Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৯ অপরাহ্ণ

মাইক্রোটিচিং (Micro-teaching বা অনুশিক্ষণ) চক্র
মাইক্রোটিচিং (Micro-teaching বা অনুশিক্ষণ) হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণের একটি বিজ্ঞানসম্মত, নিয়ন্ত্রিত ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নবীন বা অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান দক্ষতা উন্নত করা। 
আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডুইট ডব্লিউ অ্যালেন (Dwight W. Allen) ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করেন।
মাইক্রোটিচিংয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
সময়কাল: সাধারণ ক্লাসের পরিবর্তে ক্লাস হয় মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের।
শিক্ষার্থী সংখ্যা: পূর্ণাঙ্গ ক্লাসরুমের বদলে ৫ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী বা সহপাঠী উপস্থিত থাকে।
বিষয়বস্তু: সম্পূর্ণ বড় কোনো অধ্যায় নয়, বরং ছোট একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা ধারণা পড়ানো হয়।
দক্ষতা কেন্দ্রিক: একবারে সব দক্ষতা না শিখিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট শিক্ষকতা দক্ষতা (যেমন—প্রশ্ন করার কৌশল, ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার, উদ্দীপনা পরিবর্তন বা প্রবর্তন কৌশল) চর্চা করা হয়।

মাইক্রোটিচিং চক্র (Micro-teaching Cycle)
এই পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট চক্র বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়: 
পরিকল্পনা (Plan): ৫-১০ মিনিটের একটি ছোট পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা, যেখানে নির্দিষ্ট একটি দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
পাঠদান (Teach): ৫-১০ মিনিট ধরে ছোট একটি দল বা সহপাঠীদের সামনে পাঠদান করা। এটি অনেক সময় ভিডিও রেকর্ড করা হয়।
ফিডব্যাক বা মতামত গ্রহণ (Feedback): শিক্ষক প্রশিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছ থেকে পাঠদানের ওপর সমালোচনা ও গঠনমূলক মতামত নেওয়া। ভিডিও থাকলে তা পর্যালোচনা করা হয়।
পুনরপরিকল্পনা (Re-plan): প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে পাঠ পরিকল্পনাটি সংশোধন করা।
পুনরপাঠদান (Re-teach): সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আবার ৫-১০ মিনিট ক্লাস নেওয়া।
পুনঃফিডব্যাক (Re-feedback): পুনরায় মূল্যায়ন করা এবং আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে কি না তা যাচাই করা। 

মাইক্রোটিচিংয়ে অনুশীলিত প্রধান দক্ষতাগুলো
পাঠের সূচনা বা প্রবর্তন দক্ষতা (Introduction skill)
প্রশ্ন করার দক্ষতা (Questioning skill)
ব্যাখ্যা করার দক্ষতা (Explaining skill)
উদ্দীপনা পরিবর্তন বা অঙ্গভঙ্গি দক্ষতা (Stimulus variation)
ব্ল্যাকবোর্ড বা হোয়াইটবোর্ড ব্যবহারের দক্ষতা
শক্তিদায়ক বা উৎসাহ প্রদান (Reinforcement)
পাঠ সমাপ্তি করার দক্ষতা (Closing skill)

সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
সুবিধা:
বড় ক্লাসের ভয় ও জটিলতা কমিয়ে নিরাপদ পরিবেশে পাঠের অনুশীলন করা যায়।
ভিডিও রেকর্ডিং ও তাৎক্ষণিক মতামতের মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো খুব সহজে শুধরে নেওয়া যায়।
শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
সীমাবদ্ধতা:
এটি বাস্তব এবং সম্পূর্ণ একটি স্বাভাবিক ক্লাসরুমের পরিবেশ পুরোপুরি দিতে পারে না।
সময়সাপেক্ষ এবং এর জন্য প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষক ও যন্ত্রপাতির (যেমন—ভিডিও ক্যামেরা) প্রয়োজন হয়।
মন্তব্য করুন