সহকারী শিক্ষক
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
মেসি কি বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবেন? আর্জেন্টিনা স্কোয়াড ২০২৬ | Messi Argentina Squad
👉Messi Argentina Squad 2026 Todays Live Match
👉মেসি আর্জেন্টিনা স্কোয়াড আজকের লাইভ খেলা দেখুন
👉এক ক্লিকে মেসি আর্জেন্টিনা স্কোয়াড ম্যাচ লাইভ দেখুন
মেসি কি বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবেন? আর্জেন্টিনা স্কোয়াড ২০২৬ | Messi Argentina Squad
আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকদের জন্য অক্টোবর মাসটা একদিকে আনন্দের, আরেকদিকে আবেগের। আনন্দের কারণ, লিওনেল মেসি অবসরের ঘোষণা দিলেও জাতীয় দলের স্কোয়াডে ফিরেছেন। আবেগের কারণ, এই ফিরে আসা আসলে চিরদিনের জন্য বিদায়ের আগের শেষ প্রস্তুতি। তিনটি হোম ফ্রেন্ডলির মধ্যে দুটো ইতিমধ্যে ইতিহাস — ৩০ সেপ্টেম্বর বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের দাপুটে জয়। এখন সামনে বুরকিনা ফাসো, তারপর ৬ অক্টোবর বেনিন — যেটাকে ঘিরে চলছে মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রস্তুতি।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা এখন সবার মুখে: মেসির খেলা কি কাল, অর্থাৎ বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে দেখা যাবে? নাকি তাকে দেখতে অপেক্ষা করতে হবে বেনিন ম্যাচ পর্যন্ত? এই পোস্টে আমরা সাম্প্রতিক সব রিপোর্ট ঘেঁটে জবাব খুঁজেছি, আর্জেন্টিনা স্কোয়াড ২০২৬-এর পূর্ণ তালিকা তুলে ধরেছি, এবং ব্যাখ্যা করেছি স্কালোনি কেন এই দুটি ফ্রেন্ডলিকে ব্যবহার করছেন ভবিষ্যতের দল গড়ার পরীক্ষাগার হিসেবে।
মেসি কি বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবেন? সর্বশেষ রিপোর্ট
সোজা উত্তরটা আগে দিয়ে দিই, তারপর বিস্তারিত: বর্তমান রিপোর্টগুলো বলছে, মেসি বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে একাদশে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বেঞ্চে বসে থাকার, এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে কিছু মিনিট খেলার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কেন এই অনিশ্চয়তা? কারণ দুই ধরনের রিপোর্ট বাজারে ঘুরছে। একদিকে খেল নাও-এর ম্যাচ প্রিভিউতে বলা হয়েছে, মেসি স্কোয়াডে যোগ দেবেন এই ম্যাচের আগেই এবং প্রয়োজনে বদলি হিসেবে মাঠে নামতে পারেন। অর্থাৎ একাদশে নয়, কিন্তু ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে মোনুমেন্টালের গ্যালারি তাকে মাঠে দেখার সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে ফ্রিটিপসের টিম নিউজেও একই ইঙ্গিত — মেসি বেঞ্চ থেকে শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কিন্তু তৃতীয় একটি রিপোর্ট, যা প্রকাশিত হয়েছে ম্যাচের মাত্র দুদিন আগে, দিচ্ছে একেবারে ভিন্ন বার্তা। সেভেনএম স্পোর্টের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেসিকে বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসো — দুটি ম্যাচেই খেলানো হবে না। তাকে সম্পূর্ণ ফ্রেশ রাখা হবে ৬ অক্টোবরের বেনিন ম্যাচের জন্য, যেন বিদায়ী ম্যাচে তার প্রতিটি মুহূর্ত সর্বোচ্চ মনোযোগ পায়।
