সহকারী শিক্ষক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ণ
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: ১৯ পদে আবেদনের নিয়ম, যোগ্যতা ও বেতন | ICB Asset Management Job Circular 2026
👉আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ দেখতে ক্লিক করুন
👉এক ক্লিকে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ দেখুন
👉ICB Asset Management Job Circular 2026
👉এক ক্লিকে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ এ আবেদন করুন
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: ১৯ পদে আবেদনের নিয়ম, যোগ্যতা ও বেতন | ICB Asset Management Job Circular 2026
সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর। ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (ICB) সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি (ICB Asset Management PLC) তাদের জনবল কাঠামোর শূন্যপদ পূরণের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৭টি ক্যাটাগরিতে ১৯টি পদে জনবল নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী থেকে শুরু করে এসএসসি পাস প্রার্থী পর্যন্ত — প্রায় সব শিক্ষাগত স্তরের প্রার্থীর জন্যই এখানে সুযোগ রয়েছে।
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর পদের বৈচিত্র্য। একদিকে রয়েছে সিনিয়র অফিসার (গ্রেড-৯) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্টের মতো উচ্চতর পদের জন্য ৭টি পদ, অন্যদিকে রয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারের মতো আইটি প্রফেশনালদের জন্য ৪টি পদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও ক্যাশিয়ারের জন্য ৫টি পদ এবং অফিস সহায়কের জন্য ১টি পদ। অর্থাৎ ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, আইটি কিংবা সাধারণ স্নাতক — যে-কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীর জন্যই এখানে কিছু না কিছু আছে।
এই পোস্টে icb asset management job circular 2026-এর প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে — পদের তালিকা, প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতন কাঠামো, বয়সসীমা, আবেদনের ধাপে ধাপে নিয়ম, ফি পরিশোধের পদ্ধতি, ছবি ও স্বাক্ষর আপলোডের স্পেসিফিকেশন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সম্ভাব্য ধাপ। বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ০১.০২.১০৬২। পুরো পোস্টটি পড়ে আবেদন করলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: এক নজরে
আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তির মূল তথ্যগুলো এক নজরে দেখে নিন। নিচের টেবিলে icb job circular 2026-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
বিষয় | বিবরণ |
প্রতিষ্ঠানের নাম | আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি (ICB Asset Management PLC) |
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (দৈনিক ইত্তেফাক) |
স্মারক নম্বর | ০১.০২.১০৬২ |
পদের ক্যাটাগরি | ৭টি |
মোট পদসংখ্যা | ১৯টি |
বেতন গ্রেড | গ্রেড-৯, গ্রেড-১০, গ্রেড-১৬, গ্রেড-২০ |
আবেদন মাধ্যম | অনলাইন (icb.org.bd/iamcl/career) |
আবেদন শুরু | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
আবেদনের শেষ তারিখ | ২৭ অক্টোবর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯) |
ফি জমার শেষ তারিখ | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯) |
বয়সসীমা | ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সর্বোচ্চ ৩২ বছর |
আবেদন ফি | গ্রেড ৯–১০: ২০০ টাকা; গ্রেড ১৬: ১০০ টাকা; গ্রেড ২০: ৫০ টাকা; অনগ্রসর প্রার্থী: ৫০ টাকা |
উপরের টেবিল থেকে স্পষ্ট — এই icbamcl job circular-এ আবেদনের জন্য পুরো এক মাসের মতো সময় পাওয়া যাচ্ছে। তবে অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি চাকরির অনলাইন আবেদনে শেষ দিনগুলোতে সার্ভার ব্যস্ত থাকে, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি কী — কোম্পানির পরিচিতি
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি হলো ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি, যা পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি মূলত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত — মিউচুয়াল ফান্ড, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সম্পদ পরিচালনাই এর মূল কার্যক্রম।
সরকারি মালিকানাধীন এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি মানে একদিকে যেমন সরকারি চাকরির নিরাপত্তা, অন্যদিকে আর্থিক খাতের পেশাদার পরিবেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান কার্যালয় ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত — Green City Edge (৫ম ও ৯ম তলা), ৮৯ কাকরাইল, ঢাকা-১০০০। প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট icbamcl.gov.bd এবং ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় icb.org.bd-এর অধীনে iamcl/career সেকশনে। ফোনে যোগাযোগের জন্য নম্বর ৮৩০০৪০২।
সরকারি ব্যাংক নিয়োগ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির স্বপ্ন দেখেন যারা, তাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠান একটি আদর্শ কর্মস্থল হতে পারে। কারণ এখানে একদিকে পাবেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা, অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরের গতিশীল কাজের অভিজ্ঞতা — যা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং বা ফিন্যান্স ক্যারিয়ারে বড় প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
কেন এই আইসিবি নিয়োগে আবেদন করবেন — ৫টি শক্তিশালী কারণ
সরকারি চাকরি ২০২৬-এর বাজারে প্রতি বছর হাজারো বিজ্ঞপ্তি আসে, কিন্তু আইসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-কে আলাদা করে দেখার মতো বেশ কিছু কারণ আছে।
প্রথমত, এটি সরকারি মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ। বেসরকারি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এখানে চাকরির নিরাপত্তা অনেক বেশি, পাশাপাশি সরকারি নিয়মে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার সম্ভাবনা থাকে। যারা স্থিতিশীল ক্যারিয়ার চান, তাদের জন্য এর চেয়ে ভালো বিকল্প কমই আছে।
দ্বিতীয়ত, বেতন কাঠামো আকর্ষণীয়। গ্রেড-৯ পদের বেতন স্কেল ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ এন্ট্রি লেভেলেই প্রায় ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক আয়ের সম্ভাবনা, সঙ্গে ভাতা ও বোনাস। ফিন্যান্স সেক্টরে এই বেতন একজন ফ্রেশারের জন্য যথেষ্ট সম্মানজনক।
তৃতীয়ত, পদের বৈচিত্র্য। সিনিয়র অফিসার নিয়োগ ২০২৬-এর মতো উচ্চপদ থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার নিয়োগের মতো টেকনিক্যাল পদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের মতো কম্পিউটার-দক্ষতাভিত্তিক পদ, এমনকি অফিস সহায়ক নিয়োগ ২০২৬-এর মতো এসএসসি পাসদের জন্য পদ — একটিমাত্র বিজ্ঞপ্তিতেই এত ধরনের প্রার্থীর সুযোগ খুব কমই দেখা যায়।
চতুর্থত, সারাদেশের সব জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। জেলা কোটা বা আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা নেই — অর্থাৎ ঢাকার বাইরের প্রার্থীদের জন্যও সমান সুযোগ।
পঞ্চমত, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং ফি পরিশোধ করা যায় SSLCOMMERZ-এর মাধ্যমে। ঘরে বসেই আবেদন ও পেমেন্ট সম্পন্ন করা যায়, কোথাও গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। icb career পোর্টালে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ ও স্বচ্ছ।
পদের বিবরণ: ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৯টি পদ
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ ২০২৬-এ কোন পদে কতটি শূন্যপদ রয়েছে, কোন গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে — সব তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
ক্রম | পদের নাম | পদসংখ্যা | বেতন গ্রেড |
১ | সিনিয়র অফিসার | ৫টি | গ্রেড-৯ |
২ | অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট | ২টি | গ্রেড-৯ |
৩ | অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার | ৪টি | গ্রেড-৯ |
৪ | অফিসার | ২টি | গ্রেড-১০ |
৫ | অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) | ৪টি | গ্রেড-১৬ |
৬ | অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশিয়ার) | ১টি | গ্রেড-১৬ |
৭ | অফিস সহায়ক | ১টি | গ্রেড-২০ |
সর্বমোট | ১৯টি |
টেবিল থেকে দেখা যাচ্ছে, গ্রেড-৯-এ মোট ১১টি পদ (সিনিয়র অফিসার ৫ + অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট ২ + অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার ৪), গ্রেড-১০-এ ২টি, গ্রেড-১৬-এ ৫টি এবং গ্রেড-২০-এ ১টি পদ রয়েছে। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের জন্য গ্রেড-৯ ও ১০-এর ১৩টি পদ সবচেয়ে আকর্ষণীয়, আর যারা স্নাতক বা এসএসসি পাস — তাদের জন্য রয়েছে গ্রেড-১৬ ও ২০-এর ৬টি পদ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন: বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পদের সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারে, এমনকি বিজ্ঞপ্তি বাতিলও করতে পারে। এটি সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির একটি স্ট্যান্ডার্ড শর্ত, তবে প্রার্থী হিসেবে আপনার প্রস্তুতিতে এর কোনো প্রভাব পড়া উচিত নয় — নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে আবেদন করাই মূল কাজ।
সিনিয়র অফিসার ও অফিসার পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা
সিনিয়র অফিসার নিয়োগ ২০২৬-এর ৫টি পদ এই বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পদ। এই পদের জন্য প্রার্থীকে অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, আইন, এমআইএস, ইংরেজি, এফআরএম (ফাইন্যান্সিয়াল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট), গণিত, এইচআরএম (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) অথবা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস — এই বিষয়গুলোর যে-কোনো একটিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে। অর্থাৎ বিবিএ/এমবিএ, অর্থনীতিতে অনার্স-মাস্টার্স, অ্যাকাউন্টিং-ফিন্যান্স ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীরা সরাসরি যোগ্য।
