Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

শিক্ষা ও শিক্ষা-শিকল
  • বর্তমানে উপলব্ধির অভাবে শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষা-শিকলে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা আজ শিক্ষার্থীদের বুকে স্পন্দন জাগায় না। তাই তাদের জ্ঞানার্জনের মনোভাব কুয়োর ব্যাঙের মতো আবদ্ধ হয়ে আছে।

  • জ্ঞানদান শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য বটে; কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিক বিকাশসাধন এবং মন ও মননের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে মানবিক গুণসম্পন্ন, দায়িত্বশীল মানুষরূপে গড়ে তোলা। শুধু পরীক্ষানির্ভর পড়াশোনা জ্ঞানার্জনের ধারাকে ব্যাহত করে। শিক্ষার্থীরা মনে করে, 'মার্ক আসবে রাশি রাশি, মায়ের মুখে ফুটবে হাসি।' মায়ের মুখে হাসি ফুটছে ঠিকই কিন্তু সে শিক্ষিত হচ্ছে কি?

  • গাইড বই থেকে মুখস্থ করা তথাকথিত সৃজনশীল প্রশ্ন আর বিজ্ঞানের কিছু পুথিগত জ্ঞান শিক্ষার্থীর চিন্তাধারাকে তো পরিশীলিত করতেই পারেই না; বরং তার প্রতিভার বিকাশ ব্যাহত করে। ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সংকট থেকে যাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার এ দুর্দশার কারণে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষা-বাণিজ্য। শিক্ষাকে শিকলমুক্ত করতে না পারলে তার উল্টো টান যে আমাদের টানতে হবে, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ।

  • শিক্ষা কোনো শৃঙ্খল নয়, কেবল উপার্জনের মাধ্যম নয়। শিক্ষা দায়িত্বশীলতা, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমের আধেয়। তাহলে শিক্ষা জ্ঞানদান ও সুপ্ত সৃজনীশক্তির বিকাশে সহায়ক হবে। তখন শিক্ষার্থীর কণ্ঠ থেকে ধ্বনিত হবে- 'আমি শিক্ষাকে বাণিজ্যিকরণ করতে চাই না, আমি শিক্ষার মহত্ত্বটাকে পেতে চাই।

  • শ্রদ্ধেয় অভিভাবক মহোদয়গণ সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন দেখেন। তাই শিক্ষার্থীদের রূপরেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে, 'সে অনেক বড় হবে, সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, সুউচ্চ অট্টালিকায় আধুনিক জীবনযাপন করবে।' এইরূপ স্বপ্ন নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠিত হয় ঠিকই; কিন্তু এই অভিলাষ পূরণ করতে গিয়ে তারা সংকীর্ণচিত্ত হয়ে যায়। জ্ঞানার্জনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সক্রেটিস বলেছেন, "Know thyself" -নিজেকে জানো। তার মতে নিজেকে জানতে পারলে পৃথিবীটা জানা সহজ হয়ে যায়।

  • দক্ষ ও উচ্চতর জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি । আজ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্দশার অন্যতম কারণ স্বল্প দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ; একইসাথে শিক্ষকদের সময়নিষ্ঠা ও দায়িত্বনিষ্ঠার অভাব। অধিকাংশ শিক্ষক বিশেষায়িত জ্ঞানে পারদর্শী নয়। বর্তমান শিক্ষাকাঠামোর অন্যতম ব্যর্থতার দায় শিক্ষকের; একইসাথে রাষ্ট্রের। এরূপ শিক্ষাকাঠামোয় অগণিত সীমাবদ্ধতার উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজ লক্ষ্যণীয়।

  • আজ শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটে পড়াশোনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমরা যখন এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তখন লাখো-কোটি শিক্ষার্থী গণিত বা বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাইভেট শিক্ষকের পেছনে দৌড়াচ্ছে, অথচ সে হারে আমরা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী পাচ্ছি না। যা শিক্ষাকাঠামোর কার্যকারিতা ও শিক্ষকদের নৈতিক-আদর্শিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এরূপ শিক্ষাকাঠামোয় অগণিত সীমাবদ্ধতার উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজ লক্ষ্যণীয়।

  • শিক্ষাকে শিকলমুক্ত করতে হবে; শিক্ষাকে কর্মমুখী করার পাশাপাশি জীবনমুখী করে তুলতে হবে। তা করা হলেই শিক্ষা হয়ে উঠবে মানবিক মূল্যবোধ ও পরিশীলিত দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশে সহায়ক।
মন্তব্য করুন

ব্লগ