এই দুই ধরনের খবরের মধ্যে কোনটা ঠিক? সত্যি বলতে, ম্যাচ শুরুর আগে একাদশ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে একটা বিষয়ে প্রায় সব সূত্র একমত — মেসি যদি এই ম্যাচে খেলেনও, সেটা হবে সংক্ষিপ্ত একটি ক্যামিও, পূর্ণ ৯০ মিনিট কখনোই নয়। স্কালোনি এমনিতেই এই ফ্রেন্ডলিগুলোকে দেখছেন রোটেশনের সুযোগ হিসেবে, আর ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে অযথা ঝুঁকিতে ফেলার কোনো কারণ তার নেই।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ: মেসি, রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসো — এই তিন সিনিয়রকে স্কোয়াডে রাখা হলেও AFA-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী তারা দলে যোগ দেবেন মূলত ৬ অক্টোবরের শেষ ফ্রেন্ডলিকে কেন্দ্র করে। কার্লোবাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, AFA-এর টিকিট ও সূচি সংক্রান্ত ঘোষণায় এই তিনজনের নাম বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে শেষ ম্যাচের সঙ্গে। ফিফাও বেনিন ম্যাচকেই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তাই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা দাঁড়াচ্ছে এরকম: বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে মেসিকে একাদশে দেখার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বেঞ্চে থাকলেও সেটা হবে মূলত দলের সঙ্গে থাকার, সমর্থকদের সামনে উপস্থিত থাকার ব্যাপার। আর যদি স্কালোনি গ্যালারির আবেগকে সম্মান জানিয়ে শেষ ১৫-২০ মিনিটে তাকে নামান, সেটা হবে বোনাস — কিন্তু সেটার ওপর বাজি ধরার মতো নিশ্চয়তা কোনো রিপোর্টেই নেই।
মেসির খেলা নিয়ে কেন এত হিসাব-নিকাশ?
প্রশ্ন উঠতে পারে — ফ্রেন্ডলি ম্যাচই তো, মেসিকে একটু খেলিয়ে দিলে ক্ষতি কী? উত্তরটা লুকিয়ে আছে অক্টোবর উইন্ডোর সামগ্রিক পরিকল্পনায়। এই তিন ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য দুটো: এক, মেসিকে ঘরের মাঠে যথাযথ বিদায় জানানো; দুই, ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্রের জন্য নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখ তৈরি করা।
স্কালোনি জানেন, মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন দেখাবে সেটা এখনই পরীক্ষা করে দেখা দরকার। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ জয়ের ম্যাচে মেসি ছিলেন না, আর সেই ম্যাচে দল দেখিয়েছে তারা মেসি ছাড়াও গোল করতে পারে, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো পাজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ — গোল এসেছে চারজনের পা থেকে। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষেও স্কালোনি সম্ভবত একই পথে হাঁটবেন: তরুণদের মিনিট দেওয়া, নতুন কম্বিনেশন পরীক্ষা করা।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ: ৬ অক্টোবর বনাম বেনিন
এবার আসি সেই ম্যাচে, যেটাকে ঘিরে আসল আবেগ। ৬ অক্টোবর ২০২৬, এস্তাদিও মোনুমেন্টাল, বুয়েনস আইরেস — প্রতিপক্ষ বেনিন। AFA-এর সূচি অনুযায়ী এটাই অক্টোবর উইন্ডোর শেষ ফ্রেন্ডলি, এবং একাধিক নির্ভরযোগ্য রিপোর্টে এটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে।
দ্য নিউজ মিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি সেপ্টেম্বরের শুরুতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তারপরই AFA ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তিনটি হোম ফ্রেন্ডলির সূচি ঘোষণা করে, যাতে ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ঘরের মাটিতে সমর্থকদের কাছ থেকে বিদায় নিতে পারেন।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দিকে একবার তাকানো যাক। ২০০৫ সালে সিনিয়র অভিষেকের পর তিনি হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না — ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হার। কিন্তু তারপর এলো সোনালি যুগ: ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটানো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোল করে শিরোপা জয়, এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় শিরোপা ধরে রাখা। ছয়টি বিশ্বকাপে (২০০৬ থেকে ২০২৬) খেলে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তার অবদান ছিল আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট, যার মধ্যে ছিল আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।
বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে AFA-এর পরিকল্পনাও চোখে পড়ার মতো। সেভেনএম স্পোর্ট জানাচ্ছে, এই ফ্রেন্ডলিগুলোতে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড তালিকায় ১০ নম্বর জার্সি রাখা হচ্ছে না — মেসির সম্মানে তার আইকনিক নম্বরটি তুলে রাখা হয়েছে। ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ফিফার কঠোর নম্বর-বিধি প্রযোজ্য না হওয়ায় AFA এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে পারছে। AFA সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ২০২৪ সালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মেসির জাতীয় দলের দিন শেষ হলে তার সম্মানে ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানো উচিত।
আর নেতৃত্বের প্রশ্নে? একই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোচ স্কালোনি ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন — মেসির পর আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব পাবেন ক্রিস্টিয়ান "কুতি" রোমেরো। ২৮ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক এখন দলের রক্ষণের প্রাণ, এবং ড্রেসিংরুমে তার গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নাতীত। বিদায়ী ম্যাচের আবহে এই ঘোষণা আসলে বার্তা দিচ্ছে: এক যুগ শেষ হচ্ছে, আরেক যুগের ভিত্তি ইতিমধ্যে তৈরি।
একটা বিষয় পরিষ্কার করে রাখি: মেসির ক্লাব ক্যারিয়ার কিন্তু চলতেই থাকবে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবসর শুধু আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে — ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন। তাই মোনুমেন্টালের বিদায় মানে ফুটবল থেকে বিদায় নয়, শুধু আকাশি-সাদা জার্সি থেকে বিদায়।
আর্জেন্টিনা স্কোয়াড ২০২৬: অক্টোবর উইন্ডোর পূর্ণ তালিকা
এবার মূল আকর্ষণ — এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি কাদের ডেকেছেন। নিচের তালিকাটি ওয়ার্ল্ড সকার টকের প্রকাশিত ৩৭ সদস্যের স্কোয়াড থেকে নেওয়া, পজিশন অনুযায়ী সাজানো। মনে রাখবেন, ফ্রেন্ডলি উইন্ডোতে চোট বা শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন হতে পারে — তাই ম্যাচের দিনের একাদশের সঙ্গে এই তালিকা মিলিয়ে দেখুন।
গোলরক্ষক
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবার চেলসির গোলরক্ষক হিসেবে স্কোয়াডে — ক্লাব বদলালেও জাতীয় দলে তার জায়গা অটুট। তার সঙ্গে আছেন হুয়ান মুসো (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ), হেরোনিমো রুলি (ম্যানচেস্টার সিটি) এবং তরুণ সান্তিয়াগো বেলত্রান (রিভার প্লেত)। চার গোলরক্ষকের এই তালিকা বলে দিচ্ছে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্কালোনি এখন থেকেই পরের প্রজন্মকে দলের আবহে রাখছেন।
ডিফেন্ডার
রক্ষণে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ) ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) — সেন্টার-ব্যাক জুটির মূল ভরসা। তাদের সঙ্গে আছেন লিওনার্দো বালের্দি (রোমা), ফাকুন্দো মেদিনা (বায়ার লেভারকুজেন), হুয়ান ফয়েথ (ভিয়ারিয়াল) এবং নিকোলাস ওতামেন্দি (রিভার প্লেত) — যিনি মেসির মতোই বিদায়ের পথে, বেনিন ম্যাচে তারও শেষ দেখা মিলতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে।
