Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৬ জুন, ২০২২ ০৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আই ট্রাকিং


ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ‘আই ট্র্যাকিং’

‘আই ট্র্যাকিং’ (Eye Tracking) হলো চোখের মণি (বিশেষ করে কর্নিয়া) অনুসরণ করার এক প্রযুক্তি। একে এক ধরনের সেন্সর প্রযুক্তি বলা যায়, যা ইউজার বা ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত করে এবং সে যা দেখছে, তা অনুসরণ করে। যে ডিভাইস দিয়ে এ প্রযুক্তি কাজ করে, তাকে ‘আই ট্র্যাকার’ বলা হয়। 


সাধারণত এক বা একাধিক ক্যামেরা, আলোর উৎস এবং কম্পিউটিং-এর ক্ষমতা থাকে আই ট্র্যাকার-এ। আই ট্র্যাকারগুলি খালি চোখে অদৃশ্য নিকট-অবলোহিত বা নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো এবং হাই ডেফিনিশন ক্যামেরা ব্যবহার করে চোখের ওপর আলো ফেলে। এরপর কর্নিয়া থেকে কোন দিকে আলো প্রতিফলিত হচ্ছে, তা রেকর্ড করে।


আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাথে ‘ডেটা সিস্টেম’ যুক্ত থাকে, যাতে চোখের মণির অবস্থান, পলক ফেলার ধরন বা চোখের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। তারপর অ্যালগরিদম, মেশিন লার্নিং এবং ইমেজ প্রসেসিং-এর মাধ্যমে এসব তথ্যকে প্রাসঙ্গিক ডেটায় রূপান্তর করা হয়। এবং এর মাধ্যমে একটি দৃশ্যের ঠিক কোথায় একজন ব্যক্তি তাকিয়ে আছে, তা রেকর্ড করা এবং সেই অনুসারে ভিজ্যুয়াল ম্যাপ তৈরি করা যায়।

.


# বিভিন্ন ধরনের আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি


৩ ধরনের আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি রয়েছে। সেগুলি হলো স্ক্রিন-ভিত্তিক, ওয়্যারেবল বা পরিধানযোগ্য এবং ওয়েবক্যাম। 


স্ক্রিন-ভিত্তিক আই ট্র্যাকিং ডিভাইসের কাজ করার জন্য আলাদা কোনো হার্ডওয়্যারের দরকার হয় না। এবং এই ডিভাইস দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এক্ষেত্রে যার চোখ ট্র্যাক করা হবে, সে একটি স্ক্রিনের সামনে বসে। স্ক্রিনের নিচে বা কাছাকাছি কোথাও একটি প্যানেল বা ইউনিট যুক্ত থাকে। এরপর স্ক্রিনে সেই ব্যক্তিকে ছবি, ওয়েবসাইট, ভিডিও বা গেমস-এর মতো মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট দেখানো হয়। এসব কন্টেন্ট দেখতে গিয়ে ব্যক্তির চোখে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে তার চোখের নড়াচড়ার তথ্য রেকর্ড এবং বিশ্লেষণ করা হয়। 


মূলত প্রোগ্রামার বা গবেষকরা স্ক্রিন-ভিত্তিক পদ্ধতিতে আই ট্র্যাকিং কাজে লাগায়। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তারা পরিসংখ্যান নির্ভর গবেষণা করে থাকেন। 


ওয়্যারেবল বা পরিধানযোগ্য আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে আই ট্র্যাকিং চশমা এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) হেডসেট। এসব ডিভাইসে আশেপাশের দৃশ্য ধারণ করার জন্য ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন যুক্ত থাকে। যেহেতু ব্যক্তি এসব ডিভাইস পরে থাকে, তাই ট্র্যাকিং চলার সময়ও স্বাভাবিকভাবেই সে ঘোরাফেরা করতে পারে। সে কারণে শপিং সেন্টার বা সুপার শপে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা, খেলাধুলা, অন্যদের সাথে যোগাযোগ ও মিডিয়া ব্যবহার করার মতো বাস্তব বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের আচরণ নিয়ে গবেষণার জন্য এই পদ্ধতি আদর্শ।


অন্য দুটি সিস্টেমের মতো ওয়েবক্যাম আই ট্র্যাকারে কোনো সেন্সর থাকে না। এছাড়া ইনফ্রারেড লাইট বিম বা বিশেষ কোনো ক্যামেরাও থাকে না এতে। এর পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত ওয়েবক্যাম থেকে পাওয়া চিত্রের ওপর নির্ভর করে কাজ করে এই পদ্ধতি। এরপর অ্যালগরিদম-এর সাহায্যে ইউজারের মাথা ও চোখের অবস্থান আর দিক নির্ণয় করা হয়। খুব অল্প সময়ে ফলাফল প্রয়োজন, এমন বড় আকারের গবেষণার জন্য আদর্শ একটি পদ্ধতি হলো ওয়েবক্যাম ট্র্যাকিং। যেমন, প্রোডাক্ট ডিজাইনের সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।


এছাড়াও আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা কিছু করা যায়, তার মধ্যে কয়েকটার ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।

.


১. বাজার গবেষণা


আই ট্র্যাকিং-এর মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ের ওপর নিরপেক্ষ আর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। সেজন্য প্রযুক্তিটি বাজার গবেষক বা মার্কেট রিসার্চার এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাজে আসে। যেমন, ভোক্তারা যখন পথে চলতে চলতে একটি পণ্য, দোকান, প্যাকেজের দিকে তাকায়, তখন সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণা করা যায় আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে। যেকোনো প্ল্যাটফর্ম, সার্ভিস বা দোকানের প্রতি গ্রাহকের অভিজ্ঞতার বিষয়েও মূল্যবান তথ্য দিতে পারে এ প্রযুক্তি।

.


২. বৈজ্ঞানিক গবেষণা


কোনো কিছু শেখার ধরন, শারীরিক অবস্থা বা আচরণের মতো বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান তথ্যের জন্য বিজ্ঞানীরাও আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। অ্যালঝাইমার, পারকিনসন বা অটিজম-এর মতো নানান রোগ বা জটিলতায় আক্রান্তদের রোগের লক্ষণ শনাক্ত করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রযুক্তি। 


একইভাবে আই ট্র্যাকিং ব্যবহার করে ডিসলেক্সিয়া এবং অন্যান্য পড়া বা শেখার জটিলতা শনাক্ত করা হচ্ছে।

.


৩. ভিডিও গেমস এবং বিনোদন


আই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি বিনোদনের উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়। 


ভিডিও গেমসেই এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। যখন এর সাথে ‘হ্যাপটিক ফিডব্যাক’ প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়, তখন আই ট্র্যাকিং-এর মাধ্যমে ইউজাররা এমন অনুভূতি পেতে পারে, যেন তারা সত্যিই গেমটিতে রয়েছে।


‘হ্যাপটিক ফিডব্যাক’ বুঝতে গেলে ‘হ্যাপটিক টেকনোলজি’কে বোঝা দরকার। ‘হ্যাপটিক টেকনোলজি’ ‘থ্রিডি (3D) টাচ’ নামেও পরিচিত। এটা এমন এক প্রযুক্তি, যা ব্যবহারকারীর ওপর বল, কম্পন বা গতি প্রয়োগ করে স্পর্শের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।


#আইট্র্যাকিং #প্রযুক্তি #ভবিষ্যৎ

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট