সহকারী অধ্যাপক
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
সূরা আল-মাসাদ: অহংকার ও সত্যবিরোধিতার পরিণতি - মোঃ মুজিবুর রহমান
সূরা আল-মাসাদ: অহংকার ও সত্যবিরোধিতার পরিণতি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহ তাআলার নাজিল করা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এতে মানুষের ঈমান, ইবাদত, চরিত্র, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন, ন্যায়নীতি এবং আখিরাতের সফলতার পথ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কুরআনের প্রতিটি সূরায় মানুষের জন্য রয়েছে গভীর শিক্ষা, সতর্কবার্তা ও কল্যাণের দিকনির্দেশনা। ছোট সূরাগুলোর মধ্যেও এমন ব্যাপক শিক্ষা রয়েছে, যা মানুষের ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনকে সত্য, ন্যায় ও তাকওয়ার পথে পরিচালিত করতে পারে।
সূরা আল-মাসাদ পবিত্র কুরআনের ১১১ নম্বর সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা পাঁচ। সূরাটির অপর নাম সূরা আল-লাহাব। ‘মাসাদ’ অর্থ পাকানো দড়ি বা খেজুরগাছের আঁশের দড়ি। এই সূরায় আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর সত্যবিরোধিতা, অহংকার, বিদ্বেষ ও ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের পরিণতি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে এই সূরা আমাদের শিক্ষা দেয়—বংশ, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পার্থিব ক্ষমতা মানুষকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না; বরং ঈমান ও সৎকর্মই মানুষের প্রকৃত সফলতার ভিত্তি।
সত্যের বিরোধিতার পরিণতি
সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।”
এখানে শুধু একটি ব্যক্তির পরিণতির কথা বলা হয়নি; এর মাধ্যমে সত্য ও হকের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের ভয়াবহ পরিণতির প্রতি সতর্ক করা হয়েছে। মানুষ যখন জেনে-বুঝে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, অহংকারের কারণে হকের বিরোধিতা করে এবং অন্যদেরও সত্যের পথ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে, তখন সে নিজের জন্য ধ্বংসের পথ তৈরি করে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছিলেন। তিনি মানুষকে শিরক, কুসংস্কার, জুলুম, অন্যায় ও নৈতিক অধঃপতন থেকে ফিরে এসে তাওহিদ, তাকওয়া ও সৎকর্মের পথে চলার আহ্বান জানান। কিন্তু আবু লাহাব আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এই সত্যের বিরোধিতা করেছিল। তার বিরোধিতা ছিল প্রকাশ্য ও কঠোর। এই সূরা তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্যের মূল্য আত্মীয়তা, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
সম্পদ মানুষের প্রকৃত নিরাপত্তা নয়
সূরার দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে—
“তার ধন-সম্পদ এবং যা সে উপার্জন করেছে, তা তার কোনো কাজে আসেনি।”
মানুষ দুনিয়ায় সম্পদ অর্জনের জন্য পরিশ্রম করে। সম্পদ জীবনের প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সম্পদ মানুষের চূড়ান্ত নিরাপত্তা বা মুক্তির নিশ্চয়তা নয়। মানুষ যত সম্পদই অর্জন করুক, মৃত্যুর মুহূর্তে তার সবকিছু দুনিয়াতেই পড়ে থাকবে। কবরের জীবনে সম্পদ তার সঙ্গে যাবে না। আখিরাতেও সম্পদ নিজে থেকে কাউকে মুক্তি দিতে পারবে না।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫)
তাই সম্পদ অর্জন করা দোষের নয়; দোষ হলো সম্পদের মোহে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া, অন্যের অধিকার নষ্ট করা, অহংকার করা এবং হারাম পথে সম্পদ অর্জন করা। একজন মুমিন সম্পদকে উদ্দেশ্য নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে বিবেচনা করে। সে নিজের প্রয়োজন পূরণ করে, পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব পালন করে, অসহায়দের সাহায্য করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সম্পদ ব্যয় করে।
অহংকারের ভয়াবহতা
আবু লাহাবের ঘটনায় অহংকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। মানুষ যখন নিজের বংশ, সম্পদ, ক্ষমতা, জ্ঞান বা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে অহংকার করে, তখন তার অন্তর সত্য গ্রহণ থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
অহংকার মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে সে অন্যকে তুচ্ছ মনে করে এবং নিজের ভুল স্বীকার করতে চায় না। অথচ আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মানদণ্ড হলো তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।”
—সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩
অতএব, মানুষের পরিচয় শুধু তার অর্থ, পদবি বা বংশ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তার প্রকৃত মর্যাদা নির্ভর করে ঈমান, তাকওয়া, চরিত্র ও সৎকর্মের ওপর।
সত্যের বিরুদ্ধে সহযোগিতাও অপরাধের কারণ
সূরার চতুর্থ আয়াতে আবু লাহাবের স্ত্রীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে—
“এবং তার স্ত্রীও—যে লাকড়ি বহনকারী।”
কুরআনের এই বর্ণনায় তার সত্যবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। তাফসিরের আলোচনায় তার রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিরোধিতা ও মানুষের মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়ার বিভিন্ন ঘটনার কথা পাওয়া যায়।
এখানে আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—শুধু নিজে অন্যায় করা নয়, অন্যায় কাজে সহযোগিতা করাও ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে তোমরা একে অন্যকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো না।”
—সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:২
তাই পরিবার, বন্ধু, কর্মক্ষেত্র কিংবা সমাজ—কোনো ক্ষেত্রেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। সত্যের পক্ষে থাকা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
জিহ্বার অপব্যবহার থেকে সতর্কতা
মানুষের জিহ্বা ছোট হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। একটি সুন্দর কথা মানুষের হৃদয়ে আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে; আবার একটি মিথ্যা, অপবাদ, কটূক্তি বা বিদ্বেষপূর্ণ কথা পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ইসলাম তাই কথাবার্তায় সতর্ক হতে শিক্ষা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।”
—সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৭০
সূরা আল-মাসাদের শিক্ষা থেকে আমরা বুঝতে পারি, মানুষের আচরণ শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা অন্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই মুমিনের জিহ্বা হবে সত্য, কল্যাণ ও শান্তির বাহন।
আখিরাতের শাস্তির বাস্তবতা
সূরার তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে—
“শীঘ্রই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে।”
এ আয়াত আখিরাতের শাস্তির বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলামী আকিদা অনুযায়ী জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য। কিয়ামতের দিন মানুষ তার ঈমান ও আমলের হিসাবের সম্মুখীন হবে।
দুনিয়ার আদালত থেকে কেউ কখনো অপরাধ গোপন করতে পারে, মানুষের চোখকে ফাঁকি দিতে পারে; কিন্তু আল্লাহর বিচার থেকে কেউ পালাতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছু জানেন।
এই বিশ্বাস মানুষের জীবনে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। যে ব্যক্তি জানে যে একদিন তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, সে অন্যায় করার আগে চিন্তা করবে, মানুষের অধিকার নষ্ট করার আগে ভয় করবে এবং গোপনেও আল্লাহকে স্মরণ করবে।
মৃত্যু ও হিসাবের প্রস্তুতি
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। এখানে মানুষ যত দীর্ঘ জীবনই লাভ করুক, একদিন তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। মৃত্যু কোনো বংশ, সম্পদ, পদমর্যাদা বা ক্ষমতার পার্থক্য করে না।
তাই একজন বুদ্ধিমান মানুষ শুধু দুনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করবে না; আখিরাতের ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুতি নেবে। নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ, তাওবা, ইস্তিগফার, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, পিতা-মাতার হক আদায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, মানুষের প্রতি দয়া এবং অন্যের অধিকার সংরক্ষণ—এসবই আখিরাতের প্রস্তুতির অংশ।
বংশ নয়, ঈমান ও আমলই প্রকৃত পরিচয়
সূরা আল-মাসাদের একটি গভীর শিক্ষা হলো—রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও আবু লাহাব তার ঈমানহীনতার কারণে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পায়নি। এতে স্পষ্ট হয়, শুধু কোনো নেককার মানুষের আত্মীয় হওয়া মুক্তির নিশ্চয়তা নয়।
ইসলামে প্রত্যেক মানুষ তার নিজের ঈমান ও আমলের জন্য দায়িত্বশীল। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে—
“মানুষের জন্য তা-ই রয়েছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।”
—সূরা আন-নাজম, ৫৩:৩৯
তাই আমাদের উচিত অন্যের পরিচয় বা মর্যাদার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ঈমান ও আমল সংশোধন করা।
দুনিয়ার সফলতা ও আখিরাতের সফলতা
আজকের পৃথিবীতে মানুষ সফলতা বলতে অনেক সময় অর্থ, বাড়ি, গাড়ি, পদমর্যাদা, জনপ্রিয়তা কিংবা সামাজিক প্রভাবকে বোঝে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ হতে পারে; এগুলোই চূড়ান্ত সফলতার মাপকাঠি নয়।
আসল সফলতা হলো—আল্লাহর প্রতি ঈমান রেখে তাঁর আনুগত্যের জীবনযাপন করা এবং আখিরাতে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সে-ই সফল।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫
অতএব, দুনিয়ার সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করাই মুমিনের সঠিক জীবনদর্শন।
সূরা আল-মাসাদ থেকে আমাদের করণীয়
সূরা আল-মাসাদ আমাদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরে—
প্রথমত, সত্যের বিরোধিতা করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাওহিদকে জীবনের ভিত্তি করতে হবে।
তৃতীয়ত, সম্পদ ও ক্ষমতার অহংকার পরিহার করতে হবে।
চতুর্থত, সম্পদকে আল্লাহর নিয়ামত ও আমানত হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
পঞ্চমত, অন্যায় কাজে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না।
ষষ্ঠত, জিহ্বাকে মিথ্যা, অপবাদ, গীবত ও কটূক্তি থেকে সংযত রাখতে হবে।
সপ্তমত, পরিবার ও সমাজে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
অষ্টমত, মৃত্যুর কথা স্মরণ করে আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে হবে।
নবমত, নিজের বংশ, পদ বা সম্পদ নিয়ে অহংকার না করে তাকওয়া অর্জন করতে হবে।
দশমত, ভুল হলে দ্রুত তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে।
সমকালীন জীবনে সূরা আল-মাসাদের শিক্ষা
বর্তমান সমাজে সূরা আল-মাসাদের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ মানুষ অর্থ, ক্ষমতা, পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদার পেছনে ছুটছে। কেউ কেউ নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য সত্যকে আড়াল করে, অন্যের ক্ষতি করে কিংবা অন্যায়কে সমর্থন করে। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, অপবাদ, মিথ্যা তথ্য ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে।
এসব পরিস্থিতিতে সূরা আল-মাসাদ আমাদের আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। আমরা যেন অন্যের ভুল খোঁজার আগে নিজেদের ঈমান, চরিত্র ও আমল পর্যালোচনা করি। আমাদের সম্পদ যেন অহংকারের কারণ না হয়; আমাদের জ্ঞান যেন বিনয়ের কারণ হয়; আমাদের ক্ষমতা যেন মানুষের উপকারে ব্যবহৃত হয়; আর আমাদের কথা যেন সত্য ও কল্যাণের বাহন হয়।
একজন মুসলিমের শক্তি অন্যকে দমন করার মধ্যে নয়; বরং ন্যায় প্রতিষ্ঠা, সত্য বলা, অন্যায়ের বিরোধিতা এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার মধ্যে।
উপসংহার
সূরা আল-মাসাদ ছোট হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। এই সূরা আমাদের সতর্ক করে দেয়—সত্যের বিরোধিতা, অহংকার, বিদ্বেষ, অন্যায় প্রচেষ্টা এবং সম্পদের ওপর অহংকার মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। দুনিয়ার কোনো সম্পদ, ক্ষমতা, বংশমর্যাদা বা সামাজিক পরিচয় আখিরাতের জবাবদিহি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে না।
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর প্রতি বিশুদ্ধ ঈমান রাখা, শিরক ও সব ধরনের বাতিল বিশ্বাস থেকে দূরে থাকা, ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা, অহংকার পরিহার করা এবং আখিরাতের জন্য নেক আমল সঞ্চয় করা।
সূরা আল-মাসাদের শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে এই উপলব্ধি জাগিয়ে তুলুক—দুনিয়ার জৌলুশ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ঈমান ও সৎকর্মের ফল চিরস্থায়ী। সম্পদ নয়, পদ নয়, বংশ নয়; আল্লাহর সন্তুষ্টিই মুমিনের প্রকৃত লক্ষ্য।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে অহংকার, বিদ্বেষ, হিংসা ও সত্যবিরোধিতা থেকে পবিত্র করুন। আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করুন, সৎকর্মের তাওফিক দিন, মানুষের হক আদায় করার শক্তি দিন এবং আখিরাতের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমাদের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় পরিচালিত করুন এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
১
২ মন্তব্য