সহকারী শিক্ষক
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:৫৫ অপরাহ্ণ
অসীম নীল আকাশের ষূণ্যতায়
অসীম নীল আকাশের শূণ্যতায়
সেদিন স্কুল ছুটি হতে আর বেশি দেরি ছিল না। ঠিক এমন সময় হঠাৎ ফুলির মনটা কেমন যেন খারাপ হয়ে গেল। চুপচাপ বসে আছে। কারও সঙ্গে কথা বলছে না। চোখ দুটো ভিজে উঠেছে।
হঠাৎ ক্লাসের স্যার ওর চোখের তাকিয়ে দেখলেন। বললেন,
— তুমি কাঁদছ কেন?
ফুলি কোনো উত্তর দিল না। শুধু মাথাটা নিচু করে বসে রইল।
স্যার এবার পাশের বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করলেন,
— ও কাঁদছে কেন?
বান্ধবী একটু থেমে ধীরে ধীরে বলল,
— একটু পরেই তো স্কুল ছুটি হবে। আমাদের সবাইকে নিতে কেউ না কেউ আসবে। কারও বাবা আসবে, কারও মা, কারও দিদি, কারও ঠাম্মা...
কথাগুলো বলতে বলতে মেয়েটার গলাটাও ভারী হয়ে এল।
তারপর সে ফুলির দিকে তাকিয়ে বলল,
— কিন্তু ওকে নিতে কেউ আসবে না।
ওর বাবা আসবে না।
ওর মা আসবে না।
ওর দিদি মা আসবে না।
ওর ঠাম্মাও আসবে না।
ওর জন্য স্কুলের গেটের সামনে কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে না।
কেউ দূর থেকে হাত নেড়ে বলবে না—
‘ফুলি, আয় মা।’
ফুলি শুধু বসে থাকবে।
একসময় একে একে সবাই চলে যাবে।
স্কুলের বারান্দা ফাঁকা হয়ে যাবে।
গেটের বাইরে মানুষের ভিড় কমে আসবে।
আর ফুলি?
ওর কেউ আসবে না।
ওর জন্য থাকবে শুধু দূর আকাশের ওই অসীম নীল সৌন্দর্য—
আর সেই আকাশের নিচে এক ছোট্ট শিশু,
যে প্রতিদিন একটু একটু করে বুঝতে শিখছে—
কিছু কিছু অপেক্ষার শেষে
কেউ আসে না।
শুধু সন্ধ্যা নামে।
১৮
২৮ মন্তব্য