Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ণ

দুর্গাপূজা ২০২৬ কবে: তারিখ, নির্ঘণ্ট ও সরকারি ছুটি | Durga Puja 2026 Date Bangladesh

👉দুর্গাপূজা ২০২৬-এর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট PDF — এক ক্লিকে ডাউনলোড করুন


👉মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী: প্রতিটি তিথির তারিখ ও শুভ মুহূর্ত জানুন


👉পূজার ছুটির ক্যালেন্ডার ২০২৬ — কবে কবে বন্ধ থাকবে দেখুন



























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































দুর্গাপূজা ২০২৬ কবে: তারিখ, নির্ঘণ্ট ও সরকারি ছুটি | Durga Puja 2026 Date Bangladesh

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসতে শুরু করলেই বাঙালির মনে একটাই প্রশ্ন জাগে — এবার দুর্গাপূজা কবে? কাশফুলের দোলা, শিউলির গন্ধ আর ঢাকের বাদ্য মানেই শারদীয় দুর্গোৎসব, বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। কিন্তু প্রতি বছর চাঁদের হিসাব অর্থাৎ তিথি অনুযায়ী পূজার তারিখ বদলে যায় বলে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন — মহালয়া কবে, ষষ্ঠী কবে, আর পূজার ছুটি কবে থেকে?


এই পোস্টে আপনি এক জায়গায় পেয়ে যাবেন দুর্গাপূজা ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট — মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিটি তিথির তারিখ ও বার, আজ থেকে পূজা কতদিন বাকি তার হিসাব, প্রতিটি তিথির ধর্মীয় তাৎপর্য, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ঘোষণা, বাংলাদেশে কোথায় কীভাবে পূজা উদযাপিত হয়, আর সবশেষে পাঠকদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর। যারা গুগলে "durga puja 2026 date" বা "দুর্গাপূজা ২০২৬ কবে" লিখে খুঁজছেন, এই একটি লেখাতেই তাদের সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

দুর্গাপূজা ২০২৬ কবে — পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট

২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজার মূল পাঁচ দিন পড়েছে অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। মহালয়া দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে ১০ অক্টোবর, আর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মূল উৎসব চলবে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর। নিচের টেবিলে একনজরে দেখে নিন পুরো durga puja 2026-এর তারিখ, বাংলা তারিখ ও বার:


তিথি

ইংরেজি তারিখ

বাংলা তারিখ

বার

মহালয়া

১০ অক্টোবর ২০২৬

২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শনিবার

মহাষষ্ঠী

১৬ অক্টোবর ২০২৬

৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

শুক্রবার

মহাসপ্তমী

১৮ অক্টোবর ২০২৬

২ কার্তিক ১৪৩৩

রবিবার

মহাঅষ্টমী

১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩

সোমবার

মহানবমী

২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩

মঙ্গলবার

বিজয়া দশমী

২১ অক্টোবর ২০২৬

৫ কার্তিক ১৪৩৩

বুধবার

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা

২৫ অক্টোবর ২০২৬

৯ কার্তিক ১৪৩৩

রবিবার


এই নির্ঘণ্ট বাংলাদেশের প্রচলিত পঞ্জিকা ও সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তৈরি — মহাষষ্ঠী ১৬, মহাসপ্তমী ১৮, মহাঅষ্টমী ১৯, মহানবমী ২০ ও বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। একটি সুবিধাজনক দিক হলো, মহাষষ্ঠী পড়েছে শুক্রবারে — যা বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে ষষ্ঠীর দিন অফিস-আদালতের চাপ ছাড়াই পরিবার নিয়ে পূজার আনন্দে মেতে ওঠা যাবে।


যারা বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি, তাদের জন্যও এই তারিখগুলো সমানভাবে প্রযোজ্য — কারণ দুর্গাপূজার তিথি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, দেশভেদে মূল তারিখ বদলায় না। শুধু স্থানীয় সময় অনুযায়ী পূজার মুহূর্ত বা লগ্নে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।

