Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ণ

শিক্ষক দিবসে চাই শিক্ষকের মর্যাদা

                                                                শিক্ষক দিবসে চাই শিক্ষকের মর্যাদা

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। শিক্ষক আজ অবহেলিত। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে প্রতি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত প্রত্যেকে শিক্ষকের দোষত্রুটি ধরিয়ে দিতে ওস্তাদ। যে শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর,সে কিনা আলোচিত। তাই শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।  আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের কথা নতুন নয়। পাঠ্যপুস্তক, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়নের ধরন,  নীতিমালা বদলাচ্ছে। প্রতিবারই ঘোষণায় থাকে নতুন স্বপ্ন, আর বাস্তবায়নের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকের কাঁধে। তিনি পাঠদানের পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলান। কিন্তু যে ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য নির্দেশ ও নজরদারি, সেখানে শিক্ষক কতকানি নিরাপদ। সংস্কার চায় সৃজনশীলতা, আর সৃজনশীলতা জন্মায় আস্থার পরিবেশে। যে কোনো পেশার মান নির্ভর করে সেখানে কারা আসছেন তার ওপর। আজ অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভাবে না, কারণ তারা সেখানে নিরাপত্তা, সুযোগ ও সম্মানের নিশ্চয়তা দেখে না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি মানে শেষ পর্যন্ত ভালো শিক্ষক পাওয়া। বারবার বদলে যাওয়া নীতি শিক্ষককে ক্লান্ত করে। নতুন পদ্ধতি শিখতে না শিখতেই আরেকটি এসে যায়। এই সংস্কার ক্লান্তি থেকে বাঁচার উপায় হলো শিক্ষকদের আগে থেকেই আলোচনায় যুক্ত করা। তারা যদি পরিকল্পনার অংশীদার হন, তাহলে সেটি তাদের নিজেদের হয়ে ওঠে এবং বাস্তবায়নে তারা সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ এই প্রয়োজনকে আরও তীব্র করেছে। তথ্য এখন সবার হাতের মুঠোয়। তাই শিক্ষকের ভূমিকা এখন তথ্য দেওয়ার চেয়ে প্রশ্ন করতে শেখানো, যাচাই করতে শেখানো, নৈতিকতা ও মানবিকতা গড়ে তোলার দিকে সরে এসেছে। এই কাজ আগের চেয়ে কঠিন ও সূক্ষ্ম। শিক্ষক হিসেবে আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। সম্মান দাবি করার আগে তা অর্জনের দায় আমাদের আছে। বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো, সময়ানুবর্তিতা ও সততা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীর প্রতি সহমর্মী থাকা এবং প্রতিদিন শেখার আগ্রহ ধরে রাখা, এগুলো পেশার মর্যাদাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। কিছু শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা পুরো পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মর্যাদা ও জবাবদিহি একে অপরের বিরোধী নয়, পরিপূরক। স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও পেশাগত আচরণবিধি থাকলে শিক্ষকের দাবি আরও গ্রহণযোগ্য হয়। অভিভাবক ও সমাজেরও এখানে ভূমিকা আছে। মিক্ষকনিজেকেআতদ্মমূল্যায়ন করে নিজেকে যোগ্যকরতেপারেন। শিক্ষককে হেয় করার সংস্কৃতি বদলাতে হবে। এটি ব্যয় নয়, সবচেয়ে নিশ্চিত পুঁজি। প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস আমাদের মনে করে দেয় সেই মানুষগুলোর কথা, যারা নীরবে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে চলেছেন। এই দিনটি শুধু শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; বরং শিক্ষকের অবদান, ত্যাগ, দায়িত্ব ও মর্যাদা নতুন করে উপলব্ধি করার দিন। শিক্ষকতা এখন শুধুই পেশা, আত্মমর্যাদা, সম্মানের সংকীর্ণতায় সেবামূলক পেশা থেকে সরে যাচ্ছে। একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ তৈরি করেন। তার হাতে থাকে শুধু বই, খাতা কিংবা চক-কলম নয়—থাকে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ, একটি পরিবারের প্রত্যাশা এবং একটি জাতির আগামী দিনের সম্ভাবনা। শিক্ষক নিজে শেখেন, যাতে শিক্ষার্থীকে আরও ভালোভাবে শেখাতে পারেন। সময়ের সঙ্গে শিক্ষাক্রম পরিবর্তিত হয়, প্রযুক্তি পরিবর্তিত হয়, শিক্ষার্থীদের চাহিদা পরিবর্তিত হয়; কিন্তু শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে যায় একই—শিক্ষার্থীর হাতে জ্ঞানের আলো তুলে দেওয়া এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া। তবে শিক্ষকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়—মানুষ তৈরি করা। একজন শিক্ষক স্বার্থক হয়ে যান যখন কোন ছাত্র বলে স্যার আপনার এ কথাটা আমার কাজে লেগেছে। একজন শিক্ষক যখন নিজের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন, তখন তার মন আরও বেশি করে শ্রেণিকক্ষে নিবদ্ধ হতে পারে। তাই শিক্ষকদের ন্যায্য প্রত্যাশাগুলো বাস্তবতার আলোকে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হলে তা শুধু শিক্ষক সমাজের জন্য নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও ইতিবাচক হবে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