প্রভাষক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার পালিত হয় ‘বিশ্ব নদী দিবস’। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘নো ফরেস্ট, নো রিভার্স, নো ওয়াটার, নো লাইফ’। নদীও কথা বলে, নদীরও সুখ-দুঃখ আছে। যুগের পর যুগ নদ-নদী আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সচল রেখেছে। নদীগুলো আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে চলেছে। নদীগুলো আমাদের সম্পদ ও সৌন্দর্য। নদ-নদীর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। নদী কেবল পানির স্রোত নয়। নদীর জীবন আছে। জীবন আছে বলেই এই নদী আমাদের সেচ ব্যবস্থা, যাতায়াত, মৎস্য উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। এটি আমাদের জীবনের শিরা। এটি আমাদের ইতিহাস। কিন্তু আজ এই নদীগুলো ধুঁকছে। বিশ্বজুড়ে নদীগুলো কাঁদছে।
ইউরোপের দানিয়ুব, আমেরিকার কলোরাডো, আফ্রিকার নীলনদ, এশিয়ার গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রসহ বেশিরভাগ নদীই বিপদের মুখে! বাংলাদেশের নদীগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। সময়ের পরিক্রমায় নদীর প্রাকৃতিক গঠনগত পরিবর্তন, কম পানি প্রাপ্তি, দখল, দূষণ আর ভরাটের কারণে দেশের নদ-নদীর অবস্থা বেহাল! নদী মরে গেলে কী সভ্যতা টিকে থাকে? নদী নেই, পানি নেই, বন নেই-এর মানেই হলো জীবনও নেই।
বিশ্বজুড়ে নদনদীর সংকটময় চিত্র: জলবায়ু পরিবর্তন সবকিছু বদলে দিচ্ছে। নদীগুলোর পানি কমে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীতে দীর্ঘদিন ধরে খরা চলছে। শুধু কলোরাডো নয়, আমেরিকার অনেক নদীর পরিস্থিতি দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে। গ্রিস, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতেও অনেক নদী শুকিয়ে গেছে। পানির অভাবে ধুঁকছে বহু নদী। সেচে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। কৃষি বিপর্যস্ত হচ্ছে। শিল্পকলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? শুধু প্রাকৃতিক কারণে নয়। আমরা মানুষেরাও এর জন্য দায়ী। আমরা মাত্রাতারিক্ত পানি ব্যবহার করছি। আমরা বন কাটছি। অপরিকল্পিত বাঁধ দিচ্ছি। আবার নদীতে আবর্জনা ফেলছি। ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। মাছের প্রজনন চক্র নষ্ট হচ্ছে। সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
১৭
২৮ মন্তব্য