দুর্গাপূজা ২০২৬ কতদিন বাকি

আজ ২ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার। এই হিসাব অনুযায়ী durga puja countdown 2026 এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে:


  • মহালয়া (১০ অক্টোবর) আসতে বাকি: মাত্র ৮ দিন

  • মহাষষ্ঠী (১৬ অক্টোবর) আসতে বাকি: ১৪ দিন — অর্থাৎ দুর্গাপূজা ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ

  • বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর) আসতে বাকি: ১৯ দিন

  • লক্ষ্মী পূজা (২৫ অক্টোবর) আসতে বাকি: ২৩ দিন


যারা এখনো পূজার কেনাকাটা শুরু করেননি, তাদের জন্য এখনই সেরা সময়। অভিজ্ঞতা বলে, ষষ্ঠীর আগের সপ্তাহে বাজারে ভিড় বাড়ে আর পছন্দের জামাকাপড়ের সাইজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। আর যারা গ্রামের বাড়ি বা দেশের বাইরে থেকে আসার পরিকল্পনা করছেন, তারা এখনই যাতায়াতের টিকিট বুক করে ফেলুন — ১৬ অক্টোবরের আগের দুই দিনে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে ওঠে।


"durga puja 2026 koto din baki" — এই প্রশ্নটা প্রতি বছর অক্টোবরের শুরুতে গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ হয়। উত্তরটা সহজ করে মনে রাখুন: মহালয়ার ৮ দিন পর ষষ্ঠী, আর ষষ্ঠীর দিনই মূল উৎসবের সূচনা। মণ্ডপগুলোতে প্যান্ডেলের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে, প্রতিমা শিল্পীরা শেষ তুলির আঁচড় দিচ্ছেন — শহরজুড়ে এখন পূজা-পূজা গন্ধ।


কাউন্টডাউনের এই শেষ দুই সপ্তাহে বুদ্ধিমানের কাজ হলো একটা ছোট্ট চেকলিস্ট বানিয়ে ফেলা। প্রথমে ঠিক করুন কোন কোন দিন কোন মণ্ডপে যাবেন — অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির ভিড় এড়াতে চাইলে একটু আগেভাগে পৌঁছানো ভালো। দ্বিতীয়ত, পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আজই ফেরার টিকিটটাও বুক করে রাখুন; দশমীর পরের দুই দিনে ফিরতি যাত্রার চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তৃতীয়ত, প্রবাসী যারা এবার দেশে আসছেন, তারা পরিবারের সবার জন্য উপহার কেনার পাশাপাশি মণ্ডপের চাঁদাটাও আগেভাগে পাঠিয়ে দিন — দূর থেকে হলেও উৎসবের অংশ হওয়ার আনন্দটা কম নয়। আর যারা ঢাকায় থেকে পূজা দেখবেন, তারা মহালয়ার পর থেকেই সন্ধ্যায় মণ্ডপ ঘোরা শুরু করতে পারেন; তখন ভিড় কম থাকে, প্যান্ডেলের কারুকাজও শান্তিতে দেখা যায়।

শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬: প্রতিটি তিথির তাৎপর্য

দুর্গাপূজা শুধু পাঁচ দিনের উৎসব নয় — মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিটি তিথির আলাদা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অর্থ আছে। নিচে প্রতিটি দিনের তাৎপর্য জেনে নিন।

মহালয়া — দেবীপক্ষের সূচনা (১০ অক্টোবর, শনিবার)

