Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৭ অপরাহ্ণ

শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস ২০২৬: ইতিহাস, কর্মসূচি ও জাতীয় দিবস ঘোষণা | Abrar Fahad Day 2026


👉শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন


👉Abrar Fahad Day 2026


👉এক ক্লিকে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন










 























































































































































































 
































































































































































































 





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস ২০২৬: ইতিহাস, কর্মসূচি ও জাতীয় দিবস ঘোষণা | Abrar Fahad Day 2026

আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার — শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। মাত্র একুশ বছর বয়সে যে তরুণ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে ৭ অক্টোবর এখন বাংলাদেশের জাতীয় দিবস। এই দিনে সারাদেশে নানা কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শহীদ আবরার ফাহাদ কে ছিলেন, ৭ অক্টোবর ২০১৯-এ আসলে কী ঘটেছিল, কীভাবে ৭ অক্টোবর জাতীয় দিবস ঘোষণা হলো, আর ২০২৬ সালে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসের কর্মসূচি কী — সবকিছু বিস্তারিত জানুন এই পোস্টে।

কে ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদ

শহীদ আবরার ফাহাদ রাব্বি (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ – ৭ অক্টোবর ২০১৯) ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁর জন্ম কুষ্টিয়া জেলায়। বাবার নাম বরকত উল্লাহ, মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন। তাঁর ছোট ভাইয়ের নাম আবরার ফাইয়াজ।


শিক্ষাজীবনের শুরু কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে, পরে ভর্তি হন রাজধানীর নটর ডেম কলেজে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে। বুয়েটে তিনি থাকতেন শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে। পড়াশোনার পাশাপাশি দেশ ও সমাজ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন তিনি — নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতেন জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে। সেই লেখালেখিই একদিন তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৭ অক্টোবর ২০১৯: সেই মর্মান্তিক রাতের ঘটনা

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর আবরার ফাহাদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেন। দেশের স্বার্থ নিয়ে লেখা সেই স্ট্যাটাসটিই তাঁর জীবনের শেষ লেখা হয়ে থাকে।


স্ট্যাটাসের জের ধরে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতারা তাঁকে শিবির-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে অভিযুক্ত করে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে তাঁকে শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর ওপর চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পরে নিশ্চিত করা হয় যে, ভোঁতা জিনিস দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।


ঘটনার পরদিন, ৭ অক্টোবর ভোররাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেদিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরদিন তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


আবরার ফাহাদের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সারাদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সারাদেশের তরুণসমাজ রাস্তায় নেমে আসে বিচারের দাবিতে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতন-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই ঘটনা হয়ে ওঠে জাতীয় চেতনার এক বড় মাইলফলক।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার ও রায়

হত্যাকাণ্ডের পর মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।


রায়ে ২০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং আসামিরা আপিল করেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন।

মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার ও শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ

শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে একাধিকভাবে। ২০২৫ সালে তাঁকে মরণোত্তর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় — যা তাঁর আত্মত্যাগের জাতীয় স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় প্রতীক।


একই বছর, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা শহরের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে নামকরণ করা হয় শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে একটি সড়কের নাম তাঁর নামে রাখা এই ঘোষণা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাঁর স্মৃতি বহন করে যাবে।


তাঁর নিজ জেলা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে তাঁর কবর অবস্থিত। সেখানে প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবর জিয়ারত করা হয়। কুষ্টিয়ায় তাঁর স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগার।

৭ অক্টোবর জাতীয় দিবস: সরকারি ঘোষণা

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা আসে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয় — ৭ অক্টোবর ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন দুটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


ঘোষণা অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দিনটি শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি বিডিআর ট্র্যাজেডি (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) স্মরণে প্রতিবছর বিশেষভাবে পালন করা হবে। এই দুটি দিনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী পায় জাতীয় দিবসের মর্যাদা।


একই ঘোষণায় জানানো হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবন, অবদান এবং ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডার তৈরির কাজ চলছে। এই ক্যালেন্ডারে শুধু সাংস্কৃতিক উৎসবই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে — যার অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবর (আবরার ফাহাদ দিবস) ও ২৫ ফেব্রুয়ারি (বিডিআর ট্র্যাজেডি দিবস) স্থান পেয়েছে।


