সিনিয়র শিক্ষক
১৮ জুন, ২০২২ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ ডিজিটাল প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
সামনাসামনি নাকি অনলাইন ট্রেনিং, কোনটা বেশি কার্যকর?
গত দুই দশকে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ‘লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা নতুন অনেক প্রযুক্তি ও শেখার পদ্ধতি তৈরি করেছেন।
এসব পদ্ধতি কর্মীদের ট্রেনিং দেয়ার রীতিতে যেসব বদল এনেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সামনাসামনি দেয়া ট্রেনিং থেকে অনলাইন নির্ভর ট্রেনিং-এর সূচনা। বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকা কর্মীদের কাছে এই দুই ধরনের মাধ্যম থাকার ফলে তারা শেখার ও নতুন তথ্য আয়ত্ত করার অনেক ভালো সুযোগ পাচ্ছে।
.
# ভার্চুয়াল লার্নিং-এর বাড়তে থাকা গুরুত্ব
সাম্প্রতিক মহামারির কারণে ‘লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ বিশেষজ্ঞরা তাদের কোর্স ম্যাটেরিয়াল বা প্রশিক্ষণে নতুন অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য অফিস থেকে দূরে বসে কাজ করা কর্মীরাও এখন অনলাইনে সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন।
এমনকি প্রতিষ্ঠানের ওপরের পর্যায়ে কাজ করা কর্মকর্তাদেরও বোর্ডরুমে সরাসরি মিটিং-এর বদলে এখন অনলাইনে জুম মিটিংয়ে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।
পাশাপাশি অনলাইনে ‘ফিডব্যাক সার্ভে’ও করার দরকার পড়ছে, যার মাধ্যমে মিটিং-এর বাইরেও যেকোনো বিষয়ে তারা নিজেদের মতামত জানাতে পারছেন।
কিন্ত কর্পোরেট জগতে সরাসরি ট্রেনিং-এর চেয়ে কি সম্পূর্ণ অনলাইন নির্ভর ট্রেনিং বেশি ভালো?
বিষয়টা বোঝার জন্য আমাদের এই দুই ধরনের ট্রেনিং-এর মধ্যে মূল পার্থক্য বুঝতে হবে। তবেই আমরা বুঝতে পারবো প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকা কর্মীদের জন্য কোনটা বেশি কার্যকর।
.
# সরাসরি ট্রেনিং-এ কর্মীদের ব্যক্তি পর্যায়ে কার্যকর অভিজ্ঞতা দেয়া যায়
কোনো ক্লাসরুমে যখন একাধিক শিক্ষার্থী থাকে, প্রশিক্ষক তাদের প্রত্যেকের সাথে তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারেন। অর্থাৎ সরাসরি দেয়া ট্রেনিং-এ এমন কিছু বিষয় থাকে, যা অনলাইন ট্রেনিং-এ থাকে না। এর মধ্যে আছে সরাসরি যোগাযোগ বা আই কন্ট্যাক্ট, বডি ল্যাংগুয়েজ এবং যেকোনো সময়ে মন খুলে প্রশ্ন করার মতো বিষয়।
আবার সরাসরি ট্রেনিং করানো হলে শিক্ষার্থীরাও একে অপরকে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ পায়।
যেমন, ক্লাসের ব্রেকের সময় তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে, একসাথে লাঞ্চ করতে পারে আর সবাই মিলে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করতে পারে। এতে দলের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয় এবং নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়ে।
.
# অনলাইন ট্রেনিং নমনীয়, সহজ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ উপায়ে শেখার সুযোগ তৈরি করে
অনলাইন ট্রেনিং-এর উল্লেখযোগ্য সুবিধা হচ্ছে, এটা পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময়ে করা যায়।
তার ওপর কোভিড-১৯-এর কারণে কর্মীরা এখন অনলাইনে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছে। ফলে তারা ফ্লেক্সিবল শিডিউলে আরো বেশি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এভাবে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং নিজেদের সুবিধামতো নতুন কিছু শেখার দিকে মনোযোগ দিতে পারছে।
অনলাইনে প্রশিক্ষণ বা ‘ই-লার্নিং’-এর অন্যতম একটা সুবিধা হচ্ছে ‘পার্সোনালাইজড ট্রেনিং’-এর অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ‘লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিম’ গেমসের মাধ্যমে ট্রেনিং-এর দিকে জোর দেয়। যেমন, ট্রেনিং-এর শুরুতেই শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিখবে, সেটা তাদের নিজেদের পছন্দ করার সুযোগ থাকে। অনেকটা গেমস-এ “Choose your own adventure”-এর মতো। আর এভাবে শিক্ষর্থীদের সামনে দারুণ সব সুযোগ তৈরি হয়, একেবারে নিজের মতো করে শেখার। এতে তারাও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়।
.
# প্রশিক্ষণের কোন পদ্ধতি বেশি ভালো কাজ করে?
প্রকৃত সত্য হচ্ছে, এই দুটি পদ্ধতির কোনোটাই অন্যটার চেয়ে খারাপ না। কে শিখছে এবং কী শিখছে, অর্থাৎ কোর্স ম্যাটেরিয়াল কী, তার ওপর নির্ভর করে কোন পদ্ধতি বেশি ভালো। তবে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে দুটি পদ্ধতির সমন্বয় রাখা। এতে খরচ যেমন বাঁচানো যাবে, তেমনি সবার জন্য নমনীয় এবং ব্যক্তি পর্যায়ে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করাও সম্ভব হবে।