প্রধান শিক্ষক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:২৩ অপরাহ্ণ
মানসিক ক্লান্তিতে কেন মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়?
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফেরার পর আপনার অবস্থাটা একবার মিলিয়ে নিন। সারা দিন হয়তো বাচ্চাদের সামলেছেন, তাদের সকালের নাশতা বানানো, দুই ভাইবোনের ঝগড়া মেটানো, হাজারো অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, আবার তারা যেন একঘেয়েমিতে না ভোগে সেদিকেও খেয়াল রাখা। দিন শেষে যখন একটু নিজের মতো বসার সুযোগ পেলেন, তখনই মাথায় এল রাতের খাবারের চিন্তা। ফ্রিজে কী কী আছে, রান্না করতে কতক্ষণ লাগবে, যা রাঁধবেন সেটা আদৌ বাচ্চারা খাবে কি না—এই সাধারণ চিন্তাগুলোও তখন পাহাড়সমান মনে হয়। মনে হয়, থাক, আজ আর রান্না করে কাজ নেই, বাইরে থেকে কিছু আনিয়ে নিই।
অথবা ধরুন আপনার অফিসের কথা। সারা দিন কম্পিউটারের সামনে বসে একের পর এক একঘেয়ে কাজ করেছেন। ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার কথা থাকলেও, শরীর আর মন সায় দেয় না। মনে হয়, সোজা বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। একজন নার্সের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটে। টানা ডিউটির পর অতিরিক্ত একজন রোগীকে দেখার ইচ্ছা থাকলেও ক্লান্তির কারণে তিনি পিছিয়ে আসেন।
এই যে অনুভূতি, একেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় কগনিটিভ ফ্যাটিগ। বাংলায় বলতে পারেন মানসিক ক্লান্তি। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এবং কেনেডি ক্রিগার ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে একটি যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। তারা দেখার চেষ্টা করেছেন, মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকা অবস্থায় মানুষ যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তার মস্তিষ্কের ভেতর ঠিক কী ঘটে। এই মানসিক ক্লান্তি কিন্তু কেবল শারীরিক দুর্বলতা নয়। গবেষক দল প্রমাণ করেছেন, এটি আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নতুন কোনো কাজে জোর খাটানোর ইচ্ছাকে গভীরভাবে প্রভাবিত হই।

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফেরার পর আপনার অবস্থাটা একবার মিলিয়ে নিন। সারা দিন হয়তো বাচ্চাদের সামলেছেন, তাদের সকালের নাশতা বানানো, দুই ভাইবোনের ঝগড়া মেটানো, হাজারো অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, আবার তারা যেন একঘেয়েমিতে না ভোগে সেদিকেও খেয়াল রাখা। দিন শেষে যখন একটু নিজের মতো বসার সুযোগ পেলেন, তখনই মাথায় এল রাতের খাবারের চিন্তা। ফ্রিজে কী কী আছে, রান্না করতে কতক্ষণ লাগবে, যা রাঁধবেন সেটা আদৌ বাচ্চারা খাবে কি না—এই সাধারণ চিন্তাগুলোও তখন পাহাড়সমান মনে হয়। মনে হয়, থাক, আজ আর রান্না করে কাজ নেই, বাইরে থেকে কিছু আনিয়ে নিই।
অথবা ধরুন আপনার অফিসের কথা। সারা দিন কম্পিউটারের সামনে বসে একের পর এক একঘেয়ে কাজ করেছেন। ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার কথা থাকলেও, শরীর আর মন সায় দেয় না। মনে হয়, সোজা বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। একজন নার্সের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটে। টানা ডিউটির পর অতিরিক্ত একজন রোগীকে দেখার ইচ্ছা থাকলেও ক্লান্তির কারণে তিনি পিছিয়ে আসেন।
এই যে অনুভূতি, একেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় কগনিটিভ ফ্যাটিগ। বাংলায় বলতে পারেন মানসিক ক্লান্তি। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এবং কেনেডি ক্রিগার ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে একটি যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। তারা দেখার চেষ্টা করেছেন, মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকা অবস্থায় মানুষ যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তার মস্তিষ্কের ভেতর ঠিক কী ঘটে। এই মানসিক ক্লান্তি কিন্তু কেবল শারীরিক দুর্বলতা নয়। গবেষক দল প্রমাণ করেছেন, এটি আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নতুন কোনো কাজে জোর খাটানোর ইচ্ছাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
অংশগ্রহণকারীরা মানসিকভাবে যত বেশি ক্লান্ত হচ্ছিলেন, তারা কঠিন কাজটির দিকে ততটাই কম ঝুঁকছিলেন। অথচ কঠিন কাজটি করলে তাদের আয় হতো কয়েক গুণ বেশি!
গবেষকরা ২৮ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর একটি বিশেষ পরীক্ষা চালান। ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (fMRI) মেশিনের মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রথমে তাদের এমন কিছু কাজ দেওয়া হয় যাতে মস্তিষ্কের ওপর বেশ চাপ পড়ে। এরপর তাদের সামনে একটি সুযোগ দেওয়া হয়—তারা কি আরেকটু মানসিক পরিশ্রম করে কিছু টাকা আয় করতে চান, নাকি চান না?
মেশিনের ভেতরে থাকা অবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের তাদের ওয়ার্কিং মেমরি পরীক্ষা করার জন্য কিছু প্রশ্ন করা হয়। তাদের বিভিন্ন অক্ষরের সারি মনে রাখতে বলা হয়। সেগুলো বিভিন্ন ধরনের ছিল। যেমন কিছু ছিল কঠিন সারি, আবার কিছু সহজ, কিছু আরও অনেক বেশি কঠিন। এই কাজগুলো করে যখন তারা বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়লেন, তখন তাদের সামনে দুটি বিকল্প রাখা হয়। প্রথমটি একটি সহজ মেমরি টেস্ট, যা ঠিকঠাক পারলে পাওয়া যাবে ১ ডলার। আর দ্বিতীয়টি বেশ কঠিন একটি টেস্ট, কিন্তু সফল হলে মিলবে ৮ ডলার।
ফলাফলে দেখা গেল এক অদ্ভুত বিষয়। অংশগ্রহণকারীরা মানসিকভাবে যত বেশি ক্লান্ত হচ্ছিলেন, তারা কঠিন কাজটির দিকে ততটাই কম ঝুঁকছিলেন। অথচ কঠিন কাজটি করলে তাদের আয় হতো কয়েক গুণ বেশি! এই পরীক্ষা থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, মানসিক ক্লান্তি কীভাবে আমাদের পুরস্কার বা লাভের চেয়ে পরিশ্রম কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করে।

১৭
২৮ মন্তব্য