Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

পূজার ছুটি ২০২৬: সরকারি ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা | Puja Holiday 2026

👉২০২৬ সালের সরকারি ছুটির সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করুন


👉পূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি — কীভাবে পরিকল্পনা করবেন জানুন


👉স্কুল-কলেজ-অফিসের ছুটির তালিকা এক নজরে দেখুন



























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































পূজার ছুটি ২০২৬: সরকারি ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা | Puja Holiday 2026

বাঙালির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ২০২৬ সালে পূজার মৌসুমে সরকারি ছুটির হিসাবটা এবার একটু ভিন্ন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এবার দুর্গাপূজায় মাত্র দুই দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারিত থাকলেও পরে নির্বাহী আদেশে আরও এক দিন ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি আরও দীর্ঘ — কোথাও পাঁচ দিন, কোথাও দশ দিন, কোথাও তিন দিন।


Puja holiday 2026 নিয়ে এক নজরে পুরো চিত্রটা জেনে নিন: ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি, আর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নতুন করে যুক্ত হওয়া নির্বাহী আদেশে ছুটি। এর সঙ্গে ১৬–১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের বিরতি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারীদের জন্য ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


এই পোস্টে দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা ও কালীপূজা-দীপাবলি মিলিয়ে ২০২৬ সালের পূজা-সংক্রান্ত সব ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও অফিস-আদালতের ছুটির নিয়ম, ছুটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা এবং প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো।


প্রথমে পূজার ক্যালেন্ডারটা মাথায় রাখুন। ২০২৬ সালে মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর শনিবার — এই দিন থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা, যদিও মহালয়া সরকারি ছুটির তালিকায় ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবেই আছে। মূল শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর বোধন দিয়ে, তারপর ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী, আর ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে সিঁদুরখেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ। অর্থাৎ পূজার মূল পাঁচ দিনের চারটিই পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনে — এ কারণেই এবার ছুটির হিসাবটা এতটা সুবিধাজনক হয়েছে।

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০২৬ (Durga Puja Holiday)

দুর্গাপূজার ছুটি ২০২৬ নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা আসে — "দুর্গাপূজার ছুটি কয়দিন?" — তার উত্তরটা একটু ভেঙে ভেঙে বোঝা দরকার, কারণ সরকারি ছুটির হিসাবে ছুটি তিন ধরনের: সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ঐচ্ছিক ছুটি।


২০২৬ সালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির তালিকায় প্রথমে দুই দিন নির্ধারিত ছিল। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকার নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আরও এক দিনের ছুটি ঘোষণা করে। ফলে চিত্রটা দাঁড়াল এরকম —


২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার — মহানবমী: নির্বাহী আদেশে ছুটি। পূজার মূল ধারাবাহিকতার পঞ্চম দিন নয়, বরং নবমীর দিনে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে নির্বাহী আদেশের বলে।


২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার — বিজয়া দশমী: সাধারণ ছুটি। এটাই দুর্গাপূজার প্রধান গেজেটেড সরকারি ছুটি (durga puja holiday), যেদিন সারা দেশে সরকারি-আধাসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সিঁদুরখেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের এই দিনটাই পূজার ছুটির কেন্দ্রবিন্দু।


২২ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার — নির্বাহী আদেশে ছুটি (নতুন সংযোজন)। এই এক দিন যুক্ত হওয়ার পর ছুটির হিসাবটা একেবারে বদলে গেছে। কারণ ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ও ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, তারপর ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি — মোট পাঁচ দিনের লম্বা বিরতি। শুধু ১৮ অক্টোবর রোববার ও ১৯ অক্টোবর সোমবার অফিস খোলা থাকবে মাঝখানে।


উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবরের এই অতিরিক্ত ছুটি বছরের শুরুর মূল ছুটির তালিকায় ছিল না — সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকার নির্বাহী আদেশে এটি ঘোষণা করে, যা সংবাদমাধ্যমে "বাড়ল পূজার ছুটি" শিরোনামে ব্যাপক আলোচিত হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি কার্যত ঈদের ছুটির মতোই দীর্ঘ হয়ে গেছে। তবে মনে রাখবেন, নির্বাহী আদেশে ছুটি আর সাধারণ ছুটির আইনগত মর্যাদা এক নয় — জরুরি প্রয়োজনে সরকার এই ধরনের ছুটির দিনেও সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দিতে পারে।