শিক্ষাগত ফলাফলের শর্তটি বেশ কঠোর: শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে ২টি প্রথম বিভাগ বা সমমানের ফলাফল থাকতে হবে, এবং ৩য় বিভাগ বা সমমানের ফল কোনো পর্যায়েই গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর — যে-কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ থাকলে এই পদের জন্য আবেদন করা যাবে না। যাদের এমবিএ, এমবিএম অথবা এমএএফসিএম (মাস্টার্স ইন অ্যাপ্লাইড ফিন্যান্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট) ডিগ্রি আছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে। পুঁজিবাজার ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমএএফসিএম ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়াটা স্বাভাবিক।
অফিসার পদের (গ্রেড-১০, ২টি পদ) শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রায় একই বিষয়ভিত্তিক — অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, আইন, এমআইএস, ইংরেজি, এফআরএম, গণিত, এইচআরএম বা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে স্নাতকোত্তর অথবা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান)। তবে এখানে শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে ১টি প্রথম বিভাগ থাকলেই চলবে — সিনিয়র অফিসারের মতো ২টির বাধ্যবাধকতা নেই। যাদের পিজিডিসিএম (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ক্যাপিটাল মার্কেট) সনদ আছে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। ক্যাপিটাল মার্কেট-ভিত্তিক ডিপ্লোমা থাকলে এই অফিসার পদে আপনার প্রোফাইল অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।
মনে রাখবেন, সিনিয়র অফিসার ও অফিসার — দুটি পদের জন্যই তৃতীয় বিভাগ অগ্রহণযোগ্য। তাই আবেদনের আগে নিজের সব শিক্ষাগত সনদপত্রের ফলাফল যাচাই করে নিন।
অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার পদের যোগ্যতা
অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট (গ্রেড-৯, ২টি পদ) মূলত ফিন্যান্স-বিশ্লেষণধর্মী পদ। এই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সিনিয়র অফিসারের মতোই — অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, আইন, এমআইএস, ইংরেজি, এফআরএম, গণিত, এইচআরএম বা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে স্নাতকোত্তর অথবা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান), শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে ২টি প্রথম বিভাগ এবং কোনো স্তরে ৩য় বিভাগ থাকা যাবে না। তবে এই পদের একটি বিকল্প যোগ্যতা রয়েছে: এমএএফসিএম, সিএফএ, সিএ, সিএমএ, সিপিএ অথবা এসিসিএ — এই পেশাদার সনদগুলোর যে-কোনো একটি থাকলেও আবেদন করা যাবে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি (সিএ), কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্সি (সিএমএ) বা সিএফএ-এর মতো প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশনধারীদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ, কারণ ফিন্যান্সিয়াল এনালাইসিসের কাজে এই সনদগুলোর মূল্য অনেক।
অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার নিয়োগের ৪টি পদ (গ্রেড-৯) আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীদের জন্য। এই পদের জন্য কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), সিএসই অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) অথবা আইসিটি বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে, এবং ফলাফল অন্যূন ২য় শ্রেণি বা সমমানের হতে হবে। এখানে লক্ষণীয় — অন্যান্য গ্রেড-৯ পদের মতো "২টি প্রথম বিভাগ"-এর শর্ত নেই, ২য় শ্রেণি থাকলেই চলবে। তবে একটি অতিরিক্ত শর্ত আছে: প্রার্থীকে অ্যাপটিটিউড টেস্টে (যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা) উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না, প্রোগ্রামিং ও টেকনিক্যাল দক্ষতার ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাস করতে হবে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটাবেজ বা সিস্টেম-সংক্রান্ত হাতে-কলমে দক্ষতা যাদের আছে, তাদের জন্য এই পদটি আদর্শ।
দুটি পদের মধ্যে পার্থক্যটা পরিষ্কার: ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট পদে দরকার ফিন্যান্স-অ্যাকাউন্টিং জ্ঞান ও পেশাদার সনদ, আর প্রোগ্রামার পদে দরকার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও টেকনিক্যাল অ্যাপটিটিউড। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী সঠিক পদ বেছে নিন।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক পদের যোগ্যতা
যারা সাধারণ স্নাতক ডিগ্রিধারী বা এসএসসি পাস, তাদের জন্যও এই icb asset management job circular 2026-এ সুযোগ রয়েছে। অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) পদের ৪টি শূন্যপদে (গ্রেড-১৬) আবেদনের জন্য যে-কোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই চলবে, তবে ফলাফল কমপক্ষে ২য় শ্রেণি বা সমমানের হতে হবে। অর্থাৎ অনার্স বা ডিগ্রি (পাস) — যে-কোনো শাখার স্নাতকরাই যোগ্য। তবে দুটি ব্যবহারিক শর্ত আছে: প্রার্থীকে অ্যাপটিটিউড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং কম্পিউটারে টাইপিং গতি থাকতে হবে — বাংলায় প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২৫ শব্দ। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগে টাইপিং গতি একটি নির্ণায়ক যোগ্যতা, তাই আবেদনের আগেই টাইপিং প্র্যাকটিস শুরু করে দিন। বাংলা টাইপিংয়ের জন্য অভ্র বা বিজয় লেআউটে নিয়মিত অনুশীলন করলে নির্ধারিত গতি অর্জন করা সম্ভব।
অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশিয়ার) পদের ১টি শূন্যপদে (গ্রেড-১৬) আবেদনের জন্য শুধু স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই চলবে — বিষয় বা শ্রেণির বিশেষ শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার পদে কাজের ধরন মূলত নগদ লেনদেন ও হিসাব-সংক্রান্ত, তাই অ্যাকাউন্টিং ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে সুবিধা হলেও বাধ্যতামূলক নয়।
অফিস সহায়ক নিয়োগ ২০২৬-এর ১টি পদ (গ্রেড-২০) এই বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতার পদ — শুধু এসএসসি বা সমমান পাস থাকলেই আবেদন করা যাবে। গ্রামের বা মফস্বলের যে-সব তরুণ সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখেন কিন্তু উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য এটি একটি বাস্তব সুযোগ। গ্রেড-২০-এর বেতন স্কেল ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা, সঙ্গে ভাতা — এন্ট্রি লেভেলে মোটামুটি ১৩,০০০ টাকার মতো মাসিক আয়ের সম্ভাবনা।
বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা
আইসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে কোম্পানির নিজস্ব বেতন কাঠামো ২০১৬ অনুযায়ী। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর সঙ্গে এর মিল থাকলেও এটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পে-স্ট্রাকচার। গ্রেডভিত্তিক বেতন স্কেল নিচে দেওয়া হলো:
গ্রেড-৯ (সিনিয়র অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার): বেতন স্কেল ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা। অর্থাৎ চাকরিতে যোগদানের শুরুতেই মূল বেতন ২২,০০০ টাকা, এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ।
গ্রেড-১০ (অফিসার): বেতন স্কেল ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা। শুরুর মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা।
গ্রেড-১৬ (অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার — ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও ক্যাশিয়ার): বেতন স্কেল ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা। শুরুর মূল বেতন ৯,৩০০ টাকা।
গ্রেড-২০ (অফিস সহায়ক): বেতন স্কেল ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা। শুরুর মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা।
শুধু মূল বেতনই নয় — সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী এর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, উৎসব বোনাস (বছরে সাধারণত ২টি), বৈশাখী ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে মাসিক মোট আয় আনুমানিক ১৩,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকার মধ্যে হবে — পদের গ্রেড অনুযায়ী। অর্থাৎ গ্রেড-২০-এর অফিস সহায়ক পেলেও ভাতাসহ প্রায় ১৩,০০০ টাকার মতো পাবেন, আর গ্রেড-৯-এর সিনিয়র অফিসার পেলে সব মিলিয়ে ৩৫,০০০ টাকার কাছাকাছি।
দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার দিক থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থা থাকে, যা বেসরকারি চাকরিতে সবসময় পাওয়া যায় না। তাছাড়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতির সুযোগ এবং চাকরির নিরাপত্তা — এই তিনটি মিলিয়ে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চাকরি একটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ ক্যারিয়ার পথ।
বয়সসীমা ও যোগ্যতার সাধারণ শর্তাবলি
বয়সসীমা সরকারি চাকরির আবেদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। অর্থাৎ যাদের জন্ম তারিখ ১ অক্টোবর ১৯৯৪ বা তার পরে, তারা আবেদনের যোগ্য। ৩২ বছরের বেশি বয়স হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। লক্ষ করুন — বয়স গণনার রেফারেন্স তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৬, যা আবেদন শুরুর তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। তাই নিজের বয়স হিসাব করার সময় এই তারিখটিকেই ভিত্তি ধরুন, আবেদনের শেষ তারিখ নয়।
সরকারি নিয়মে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা বা অন্যান্য সংরক্ষিত কোটার প্রার্থীদের জন্য বয়সে ছাড়ের বিধান সাধারণত প্রযোজ্য হয় — তবে এই নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে কোটাভিত্তিক বয়স ছাড়ের বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীরা আবেদনের সময় বিজ্ঞপ্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি যাচাই করে নেবেন।
যোগ্যতার আরেকটি সাধারণ শর্ত হলো নাগরিকত্ব — প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র অবশ্যই স্বীকৃত বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত হতে হবে। বিদেশি ডিগ্রি থাকলে সমতা সনদ (ইকুইভ্যালেন্স সার্টিফিকেট) প্রয়োজন হতে পারে। চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের নিয়ম সরকারি নিয়োগে সাধারণত প্রযোজ্য হয়।
