সহকারী অধ্যাপক
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
কিয়ামতের মহাদিন -মোঃ মুজিবুর রহমান
কিয়ামতের মহাদিন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যাঁর কৃপায় প্রাণে জাগে আশার নবোদয়,
যাঁর দানে জীবন ভরে শান্তি ও নির্ভয়;
সেই মহান আল্লাহর নামে করি আজ স্মরণ,
তাঁরই হুকুমে জাগে প্রাণ, তাঁরই বিধান জীবন।
কিয়ামতের মহাদিন হবে—সত্য এ অমোঘ,
শেষ হবে দুনিয়ার মেলা, মুছে যাবে ভোগ।
পৃথিবীর সব অহংকার হবে সেদিন ক্ষয়,
আল্লাহরই সামনে গিয়ে দাঁড়াবে মানবময়।
আজ যে মানুষ দম্ভ করে—‘আমিই সবকিছু’,
কাল সে হবে নীরব, থাকবে না তার কিছু।
ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, ক্ষমতা, পরিচয়—
সব ফেলে একা দাঁড়াতে হবে, থাকবে শুধু কর্মময়।
কিয়ামতের দিন আসবে—এ সত্য অটল,
মিথ্যা নয়, কল্পনা নয়, সত্য অবিচল।
যে দিন হবে হিসাব-নিকাশ, খুলবে কর্মখাতা,
গোপন যত কাজ ছিল—সব হবে প্রকাশতা।
মানুষ তখন বুঝবে এসে জীবনেরই দাম,
কোন পথে সে হেঁটেছিল, কী ছিল তার কাম।
নফসে লাওয়ামা জাগে—‘কেন করলে ভুল?’
বিবেক তখন বলে উঠবে—‘ফিরে চলো মূল।’
আজই যদি জাগে চেতনা, আজই যদি মন,
তওবার পথে ফিরতে পারে পাপী আপনজন।
মৃত্যু এসে দরজায় কড়া নাড়ার আগেই ভাই,
আল্লাহর পথে ফিরে এসো—সময় বেশি নাই।
মানুষ বলে—‘মাটির পরে হাড় হবে যে ক্ষয়,
আবার কি সে মানুষ হবে? সম্ভব কি তা হয়?’
আল্লাহ বলেন—‘আমি পারি, এতে সন্দেহ কী?
আঙুলের ডগা পর্যন্ত গড়তে পারি ঠিকই।’
যিনি প্রথম মানুষকে দিলেন প্রাণের আলো,
শূন্য থেকে সৃষ্টি করলেন দেহটি কত ভালো,
তাঁর কাছে কি কঠিন হবে মৃতকে জীবিত করা?
যিনি সৃষ্টি করেন প্রথম, পারেন আবার গড়া।
মানুষ নিজের সৃষ্টির দিকে একটু তাকিয়ে দেখ,
ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে হলো দেহের কত রেখ।
অস্থি-মাংস, রক্ত-মজ্জা, চোখের দৃষ্টি দান—
সবই তাঁর কুদরত, তাঁর অসীম জ্ঞান।
তাই কিয়ামত সত্য—এ বিশ্বাস রাখো মনে,
পুনরুত্থান হবেই একদিন, রবের বিধানে।
মানুষ বলে—‘কিয়ামত হবে কোন সে দিনে?’
কেউ বা হাসে, কেউ বা ভাবে—‘এসব কথা শুনে
জীবন কেন থামিয়ে রাখি? সামনে সময় ঢের,
পরে আমি ভালো হব, এখন চলুক ফের।’
কিন্তু কে জানে কোন সকালে থেমে যাবে প্রাণ?
কখন এসে দাঁড়াবে কাছে মৃত্যুর আহ্বান?
কাল যে হবে—তার নিশ্চয়তা কারও হাতে নেই,
আজকের দিনই সুযোগ, আগামীকাল জানা নেই।
কিয়ামতের তারিখ জানাই মূল কথা নয়,
মূল কথা—সে দিনের জন্য প্রস্তুতি কত হয়।
হিসাবের দিন আসবে যখন—থাকবে না কোনো ছল,
আজই তাই সংশোধন করো নিজের জীবনচল।
চোখ হবে বিস্ময়ে স্থির, স্তব্ধ হবে দৃষ্টি,
চন্দ্র হবে অন্ধকার, নিভে যাবে তার সৃষ্টি।
সূর্য-চন্দ্র একত্র হবে, বদলাবে বিশ্বরূপ,
ভয়ে তখন কাঁপবে মানুষ, হারাবে সব সুখ।
মানুষ বলবে—‘পালাব কোথায়? কোথায় আছে ঠাঁই?’
কণ্ঠ তখন উত্তর দেবে—‘আজ তো কোনো আশ্রয় নাই।’
দুনিয়ার যত দুর্গ ছিল, হবে সবই শূন্য,
আল্লাহ ছাড়া সেদিন কেউ হবে না সহায় পূর্ণ।
সেদিন কেবল রবের কাছেই মানুষের প্রত্যাবর্তন,
তাঁরই হাতে চূড়ান্ত বিচার, তাঁরই হাতে পরিণতি-নির্ধারণ।
সেদিন মানুষ জানবে নিজের আগের-পরে কাজ,
জীবনের প্রতিটি পথে কী ছিল তার সাজ।
কী বলেছিল মুখে সে আর কী ছিল অন্তরে,
সবই প্রকাশ পাবে সেদিন আল্লাহরই দরবারে।
মানুষ তখন অজুহাতের পাহাড় তুলবে যত,
নিজের কর্ম নিজেই জানে—গোপন থাকে কত?
চোখের ভাষা, মনের কথা, গোপন রাতের কাজ,
সবই তো জানেন আল্লাহ—তাঁর কাছে কী লাজ!
আজ যে পাপ লুকিয়ে করি মানুষের চোখ এড়িয়ে,
ভেবে দেখি—রব তো দেখেন, কোথায় যাব সরে?
তাই গোপন-প্রকাশ্য সব পাপ থেকে ফেরো,
আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে সত্যের পথে চলো।
কুরআন হলো হিদায়াতের অমলিন আলোর ধারা,
অন্ধকারে পথ দেখায়, সত্যের দেয় ইশারা।
এ কিতাবের প্রতিটি বাণী হৃদয়ে নাও ধরে,
জীবনটাকে সাজাও তারই নির্দেশের ঘরে।
শুধু সুরে তিলাওয়াত নয়—অর্থ বোঝা চাই,
কুরআনেরই শিক্ষা নিয়ে জীবন গড়া চাই।
সত্য বলি, ন্যায় করি, অন্যায় থেকে ফিরি,
রবের সন্তুষ্টি অর্জনে প্রতিদিন পথ ধরি।
যে হৃদয়ে কুরআন জাগে, সে হৃদয় হয় নির্মল,
তার জীবনে সত্যের আলো করে পথ উজ্জ্বল।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন বড় মধুর লাগে,
মানুষ তাই আখিরাতের কথা ভুলে যায় রাগে।
ধন চাই, মান চাই, চাই ক্ষমতার আসন,
ভুলে যায়—সব ছেড়ে যেতে হবে একদিন জীবন।
দুনিয়া থাকবে, দুনিয়ার কাজও করতে হবে ঠিক,
হালাল পথে জীবন গড়ো, এটাই হবে দিক।
কিন্তু দুনিয়া যেন না হয় জীবনেরই লক্ষ্য,
আখিরাতের সফলতাই হোক জীবনের প্রত্যক্ষ।
সম্পদ রাখো হাতে, কিন্তু হৃদয়ে নয় তার স্থান,
আল্লাহর ভালোবাসাই হোক মুমিনের প্রাণ।
সেদিন কত মুখ হবে দীপ্ত, উজ্জ্বল, সুন্দর,
রবের রহমত পেয়ে তারা হবে আনন্দভর।
তারা রবের দিকে তাকাবে—মহাসৌভাগ্য সেই,
দুনিয়ার কষ্ট ভুলে যাবে, থাকবে কোনো ভয় নেই।
যারা ঈমান নিয়ে বেঁচে সত্যের পথে চলে,
সালাত কায়েম করে তারা, আল্লাহকে মনে তোলে;
অন্যায়ের পথ এড়িয়ে চলে, করে নেক আমল,
আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহা সফল।
মুখের সৌন্দর্য ক্ষণিক—চরিত্রের সৌন্দর্য চির,
তাকওয়ার আলোয় উজ্জ্বল হয় মুমিনের অন্তর নীর।
আরও কত মুখ হবে সেদিন বিষণ্ন, মলিন,
ভয়াবহ পরিণতির চিন্তায় হবে তারা ক্ষীণ।
বুঝবে তখন—সামনে এসেছে কঠিন সেই কাল,
যে জীবন ছিল খেলায় মত্ত, হারাল সেই জাল।
সত্য জেনেও যারা ফিরেছে সত্যের পথ থেকে,
অহংকারে যারা চলেছে আল্লাহর বিধান ঠেলে,
তারা সেদিন বুঝবে এসে ভুল ছিল পথচলা,
কিন্তু তখন আর ফিরবে না হারানো সেই বেলা।
আজই তাই অনুতপ্ত হও, আজই করো তওবা,
রবের রহমত বিস্তৃত—ফিরে এসো তাঁরই সেবা।
প্রাণ যখন কণ্ঠাগত, থেমে আসে শ্বাস,
চারদিকে তখন ছড়িয়ে পড়ে বিদায়েরই আভাস।
মানুষ তখন বুঝতে পারে—শেষ হলো পথ,
ফিরে যাওয়ার সময় নেই আর, থেমে গেল রথ।
যে ধন নিয়ে গর্ব ছিল, পড়ে রইল ঘরে,
যে ক্ষমতা ছিল হাতে, রইল অন্যের তরে।
প্রিয়জনেরা পাশে থাকবে, কিন্তু যাবে না সাথি,
মানুষ যাবে একাই শেষে—সঙ্গে থাকবে কর্মপাথি।
মৃত্যু তাই শেষ নয় শুধু—পরবর্তী পথের দ্বার,
আজকের কর্ম ঠিক করে দেবে আগামী পারাপার।
যে সালাতকে তুচ্ছ করে, যে সত্য থেকে ফেরে,
সে নিজেরই ক্ষতি করে অন্ধকারের ঘরে।
সালাত হলো মুমিনের জীবনের এক স্তম্ভ,
রবের স্মরণে মনকে রাখে পবিত্র ও সংযম।
সিজদাতে মানুষ শেখে—‘আমি রবের বান্দা’,
অহংকারের দেয়াল ভেঙে হয় অন্তর শান্ত।
সালাত মানুষকে শেখায় ধৈর্য, শুদ্ধতা, ভয়,
রবের পথে চললে অন্তরে সত্যিকারের জয়।
তাই সালাতকে জীবনের শ্রেষ্ঠ আমল করে নাও,
আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে প্রতিদিন জাগাও।
মানুষ কত দম্ভ করে—‘আমি বড়, আমি শ্রেষ্ঠ’,
অথচ তার শুরু ছিল ক্ষুদ্র এক সৃষ্টির বীজ।
রব তাকে গড়েছেন পরে সুন্দর অবয়বে,
জ্ঞান দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন, রেখেছেন তাঁর কৃপায়।
যে নিজের শুরু ভুলে যায়, ভুলে যায় পরিণাম,
তার হৃদয়ে জন্ম নেয় অহংকারের বিষধাম।
পদ-মর্যাদা, ধন-সম্পদ—সবই ক্ষণিক দান,
আল্লাহ চাইলে মুহূর্তে বদলে যায় সম্মান।
তাই মানুষ বড় নয় শুধু সম্পদ বা পদে,
মানুষ বড় হয় তাকওয়া, চরিত্র ও নেক আমলে।
মানুষ কি ভাবে—‘এ জীবন এমনি পেলাম আমি?’