ফুল-ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো (লিওঁ) অভিজ্ঞ নাম, আর তরুণদের মধ্যে আছেন আগুস্তিন গিয়াই (পালমেইরাস), রোমান ভেগা (জেনিত), সান্তিয়াগো সিমোন (তোলুকা), ভালেন্তিন গোমেজ (রিয়াল বেতিস) ও তোমাস পালাসিওস (এস্তুদিয়ান্তেস)। তালিয়াফিকো চোটের কারণে বুরকিনা ফাসো ম্যাচে অনিশ্চিত বলে ফ্রিটিপসের টিম নিউজে উল্লেখ করা হয়েছে — সেক্ষেত্রে বাঁ-প্রান্তে তরুণ কারো সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
মিডফিল্ডার
মাঝমাঠেই স্কোয়াডের সবচেয়ে বেশি গভীরতা। এনজো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এক্সেকিয়েল পালাসিওস (ইপসউইচ টাউন) — এরা এখন দলের ইঞ্জিনরুমের নিয়মিত মুখ। রদ্রিগো ডি পল (ইন্টার মায়ামি) ও জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস) মূলত বেনিন ম্যাচের জন্য আসছেন বলে জানা গেছে, যদিও লো সেলসো চোট-সংশয়েও আছেন একটি রিপোর্টে।
তরুণ প্রতিভাদের তালিকাটা আরও চমকপ্রদ: নিকো পাজ (কোমো) — বলিভিয়ার বিপক্ষে গোল করে ইতিমধ্যে নিজের দাবি জানান দিয়েছেন; ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো (ফিওরেন্তিনা, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে); মাতিয়াস সুলে (রোমা); জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ); ভালেন্তিন বার্কো (চেলসি); তিয়াগো আলমাদা (রিভার প্লেত); একি ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুজেন); তোবিয়াস আন্দ্রাদা (রিভার প্লেত)। এই নামগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, স্কালোনি ২০৩০-এর দল গড়ার কাজটা এই ফ্রেন্ডলি থেকেই শুরু করে দিয়েছেন।
ফরোয়ার্ড
আক্রমণভাগে মেসির নাম থাকলেও বাস্তবে এই উইন্ডোর গোলের দায়িত্ব লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার) ও হুলিয়ান আলভারেজের (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ) কাঁধে। বলিভিয়া ম্যাচে দুজনেই ছিলেন, লাউতারো গোলও পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে আছেন হোসে ম্যানুয়েল "ফ্লাকো" লোপেজ (পালমেইরাস) — বলিভিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে গোল করে নজর কেড়েছেন; সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (রোমা); নিকোলাস গঞ্জালেজ (ইউভেন্তুস); জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা); এবং বোকা জুনিয়র্সের তরুণ লিওনেল ফ্লোরেস।
একটা লক্ষণীয় বিষয়: লিয়ান্দ্রো পারেদেস এই স্কোয়াডে নেই — সাসপেনশন/অনুপস্থিতির কারণে, যেমনটা ইয়ার্ডবার্কারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার জায়গায় মাঝমাঠের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে এনজো-ম্যাক অ্যালিস্টারদের।
নজরে রাখুন: আর্জেন্টিনার তরুণ তারকারা
এই ফ্রেন্ডলি উইন্ডোর আসল লাভটা হতে পারে তরুণদের জন্য। মেসি-পরবর্তী যুগে কারা দলের মুখ হবেন, তার একটা ঝলক এই দুই ম্যাচে দেখা যেতে পারে। স্কোয়াডে থাকা চার তরুণকে নিয়ে আলাদা করে বলা যাক।
ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো: রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে ফিওরেন্তিনায় খেলা এই ১৯ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের "নম্বর ১০" হিসেবে দেখা হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। মেসির বিদায়ের পর সৃজনশীলতার যে শূন্যতা তৈরি হবে, সেটা পূরণের দৌড়ে তিনি সবার আগে। বুরকিনা ফাসোর মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফ্রেন্ডলিতে তাকে প্রথম একাদশে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
নিকো পাজ: কোমোর এই মিডফিল্ডার ইতিমধ্যে প্রমাণ দিয়ে ফেলেছেন। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ জয়ের ম্যাচে তিনি গোল করেছেন, আর তার খেলায় ছিল পরিণত ফুটবলারের ছাপ। মাঝমাঠে বল ধরে রাখা, সঠিক সময়ে ফরোয়ার্ড পাস — এই বয়সে এমন পরিণতিবোধ বিরল। বুরকিনা ফাসো ম্যাচে তিনি আবার একাদশে থাকলে সেটা হবে স্কালোনির আস্থার স্পষ্ট সংকেত।