কারা আবেদন করতে পারবেন — জেলা ও প্রার্থীর যোগ্যতা
এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির একটি বড় সুবিধা হলো — বাংলাদেশের সব জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কোনো নির্দিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের জন্য পদ সংরক্ষিত নয়, আবার কোনো জেলার প্রার্থী বাদও নন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ — দেশের যে-কোনো জেলার স্থায়ী বাসিন্দা যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারবেন।
নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদন করতে পারবেন। সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার বিধান সাধারণত প্রযোজ্য থাকে। অনগ্রসর শ্রেণির (যেমন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী) প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সব গ্রেডের জন্য — যা সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ নীতির প্রতিফলন।
একজন প্রার্থী একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন কি না — এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন পদের জন্য আলাদা আলাদা আবেদন ও ফি প্রযোজ্য হয়। তবে একই গ্রেডের একাধিক পদের মধ্যে নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী সবচেয়ে উপযুক্ত একটি পদ বেছে নেওয়াই ভালো, কারণ পরীক্ষার প্রস্তুতি পদভিত্তিক আলাদা হয়।
যারা ইতিমধ্যে অন্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন — তবে নিয়োগ পেলে বর্তমান চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার নিয়ম মেনে চলতে হবে। চাকরিরত অবস্থায় আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান "থ্রু প্রপার চ্যানেল" আবেদনের শর্ত দেয়, তাই সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করে নিন।
অনলাইনে আবেদনের নিয়ম — ধাপে ধাপে নির্দেশনা
icb.org.bd career পোর্টালের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন চলবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া দেওয়া হলো:
প্রথম ধাপ: icb.org.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে iamcl/career সেকশনে প্রবেশ করুন। সেখানে চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তালিকা থেকে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসির বিজ্ঞপ্তি (স্মারক নং ০১.০২.১০৬২) খুঁজে বের করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: পছন্দের পদের বিপরীতে "Apply Online" বা আবেদন বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন ফরমে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন। নাম ও জন্ম তারিখ অবশ্যই এসএসসি সনদপত্র অনুযায়ী লিখুন — ভবিষ্যতে যাচাইয়ের সময় এটিই মানদণ্ড।
তৃতীয় ধাপ: শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিন — প্রতিটি পরীক্ষার নাম, বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, পাসের সাল, প্রাপ্ত বিভাগ/শ্রেণি বা জিপিএ/সিজিপিএ। সিনিয়র অফিসার বা ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট পদের জন্য পেশাদার সনদ (সিএ/সিএমএ/সিএফএ ইত্যাদি) থাকলে তার তথ্যও যুক্ত করুন।
চতুর্থ ধাপ: নির্ধারিত মাপের ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন। ছবি হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) এবং স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ৬০ কেবি)। ছবি যেন সাম্প্রতিক, স্পষ্ট ও রঙিন হয়; স্বাক্ষর সাদা কাগজে কালো কালিতে করে স্ক্যান করুন।
পঞ্চম ধাপ: ফরমের সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন। একবার সাবমিট হয়ে গেলে তথ্য সংশোধনের সুযোগ সাধারণত থাকে না। সব ঠিক থাকলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: সাবমিটের পর Applicant's Copy ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন। এই কপিতে আপনার আবেদনের রেফারেন্স নম্বর থাকবে — পরবর্তী সব যোগাযোগে এটি লাগবে। প্রিন্ট করে নিরাপদে রেখে দিন।
সপ্তম ধাপ: SSLCOMMERZ-এর মাধ্যমে আবেদন ফি পরিশোধ করুন। ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ — আবেদনের শেষ তারিখের চেয়ে ৩ দিন বেশি সময় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফি না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, তাই দেরি না করে দ্রুত পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
আবেদন ফি ও পেমেন্টের নিয়ম
আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পদের গ্রেড অনুযায়ী। গ্রেড ৯ ও ১০-এর পদের জন্য ফি ২০০ টাকা, গ্রেড ১৬-এর পদের জন্য ১০০ টাকা এবং গ্রেড ২০-এর পদের জন্য ৫০ টাকা। অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য সব গ্রেডেই ফি মাত্র ৫০ টাকা — অর্থাৎ একজন অনগ্রসর প্রার্থী সিনিয়র অফিসার পদের জন্যও ২০০ টাকার বদলে ৫০ টাকা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
