ফলাফল ধসের মূল কারণসমূহ
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এই বিপর্যয়ের পেছনে বহুমুখী মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ রয়েছে। পেডাগজিক্যাল বা শিক্ষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রযুক্তির অপব্যবহার ও স্ক্রিন আসক্তি: বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি এবং অনলাইন গেমের মোহ পড়াশোনার সময়কে মারাত্মকভাবে গ্রাস করেছে। ক্লাসের টেবিলে কিংবা পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেওয়ার বদলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করার ফলে তাদের একাডেমিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
- পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও মানসিক চাপ: দীর্ঘ সময় পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিশাল পরিসরের সিলেবাস শেষ করতে হয়েছে। হঠাৎ এই পরিবর্তনে অভ্যস্ত না থাকায় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপে পড়ে।
- মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কঠোরতা ও প্রকৃত মেধার প্রতিফলন: অতীতে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার বা খাতা উদারভাবে মূল্যায়নের যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে এ বছর তুলনামূলক কঠোর ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত পারফরম্যান্স বা মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
- মূল বিষয়ে চরম দুর্বলতা (ইংরেজি ও আইসিটি): ফলাফলের এই ধসের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)। এই দুই বিষয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আইসিটির মতো প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক নির্ভর বিষয় শুধু মুখস্থ করে পার পাওয়ার সুযোগ না থাকায় এই ধস অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
- সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব: ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করায় অনেক শিক্ষার্থী কলেজবিমুখ হয়ে পড়ে। নিয়মিত ক্লাসের অনুপস্থিতি এবং পড়াশোনায় অমনোযোগিতা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৮
৮ মন্তব্য