মাতিয়াস সুলে: রোমার এই উইঙ্গারের বাঁ পা যেকোনো রক্ষণকে ভোগাতে পারে। ড্রিবলিং আর কাট-ইনসাইড থেকে শট — আধুনিক উইঙ্গারের সব গুণই তার মধ্যে আছে। খেল নাও-এর সম্ভাব্য একাদশে তাকে মাঝমাঠের ডানদিকে রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় স্কালোনি তাকে পরীক্ষা করতে চান।
জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি: বেনফিকার এই তরুণ ফরোয়ার্ড এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায়। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে কিছু মিনিট পেলে সেটা তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। স্কালোনি ফ্রেন্ডলিতে এমন অখ্যাত মুখদের সুযোগ দিতে কখনোই কুণ্ঠিত হন না — এটাই তার দল গড়ার ধরন।
স্কালোনির পরিকল্পনা: রোটেশন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা
লিওনেল স্কালোনির কোচিং-দর্শনটা এই উইন্ডোতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। তিনি ফ্রেন্ডলিকে কখনোই "শুধুই ফ্রেন্ডলি" হিসেবে দেখেন না — প্রতিটি ম্যাচ তার কাছে একটা ল্যাবরেটরি।
প্রথম পরীক্ষা: মেসি ছাড়া আক্রমণ। বলিভিয়া ম্যাচে সেটা সফল হয়েছে — চার গোল, চারজন ভিন্ন স্কোরার। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে সম্ভবত আরও বেশি রোটেশন দেখা যাবে। ফ্রিটিপসের সম্ভাব্য একাদশে ভ্যালেন্তিন কার্বোনির মতো তরুণের নাম আছে শুরুর একাদশে, যা বলে দিচ্ছে স্কালোনি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
দ্বিতীয় পরীক্ষা: রক্ষণের নতুন জুটি। ওতামেন্দির বিদায় আসন্ন, তালিয়াফিকো চোটে — এই অবস্থায় বালের্দি-মেদিনাদের মতো তরুণ সেন্টার-ব্যাকদের বড় ম্যাচের চাপে দেখে নেওয়ার এটাই সেরা সময়। রোমেরো-লিসান্দ্রোর পাশাপাশি তৃতীয়-চতুর্থ পছন্দ কারা হবেন, সেটা এই দুই ম্যাচেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তৃতীয় পরীক্ষা: নেতৃত্বের হস্তান্তর। মেসির পর অধিনায়কত্ব কুতি রোমেরোর হাতে যাচ্ছে বলে যে রিপোর্ট এসেছে, সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে এই ফ্রেন্ডলিগুলোতেই তাকে নেতা হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। মাঠে কে কথা বলছে, কে দলকে সংগঠিত করছে — এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতেও নজর রাখুন।
একটা বড় প্রশ্নও ঝুলছে স্কালোনিকে ঘিরে: ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হচ্ছে। ইয়ার্ডবার্কারের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, AFA তাকে ধরে রাখতে আগ্রহী। মেসি-পরবর্তী পুনর্গঠনের দায়িত্ব যে কোচের হাতে সবচেয়ে নিরাপদ, সেটা AFA ভালো করেই জানে। এই উইন্ডোর পারফরম্যান্স সেই আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে।
প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আফ্রিকান ফুটবলের "স্ট্যালিয়নস" নামে পরিচিত বুরকিনা ফাসো এই ম্যাচে আসছে আন্ডারডগ হিসেবে, কিন্তু মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার মতো দল নয়। দুই দলের এটাই প্রথম মুখোমুখি লড়াই — আগে কখনো আর্জেন্টিনা-বুরকিনা ফাসো ম্যাচ হয়নি।
সাম্প্রতিক ফর্মের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সের বাছাইপর্বে ব্যস্ত ছিল। ঘরের মাঠে বেনিনের সঙ্গে ১-১ ড্র (লাসিনা ত্রাওরের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গিয়েও জয় ধরে রাখতে পারেনি), আর সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মাঠে ১-০ জয় — এই দুই ফল নিয়ে তারা বুয়েনস আইরেসে পা রেখেছে। অর্থাৎ রক্ষণাত্মক সংগঠন তাদের শক্তির জায়গা, সহজে গোল হজম করে না।