ফি পরিশোধ করতে হবে SSLCOMMERZ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড কিংবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং — যে-কোনো মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়। পেমেন্ট সফল হলে একটি ট্রানজেকশন আইডি পাবেন — সেটি সংরক্ষণ করে রাখুন।
দুটি তারিখ খুব ভালোভাবে মনে রাখুন: অনলাইন আবেদনের শেষ তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯) এবং ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯)। অর্থাৎ আবেদন সাবমিটের পর ফি দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ৩ দিন সময় আছে। তবে অভিজ্ঞতা বলে, অনেক প্রার্থী আবেদন করে ফি দিতে ভুলে যান — ফলে তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই আবেদনের দিনই ফি পরিশোধ করে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ। পেমেন্টের পর পেমেন্ট কনফার্মেশন মেসেজ বা রসিদের স্ক্রিনশট রেখে দিন।
ছবি ও স্বাক্ষর আপলোডের সঠিক নির্দেশনা
অনলাইন আবেদনে ছবি ও স্বাক্ষরের ভুল স্পেসিফিকেশন একটি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ছবি হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল সাইজের এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ১০০ কেবি। স্বাক্ষর হতে হবে ৩০০×৮০ পিক্সেল সাইজের এবং সর্বোচ্চ ৬০ কেবি।
ছবির জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ: সাম্প্রতিক ৩ মাসের মধ্যে তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি ব্যবহার করুন। ব্যাকগ্রাউন্ড হালকা রঙের (সাদা বা হালকা নীল) হওয়া ভালো। মুখ স্পষ্ট দেখা যেতে হবে — সানগ্লাস, টুপি বা মুখ ঢাকা কোনো কিছু পরা যাবে না। ছবি যেন ঝাপসা বা অতিরিক্ত এডিট করা না হয়। মোবাইলে তোলা ছবি ব্যবহার করলে ভালো আলোতে তুলুন।
স্বাক্ষরের জন্য সাদা কাগজে কালো বলপেন বা সাইন পেনে স্বাক্ষর করে স্ক্যান করুন, অথবা ভালো আলোতে মোবাইলে ছবি তুলুন। স্বাক্ষর যেন কাগজের কিনারা ছুঁয়ে না যায় এবং অতিরিক্ত মোটা বা চিকন না হয়। স্ক্যানের পর ইমেজ এডিটর দিয়ে ৩০০×৮০ পিক্সেলে রিসাইজ করে নিন।
ফাইলের আকার বেশি হলে অনলাইন ইমেজ কম্প্রেসর দিয়ে সহজেই ১০০ কেবি বা ৬০ কেবির নিচে নামিয়ে আনা যায়। তবে খেয়াল রাখবেন — অতিরিক্ত কম্প্রেস করলে ছবি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, যা যাচাইয়ের সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আপলোডের পর প্রিভিউতে ছবি ও স্বাক্ষর ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট
আবেদনের সময় তথ্য পূরণের জন্য এবং পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষার সময় যাচাইয়ের জন্য নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখুন। সরকারি নিয়োগে সাধারণত এই নথিগুলো চাওয়া হয়:
শিক্ষাগত সনদপত্র: এসএসসি/সমমান, এইচএসসি/সমমান, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের মূল সনদপত্র ও নম্বরপত্র। সিনিয়র অফিসার বা ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট পদের প্রার্থীদের এমবিএ/এমবিএম/এমএএফসিএম ডিগ্রির সনদ এবং সিএ/সিএমএ/সিএফএ/এসিসিএ সনদ (যদি থাকে) প্রস্তুত রাখুন। অফিসার পদের জন্য পিজিডিসিএম সনদ থাকলে সেটিও রাখুন।
পরিচয় ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদপত্র (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন থেকে), স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র।
অন্যান্য: সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (অনলাইনে আপলোড করা ছবির সঙ্গে মিল থাকা ভালো), চারিত্রিক সনদপত্র, কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোটা-সংক্রান্ত প্রমাণপত্র (মুক্তিযোদ্ধা সনদ, প্রতিবন্ধী সনদ ইত্যাদি), চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়োগকর্তার অনাপত্তি পত্র।
Applicant's Copy ও পেমেন্ট রসিদ: অনলাইন আবেদনের পর ডাউনলোড করা Applicant's Copy-এর প্রিন্ট এবং SSLCOMMERZ পেমেন্টের ট্রানজেকশন রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করুন। মৌখিক পরীক্ষার সময় এগুলো চাওয়া হতে পারে। সব কাগজপত্রের ফটোকপির পাশাপাশি মূল কপিও হাতের কাছে রাখুন — যাচাইয়ের সময় মূল সনদপত্র দেখাতে হতে পারে।
আবেদনের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
সরকারি চাকরির আবেদনে ছোট একটি ভুলও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। নিচের ভুলগুলো থেকে সাবধান থাকুন:
নামের বানান ভুল: আবেদন ফরমে নিজের নাম, পিতা ও মাতার নাম অবশ্যই এসএসসি সনদপত্র অনুযায়ী হুবহু লিখুন। ডাকনাম বা সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করবেন না। একটি অক্ষরের ভুলও পরবর্তী যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
জন্ম তারিখের গরমিল: জন্ম তারিখ এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে না মিলিয়ে এসএসসি সনদ অনুযায়ী দিন। সরকারি নিয়োগে বয়স যাচাইয়ের মানদণ্ড হলো এসএসসি সনদপত্র।
ভুল পদে আবেদন: নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে না মিলিয়ে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হবে। যেমন — তৃতীয় বিভাগ থাকলে সিনিয়র অফিসার পদে আবেদন করা যাবে না। আবেদনের আগে যোগ্যতার শর্তগুলো আবার পড়ে নিন।