মহালয়া হলো পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের সূচনার দিন। এই দিন ভোরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নদী বা পুকুরঘাটে গিয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করেন — জল, তিল ও মন্ত্রে পিতৃপুরুষদের স্মরণ করার এই রীতি হাজার বছরের পুরনো। মহালয়ার ভোর মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে বেজে ওঠে মহিষাসুরমর্দিনীর সেই চিরচেনা সুর — বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শোনা ছাড়া যেন শরতের সকাল পূর্ণ হয় না। শাস্ত্রমতে এই দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের জন্য মর্ত্যে আবির্ভূত হন, আর দেবীপক্ষের এই পনেরো দিন ধরে তার আগমনীর প্রস্তুতি চলে। ২০২৬ সালে মহালয়া পড়েছে শনিবার, ১০ অক্টোবর — ষষ্ঠীর ঠিক ছয় দিন আগে।

মহাষষ্ঠী — দেবীর বোধন (১৬ অক্টোবর, শুক্রবার)

ষষ্ঠীর দিনই দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় দেবীর "বোধন" দিয়ে। পুরাণ অনুযায়ী, শরৎকাল দেবতাদের রাত্রি — এই সময় দেবী নিদ্রিতা থাকেন। রামচন্দ্র রাবণ বধের আগে অকালে দেবীকে জাগিয়েছিলেন বলে এই পূজার নাম "অকাল বোধন"। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে হয় কল্পারম্ভ, বিল্ব নিমন্ত্রণ ও আমন্ত্রণ-অধিবাস — দেবীকে মর্ত্যে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয় বেলগাছের ডালে। এই দিন থেকেই ঢাকের কাঠি পড়ে, মণ্ডপে ভিড় জমতে শুরু করে, আর শিশুদের হাতে ওঠে নতুন জামার প্যাকেট। ২০২৬ সালে ষষ্ঠী শুক্রবারে পড়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই বোধনের আনন্দ উপভোগ করা যাবে — পরিবার নিয়ে মণ্ডপে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে!

মহাসপ্তমী — নবপত্রিকার স্নান (১৭ অক্টোবর, শনিবার)

সপ্তমীর ভোরে হয় পূজার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন আচার — নবপত্রিকা স্নান, যা "কলাবউ" নামেই বেশি পরিচিত। নয়টি গাছের পাতা (কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান) একসঙ্গে বেঁধে শাড়ি পরিয়ে নববধূর মতো সাজিয়ে গঙ্গা বা নদীর জলে স্নান করিয়ে মণ্ডপে আনা হয়। শাস্ত্রমতে নবপত্রিকা দেবী দুর্গারই নয়টি রূপের প্রতীক। স্নানের পর দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয় — অর্থাৎ মৃণ্ময়ী প্রতিমায় দেবীর প্রাণ সঞ্চারিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এই দিন থেকেই মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল নামে, আর সন্ধ্যায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি ও ভোগ বিতরণ।

মহাঅষ্টমী — কুমারী পূজা ও সন্ধি পূজা (১৯ অক্টোবর, সোমবার)

অষ্টমী দুর্গাপূজার সবচেয়ে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিন ভক্তরা উপোস করে দেবীর পায়ে পুষ্পাঞ্জলি দেন — অষ্টমীর অঞ্জলি না দিলে যেন পূজাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়, এমনটাই বিশ্বাস। সকালে হয় কুমারী পূজা — অপ্রাপ্তবয়স্কা কন্যাকে দেবীরূপে পূজা করার এই রীতি শক্তিপূজার অন্যতম মর্মস্পর্শী দিক; কুমারীকে সাজিয়ে, ফুল-চন্দনে ভূষিত করে তার পায়ে ভক্তি নিবেদন করা হয়।


অষ্টমীর সবচেয়ে রহস্যময় আচার হলো সন্ধি পূজা — অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট, এই ৪৮ মিনিটের সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডারূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত। এই সময় ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্মফুলে দেবীর বিশেষ পূজা হয়। ২০২৬ সালে এই পবিত্র মুহূর্তটি পড়েছে ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২০ অক্টোবরের ভোরের মাঝামাঝি সময়ে।

মহানবমী — শেষ দিনের আরাধনা (২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার)

