Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের একজন কৃষকের হাতে তৈরি হয়েছিল এমন এক প্রযুক্তি, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের একজন কৃষকের হাতে তৈরি হয়েছিল এমন এক প্রযুক্তি, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। 


১৯৭০ সালের দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কৃষক নরেন্দ্রনাথ দেব নিজের প্রয়োজন থেকেই তৈরি করেন পা দিয়ে চালানো একটি সেচ পাম্প। মানুষের শরীরের ওজন কাজে লাগিয়ে পা দিয়ে চাপ দিলেই নলকূপ থেকে পানি ওঠানো যেত। বিদ্যুৎ বা ডিজেল কোনোটিরই প্রয়োজন হতো না। সাধারণ মানুষের কাছে এটি পরিচিতি পায় ঢেঁকি কল ও প্যাডেল পাম্প নামে।


সে সময় সাধারণ কৃষকদের জন্য ডিজেল চালিত পাম্প কেনা ও চালানো ছিল বেশ ব্যয়বহুল। বলতে গেলে এগুলো ক্রয় করাই ছিল কৃষকদের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে হাত দিয়ে নলকূপ থেকে পানি তোলাও ছিল অনেক কষ্টসাধ্য। ঐসময় নরেন্দ্রনাথের তৈরি এই পাম্প অল্প খরচে সেচ দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করে।


পরবর্তীতে এই প্রযুক্তির প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়। মূল নকশাকে ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় উপকরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাম্পটি তৈরি ও ব্যবহার করা শুরু হয়। নরওয়েজিয়ান প্রকৌশলী গুনার বার্নেস এবং মার্কিন প্রকৌশলী ড্যান জেনকিন্স আরও আধুনিক রূপ দেন। নব্বইয়ের দশকে ভারত ও নেপালসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে।


এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও প্যাডেল পাম্পের ব্যবহার শুরু হয়। বিশেষ করে যেখানে বিদ্যুৎ বা ডিজেল সহজলভ্য ছিল না, সেখানে কম খরচে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে এই প্রযুক্তি।


বাংলাদেশের এক সাধারণ কৃষকের মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া একটি সহজ পদ্ধতি এভাবেই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র কৃষকদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে ওঠে।



মন্তব্য করুন

ব্লগ