একটি বিষয় এখানে স্পষ্ট করে বলা দরকার — জাতীয় দিবস ঘোষণা হলেও এই দুটি দিনে সরকারি ছুটির বিষয়ে ঘোষণায় কোনো স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ, আপাতত ৭ অক্টোবর সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়নি; দিনটি বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হয়।

২০২৬ সালে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসের কর্মসূচি

২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয়ভাবে পালিত হতে যাচ্ছে দিনটি। ২০২৬ সালের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির ঘোষণা এখনো আসেনি — ঘোষণা এলে এই পোস্ট আপডেট করা হবে। তবে গত বছর ২০২৫ সালে যেভাবে দিনটি পালিত হয়েছিল, তার আলোকে ২০২৬-এর সম্ভাব্য কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


২০২৫ সালে ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকাসহ দেশের সব জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একযোগে প্রদর্শন করা হয় আবরার ফাহাদের সাহস আর সংগ্রামকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র "ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ"। ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে উদ্বোধনী আয়োজনে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠান "আবরার ফাহাদ: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের নয়া প্রতীক ও আমাদের সংস্কৃতি" অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত থেকে সন্তানের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক।


জেলা পর্যায়েও ছিল ব্যাপক আয়োজন। নীলফামারী, মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে "অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকাশের অন্তে" প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী হয়।


এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নানা আয়োজন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর উদ্যোগে আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেমিনার ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সিম্পোজিয়াম ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে "মতপ্রকাশ থেকে মৃত্যু: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও প্রতিরোধ" শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। কুষ্টিয়ায় তাঁর কবর জিয়ারত ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।


২০২৬ সালে জাতীয় দিবস হিসেবে দ্বিতীয়বার পালনের সময় অনুরূপ জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন প্রত্যাশিত। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখুন — ঘোষণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই পোস্টে ২০২৬-এর চূড়ান্ত কর্মসূচি যোগ করা হবে।

তাঁর স্মৃতি ও উত্তরাধিকার: কেন তিনি আজও প্রাসঙ্গিক

শহীদ আবরার ফাহাদ আজ শুধু একটি নাম নন — তিনি হয়ে উঠেছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক। তাঁর ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, "আবরার ফাহাদ কোনো একটি দলকে প্রতিনিধিত্ব করেননি। আবরার ফাহাদ সার্বভৌমত্বের প্রতীক।"


তাঁর আত্মত্যাগ তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়েছে — দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলার সাহস কতটা মূল্যবান। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য যাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছে, তাঁর স্মৃতি আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতন-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা। মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার, জাতীয় দিবসের মর্যাদা, রাজধানীর সড়কের নামে তাঁর নাম — সবই প্রমাণ করে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষকে জাতি কখনো ভোলে না।


সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শহীদ আবরার ফাহাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা — তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশপ্রেম, সততা ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার শপথই হোক এই দিবসের প্রকৃত উদযাপন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আবরার ফাহাদ কে ছিলেন?

শহীদ আবরার ফাহাদ রাব্বি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কুষ্টিয়ার সন্তান; কুষ্টিয়া জিলা স্কুল ও নটর ডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা করে বুয়েটে ভর্তি হন। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তিনি শহীদ হন।

আবরার ফাহাদ কবে ও কীভাবে মারা যান?

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে। ৭ অক্টোবর ভোররাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ির করিডোর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।

আবরার ফাহাদকে কেন হত্যা করা হয়েছিল?

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর তিনি ফেসবুকে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেই স্ট্যাটাসের জের ধরে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতারা তাঁকে শিবির-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে অভিযুক্ত করে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।

শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস কবে পালিত হয়?

প্রতিবছর ৭ অক্টোবর শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস পালিত হয় — এই দিনটি তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে তাঁর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী।

৭ অক্টোবর কেন জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়েছে?

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে ৭ অক্টোবর এবং বিডিআর ট্র্যাজেডি স্মরণে ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হবে।

শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসে কি সরকারি ছুটি আছে?

না, আপাতত এই দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয় দিবস ঘোষণার সময় ছুটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। দিনটি বিশেষ আয়োজন, আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে পালন করা হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কী হয়েছিল?

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায়ে ২০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট এই দণ্ড বহাল রাখেন।

আবরার ফাহাদের কবর কোথায়?

তাঁর কবর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে, তাঁদের পারিবারিক এলাকায়। প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকীতে সেখানে কবর জিয়ারত করা হয়।


মন্তব্য করুন

ব্লগ