতি।
তাই নিরাপত্তা পেলে কৃতজ্ঞ হও প্রাণে,
বিপদ এলে ফিরে এসো দয়াময় রবের পানে।
শক্তি পেয়ে দুর্বলকে দিও না কোনো কষ্ট,
ক্ষমতা পেয়ে অন্যায়ের পথে হয়ো না ধ্বস্ত।
কারণ ক্ষমতা স্থায়ী নয়, জীবনও ক্ষণিক,
আল্লাহর সামনে সবাই একদিন হবে জবাবদিহিমুখী।
একদিন এই দুনিয়ার সব আয়োজন থামবে,
নশ্বর জীবনের সব রঙ ধীরে ধীরে নামবে।
ধন-সম্পদ, ঘর-বাড়ি, ক্ষমতা, পরিচয়,
কেউ সঙ্গে যাবে না—শুধু আমল সঙ্গী হয়।
আজ যে সময় হাতে আছে, কাল তা থাকবে না,
আজকের সুযোগ হারালে ফিরে আসবে না।
তাই গুনাহ ছেড়ে দাও, তাওবার পথে চলো,
নেক আমলের ফুল দিয়ে জীবনের বাগান ভরো।
মৃত্যু যখন ডাকবে এসে, থাকবে না অবকাশ,
সেদিন শুধু আমল হবে জীবনেরই আশ্বাস।
তাই দেরি না করে আজই বদলাও জীবন,
আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুত করো মন।
কবে হবে কিয়ামত—জ্ঞান তাঁরই কাছে,
মানুষ শুধু সতর্ক হয়ে প্রস্তুতি নিক পাশে।
অজানা বিষয়ের দাবি করে অহংকার নয়,
নিজের সীমা জানা জ্ঞানেরই পরিচয়।
মানুষ যত জ্ঞান অর্জন করুক পৃথিবীর বুকে,
অদৃশ্যের পূর্ণ জ্ঞান নেই মানুষেরই হাতে।
তাই জ্ঞান বাড়ুক, সঙ্গে বাড়ুক বিনয়,
রবের মহিমা বুঝে মুছে যাক অহংকারময়।
পানি যদি হারিয়ে যায় গভীর মাটির তলে,
মানুষ কি পারে তা ফিরিয়ে আনতে বলে?
যদি শুকিয়ে যায় ঝরনা, নদী, কূপের প্রাণ,
কার সাধ্য ফিরিয়ে দেয় সেই প্রবহমান পানি-দান?
পানি দিয়ে জীবন বাঁচে, পানি দিয়ে ফসল,
পানি ছাড়া পৃথিবী যেন হয়ে যায় নিষ্ফল।
তাই পানির প্রতিটি ফোঁটা আল্লাহর দান,
অপচয় নয়, সংরক্ষণ হোক দায়িত্বের জ্ঞান।
কলের পানি অকারণে যেন না যায় ঝরে,
পৃথিবীর সম্পদ রক্ষা করি সচেতনতার তরে।
নিয়ামতের কদর করো, শোকর করো প্রাণে,
পানির দান স্মরণ করো দয়াময় রহমানের নামে।
যে চোখ পেয়েছি—সত্য দেখি,
যে কান পেয়েছি—সত্য শুনি,
যে অন্তর পেয়েছি—সত্য বুঝি,
রবের পথে জীবন গড়ি।
যে জ্ঞান পেয়েছি—কল্যাণে দিই,
যে ধন পেয়েছি—হক আদায় করি,
যে শক্তি পেয়েছি—দুর্বলকে রক্ষা করি,
রবের দেওয়া আমানত সযতনে ধরি।
যে সময় পেয়েছি—নেক কাজে দিই,
যে জীবন পেয়েছি—সত্য পথে রই,
যে রিযিক পেয়েছি—হালাল পথে খাই,
আল্লাহর দেওয়া দানে অহংকার না চাই।
অন্যের হক নষ্ট করব না, মিথ্যা কথা নয়,
অন্যায় দেখে অন্যায়ের সঙ্গে হব না পরিচয়।
অমানত রাখব আমানত, করব না প্রতারণা,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলাই হবে জীবনের সাধনা।
হিংসা ছেড়ে ভালোবাসা, বিদ্বেষ ছেড়ে দান,
অহংকার ছেড়ে বিনয়—হোক হৃদয়ের গান।
দুর্বল মানুষ পাশে পেলে দেব তাকে সহায়,
মজলুমের অধিকার রক্ষায় দাঁড়াব ন্যায়ের ঠাঁই।
পরিবারে মমতা রাখি, সমাজে রাখি শান্তি,
কথায়-কাজে ফুটিয়ে তুলি ইসলামেরই কান্তি।
মানুষের কল্যাণ চাই, চাই রবের সন্তুষ্টি,
এই হোক জীবনের সাধনা, এই হোক চূড়ান্ত পুষ্টি।
হে মহান রব, তোমারই হাতে জগতের কর্তৃত্ব,
তোমার হুকুমে জাগে জীবন, মুছে যায় সব দুর্বলতা।
তোমার দানে চোখ পেয়েছি, কান পেয়েছি, প্রাণ,
তোমার দানে দেখি-শুনি, তোমারই দানে জ্ঞান।
আমাদের অন্তর করো সত্য, পবিত্র ও নির্মল,
গুনাহ থেকে ফিরিয়ে নাও, করো আমল সফল।
জীবন যেন পরীক্ষাতে হয় উত্তম কর্মময়,
মৃত্যুর পরে তোমার রহমত হোক আমাদের আশ্রয়।
হালাল রিযিক দাও, শোকরগুজার বানাও,
সত্যের পথে দৃঢ় রাখো, মিথ্যা থেকে বাঁচাও।
চেষ্টা করার শক্তি দাও, তাওয়াক্কুল দাও প্রাণে,
তোমার ওপর ভরসা রেখে চলি তোমারই টানে।
চোখ যেন সত্য দেখে, কান যেন সত্য শোনে,
অন্তর যেন হিদায়াত পায় তোমারই অনুগ্রহে।
পানির দান, জীবনের দান, সব নিয়ামতের মান,
বুঝে যেন কৃতজ্ঞ হই, জাগে ঈমানের প্রাণ।
কিয়ামতের কঠিন দিনে রেখো তোমার ছায়া,
ক্ষমা করে দিও রব, মুছে দিও সব মায়া।
জাহান্নামের আগুন থেকে রাখো আমাদের দূর,
জান্নাতের শান্তি দাও—হে রহমান, হে গফুর।
তোমারই বিধান মেনে কাটুক জীবন-প্রহর,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ গহর।
ঈমান, তাকওয়া, সৎকর্মে সাজুক প্রতিটি প্রাণ,
তোমার রহমতের আশায় শেষ হোক জীবনের গান।
হে আল্লাহ! সূরা আল-মুলকের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে
সত্য, ন্যায়, তাকওয়া, কৃতজ্ঞতা ও উত্তম আমলের পথে
অবিচল থাকার তৌফিক দাও।
আমিন।
১৫
২৫ মন্তব্য