দলের চেনা মুখদের মধ্যে আছেন বার্ট্রান্ড ত্রাওরে (অভিজ্ঞ উইঙ্গার), লাসিনা ত্রাওরে (স্ট্রাইকার), এদমন্ড তাপসোবা (বায়ার লেভারকুজেনের সেন্টার-ব্যাক — দলের রক্ষণের প্রাণ), ইসা কাবোরে এবং গোলরক্ষক এরভে কোফি। তবে ফ্রিটিপসের টিম নিউজ অনুযায়ী ইসমাহিলা ওয়েদ্রাওগো ও আদামো নাগালো এই সফরে নেই, আর ফরোয়ার্ড ডাঙ্গো ওয়াত্তারা সন্দিহান। অর্থাৎ পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আসতে পারছে না বুরকিনা ফাসো।
আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচের তাৎপর্য প্রতিপক্ষের নামে নয়, নিজেদের পরীক্ষায়। মোনুমেন্টালের ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে তরুণদের চাপ সামলে খেলতে পারা — এটাই আসল চ্যালেঞ্জ। আর বুরকিনা ফাসোর জন্য? বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের (সদ্য সাবেক হলেও) বিপক্ষে তাদের মাটিতে খেলা — প্রজন্মের সেরা অভিজ্ঞতা।
বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০: মেসি ছাড়াই দাপটের বার্তা
বুরকিনা ফাসো ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় উৎস ৩০ সেপ্টেম্বরের বলিভিয়া ম্যাচ। কর্ডোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে মেসি ছাড়াই মাঠে নেমে ৪-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে স্কালোনির দল। ফ্রিটিপসের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী গোল চারটি এসেছে চারজনের পা থেকে — ১৯ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে যাওয়া, দশ মিনিট পর নিকো পাজের ব্যবধান দ্বিগুণ, আর দ্বিতীয়ার্ধে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও হোসে ম্যানুয়েল "ফ্লাকো" লোপেজের গোল।
পরিসংখ্যানটা আরও চমকপ্রদ: ৬৯ শতাংশ বল দখল, ১৮-৩ শট, প্রত্যাশিত গোল (xG) ২.২৪ বনাম ০.১১ — আর বলিভিয়া পুরো ম্যাচে একটিও শট টার্গেটে রাখতে পারেনি। অর্থাৎ এটা ছিল একপেশে আধিপত্যের ম্যাচ। এই পারফরম্যান্সের বার্তা পরিষ্কার: আর্জেন্টিনা এখন এমন একটা দল, যারা তাদের সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে ছাড়াও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, গোল করতে পারে, জিততে পারে।
বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই স্কালোনির প্রধান লক্ষ্য হবে। বলিভিয়া ম্যাচের একাদশ থেকে হয়তো ৪-৫টা পরিবর্তন আসবে — এটাই ফ্রেন্ডলির নিয়ম। কিন্তু খেলার ধরন, প্রেসিংয়ের তীব্রতা আর আক্রমণে বৈচিত্র্য — এই তিনটে জিনিসে কোনো ছাড় দেবেন না স্কালোনি। মোনুমেন্টালের দর্শকরা চাইবেন গোলের বন্যা, আর তরুণরা চাইবেন নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ। দুই পক্ষের চাওয়া মিলে গেলে বুরকিনা ফাসোর জন্য রাতটা কঠিন হতে বাধ্য।
সংখ্যায় মেসি: কেন এই বিদায় এত বড়
মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে এত হইচই কেন, সেটা বুঝতে তার ক্যারিয়ারের দিকে একবার তাকালেই যথেষ্ট। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা — এই দুটো রেকর্ডই এখন তার নামে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে তার উপস্থিতি ছিল ছয়টি আসরজুড়ে, ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি উঠে এসেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে তিনি করেছেন আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট — যার মধ্যে ছিল আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। বয়স যে তার কাছে শুধুই একটা সংখ্যা, এই টুর্নামেন্ট সেটা আবার প্রমাণ করেছে।
