সহকারী শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২১ অপরাহ্ণ
"শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের মর্যাদা সমুন্নত হোক "
“বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের মর্যাদা সমুন্নত হোক”
আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গৃহীত হয়। তারই প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো ৫ অক্টোবরকে “বিশ্ব শিক্ষক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে আজ অব্দি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিনটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়ে থাকে। দিনটি প্রতি বছর আসে আবার চলে যায়। দিনটিকে স্মরণীয় করতে আমরা নানা ধরনের ব্যানার,ফেস্টুন ও কর্মসূচির আয়োজন করে থাকি।
এই দিনটিকে আমরা কী সত্যিই বুকে ধারণ করতে পেরেছি? নাকি দিনটিকে শুধু ব্যানার,ফেস্টুন,র্যালি,কর্মসূচি ও বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি? যদি তাই না হয়ে থাকে তাহলে এই দিনটিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষকের অবস্থান হওয়ার কথা ছিলো মঞ্চের একেবারে সামনের সারিতে। আমরা কী তা করতে পেরেছি?
আমাদের সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে “শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড”। আর এই মেরুদন্ডের ভীত তৈরী করার গুরু দায়িত্ব থাকে একজন শিক্ষকের হাতে। যে শিক্ষকের নিজের মেরুদন্ডের হাড়ের ভীত নড়বড়ে, সে শিক্ষক কিভাবে একজন শক্ত মেরুদন্ডের মানুষ তৈরী করবে?
একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিতেই পাঠদান করে থাকেন না। তিনি মানুষকে মুক্তির স্বপ্ন দেখান, মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত করেন। একজন শিক্ষক ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও অর্থনীতিবিদ তৈরী করেন। কিন্তু যে শিক্ষকের নিজের অর্থনৈতিক দৈন্যদশা, নিজের বিবেকের আদালতে বারবার পরাজিত, তিনি কিভাবে দক্ষ অর্থনীতিবিদ ও বিজ্ঞ আইনজীবী তৈরী করবেন?
আজকে আমাদের সমাজে একজন শিক্ষকের অবস্থান কোথায়? অনেক শিক্ষককে আর্থিক অনটন, সামাজিক হেনস্থা ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হয়। ক্লাসের শেষে নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে প্রাইভেট, টিউশন করাতে হয়। একজন শিক্ষককে ক্লাসের বাইরে সমাজের মানুষের ব্যাঙ্গাত্মক “মাষ্টার মশাই” ডাক শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অথচ এই সমাজের মানুষ শিক্ষকদের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের আদর্শ মানুষ গড়ার স্বপ্ন দেখেন!
তাই সবশেষে বলতে চাই,” শিক্ষককের মর্যাদা সমুন্নত হোক”- এই স্লোগান শুধু ৫ই অক্টোবর ব্যানারে বা দেয়ালে লিখলেই হবে না, মর্যাদা সমুন্নত রাখতে শিক্ষকদের প্রয়োজন সামাজিক মর্যাদা ও সন্মান,আর্থিক নিরাপত্তা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে মানসম্মত প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা। যদি ছাত্র ও সমাজ শিক্ষকদের প্রাপ্য সন্মান দেয়, রাষ্ট্র শিক্ষককে তাঁর প্রাপ্য ন্যায্য পাওনা দেয়, তবেই এই জাতির মেরুদন্ডের হাড় শক্ত হবে। নতুবা এ জাতি একদিন মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে এটা অনেকটা নিশ্চিত।
মো মানিক ইসলাম
সহকারী শিক্ষক
লাট ডাবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
০৫-১০-২০২৬
১
২ মন্তব্য