অন্যদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই দুই দিন তারা চাইলে ছুটি নিতে পারবেন, তবে এটা সবার জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ছুটি নয়। অর্থাৎ হিন্দু কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিলে ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি পেতে পারেন।


একটা বিষয় পরিষ্কার করে রাখা ভালো — সাধারণ ছুটি (বিজয়া দশমী) সবার জন্য বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি (২০ ও ২২ অক্টোবর) সরকারি সিদ্ধান্তে ঘোষিত ছুটি, আর ঐচ্ছিক ছুটি (১৮, ১৯ অক্টোবর) কেবল নিজ ধর্মের উৎসবে সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী কর্মচারীদের জন্য, যার জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী একজন কর্মচারী বছরে নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারেন।


তবে সরকারি ছুটি ঘোষণা হলেও সবাই এই ছুটির সুবিধা পাবেন — এমনটা নয়। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের একটি বড় অংশকে ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ বিভাগের কর্মীরা রোস্টার অনুযায়ী কাজে থাকবেন।


পূজার পাঁচ দিনের ধর্মীয় গুরুত্বটাও জেনে রাখা ভালো, কারণ ছুটির পরিকল্পনা অনেক সময় এর সঙ্গেই জড়িত। মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণ, সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীতে কুমারীপূজা ও সন্ধিপূজা, নবমীতে হোম-যজ্ঞ, আর দশমীতে সিঁদুরখেলা ও বিসর্জন — প্রতিটি দিনেরই আলাদা আচার ও মাহাত্ম্য আছে। যারা পূজার আচার-অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, তাদের কাছে ১৮–১৯ অক্টোবরের সপ্তমী-অষ্টমীই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন; সরকারি ছুটির হিসাবে এই দুই দিন ঐচ্ছিক হলেও ধর্মীয় দিক থেকে এগুলোর ওজন কোনো অংশে কম নয়। এ কারণেই ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থাটা রাখা হয়েছে — যাতে উৎসবের মূল দিনগুলোতে কেউ বঞ্চিত না হন। সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমও থেমে থাকে না বলে সাংবাদিক ও সম্প্রচারকর্মীদের অনেককেই ছুটির দিনে অফিস করতে হবে। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও করপোরেট অফিসে পূজার ছুটি দেওয়া হবে কি না, কতদিন দেওয়া হবে — সেটা পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই চাকরিজীবীদের উচিত হবে ছুটির আগেই নিজ প্রতিষ্ঠানের এইচআর বা প্রশাসন বিভাগ থেকে লিখিত নোটিশ দেখে নেওয়া।

পূজা-সংক্রান্ত সব ছুটির তালিকা ২০২৬ (Puja Holiday 2026 Bangladesh)

দুর্গাপূজার পাশাপাশি পূজার মৌসুমে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব পড়েছে — লক্ষ্মীপূজা ও কালীপূজা (শ্যামাপূজা/দীপাবলি)। এই দুটি উৎসবের ছুটি সরকারি ছুটির তালিকায় ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে রাখা হয়েছে হিন্দু পর্বের অধীনে। নিচে ২০২৬ সালের পূজা-সংক্রান্ত সব ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো —


উৎসব

তারিখ

বার

ছুটির ধরন

মহাসপ্তমী (দুর্গাপূজা)

১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

ঐচ্ছিক ছুটি (হিন্দু পর্ব)

মহাষ্টমী (দুর্গাপূজা)

১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার

ঐচ্ছিক ছুটি (হিন্দু পর্ব)

মহানবমী (দুর্গাপূজা)

২০ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার

নির্বাহী আদেশে ছুটি

বিজয়া দশমী (দুর্গাপূজা)

২১ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার

সাধারণ ছুটি

দুর্গাপূজা পরবর্তী অতিরিক্ত

২২ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

নির্বাহী আদেশে ছুটি (নতুন)

লক্ষ্মীপূজা

২৫ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

ঐচ্ছিক ছুটি (হিন্দু পর্ব)

শ্যামাপূজা / কালীপূজা (দীপাবলি)

৮ নভেম্বর ২০২৬

রবিবার

ঐচ্ছিক ছুটি (হিন্দু পর্ব)