নবমী হলো দেবীপক্ষের শেষ পূর্ণ পূজার দিন — এরপর দশমীতে শুধু বিসর্জনের আচার। এই দিন হয় নবমী হোম — যজ্ঞের আগুনে আহুতি দিয়ে দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করা হয়। পুরনো ঐতিহ্য অনুযায়ী কোনো কোনো স্থানে এই দিন পশুবলির রীতিও ছিল, যদিও বর্তমানে বেশিরভাগ মণ্ডপে তা প্রতীকী ফল-সবজি বলিতে রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালে নবমী পড়েছে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার — এই দিন সরকারি ছুটিও রয়েছে নির্বাহী আদেশে। সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে ধুনুচি নাচের আসর বসে, ঢাকের তালে তালে ধূপের ধোঁয়ায় ভরে ওঠে চারদিক।

বিজয়া দশমী — সিঁদুর খেলা ও বিসর্জন (২১ অক্টোবর, বুধবার)

দশমীতে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিজয়ী হন — তাই এই দিনের নাম বিজয়া দশমী। সকালে বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে সিঁদুর ছুঁইয়ে একে অপরের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন — এই "সিঁদুর খেলা" এখন শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে। লাল-সাদা শাড়ি, মুখে হাসি, আর পরস্পরের গালে সিঁদুরের ছোঁয়া — দশমীর সকালের এই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর মণ্ডপে ভিড় জমান হাজারো মানুষ।


বিকেলে হয় বিসর্জন — শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকের বাদ্য, "আসছে বছর আবার হবে" ধ্বনি আর চোখে জল নিয়ে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান। বিসর্জনের পর শুরু হয় শুভ বিজয়ার প্রণাম পর্ব — বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, কোলাকুলি, আর মিষ্টিমুখ। ২০২৬ সালে দশমী পড়েছে বুধবার, ২১ অক্টোবর — এই দিন সাধারণ ছুটি।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা (২৫ অক্টোবর, রবিবার)

দুর্গাপূজা শেষ হলেও উৎসবের রেশ থাকে — দশমীর পাঁচ দিন পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমায় হয় কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। ২০২৬ সালে এটি পড়েছে ২৫ অক্টোবর, রবিবার। "কো জাগরতি" অর্থাৎ "কে জেগে আছে" — বিশ্বাস করা হয়, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্য পরিভ্রমণ করেন আর যে ভক্ত জেগে তার আরাধনা করে, তাকে তিনি আশীর্বাদ করেন। বাংলাদেশের হিন্দু পরিবারগুলোতে এই দিন ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর ঘট স্থাপন করে পূজা হয়, নারকেলের নাড়ু, তিলের তক্তি আর খই-মুড়কির প্রসাদে ভরে ওঠে ঘর।

দুর্গাপূজা ২০২৬ সরকারি ছুটি

পূজার তারিখ জানার পর সবার পরের প্রশ্ন — ছুটি কবে, কতদিন? ২০২৬ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি নিয়ে সুখবর আছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দুর্গাপূজা উপলক্ষে মূল ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই দিন:


  • ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার: মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি

  • ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার: বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি


এর বাইরে ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সরকার আরও একটি ঘোষণা দিয়েছে — বিসর্জনের পরের দিন ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ফলে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা — মাঝের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে এই দীর্ঘ অবকাশ তৈরি হয়েছে। এই ঘোষণার বিস্তারিত পাঁচ দিনের ছুটির খবরে পড়তে পারেন।


এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে — ১৮ অক্টোবর (রবিবার) ও ১৯ অক্টোবর (সোমবার)। অনুমোদন সাপেক্ষে এই ছুটি নেওয়া যাবে। অর্থাৎ হিন্দু কর্মচারীরা চাইলে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিনের অবকাশ কাটাতে পারবেন। ছুটির এই হিসাব নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও কারা ছুটি পাবেন দেখে নিতে পারেন।


