সিনিয়র শিক্ষক
১৩ জুন, ২০২২ ০৬:৫৪ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’: চলে এলো চতুর্থ প্রজন্মের এআই
ইংরেজি ইনটুইশন (intuition) শব্দের অর্থ করলে দাঁড়ায় 'সুচতুর অনুমান' ধরনের কিছু। আর এআই (AI) বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর চতুর্থ প্রজন্মকেই বলা হচ্ছে 'আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন'।
এর মাধ্যমে একটি কম্পিউটার যেকোনো পরিস্থিতিতে নানা প্রকার হুমকি বা সুযোগ শনাক্ত করতে পারে। সেজন্য নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ঠিক এমনটা করতে দেখা যায় মানুষকে।
কীভাবে কোনো কাজ শেষ করতে হবে, সে ব্যাপারে আলাদা কোনো নির্দেশনা না থাকলেও নিজের ইনটুইশন বা অন্তর্দৃষ্টি কাজে লাগিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারে মানুষ। আরো সহজভাবে বোঝার জন্য একে তুলনা করা যায় দক্ষ কোনো গোয়েন্দার সঙ্গে, যিনি ‘ক্রাইম সিন’ বা অপরাধ যেখানে হয়েছে, সেখানে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝে যান গণ্ডগোলটা ঠিক কোথায়।
আবার একজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর সাথে তুলনা করলেও বুঝতে সহজ হবে। কারণ, নতুন একটি ট্রেন্ড বা প্রচলন বাজারে আসার বেশ আগেই তিনি সেটা অনুমান করে ফেলেন।
‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’-এর এই ধারণাটি মাত্র ৫ বছর আগেও অসম্ভব বলে মনে করা হতো। অথচ এখন গুগল, অ্যামাজন এবং আইবিএম-এর মতো কোম্পানিগুলি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে এ ধারণা বাস্তবায়নে। এমনকি, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’কে।
.
# কীভাবে কাজ করে এটি?
অতীতের কোনো তথ্য বা হিস্ট্রি না জেনেই ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’ ঠিক কীভাবে অজানা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে, সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। তবে প্রশ্নটির উত্তর আসলে আছে নির্দিষ্ট ডেটা বা তথ্যের মাঝেই।
ধরা যাক একটি ডেটাসেট ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’-এর সামনে উপস্থাপন করা হলো। এখন ডেটা পয়েন্টগুলির মধ্যে কোনো পারস্পরিক সম্পর্ক কিংবা অসঙ্গতি থাকলে তা সাথে সাথে ধরে ফেলতে পারে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’-এর জটিল অ্যালগরিদম।
বিশাল একটি ছবির কথা কল্পনা করুন, যেটা মূলত ছোট ছোট কিউবের সমন্বয়ে তৈরি একটি অগোছালো, তবে সম্পূর্ণ পাজেল। ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’-এর কৃতিত্ব এখানেই যে, এটি শুরু থেকেই অগোছালো সেই পাজলকে একটি সলভড বা সাজানো পাজল হিসেবে দেখতে সক্ষম।
এরপর পাজলে যেসব শূন্যস্থান থেকে যায়, সেগুলি গাণিতিক পদ্ধতিতে পূরণ করতে পারে এই প্রযুক্তি। আর সেজন্য পাজলটিকে উল্টো দিক থেকে মেলাতে থাকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’।
.
# এটা কী কী কাজে আসতে পারে?
তাত্ত্বিকভাবে চিন্তা করলে, যেকোনো শিল্পকেই ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’-এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে, অর্থনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত শিল্পগুলিতে বর্তমানে এটি বেশ সফলভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অনেক ব্যাংক আজকাল ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানি লন্ডারিং, জালিয়াতি এবং এটিএম হ্যাকিং-এর মতো নিত্যনতুন অর্থনৈতিক সাইবার ক্রাইম অপরাধগুলি ঘটার আগেই শনাক্ত করা।
সন্দেহজনক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বা জালিয়াতি আসলে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া হাজার হাজার লেনদেনের মাঝেই লুকিয়ে থাকে। তবে এগুলির মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু মিলও থাকে। অত্যন্ত জটিল অ্যালগরিদমের সাহায্যে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মিলগুলি শনাক্ত করতে পারে। আর সেসব মিল থেকেই নীতিনির্ধারক বা বিশ্লেষকরা সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন।
.
# কর্মক্ষেত্রে কেমন হতে পারে এর প্রভাব?
মনে রাখতে হবে, ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’ কিন্তু কোনোভাবেই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, অনুমান বা কাজের ধারা সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে পারবে না। এটি শুধুমাত্র অতিরিক্ত একটি টুল বা প্রযুক্তি, যা আমাদের কাজগুলিকে আরো দক্ষতার সাথে করতে সাহায্য করে৷
ব্যাংকিং বিষয়ক ওপরের উদাহরণটি খেয়াল করলে দেখা যাবে, সেখানে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’ কিন্তু সক্রিয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। এটি কেবল একজন বিশ্লেষকের কাছে সেসব কার্যকলাপ তুলে ধরছে, যেগুলি সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে সন্দেহজনক লেনদেন পর্যালোচনা করা ও মেশিনের সন্দেহকে নিশ্চিত করা কিন্তু একজন ব্যক্তি বা বিশ্লেষকেরই কাজ।
১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান ট্যুরিং সর্বপ্রথম এআই (AI) এর ধারণা নিয়ে আসেন। এরপর থেকে শুরু করে এআই পাড়ি দিয়েছে দীর্ঘ পথ। এমনকি এই প্রযুক্তি এখনো উন্নত হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে।
তবে, এআই সত্যিকার অর্থেই ‘বুদ্ধিমান’ হয়ে উঠতে পারবে এই ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটুইশন’ বা চতুর্থ প্রজন্মের এআই-এর মাধ্যমে।
#এআই #ইনটুইশন #অনুমান
প্রতিবেদন টি সিটি ব্যাংকের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত।