সহকারী শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুভূতি, মোঃ খালিদুর রহমান
৫ ই অক্টোবর
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুভূতি।
শিক্ষা এবং শিক্ষক যেন একে অন্যের পরিপূরক।শিক্ষার্থীর জীবনে পিতামাতার পরেই শিক্ষকের স্থান।অনেক ক্ষেত্রে পিতামাতার চাইতে বেশি শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারেন একজন শিক্ষক। নিঃসন্দেহে শিক্ষকতা এক মহান পেশা।এটা একটা ব্রত।এটা অবশ্যই শুধুমাত্র চাকুরী নয়।দশ টা চারটা ডিউটি সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।কিন্তু স্কুলে,শ্রেনী কক্ষে একজন শিক্ষক শুধুমাত্র চাকুরী করেননা। ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে অনেক কিছুই একজন শিক্ষককে করতে হয়।
শ্রেনীকক্ষ ব্যাবস্থাপনা,শিক্ষার্থীদের চাহিদা নিরুপন এবং সে অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন, পাঠদান,পাঠগ্রহণ, মূল্যায়ন সব মিলিয়ে শ্রেনীকক্ষ একজন শিক্ষকের জন্য একটি যুদ্ধক্ষেত্র। শিক্ষকের নিজস্ব আবেগ নিয়ন্ত্রন একটি সুকঠিন চেলেঞ্জ।শিক্ষক প্রশিক্ষনের স্বল্পতা,শ্রেনীকক্ষে উপকরণের অভাব,প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা,অভিভাবকের অসচেতনতা এবং সর্বোপরি সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষকের অদক্ষতা৷ সব মিলিয়ে অনেক সীমাবদ্ধতা।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অদূরদর্শীতারতো কোন সীমা পরিসীমাই নেই। শিক্ষা নিয়ে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা কমই দৃষ্টিগোচরিত হয়।
এই যে জেনারেল এডুকেশন! এর ভবিষ্যত কি? যে শিক্ষা প্রজন্মকে শুধুমাত্র চাকুরী পাবার মানসিকতা তৈরী করে দেয়, একজন আদর্শ,সফল, ইতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন সুনাগরিক করে গড়েনা,সেই শিক্ষার ভবিষ্যৎ কি?
আমরাতো এখনও বৃটিশদের তৈরী করে দেয়া কারিকুলামেই পরে আছি।
পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেই মান্ধাত্বার আমলেই পরে আছি।
একটা নতুন কারকুলাম যদিওবা এলো, শিক্ষকরাও এই কারিকুলাম গ্রহন করলোনা আর সরকার পতন হয়ে গেল। কে শোনে কার কথা।
এক নাস্তিক, সে ঘোরতর নাস্তিক! সে কোন মতেই আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা।ঘটনাচক্রে সে বাংলাদেশে এসেছে। মাত্র ৬ মাসের মাথায় সে আস্তিক হয়ে গেল।
তাকে প্রশ্ন করা হল,আপনিতো একজন নাস্তিক ছিলেন, কি মনে করে আস্তিক হয়ে গেলেন?
সে বলল," আল্লাহ একজন অবশ্যই আছেন।না হলে এই দেশটা চলে কিভাবে?"
আমরা সত্যিই বিশৃঙ্খল জাতি।আমাদের মধ্যে সততা,ধার্মিকতা,ন্যায়পরায়নতা,দেশপ্রেম,মানবিক মূল্যবোধের প্রচন্ড অভাব।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পড়া মুখস্থ করানোর পরিবর্তে এই গুণগুলোর চর্চা করানোটা বেশি জরুরী।
অজপাড়াগাঁয়ের স্কুলে মাস্টারী করার বদৌলতে গ্রামের ছেলেমেয়েদের সাথে ওঠাবসা।এরা টোটালি পড়াশোনা বাদ দিয়েছে।একটা ক্লাশে সর্বোচ্চ ২/৩ জনের পড়ার সাথে কিছুটা সম্পর্ক রয়েছে।বাকীগুলো আসে আর যায়। কি করবেন? শাসন? নিষিদ্ধ! আদর! অকেজো!
এদের জন্যে প্রয়োজন হাতেকলমে শিক্ষা যা দিয়ে অন্তত পেটে ভাতে চলার যোগ্যতা টা হয়। না হলে এই যে সময়ক্ষেপন, এটিতো একেবারে নিস্ফল হয়ে যাবে।
সময়ের সাথে সাথে শিক্ষকতা হয়ে যাচ্ছে সবচাইতে চেলেঞ্জিং পেশা।মেধাবীরা এই পেশায় যোগদান করার প্রশ্নই ওঠেনা। কিন্তু মেধাবীরা ব্যাতীত এই সেক্টরকে উন্নত করাও অসম্ভব।
একটা হাইস্কুলে প্রধান থেকে শুরূ করে সহকারীরা পর্যন্ত সবাই যদি পিএইসডি হোল্ডার হয়,তাহলে পরিবেশটা কেমন দাড়াবে!
একজন সিম্পল মাস্টার্স আর পিএইচডি এর মধ্যে অবশ্যই তফাত বিদ্যমান। মাস্টার্সতো এখন কোন যোগ্যতাই নয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,শিক্ষার্থী, শ্রেনীকক্ষ,শিক্ষক,অভিভাবক,পরিবার, সমাজ এবং রাস্ট্র নিয়ে চাই প্রচুর গবেষনা। আর এই গবেষনালদ্ধ জ্ঞান,অভিজ্ঞতা বাস্তবায়নের জন্য চাই প্রশাসনিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা।
শিক্ষাব্যাবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ব্যাতিত জাতি কখনই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেনা।
মোঃ খালিদুর রহমান
সহকারী শিক্ষক
যোগিনীমুরা উচ্চ বিদ্যালয়
শেরপুর।
১৮
২৮ মন্তব্য