ছবি-স্বাক্ষরের ভুল স্পেসিফিকেশন: নির্ধারিত পিক্সেল ও ফাইল সাইজের বাইরে ছবি আপলোড করলে ফরম সাবমিটই হবে না, অথবা পরবর্তীতে সমস্যা হবে। আপলোডের আগে মাপ যাচাই করে নিন।
ফি না দেওয়া: শুধু ফরম সাবমিট করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয় না — SSLCOMMERZ-এর মাধ্যমে ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত আবেদন অসম্পূর্ণ থাকে। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ফি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
শেষ মুহূর্তে আবেদন: ২৭ অক্টোবর রাত ১১:৫৯-এর ঠিক আগে আবেদন করতে গিয়ে সার্ভার সমস্যা, ইন্টারনেট বিভ্রাট বা পেমেন্ট ব্যর্থতার ঝুঁকি থাকে। কমপক্ষে ৩-৪ দিন আগে আবেদন সম্পন্ন করুন।
ভুল মোবাইল নম্বর বা ইমেইল: পরীক্ষার তারিখ, প্রবেশপত্র ও ফলাফলের নোটিশ এই নম্বর ও ইমেইলেই আসবে। সচল ও নিজের ব্যবহারের নম্বর দিন।
পরীক্ষা পদ্ধতি: লিখিত, অ্যাপটিটিউড ও মৌখিক পরীক্ষা
বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতির বিস্তারিত সিলেবাস দেওয়া না থাকলেও সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্যাটার্ন অনুযায়ী সাধারণত তিন ধাপে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তি ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে — নিচের বর্ণনা সাধারণ সরকারি নিয়োগ প্যাটার্ন হিসেবে দেওয়া হলো।
প্রথম ধাপ — লিখিত পরীক্ষা: গ্রেড-৯ ও ১০-এর পদের জন্য সাধারণত এমসিকিউ ও লিখিত অংশ মিলিয়ে পরীক্ষা হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় (ফিন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, অর্থনীতি, ব্যাংকিং, আইটি) থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। সিনিয়র অফিসার ও ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট পদের জন্য ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রস্তুতি নিন। অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার পদের জন্য প্রোগ্রামিং, ডাটাবেজ, নেটওয়ার্কিং ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-ভিত্তিক প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি।
দ্বিতীয় ধাপ — অ্যাপটিটিউড টেস্ট: বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদের জন্য অ্যাপটিটিউড টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। প্রোগ্রামারদের জন্য এটি হতে পারে হাতে-কলমে কোডিং বা টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান, আর ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের জন্য নির্ধারিত গতিতে (বাংলা ২০ ও ইংরেজি ২৫ শব্দ/মিনিট) টাইপিং পরীক্ষা। এই ধাপে ফেল করলে পরের ধাপে যাওয়া যাবে না, তাই ব্যবহারিক দক্ষতার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করুন।
তৃতীয় ধাপ — মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা): লিখিত ও অ্যাপটিটিউডে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এখানে শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড, পদ-সংশ্লিষ্ট জ্ঞান, প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা এবং সাধারণ বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা হয়। আইসিবি, পুঁজিবাজার ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে মৌলিক ধারণা নিয়ে যান — ইন্টারভিউ বোর্ডে এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক।
মৌখিক পরীক্ষার সময় সব মূল সনদপত্র, Applicant's Copy ও পেমেন্ট রসিদ সঙ্গে নিতে হবে। প্রতিটি ধাপের তারিখ ও প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে icb.org.bd/iamcl/career-এ প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হয় — নিয়মিত ওয়েবসাইট চেক করুন এবং আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল রাখুন।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য
আবেদন-সংক্রান্ত সব গুরুত্বপূর্ণ তারিখ এক জায়গায়:
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (দৈনিক ইত্তেফাক)
অনলাইন আবেদন শুরু: ১ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন আবেদনের শেষ তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৯ মিনিট
ফি জমাদানের শেষ তারিখ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৯ মিনিট
বয়স গণনার তারিখ: ১ অক্টোবর ২০২৬ (সর্বোচ্চ ৩২ বছর)
প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা: আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি, প্রধান কার্যালয় — Green City Edge (৫ম ও ৯ম তলা), ৮৯ কাকরাইল, ঢাকা-১০০০। ফোন: ৮৩০০৪০২। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: icbamcl.gov.bd। অনলাইন আবেদনের ঠিকানা: icb.org.bd/iamcl/career।
কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরাসরি অফিসে ফোন করে বা ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ড থেকে বিজ্ঞপ্তির মূল কপি (স্মারক নং ০১.০২.১০৬২) ডাউনলোড করে যাচাই করে নিন। তৃতীয় পক্ষের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সবসময় অফিসিয়াল উৎসকেই প্রাধান্য দিন।
আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ ২০২৬: সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ মোট কতটি পদ আছে?
