Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

আকিমুদ্দীন হলো একটি কুরআনিক আরবি শব্দগুচ্ছ
"আকিমুদ্দীন" (আরবি: أَقِيمُوا الدِّينَ - আক্বীমুদ্ দ্বীন) হলো একটি কুরআনিক আরবি শব্দগুচ্ছ, যার শাব্দিক অর্থ হলো "দ্বীন প্রতিষ্ঠা করো" বা "ধর্মকে সুপ্রতিষ্ঠিত করো"। পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শূরা (আয়াত ১৩) ও অন্যান্য জায়গায় এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে। [1, 2, 3]
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
  • আকিমু (أَقِيمُوا): এর মূল ধাতু 'ক্বামা' (قام), যার অর্থ দাঁড় করানো, কায়েম করা বা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
  • আদ্-দ্বীন (الدِّينَ): এর অর্থ জীবনব্যবস্থা, আনুগত্য, ইসলাম, কিংবা আল্লাহর হুকুম ও হুকুমত। [1, 2]
ইসলামি চিন্তাবিদদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা
"আকিমুদ্দীন" বা দ্বীন প্রতিষ্ঠার বাস্তব রূপ নিয়ে ইসলামি গবেষক ও মুফাসসিরদের মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে:
  • ঐতিহ্যবাহী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম সমাজ: দ্বীন প্রতিষ্ঠা বলতে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস (তাওহীদ), ইবাদত, আখলাক, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ মেনে চলা ও প্রচার করাকে বোঝান। [1]
  • রাজনৈতিক ইসলামপন্থী দলসমূহ (যেমন: জামায়াতে ইসলামী): মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর অনুসারীসহ অনেক রাজনৈতিক দল একে কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী হুকুমত ও আইন বাস্তবায়নের সংগ্রাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। [1, 2]
  • অন্যান্য চিন্তাবিদ (যেমন: খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বা মুফতি আব্দুল মালেক): তারা মনে করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যেভাবে ধাপে ধাপে সমাজে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই সুন্নাহ অনুযায়ী দ্বীন পালন ও প্রচার করতে হবে এবং একে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সঠিক নয়। [1, 2]
আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো তাফসির বা ইসলামী চিন্তাবিদের মতামত সম্পর্কে আরও জানতে চান, নাকি কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট আয়াতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে আগ্রহী?

  • আক্বীমু দ্বীন এর সঠিক ব্যাখ্যা কি? মনগড়া ব্যাখ্যা থেকে দূরে ...
    বর্তমানে অনেকে *أَقِيمُوا الدِّينَ* এর অর্থ শুধু "রাষ্ট্রে ইসলামী হুকুমত কায়েম করো" বা " .

কুরআনে "আকিমুদ্দীন" বা দ্বীন প্রতিষ্ঠার নির্দেশটি এসেছে সূরা আশ-শূরা (৪২ নম্বর সূরা)-এর ১৩ নম্বর আয়াতে। [1]
নিচে আয়াতটির মূল আরবি, বাংলা অর্থ এবং মূল শিক্ষা তুলে ধরা হলো:
মূল আয়াত (আরবি)
۞ شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ [1]
বাংলা অনুবাদ (মুফতি তাকী উসমানী ও অন্যান্য)
"তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পথই নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে, আর যা আমরা ওহী করেছি আপনার প্রতি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে—এ বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো (আকিমুদ্দীন) এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না। আপনি মুশরিকদেরকে যার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন দরবারে মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে তাঁর দিকে পথ দেখান।" [1]

এই আয়াতের মূল প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা
১. একই দ্বীনের ধারাবাহিকতা: আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, হযরত নূহ (আ.), ইব্রাহীম (আ.), মূসা (আ.), ঈসা (আ.) এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মূল দ্বীন বা ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস (তাওহীদ বা একত্ববাদ) একই ছিল।
২. দ্বীন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ: সকল নবী-রাসূলকে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছিলেন যেন তারা সমাজে ও মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
৩. ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ: দ্বীন কায়েম করার পাশাপাশি আল্লাহ কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ধর্মের নামে মানুষ দলাদলি বা অনৈক্যে লিপ্ত না হয়। [1, 2, 3, 4, 5]
মন্তব্য করুন

ব্লগ