সিনিয়র শিক্ষক
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে শিক্ষকদের পেশার সুরক্ষা ও মর্যাদা বৃদ্ধি কতটা অগ্রসর
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো, “শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর।” আজকের প্রতিপাদ্যের আলোকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করছি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। বিগত সময়ে বেসরকারিভাবে ইউনেসকোর সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হতো। এবারে প্রথম সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী গুণী শিক্ষকদের সম্মানিত করবেন।
এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে গুণী শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করলেও সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়নি। বরং ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টের পর থেকে শিক্ষকসমাজ ব্যাপকভাবে মব সন্ত্রাসের শিকার। ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে শিক্ষকরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাঝে নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষকরা ডিম, কলা, রুটি নিয়ে নাজেহাল তথা তদন্ত ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফা মনগড়া সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছেন কতিপয় ফেসবুকধারী ভুয়া ও ইউটিউবাররা। তারা শিক্ষকদের সুনাম নষ্ট করে আসছেন। শিক্ষকদের বক্তব্য না নিয়ে যারা মনগড়া প্রচার করে যাচ্ছে, এসব টিউবারও ফেসবুকধারীকে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া শিক্ষকতা পেশার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি। শিক্ষকদের মর্যাদা সরকারিভাবে দীর্ঘ ৬০ বছরে অর্জন হয়নি। স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে বাংলাদেশ অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এ জাতির জন্য দুঃখজনক। এর সামগ্রিক কারণ হিসেবে শাসক মহলের মর্যাদা প্রদানে মানসিক ভিন্নতা ও আন্তরিকতা।
আওয়ামী লীগ আমলে শিক্ষকদের দাবির মুখে ৯ মার্চ ২০১৪ থেকে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। অথচ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট গড়িয়ে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের রায়ের পরও দীর্ঘ প্রায় ১ বছর যাবত রায় কার্যকর হচ্ছে না। শিক্ষকদের প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় এ আদেশ বাস্তবায়নের জন্য দ্বারে দ্বারে ধরনা দিতে হচ্ছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ধরণা দেওয়ার কাজ করবে প্রাথমিকের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালক বা তার প্রতিনিধি। অথচ তারা নির্বিঘ্নে সময়ক্ষেপণ করে শিক্ষকদের মর্যাদা প্রদানে বিলম্বিত করে যাচ্ছেন।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা আজও থার্ড ক্লাস কর্মচারী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসিত ১১তম গ্রেডসহ সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির বিষয়টি আজও আলোর মুখ দেখেনি। অথচ বর্তমান সরকারের সময় বিষয়টি আমলে না নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
মো. সিদ্দিকুর রহমান , দৈনিক শিক্ষাডটকম
১৮
২৯ মন্তব্য