ইবতেদায়ী প্রধান
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইবতেদায়ী প্রধান
ষষ্ঠ শ্রেণি, বিষয়: আকাঈদ ও ফিকহ, তৃতীয় ভাগ, আল আখলাক (اَلْأَخْلَاقُ), প্রথম অধ্যায়, উত্তম চরিত্র (اَلْأَخْلَاقُ الْحَسَنَةُ), · দ্বিতীয় পাঠ,’মুয়ানাকা’ (اَلْمُعَانَقَةُ)
আজকের বিকেলটা ভারী অদ্ভুত। আকাশে মেঘ জমেছে, অথচ বৃষ্টি হচ্ছে না। ঝিরঝিরে ঠান্ডা বাতাসে বারান্দায় বসে এক কাপ লিকার চায়ে চুমুক দিচ্ছি। ঠিক তখনই চোখ পড়ল রাস্তার ওপারে।
এক ছোকরা অনেকদিন পর দূর সফর থেকে ফিরে এসেছে। তাকে দেখেই মাদ্রাসার আর এক তরুণ বন্ধু ছুঁড়ে দিল মিষ্টি এক সালাম। সালাম ও মুসাফাহার পরেই দুজনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। কী পরম মমতায় বুকের সাথে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করল! দৃশ্যটা দেখতে দেখতে আমার চোখের কোণটা কেমন যেন ভিজে উঠল।
এই যে ভালোবাসার টানে একে অপরের বুকের সাথে বুক মেলানো, এর একটা বেশ চমৎকার আরবি নাম আছে, ’মুয়ানাকা’ (اَلْمُعَانَقَةُ)। শব্দটা শুনলেই বুকের ভেতরে কেমন যেন এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, তাই না? ‘মুয়ানাকা’ (اَلْمُعَانَقَةُ) শব্দটি আরবি, যার সহজ ও বাংলা অর্থ হলো ঘাড়ে ঘাড় লাগানো বা কোলাকুলি করা।
একজন মুসলমান যখন আরেকজন মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন সালাম ও মুসাফাহা করার পর এই যে সুন্নতি কাজ, মুয়ানাকা করা, এর জাদু কিন্তু অসাধারণ! যখন দুজন মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, তখন তাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা হিংসা, বিদ্বেষ আর অভিমানের সব কালো মেঘ এক নিমেষেই উধাও হয়ে যায়। অন্তরে সৃষ্টি হয় গভীর এক মুহাব্বত ও ভালোবাসা।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনেও কিন্তু এমনই এক মায়াময় ঘটনা ঘটেছিল। আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, সাহাবি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.) যখন এক দূর সফর থেকে ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়লেন, প্রিয় নবীজি (সা.) নিজ হাতে দরজা খুলে দিলেন। তারপর পরম ভালোবাসায় তাকে জড়িয়ে ধরে ‘মুয়ানাকা’ (কোলাকুলি) করলেন এবং মাথায় ও গালে চুমু খেয়ে আদর করলেন (তিরমিযী ও মিশকাত)।
চিন্তা করে দেখো তো, কত নিবিড় ভালোবাসা ছিল সেই যুগে! একইভাবে হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর সাথে যখন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.)-এর দেখা হয়েছিল, তিনিও কত আনন্দের সাথে মুয়ানাকা করেছিলেন (আল আদাবুল মুফরাদ, ২৩৭)।
ঈদের দিনে কিংবা কোনো শুভ সমাবেশে যখন ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় সবাই ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে, তখন পৃথিবীর সব বৈষম্য মুছে যায়। অনেক দূরের পর মানুষও এক মুহূর্তে আপন হয়ে যায়। হৃদয়ে জাগ্রত হয় সত্যিকারের ভ্রাতৃত্ববোধ। ইসলাম যে শান্তি, ঐক্য ও সাম্যের ধর্ম, মুয়ানাকা তার এক জীবন্ত ও বাস্তব প্রমাণ।
তাই আমার প্রিয় লক্ষ্মী ছোট বন্ধুরা, সহপাঠী ও প্রিয়জনদের সাথে দেখা হলে কেবল মুখের কথায় নয়, সুন্নাহ মেনে ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে ধরো। দেখবে, দুনিয়াটা কত স্নিগ্ধ আর সুন্দর হয়ে উঠেছে!
১৮
২৮ মন্তব্য