‘কোনো হিসাব হবে না শেষে, শেষ হবে সব নামই?’
না, মানুষকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি অর্থহীনভাবে,
তার জীবন পরীক্ষা—কাজের হিসাব হবে তবে।
তুমি কেন এলে পৃথিবীতে—একবার ভাবো ভাই,
জীবনের এ মূল্যবান সময় বৃথা নষ্ট নাই।
রবের বান্দা হয়ে বাঁচো, তাঁরই বিধান মানো,
সত্য, ন্যায়, সৎকর্ম দিয়ে জীবনখানি সাজাও।
জীবন যদি আমানত হয়, আমানত রেখো শুদ্ধ,
আখিরাতের সফলতার জন্য হও দৃঢ় ও দৃপ্ত।
ক্ষুদ্র এক বীর্যবিন্দু থেকে শুরু হলো দেহ,
আল্লাহ গড়লেন মানুষকে—কী অপূর্ব সে দেহ!
রক্ত-মাংস, অস্থি-মজ্জা, হৃদয়, চোখ ও প্রাণ,
সবই তাঁর সৃষ্টিশক্তির বিস্ময়কর দান।
নর ও নারী জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করলেন যিনি,
তাঁরই কুদরত সাক্ষ্য দেয়—তিনি সর্বশক্তিময় ধনী।
যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন শূন্যেরই ভুবন,
মৃতকে আবার জীবিত করা তাঁর জন্য কী কঠিন?
তাই হৃদয়ে রাখো দৃঢ় পুনরুত্থানের বিশ্বাস,
কিয়ামতের সত্যে জাগুক জীবনেরই নিঃশ্বাস।
আজ রাতে নিজেকে জিজ্ঞেস করো—কী করেছি আমি?
কতটা ছিল রবের পথে আমার জীবনখানি?
কত সালাত ঠিক করেছি, কত গুনাহ ছেড়েছি,
কত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি?
কথায় কারও মন ভেঙেছি? করেছি কি অবিচার?
কারও চোখে জল এনেছি? করেছি কি অহংকার?
হক নষ্ট করে কি আমি গড়েছি নিজের ঘর?
তওবার অশ্রু ঝরেছে কি অন্তরেরই পর?
নিজের ভুল নিজে দেখো, অন্যের দোষ নয়,
নিজেকে সংশোধন করাই মুমিনের বড় জয়।
পাপ যতই বড় হোক, তওবার পথ খোলা,
আল্লাহর রহমতের দুয়ার যায় না কখনো ভোলা।
সত্য মনে ফিরে এসো, ছেড়ে দাও অপরাধ,
রবের কাছে ক্ষমা চেয়ে করো অন্তর শুদ্ধ।
মানুষ ভুল করবেই—এটাই মানবজীবন,
কিন্তু ভুলের পরে ফিরে আসাই মুমিনের গুণ।
অহংকারে পাপ আঁকড়ে থেকো না আর ভাই,
রবের দিকে ফিরে এলে রহমতের শেষ নাই।
আজই যদি চোখের জলে ক্ষমা চাও রবের কাছে,
আগামী দিনের জীবন হবে আলোর পথে সাজে।
আল্লাহর হক যেমন আছে, মানুষেরও হক,
অন্যের অধিকার নষ্ট করলে মুছে না সেই দাগ।
সম্পদ, জমি, আমানত, কথা কিংবা সম্মান—
কোনো হকই নষ্ট কোরো না, রক্ষা করো তা প্রাণপণ।
দুর্বল মানুষের কান্না যেন না ওঠে তোমার কারণে,
অসহায়ের হক ফিরিয়ে দাও ন্যায়ভরা মনে।
জুলুম করে কেউ কখনো সফল হতে পারে না,
আজ না হোক কাল—তার হিসাব এড়ানো যায় না।
কিয়ামতের ময়দানে হবে ন্যায়েরই বিচার,
তাই আজই ন্যায়কে ধরো—এটাই মুক্তির দ্বার।
দুনিয়া ছেড়ে পালানো নয় ইসলামের শিক্ষা,