শিরোপার তালিকাটাও ঈর্ষণীয়: ২০২১ কোপা আমেরিকা (২৮ বছরের খরা কাটিয়ে), ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ (ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোল), ২০২৪ কোপা আমেরিকা (শিরোপা ধরে রাখা)। ব্যক্তিগত অর্জনে আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী। এই সব মিলিয়ে ৬ অক্টোবরের বেনিন ম্যাচ শুধু একটা ফ্রেন্ডলি নয় — এটা একটা যুগের সমাপ্তি। মোনুমেন্টালের প্রতিটি আসন সেদিন পূর্ণ থাকবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মেসির পর আর্জেন্টিনা: ২০৩০ বিশ্বকাপের পথে
৬ অক্টোবরের পর আর্জেন্টিনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করবে মেসি-পরবর্তী যুগে। এই পরিবর্তনটা শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয় — এটা একটা ফুটবল-দর্শনের, একটা নেতৃত্ব-কাঠামোর, এমনকি একটা জাতীয় আবেগের পুনর্গঠন।
প্রথম প্রশ্ন: গোলের উৎস কে হবেন? উত্তরটা ইতিমধ্যে মাঠে দেখা যাচ্ছে। লাউতারো মার্তিনেজ এখন পূর্ণ পরিণত স্ট্রাইকার, হুলিয়ান আলভারেজ তার পাশে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার বা ফলস নাইন — এই জুটি ২০২৬ বিশ্বকাপেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। তাদের পেছনে ম্যাক অ্যালিস্টার-এনজো ফার্নান্দেজের মাঝমাঠ, যারা বল দখল আর টেম্পো নিয়ন্ত্রণে বিশ্বমানের। মেসি যে সৃজনশীলতার জাদু দেখাতেন, সেটা হয়তো আর কেউ একা দিতে পারবেন না — কিন্তু দলগতভাবে সেই ঘাটতি পূরণের রসদ এই স্কোয়াডে আছে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: নেতৃত্ব। মেসির আর্মব্যান্ড যার হাতে যাবে, তাকে শুধু ভালো ফুটবলার হলেই চলবে না — ড্রেসিংরুমের আস্থাও অর্জন করতে হবে। কুতি রোমেরোর নাম এই কারণেই যৌক্তিক: তিনি রক্ষণের নেতা, বড় ম্যাচের খেলোয়াড়, এবং সতীর্থদের কাছে সম্মানিত। এই ফ্রেন্ডলি উইন্ডোতে তাকে অধিনায়ক হিসেবে দেখা গেলে বুঝতে হবে, হস্তান্তর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু।
তৃতীয় প্রশ্ন: কোচ। স্কালোনির চুক্তি ডিসেম্বরে শেষ — ইয়ার্ডবার্কারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে AFA তাকে ধরে রাখতে চায়। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আর্জেন্টিনাকে দিয়েছেন কোপা আমেরিকা (২০২১, ২০২৪), বিশ্বকাপ (২০২২) আর ফিনালিসিমা। মেসি-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য তার চেয়ে নিরাপদ হাত আর কে হতে পারে? এই উইন্ডোর ফলাফল ও পারফরম্যান্স সেই আলোচনায় নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আর সবশেষে সমর্থকদের প্রশ্ন: আবেগটা কোথায় যাবে? মেসির বিদায়ে কাঁদবে পুরো দেশ, কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল-সংস্কৃতি কখনো একজনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেনি। ম্যারাডোনার পর বাতিস্তুতা-অর্তেগা, তাদের পর মেসি — প্রতিটি যুগেই নতুন নায়কের আবির্ভাব ঘটেছে। মাস্তান্তুয়োনো, পাজ, সুলে — এই নামগুলোর মধ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে পরের দশকের মুখ। বুরকিনা ফাসো আর বেনিন ম্যাচে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকুন মনোযোগ দিয়ে। ইতিহাস বলে, কিংবদন্তিরা এভাবেই জন্ম নেন — কারো বিদায়ের মঞ্চে, নীরবে, একটা ঝলক দিয়ে।
ম্যাচ কবে, কখন, কোথায় দেখবেন
আর্জেন্টিনা বনাম বুরকিনা ফাসো ফ্রেন্ডলি ম্যাচটি হবে শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মোনুমেন্টালে। স্থানীয় সময় রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই argentina vs burkina faso ম্যাচ বাংলাদেশ সময়ে দেখা যাবে রোববার, ৪ অক্টোবর ভোর ৬টায়। টিকিট, সম্প্রচার চ্যানেল, লাইভ স্ট্রিমিং আর দুই দলের বিস্তারিত প্রিভিউ নিয়ে আমাদের আলাদা পোস্ট রয়েছে — বিস্তারিত প্রিভিউ পোস্টে চোখ রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. মেসি কি বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবেন?
সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী একাদশে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। কিছু প্রিভিউতে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, AFA-ঘনিষ্ঠ একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে তাকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দিয়ে ৬ অক্টোবরের বেনিন ম্যাচের জন্য ফ্রেশ রাখা হবে। মনে রাখবেন, মেসি, ডি পল ও লো সেলসোকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে মূলত শেষ ফ্রেন্ডলিকে কেন্দ্র করে। নিশ্চিত খবর ম্যাচের দিনের একাদশ ঘোষণার পরই জানা যাবে — তাই ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগে ঘোষিত দলতালিকায় চোখ রাখুন।
২. মেসির বিদায়ী ম্যাচ কবে?
৬ অক্টোবর ২০২৬, বেনিনের বিপক্ষে, এস্তাদিও মোনুমেন্টালে। AFA ও ফিফা — দুই পক্ষের বরাতেই এই ম্যাচকে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। AFA সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার ভাষায়, অধিনায়ককে ডাকা হয়েছে যেন তিনি প্রাপ্য বিদায়টা পান। এই ম্যাচে ১০ নম্বর জার্সি পরেই তিনি শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩. মেসি কি সত্যিই অবসর নিয়েছেন?
হ্যাঁ, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তবে ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন — ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে তাকে দেখা যাবে।
৪. বুরকিনা ফাসো ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক কে থাকবেন?
মেসি না খেললে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড সম্ভবত ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হাতেই উঠবে — রিপোর্ট অনুযায়ী তিনিই মেসি-পরবর্তী স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত।
৫. আর্জেন্টিনা স্কোয়াড ২০২৬-এ নতুন মুখ কারা?
ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, নিকো পাজ, মাতিয়াস সুলে, জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, তোবিয়াস আন্দ্রাদা, লিওনেল ফ্লোরেস, সান্তিয়াগো বেলত্রান — এরা সবাই এই উইন্ডোর স্কোয়াডে থাকা উদীয়মান তারকা।
৬. ১০ নম্বর জার্সির কী হবে?
রিপোর্ট অনুযায়ী এই ফ্রেন্ডলি সিরিজে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড তালিকায় ১০ নম্বর রাখা হচ্ছে না — মেসির সম্মানে তার জার্সি নম্বরটি তুলে রাখা হয়েছে।
৭. আর্জেন্টিনা বনাম বুরকিনা ফাসো ম্যাচ কখন শুরু?
বুয়েনস আইরেস সময় শনিবার রাত ৯টা, বাংলাদেশ সময় রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর ৬টা।
৮. ম্যাচটি কোথায় দেখা যাবে?
সম্প্রচার ও স্ট্রিমিংয়ের বিস্তারিত তথ্য আমাদের প্রিভিউ পোস্টে দেওয়া আছে। আর্জেন্টিনায় TyC Sports ও Telefe, যুক্তরাষ্ট্রে ViX-এ দেখানোর কথা রয়েছে বিভিন্ন রিপোর্টে।
৯. এর আগে কি দুই দল কখনো মুখোমুখি হয়েছে?
না, এটাই আর্জেন্টিনা বনাম বুরকিনা ফাসোর প্রথম সাক্ষাৎ।
১০. বেনিন ম্যাচের টিকিট কি পাওয়া যাচ্ছে?
AFA বুয়েনস আইরেসের দুই ম্যাচের (বুরকিনা ফাসো ও বেনিন) টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে, দুই ম্যাচের জন্য একই মূল্যকাঠামো রাখা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। মেসির বিদায়ী ম্যাচ হওয়ায় বেনিন ম্যাচের টিকিটের চাহিদা আকাশছোঁয়া।
৮
৮ মন্তব্য