Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:১৮ অপরাহ্ণ

অল্প ঘুমিয়ে কীভাবে ভালো থাকা যায়?

বেশিরভাগ মানুষের রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে পরের দিনটা কেমন আলসেমি আর ক্লান্তি নিয়ে শুরু হয়। মনে হয় আরেকটু ঘুমাতে পারলে ভালো হতো। অথচ কিছু মানুষ মাত্র ছয় ঘণ্টা বা তারচেয়ে কম ঘুমিয়েও কোনো ক্লান্তি অনুভব করেন না। তাঁরা পরের দিন বেশ সতেজ ও কর্মঠ হয়ে কাজ করেন। অল্প ঘুমিয়েও সতেজ থাকার রহস্যটা আসলে কী?

ঘুম আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকারি। কারণ, ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে। তাহলে প্রশ্ন আসে, কিছু মানুষ কম ঘুমিয়েও কীভাবে সুস্থ থাকতে পারেন? বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য জানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এমন মানুষ খুব কম হওয়ায় এ বিষয় নিয়ে এখনো বেশি গবেষণা হয়নি।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা এমন একটি পরিবারের ওপর গবেষণা করেন, যেখানে মা ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে উভয়ই কম ঘুমান। পরে দেখা যায়, তাঁদের দুজনের ডিইসি২ (DEC2) নামে একটি জিনে পরিবর্তন বা মিউটেশন আছে। বিজ্ঞানীরা যখন এই একই পরিবর্তন ইঁদুরের মধ্যে করেন, তখন সেই ইঁদুরগুলোকেও স্বাভাবিক ইঁদুরদের চেয়ে কম ঘুমাতে দেখা যায়।

বিজ্ঞানীরা যখন এই অংশের নিউরনগুলোকে সক্রিয় করেন, তখন ইঁদুরগুলো মুহূর্তের মধ্যেই জেগে ওঠে। এডিআরবি১ জিনের পরিবর্তনের কারণে মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি হয় যে ঘুম ঘুমালেও সমস্যা হয় না।

২০১৮ সালের আরেকটি গবেষণায় এর কারণ জানা যায়। বিজ্ঞানীরা দেখেন, ডিইসি২ জিনের এই পরিবর্তন ওরেক্সিন (Orexin) নামে একটি হরমোনের মাত্রাকে প্রভাবিত করে। এই হরমোন আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। সাধারণত, ডিইসি২ জিন সন্ধ্যাবেলা ওরেক্সিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। ফলে আমাদের ঘুম পায়। কিন্তু যাদের কম ঘুমে সমস্যা হয় না, তাদের ক্ষেত্রে এই জিন দুর্বল থাকে। ফলে এটি ঠিকমতো কাজ করে না এবং শরীরে বেশি পরিমাণে ওরেক্সিন তৈরি হতে থাকে। এ কারণে তারা বেশি সময় ধরে জেগে থাকেন।

২০১৯ সালে বিজ্ঞানীরা আরেকটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন। এটির নাম এডিআরবি১ (ADRB1)। এই জিনেও একটি পরিবর্তন বা মিউটেশন দেখা গেছে। এই জিনের প্রভাব বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা কিছু ইঁদুরের মধ্যে একই মিউটেশন করার। তাঁরা দেখেন, সেই ইঁদুরগুলোও কম ঘুমায়। আরও গবেষণায় দেখা যায়, এডিআরবি১ জিনটি মস্তিষ্কের ডোরসাল পন্স নামে একটি অংশে খুব সক্রিয় থাকে। মস্তিষ্কের এই অংশটি ঘুম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীরা যখন এই অংশের নিউরনগুলোকে সক্রিয় করেন, তখন ইঁদুরগুলো মুহূর্তের মধ্যেই জেগে ওঠে। এডিআরবি১ জিনের পরিবর্তনের কারণে মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি হয় যে ঘুম ঘুমালেও সমস্যা হয় না। আবার খুব সহজে ঘুম ভেঙে যায়।

মন্তব্য করুন