বরং হালাল পথে জীবন গড়া—এটাই তার দীক্ষা।
কর্ম করো, জ্ঞান অর্জন করো, পরিবারকে ভালোবাসো,
সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াও।
সম্পদ অর্জন করো, কিন্তু হারাম পথে নয়,
ক্ষমতা পেলে মানুষের সেবা করো—জুলুম যেন না হয়।
দুনিয়াকে বানাও সেতু আখিরাতের তরে,
নেক আমলের বীজ বুনে দাও জীবনেরই ঘরে।
আজকের প্রতিটি ভালো কাজ হোক আগামী দিনের আলো,
রবের সন্তুষ্টি অর্জন করাই জীবনের সবচেয়ে ভালো।
একদিন আসবে সেই দিন—নিশ্চিত তার আগমন,
থাকবে না তখন গোপন কোনো কর্ম বা গোপন মন।
কেউ কারও বোঝা বহন করবে না সেদিন আর,
প্রত্যেকে নিজের কর্ম নিয়ে দাঁড়াবে রবের দ্বার।
তাই এখনই প্রস্তুত হও, সময় থাকতে ভাই,
মৃত্যুর আগে জীবনটাকে সত্যের পথে চাই।
সালাত, তওবা, তাকওয়া, সততা—হোক জীবনের সাথি,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় হোক প্রতিটি দিন-পথচারি।
কিয়ামতের কঠিন দিনে যে পাবে রবের দয়া,
সেই তো সত্য সফল—সার্থক তার জীবনময় কায়া।
হে মানুষ, আর কত ঘুমাবে দুনিয়ার মোহে ডুবে?
কতদিন ভুলে থাকবে রবকে নিজের হৃদয় ভুবনে?
সময় দ্রুত চলে যায়, ফিরে আসে না কাল,
আজ যে সুযোগ হাতে আছে—কাল হয়তো হবে না আর।
ধন যাবে, দেহ যাবে, যাবে প্রিয়জন,
থাকবে শুধু কর্ম আর আল্লাহরই জ্ঞান।
তাই হৃদয়ে ঈমান রাখো, আমলে হও খাঁটি,
সত্যের পথে জীবন দাও, তবেই হবে মুক্তি।
কিয়ামতের মহাদিনে মুখ যেন না হয় মলিন,
রবের রহমত পেয়ে হোক পরিণতি সুমহান, রঙিন।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ, তুমি আমাদের রব,
তোমার দয়া ছাড়া আমরা অতি দুর্বল সব।
দুনিয়ার মোহে যেন হারিয়ে না ফেলি পথ,
কুরআনের আলোয় দাও জীবন গড়ার শপথ।
ঈমান দাও দৃঢ় করে, সালাত করো কবুল,
তওবার অশ্রু দাও, ক্ষমা করো সব ভুল।
অন্যের হক রক্ষা করার তাওফিক দাও প্রাণে,
সত্য ও ন্যায়ের পথে রাখো প্রতিটি টানে।
মৃত্যুর ক্ষণে ঈমান রেখো আমাদের অন্তরে,
কবরকে শান্তিময় করো তোমারই রহমতে।
কিয়ামতের কঠিন দিনে দিও নিরাপদ ছায়া,
হিসাবের সময় ক্ষমা করে দিও সব মায়া।
যেদিন মানুষ ছুটবে ভয়ে আশ্রয়েরই তরে,
সেদিন আমাদের রেখো তোমার রহমতের ঘরে।
ঈমানদার বান্দাদের দলে রেখো আমাদের নাম,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ কাম।
হে আল্লাহ, কুরআনের আলোয় জীবন করো ভরপুর,
সত্যের পথে রাখো আমাদের—করো অন্তর নূর।
দুনিয়াতে নেক জীবন, আখিরাতে দাও জয়,
তোমার রহমত পেয়ে যেন হৃদয় ভরে নির্ভয়।
৮
৮ মন্তব্য