ট্রেড ইন্সট্রাক্টর
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে যারা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব পালন করছেন, আজকের দিনে তাঁদের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, তিনি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, বিবেক, মূল্যবোধ ও স্বপ্নকে গড়ে তোলেন। একটি প্রজন্মকে আলোকিত করার মধ্য দিয়ে তাঁরা নির্মাণ করেন একটি দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ।
১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) উদ্যোগে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব ও মর্যাদা নিয়ে ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানানোর নয়, বরং শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও জীবনমান নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি সুযোগ।
কিন্তু এই দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের একটি প্রশ্ন করতেই হয়—শিক্ষককে আমরা যে মর্যাদার আসনে বসাই, বাস্তবে কি সেই মর্যাদা দিতে পারছি?
উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষকতা সেখানে কেবল একটি সম্মানজনক পেশা নয়; শিক্ষকদের সামাজিক নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুরক্ষাকেও রাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। একজন শিক্ষক দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে গিয়ে যেন অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে না পড়েন, সে বিষয়েও রয়েছে কার্যকর ব্যবস্থা।
অথচ আমাদের দেশে চিত্রটি অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর নিলেও প্রাপ্য অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম সময়টি শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করার পর অবসরজীবনে যখন তাঁদের স্বস্তি পাওয়ার কথা, তখন অনেককেই প্রাপ্য অর্থের জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়। এটি শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত কষ্ট নয়; এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গভীর বাস্তবতা।
শিক্ষক যদি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, অবসরকালীন প্রাপ্য অর্থ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়—তাহলে আমরা কীভাবে একটি মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষকতা পেশার স্বপ্ন দেখব?
শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড—এই কথাটি আমরা বহুবার বলি। কিন্তু মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী রাখতে হলে শুধু কথায় সম্মান দেখালেই হবে না; তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সময়মতো বেতন-ভাতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ, সামাজিক মর্যাদা এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই শুধু ‘শুভ শিক্ষক দিবস’ বলেই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। আমরা চাই, শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা বাস্তব রূপ পাক শিক্ষকদের জীবনে। একজন শিক্ষক যেন অবসরের পর তাঁর প্রাপ্য অর্থের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা না করেন। একজন শিক্ষক যেন তাঁর পেশা নিয়ে গর্ব করতে পারেন, পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন এবং জীবনের শেষ অধ্যায়টুকু সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারেন।
শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু ফুল দেওয়া নয়; তাঁর অধিকার নিশ্চিত করা। শিক্ষককে ভালোবাসা মানে শুধু একটি দিন স্মরণ করা নয়; তাঁর সারাজীবনের অবদানকে মূল্য দেওয়া।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পৃথিবীর সব শিক্ষককে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। যাঁদের হাত ধরে আমরা শিখেছি, জেনেছি, স্বপ্ন দেখতে শিখেছি—সেই সব আলোর দিশারীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও সালাম।
শিক্ষক ভালো থাকলে, শিক্ষা ভালো থাকবে। আর শিক্ষা ভালো থাকলেই গড়ে উঠবে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ।
১৮
২৮ মন্তব্য