টেবিলটা দেখে একটা জিনিস খেয়াল রাখুন — সরকারি ছুটি ২০২৬-এর তালিকায় পূজা-সংক্রান্ত উৎসবগুলোর মধ্যে শুধু বিজয়া দশমীই সাধারণ (গেজেটেড) ছুটি। বাকিগুলো হয় নির্বাহী আদেশে ছুটি, নয়তো ঐচ্ছিক ছুটি। তাই "পূজার ছুটি ২০২৬" বলতে ঠিক কী বোঝাচ্ছেন — অফিসের ছুটি, স্কুলের ছুটি, না ঐচ্ছিক ছুটি — সেটা আলাদা করে দেখে নেওয়াই ভালো।


আরেকটা লক্ষণীয় বিষয় — লক্ষ্মীপূজা (২৫ অক্টোবর) ও কালীপূজা (৮ নভেম্বর) দুটোই পড়েছে রবিবারে। অর্থাৎ যারা রবিবার-ভিত্তিক সাপ্তাহিক ছুটির প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাদের জন্য এই দুই উৎসবের দিন আলাদা করে অফিস বন্ধের সুবিধা আসলে মিলছে না; তবে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে রেকর্ডে থাকায় হিন্দু কর্মচারীরা চাইলে এই ছুটি অন্য দিনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে পারেন প্রজ্ঞাপনের নিয়ম অনুযায়ী।


ঐচ্ছিক ছুটির নিয়মটা আরেকটু খুলে বলা যাক, কারণ এ নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা আছে। ঐচ্ছিক ছুটি মানেই "ইচ্ছা হলেই নেওয়া যায়" — এমন নয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে, প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অর্থাৎ অফিসে আগে থেকে আবেদন করে রাখতে হয় কোন কোন উৎসবে ছুটি নেবেন। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি আছে — এ কারণেই ১৮–১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি ১৬–২২ অক্টোবরের টানা বিরতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতের ছুটির নিয়ম

পূজার ছুটিতে স্কুল-কলেজ কয়দিন বন্ধ থাকবে — এটাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের চিত্রটা এরকম —


বিদ্যালয় (মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক): পাঁচ দিন। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর রোববার থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে-পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি (১৬–১৭ অক্টোবর) মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা টানা সাত দিনের বিরতি পাচ্ছে। এরপর ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজার ছুটি ২০২৬ উপলক্ষে আরও এক দিনের ছুটি রয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে।


কলেজ: দশ দিন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কলেজগুলোতে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত — মাঝের দুই শুক্র ও শনিবার বাদ দিয়ে — মোট দশ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ২৫ অক্টোবরের লক্ষ্মীপূজাও অন্তর্ভুক্ত। আগে-পরের সাপ্তাহিক ছুটি (১৬–১৭ ও ৩০–৩১ অক্টোবর) যোগ করলে কলেজশিক্ষার্থীদের মোট ছুটির সময়কাল দাঁড়ায় প্রায় ষোল দিন।


মাদ্রাসা: তিন দিন। সরকারি-বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি পাবেন বলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়: নিজস্ব ক্যালেন্ডার। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পূজার ছুটি ঘোষণা করে। সাধারণত দুর্গাপূজায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক সপ্তাহের মতো ছুটি থাকে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানতে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড বা ওয়েবসাইট দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।


অভিভাবকদের জন্য একটা পরামর্শ — শুধু জাতীয় ছুটির তালিকা দেখে সন্তানের স্কুল ছুটির হিসাব করবেন না। প্রতিটি স্কুলের নিজস্ব বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি থাকে, সেখানে পূজার ছুটির সঠিক তারিখ দেওয়া থাকে। অনেক স্কুল পূজার ছুটির সঙ্গে পরীক্ষার রুটিন বা বিশেষ ক্লাসের সমন্বয় করে, ফলে দুই স্কুলের ছুটির তারিখে এক-দুই দিনের হেরফের হতেই পারে। ছুটির পরিকল্পনা করার আগে স্কুলের নোটিশ বোর্ড, ডায়েরি বা অভিভাবক গ্রুপ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। একই কথা প্রযোজ্য কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউশনের ক্ষেত্রেও — এগুলো সাধারণত স্কুলের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে বন্ধ থাকে, তবে সব জায়গায় নিয়ম এক নয়।


সরকারি অফিস-আদালত: সাধারণ ছুটি (২১ অক্টোবর) ও নির্বাহী আদেশে ছুটির (২০ ও ২২ অক্টোবর) দিনে সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলোতে (১৮, ১৯ অক্টোবর; ২৫ অক্টোবর; ৮ নভেম্বর) অফিস খোলা থাকবে, তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা পূর্বানুমতি নিয়ে এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন।


বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও জরুরি সেবা: বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও ব্যাংকে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক বন্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শাখা চালু থাকতে পারে; এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা যথারীতি চালু থাকবে। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা ছুটির দিনেও চালু থাকবে — এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ছুটিতে ভ্রমণ পরিকল্পনা

টানা পাঁচ দিনের (কারো কারো জন্য সাত দিনের) ছুটি মানে ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগ। পূজার ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এই সময়ে টিকিট ও হোটেলের চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি।


আগে থেকে বুকিং করুন। পূজার লম্বা ছুটিতে কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, রাঙামাটি, কুয়াকাটা ও সুন্দরবনের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে ভিড় বাড়ে কয়েক গুণ। ট্রেন, লঞ্চ ও বাসের টিকিটও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ছুটির অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে যাতায়াত ও থাকার বুকিং সেরে ফেলুন — শেষ মুহূর্তে গেলে দামও বেশি পড়বে, পছন্দের জায়গাও পাবেন না।


জনপ্রিয় গন্তব্য বেছে নিন বুদ্ধি করে। সমুদ্র ভালোবাসলে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, পাহাড় ভালোবাসলে বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, আর প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে সিলেটের জাফলং-বিছনাকান্দি বা সুন্দরবনের তিন দিনের প্যাকেজ ট্যুর দারুণ অপশন। ঢাকায় থাকলে পূজার কদিন ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির, বনানী ও উত্তরার বড় পূজামণ্ডপগুলোতে ঘুরে বেড়ানোই হতে পারে সেরা পরিকল্পনা — ভিড় এড়াতে সকালের দিকে বা সপ্তমী-অষ্টমীর বদলে ষষ্ঠী-নবমীতে যান।


বাজেট ও নিরাপত্তার খেয়াল রাখুন। ছুটির মৌসুমে সব জায়গায় দাম বাড়তি থাকে, তাই আগেই বাজেট ঠিক করে নিন। পরিবার নিয়ে গেলে হোটেলের নিরাপত্তা ও খাবারের মান যাচাই করে নিন। দূরের যাত্রায় পর্যাপ্ত নগদ টাকা ও জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখুন, আর যাত্রাপথে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — ছুটি শেষের এক দিন আগে ফিরে আসার পরিকল্পনা রাখুন, যাতে ফিরতি যাত্রার ভিড় ও ক্লান্তি এড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়।


পূজার কেনাকাটার পরিকল্পনাটাও ছুটির আগেই সেরে ফেলুন। নতুন জামাকাপড় ছাড়া বাঙালির পূজা অসম্পূর্ণ — আর পূজার ঠিক আগের সপ্তাহে মার্কেটগুলোতে ভিড় ও দাম দুটোই চরমে থাকে। অনলাইনে কেনাকাটা করলে ডেলিভারি সময় হাতে রেখে অর্ডার দিন, কারণ ছুটির মৌসুমে কুরিয়ার সার্ভিসেও বিলম্ব হয়। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য কেনাকাটায় আরামের বিষয়টাকে প্রাধান্য দিন — সারাদিন মণ্ডপে ঘোরার ধকল সামলাতে আরামদায়ক পোশাক ও জুতোই সবচেয়ে জরুরি।


যারা বিদেশে থাকা বাংলাদেশি — সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ভাইবোনেরা — এই সময়ে দেশে আসার টিকিটের দামও বাড়তি থাকে, তাই তারাও আগে থেকে বুকিং করে রাখলে ভালো করবেন।


দূরে কোথাও না গিয়ে বাড়িতে পূজা কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও আগেভাগে প্রস্তুতি নিন। পূজার কদিন গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য লঞ্চ ও ট্রেনের টিকিটের চাপ থাকে তুঙ্গে — বিশেষ করে ১৬–১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছাড়ার ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। অনলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে ভোরের দিকের স্লটে চেষ্টা করুন, আর লঞ্চের কেবিন লাগলে অন্তত দুই সপ্তাহ আগে বুকিং দিন। যারা সড়কপথে যাবেন, তারা যাত্রার দিন সকাল সকাল রওনা দিন — পূজার ছুটিতে মহাসড়কে যানজট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।


আর যারা ঢাকাতেই থাকছেন, তাদের জন্য পূজার ছুটি মানেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, স্বামীবাগ লোকনাথ মন্দির, বনানী ও উত্তরার বড় বড় পূজামণ্ডপ — প্রতিটিরই আলাদা সাজ ও আয়োজন থাকে। ভিড় এড়াতে চাইলে সপ্তমী-অষ্টমীর সন্ধ্যার বদলে ষষ্ঠীর দিন বা সকালের দিকে ঘুরতে যান; পরিবার নিয়ে গেলে মণ্ডপের আশপাশে খাবারের দোকান ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আগেই জেনে নিন।

পূজার ছুটি ২০২৬ নিয়ে প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. দুর্গাপূজার ছুটি ২০২৬ কয়দিন?

