সহকারী শিক্ষক
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
রক্তের আলোয় জীবন দান, চক্ষু দানে নতুন প্রাণ
মানবতার এক অনন্য ও মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দিন হলো জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস। নিজের রক্তে অন্যকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া এবং মৃত্যুর পরেও নিজের চোখের আলো দিয়ে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য কাউকে দেখিয়ে যাওয়ার মতো মহান আত্মত্যাগ আর কিছু হতে পারে না। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিঃস্বার্থভাবে কল্যাণ করার এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দেয় এই দিবসটি।
আমাদের সমাজে রক্তদান ও চক্ষুদান নিয়ে একসময় নানা ধরনের ভুল ধারণা ও ভীতি কাজ করত। মানুষ জানত না যে, নিয়মিত রক্তদান করা নিজের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে শরীরে নতুন রক্ত কণিকা তৈরি হয়। অন্যদিকে, মৃত্যুর পরও যে চোখের কর্নিয়া কোনো অন্ধ মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতার অভাব ছিল প্রকট। এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মন থেকে সেই ভয় ও সংশয় দূর করে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাওয়া।
মানবতার এই সেবায় প্রতিটি সুস্থ মানুষের একটু সচেতনতা ও সামান্য সদিচ্ছাই পারে হাজারো মুমূর্ষু রোগীর মুখে হাসি ফোটাতে। দুর্ঘটনার শিকার মানুষ, ক্যানসার বা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু কিংবা অপারেশনের টেবিলে থাকা রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তের বিকল্প কেবল রক্তই। ঠিক তেমনি, পৃথিবীতে আলো না দেখা কোনো অন্ধ মানুষের জীবনে নিজের চোখ দুটিকে বাঁচিয়ে রেখে যাওয়ার মতো বড় দান আর হতে পারে না। তাই আসুন, কোনো রকম দ্বিধা বা সংকোচ না রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান করার প্রত্যয় গ্রহণ করি এবং একটি সুন্দর, সহানুভূতিশীল ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলি।
১৮
২৯ মন্তব্য