মোট ১৯টি পদে ৭টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ দেওয়া হবে — সিনিয়র অফিসার ৫টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট ২টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার ৪টি, অফিসার ২টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) ৪টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশিয়ার) ১টি এবং অফিস সহায়ক ১টি।
২. icb asset management job circular 2026-এর আবেদন কবে থেকে কবে পর্যন্ত?
অনলাইন আবেদন শুরু ১ অক্টোবর ২০২৬ এবং শেষ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ মিনিটে। আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ মিনিট।
৩. আবেদন কীভাবে করবো?
সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করতে হবে — ঠিকানা icb.org.bd/iamcl/career। ফরম পূরণ করে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করে সাবমিট করুন, তারপর SSLCOMMERZ-এর মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন এবং Applicant's Copy ডাউনলোড করে রাখুন।
৪. সিনিয়র অফিসার পদের যোগ্যতা কী?
অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, আইন, এমআইএস, ইংরেজি, এফআরএম, গণিত, এইচআরএম বা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে স্নাতকোত্তর অথবা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান), শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে ২টি প্রথম বিভাগ; কোনো স্তরে ৩য় বিভাগ থাকা যাবে না। এমবিএ/এমবিএম/এমএএফসিএম ডিগ্রিধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
৫. বয়সসীমা কত?
১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে।
৬. সব জেলার প্রার্থী কি আবেদন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, বাংলাদেশের সব জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কোনো জেলাভিত্তিক সীমাবদ্ধতা নেই।
৭. আবেদন ফি কত?
গ্রেড ৯–১০-এর পদের জন্য ২০০ টাকা, গ্রেড ১৬-এর জন্য ১০০ টাকা, গ্রেড ২০-এর জন্য ৫০ টাকা। অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য সব গ্রেডে ৫০ টাকা।
৮. ফি কীভাবে পরিশোধ করবো?
SSLCOMMERZ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে — বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে পেমেন্ট করা যাবে।
৯. ছবি ও স্বাক্ষরের মাপ কত হতে হবে?
ছবি ৩০০×৩০০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) এবং স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ৬০ কেবি)।
১০. ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদের টাইপিং গতির শর্ত কী?
বাংলায় প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২৫ শব্দ টাইপিং গতি থাকতে হবে, সঙ্গে অ্যাপটিটিউড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।
১১. অফিস সহায়ক পদে কারা আবেদন করতে পারবেন?
শুধু এসএসসি বা সমমান পাস থাকলেই এই পদের জন্য আবেদন করা যাবে। বেতন স্কেল ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।
১২. বেতন কাঠামো কেমন?
কোম্পানির বেতন কাঠামো ২০১৬ অনুযায়ী — গ্রেড-৯: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা; গ্রেড-১০: ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা; গ্রেড-১৬: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা; গ্রেড-২০: ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা। ভাতাসহ মাসিক মোট আয় আনুমানিক ১৩,০০০–৩৫,০০০ টাকা।
১৩. পরীক্ষা পদ্ধতি কী হবে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চূড়ান্ত পদ্ধতি কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। তবে সাধারণ সরকারি নিয়োগ প্যাটার্ন হিসেবে লিখিত পরীক্ষা, অ্যাপটিটিউড টেস্ট (প্রোগ্রামার ও ডাটা এন্ট্রি পদের জন্য বাধ্যতামূলক) এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৪. একাধিক পদে আবেদন করা যাবে কি?
বিজ্ঞপ্তির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করে দেখুন। সাধারণত ভিন্ন পদের জন্য আলাদা আবেদন ও ফি প্রযোজ্য হয়। নিজের যোগ্যতার সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই পদটি বেছে নেওয়াই ভালো।
১৫. Applicant's Copy হারিয়ে গেলে কী করবো?
আবেদনের পরপরই Applicant's Copy ডাউনলোড করে প্রিন্ট ও ডিজিটাল কপি — দুটোই সংরক্ষণ করুন। এতে থাকা রেফারেন্স নম্বর পরবর্তী সব ধাপে লাগবে। সমস্যা হলে icb.org.bd/iamcl/career পোর্টাল বা অফিসের ফোন নম্বর ৮৩০০৪০২-এ যোগাযোগ করুন।
১৬. কর্তৃপক্ষ কি পদের সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারে?
হ্যাঁ, বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা আছে — কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পদের সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারে, এমনকি বিজ্ঞপ্তি বাতিলও করতে পারে।
সরকারি চাকরি ২০২৬-এর এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। আইসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ ১৯টি পদের মধ্যে আপনার যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক পদ বেছে নিন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করুন এবং এখন থেকেই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন। icb job circular 2026-সংক্রান্ত নতুন কোনো আপডেট — যেমন প্রবেশপত্র প্রকাশ বা পরীক্ষার তারিখ — জানা মাত্র এই পোস্টে যোগ করা হবে। শুভকামনা রইল!
৮
৮ মন্তব্য