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুর্গাপূজায় মোট তিন দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে — ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী (নির্বাহী আদেশে ছুটি), ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী (সাধারণ ছুটি) এবং ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার (নির্বাহী আদেশে ছুটি, নতুন সংযোজন)। এর সঙ্গে ১৬–১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের বিরতি মিলছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি নিলে টানা সাত দিন ছুটি পেতে পারেন — যা এবারের পূজায় সবচেয়ে দীর্ঘ সম্ভাব্য বিরতি।


২. বিজয়া দশমীর সরকারি ছুটি কবে?

২০২৬ সালে বিজয়া দশমী পড়েছে ২১ অক্টোবর, বুধবার। এই দিনটি সরকারি ছুটির তালিকায় সাধারণ (গেজেটেড) ছুটি হিসেবে নির্ধারিত — অর্থাৎ সারা দেশের সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান এই দিন বন্ধ থাকবে। এটাই দুর্গাপূজার প্রধান সরকারি ছুটি (durga puja holiday)।


৩. পূজায় স্কুল কয়দিন বন্ধ থাকবে?

সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮ অক্টোবর রোববার থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ শিক্ষার্থীরা টানা সাত দিনের বিরতি পাচ্ছে। কলেজগুলোতে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দশ দিনের ছুটি, আর মাদ্রাসাগুলোতে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি থাকবে।


৪. লক্ষ্মীপূজার ছুটি ২০২৬ কবে?

লক্ষ্মীপূজার ছুটি ২০২৬ পড়েছে ২৫ অক্টোবর, রবিবার। সরকারি ছুটির তালিকায় এটি হিন্দু পর্বের ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে রাখা হয়েছে — অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীরা পূর্বানুমতি নিয়ে এই দিন ছুটি নিতে পারবেন। বিদ্যালয় ও কলেজের ছুটির তালিকায় অবশ্য এই দিনটি আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


৫. কালীপূজা বা দীপাবলির ছুটি কবে?

২০২৬ সালে শ্যামাপূজা (কালীপূজা/দীপাবলি) পড়েছে ৮ নভেম্বর, রবিবার। এটিও সরকারি ছুটির তালিকায় হিন্দু পর্বের ঐচ্ছিক ছুটি — সবার জন্য সাধারণ ছুটি নয়। তবে দিনটি রবিবার হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই এমনিতেই সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।


৬. ঐচ্ছিক ছুটি কী, কারা এই ছুটি পাবেন?

ঐচ্ছিক ছুটি হলো নিজ নিজ ধর্মের উৎসব-পার্বণে সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ছুটি। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী একজন কর্মচারী বছরে নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারেন, যার জন্য বছরের শুরুতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হয়। এই ছুটি সাধারণ ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়।


৭. পূজার ছুটিতে ব্যাংক খোলা থাকবে কি?

সরকারি ছুটির দিনগুলোতে (২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শাখা বা জরুরি সেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবা ছুটির দিনেও যথারীতি চালু থাকবে।


৮. puja holiday 2026 bangladesh — এক নজরে পুরো ছুটির হিসাব কী?

এক লাইনে বললে — সরকারি অফিসে ২০ অক্টোবর (মঙ্গল, নবমী) নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর (বুধ, বিজয়া দশমী) সাধারণ ছুটি, ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতি) নির্বাহী আদেশে ছুটি; সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিন। স্কুলে ১৮–২২ অক্টোবর পাঁচ দিন, কলেজে ১৮–২৯ অক্টোবর দশ দিন, মাদ্রাসায় ২০–২২ অক্টোবর তিন দিন। লক্ষ্মীপূজা ২৫ অক্টোবর (রবি) ও কালীপূজা ৮ নভেম্বর (রবি) ঐচ্ছিক ছুটি। পূজার ছুটি ২০২৬-এর এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন আগেভাগেই।


মন্তব্য করুন