একটি বিষয় স্পষ্ট করে রাখা ভালো: উপরের নির্ঘণ্ট বাংলাদেশের প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী তৈরি — মহাসপ্তমী ১৮, মহাঅষ্টমী ১৯, মহানবমী ২০ ও বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। এটাই সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারের ভিত্তি। ভারতীয় কিছু পঞ্জিকায় তিথির হিসাবে একদিনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে, তবে বাংলাদেশে পূজা ও ছুটি এই তারিখেই পালিত হবে। ছুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নিজ অফিস বা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত নোটিশই অনুসরণ করুন।


সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে পূজার সংযোগটাও এবার দারুণ — ষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ও সপ্তমী ১৭ অক্টোবর শনিবার, দুটোই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে। ফলে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই দুই দিনের উইকেন্ডে পূজার আনন্দে ভাসা যাবে। স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকলেও এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা উদযাপন

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয় — এটি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণবন্ত উৎসব। প্রতি বছর সারা দেশে হাজারো মণ্ডপে দেবীর আরাধনা হয়, আর ঢাকার পূজা তো দেখার মতো।


ঢাকার প্রধান পূজামণ্ডপগুলো: রাজধানীর সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী পূজা হয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে — বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে এখানকার পূজায় অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজা শিক্ষার্থীদের প্রাণের উৎসব; হলের মাঠে বিশাল প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। রামকৃষ্ণ মিশনের পূজা তার শৃঙ্খলাবদ্ধ আচার ও কুমারী পূজার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া বনানী, ধানমন্ডি, সিদ্ধেশ্বরী, তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের বারোয়ারি পূজাগুলোতে প্রতি বছর নতুন নতুন থিমের প্যান্ডেল দেখা যায়।


ঢাকার বাইরে: চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা ও জেএমসেন হল এলাকা, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলো, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীর বড় বড় বারোয়ারি পূজা — সারা দেশেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে পারিবারিক পূজা ও মেলার আয়োজন থাকে, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়রা জড়ো হন।


প্যান্ডেল, সংস্কৃতি ও ভোগ: ইদানীং বাংলাদেশের বড় মণ্ডপগুলোতে থিমভিত্তিক প্যান্ডেলের চল বেড়েছে — ইতিহাস, লোককথা বা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শিল্পীরা মাসের পর মাস কাজ করেন। সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান — রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকগান ও নৃত্য। আর পূজার ভোগ — খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েস — না খেলে যেন পূজা দেখাই অসম্পূর্ণ। অষ্টমী-নবমীর সন্ধ্যায় ধুনুচি নাচের আসর মণ্ডপগুলোর অন্যতম আকর্ষণ।


নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা: শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টন করেছে। ২০২৬ সালে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর জন্য বিশেষ অনুদান হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে — আগের বছরের তুলনায় এক কোটি টাকা বেশি। দশমীর বিকেলে ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে আর সারা দেশের নদী-পুকুরে বিসর্জনের শোভাযাত্রা বের হয় — "আসছে বছর আবার হবে" ধ্বনিতে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬।


পূজার কেনাকাটা ও নতুন জামার ধুম: দুর্গাপূজা মানেই নতুন জামা — এই ঐতিহ্য বাংলাদেশে আজও অটুট। মহালয়ার পর থেকেই নিউ মার্কেট, বঙ্গবাজার, যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়; শাড়ি, পাঞ্জাবি আর শিশুদের পোশাকের দোকানে চলে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। অনেক পরিবারে ষষ্ঠীর দিন সকালে নতুন জামা পরে মণ্ডপে যাওয়ার রেওয়াজ আছে — তাই কেনাকাটা শেষ করতে দেরি করবেন না। আর মিষ্টির দোকানগুলোতে দশমীর আগের দিন থেকে লাড্ডু, সন্দেশ ও রসমালাইয়ের অর্ডারের হিড়িক পড়ে, কারণ শুভ বিজয়ার মিষ্টিমুখ ছাড়া উৎসব অসম্পূর্ণ।

দুর্গাপূজা ২০২৬ নিয়ে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. দুর্গাপূজা ২০২৬ কবে শুরু হবে?

