সহকারী শিক্ষক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:০৪ অপরাহ্ণ
এআই আসলেই কি স্বাধীন সত্তা হয়ে মানব সভ্যতাকে গ্রাস করবে?
প্রযুক্তির এই রমরমা যুগে আমরা এমন এক অদ্ভুত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যা আমাদের বাইরের চাকচিক্য নয়, বরং আমাদের ভেতরকার নৈতিক পতন, সাংস্কৃতিক অবক্ষয় এবং দীর্ঘদিনের অন্তসারশূন্যতাকে এক নিমেষে উন্মোচন করে দিচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কথাই বলছি। এতদিন ধরে আমাদের মনে যে ভীতি কাজ করত; যে এআই একদিন স্বাধীন কোনো দানব হয়ে মানবজাতিকে গ্রাস করবে, মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে; রাশিয়ার বিখ্যাত ভালদাই ক্লাবের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তিমোফেই বোর্দাচেভ তার এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছেন।
তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো স্বাধীন মন বা সমাজবিচ্ছিন্ন কোনো মহাশক্তি নয়; এটি নিখাদ একটি আয়না। চাকা, মুদ্রণযন্ত্র, অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন কিংবা পারমাণবিক চুল্লির মতো আবিষ্কারগুলো মানুষের সমাজ থেকে একসময় কিছুটা দূরে বা স্বাধীন মনে হলেও এআই কখনোই মানবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এটি মানুষেরই জমা করা ভালো ও মন্দ চিন্তার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। আমরা প্রতিদিন যে কোটি কোটি ডেটা, লেখা বা ছবি তৈরি করছি, এআই কেবল তারই ওপর ভিত্তি করে বিকশিত হচ্ছে। অর্থাৎ, মানুষই হলো এর চালিকাশক্তি। ফলে, প্রযুক্তি যতই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোক না কেন, মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতির বাইরে এর কোনো স্বাধীন সত্তা নেই।
১৭
২৮ মন্তব্য