সহকারী শিক্ষক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৮ অপরাহ্ণ
ঢাকা কলেজ কেবল ইটের তৈরি কোনো দালান নয়—এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস, একটি প্রেরণার উৎস এবং বাঙালি জাতির অহংকার।
১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা ঢাকা কলেজ প্রকৃতপক্ষেই পূর্ব বাংলার আধুনিক শিক্ষার সূতিকাগার এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। আপনার উল্লেখ করা এই ঐতিহাসিক পর্বগুলোতে ঢাকা কলেজের সুনির্দিষ্ট অবদান ও গৌরবময় ভূমিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
উপমহাদেশে আধুনিক শিক্ষার বিস্তার (১৮৪১): ১৮৩৫ সালের ২০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত 'ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি স্কুল' থেকেই ১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকা কলেজের জন্ম। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জে. আয়ারল্যান্ড ছিলেন এর প্রথম অধ্যক্ষ। এই কলেজটি পূর্ব বাংলায় পাশ্চাত্য ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করেছে এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এর অবকাঠামো ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।
ভাষা আন্দোলন (১৯৫২): রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই ঢাকা কলেজের ছাত্ররা ছিলেন অগ্রভাগে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারীদের মধ্যে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণেও গড়ে তোলা হয়েছিল অন্যতম প্রথম শহীদ মিনার।
৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান: ১৯৬২ সালের শরীফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে যে দুর্বার ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা কলেজ। পরবর্তীতে ১৯৬৬-এর ছয় দফা এবং ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে সক্রিয় ও আপসহীন ভূমিকা রাখেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১): ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকা কলেজের অসংখ্য ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য এই কলেজের বহু শিক্ষার্থী নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভ আজও সেই বীর শহীদদের আত্মত্যাগের সাক্ষ্য বহন করছে।
ঢাকা কলেজ কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রতিটি জাতীয় সংকটে দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মশাল জ্বালিয়ে পথ দেখিয়েছে।
৮
৮ মন্তব্য