দুর্গাপূজা ২০২৬-এর মূল উৎসব শুরু হবে মহাষষ্ঠীর দিন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার — দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে। এর আগে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হবে।


২. durga puja 2026 date in bangladesh অনুযায়ী পূর্ণ নির্ঘণ্ট কী?

বাংলাদেশের পঞ্জিকা অনুযায়ী: মহালয়া ১০ অক্টোবর (শনি), ষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর (শুক্র), সপ্তমী ১৮ অক্টোবর (রবি), অষ্টমী ১৯ অক্টোবর (সোম), নবমী ২০ অক্টোবর (মঙ্গল), বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর (বুধ), লক্ষ্মী পূজা ২৫ অক্টোবর (রবি)।


৩. মহালয়া ২০২৬ কবে পালিত হবে?

মহালয়া ২০২৬ পালিত হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার। এই দিন পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের সূচনা হয়; ভোরে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়।


৪. ২০২৬ সালে অষ্টমী ও নবমী কবে?

দুর্গাপূজার তারিখ চন্দ্রতিথি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, আর চন্দ্রতিথি সৌরদিনের সমান দীর্ঘ হয় না। বাংলাদেশের পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালে মহাঅষ্টমী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) ও মহানবমী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) পালিত হবে।


৫. বিজয়া দশমী ২০২৬ কবে?

বিজয়া দশমী ২০২৬ পালিত হবে ২১ অক্টোবর, বুধবার। এই দিন সিঁদুর খেলা, প্রতিমা বিসর্জন ও শুভ বিজয়ার প্রণাম বিনিময় হয়।


৬. durga puja 2026 koto din baki?

আজ ২ অক্টোবর ২০২৬ অনুযায়ী মহাষষ্ঠী (১৬ অক্টোবর) আসতে বাকি আর মাত্র ১৪ দিন, মহালয়া (১০ অক্টোবর) আসতে বাকি ৮ দিন, আর বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর) আসতে বাকি ১৯ দিন।


৭. দুর্গাপূজা ২০২৬-এ সরকারি ছুটি কতদিন থাকবে?

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর (নির্বাহী আদেশে) ও ২১ অক্টোবর (সাধারণ ছুটি) দুই দিনের মূল ছুটি, সঙ্গে ২২ অক্টোবর আরও এক দিনের নির্বাহী ছুটি — শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিনের অবকাশ। হিন্দু কর্মচারীরা ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ঐচ্ছিক ছুটিও নিতে পারবেন।


৮. লক্ষ্মী পূজা ২০২৬ (কোজাগরী) কবে?

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ২০২৬ পালিত হবে ২৫ অক্টোবর, রবিবার — বিজয়া দশমীর চার দিন পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমায়।


৯. কুমারী পূজা ২০২৬ কবে অনুষ্ঠিত হবে?

কুমারী পূজা হয় মহাঅষ্টমীর দিন — ২০২৬ সালে ১৯ অক্টোবর, সোমবার। এই দিন সকালে অপ্রাপ্তবয়স্কা কন্যাকে দেবীরূপে পূজা করা হয়।


১০. durga puja countdown 2026 শেষ হচ্ছে কবে, আর বাংলাদেশে বড় পূজা কোথায় হয়?

কাউন্টডাউন শেষ হচ্ছে বিজয়া দশমীর দিন, ২১ অক্টোবর ২০২৬-এ। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী পূজা হয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রামকৃষ্ণ মিশন, বনানী ও সিদ্ধেশ্বরীর মণ্ডপগুলোতে; এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীতেও বড় বারোয়ারি পূজার আয়োজন থাকে।


মন্তব্য করুন