Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৯ জুন, ২০২২ ০৮:৫৮ অপরাহ্ণ

ইলেকট্রনিকস বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন এতো জরুরী

ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য রিসাইকেল কেন এত জরুরি

 

সবাই চায় বাজারের সবচেয়ে নতুন প্রযুক্তির ইলেক্টনিক গ্যাজেট কিনতে। প্রতিমাসে হাজার হাজার নতুন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বাজারে আসছে। কিন্ত কোথায় যাচ্ছে পুরনো ডিভাইসগুলি? অধিকাংশ মানুষই এদের ফেলে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত জমা হয় আবর্জনার স্তূপে।


অনুমান করা হয় পৃথিবীর মোট ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যের কেবল ২০% শতাংশ সঠিকভাবে রিসাইকেল করা হয়। আর বাকি ৮০% গিয়ে জমা হয় আবর্জনার স্তূপে। পরিবেশ দূষণ বর্তমান যুগে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে গেছে। পরিত্যক্ত ইলেক্টনিক ডিভাইসের ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে না পারায় অনেক নতুন অসুখ-বিসুখ এবং স্বাস্থ্য সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে। তাই অনেকগুলি কারণেই আমাদের উচিত ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য রিসাইকেল করা।

.


#১. পরিবেশকে নিরাপদ করার জন্য


ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য পরিবেশ দূষণের মাত্রা অতি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এই গ্যাজেটগুলিতে থাকে অনেক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক। এগুলি যখন বর্জ্য থেকে লিক হয়ে আশেপাশের জলাধারে মিশে যায়, তখন সেখানকার পানি পানের অনুপযুক্ত হয়ে যায়। মানুষ এবং জীবজন্ত এই পানি ব্যবহার করলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে।


আবার এইসব ডিভাইসগুলিতে অনেক ধরনের ধাতুও ব্যবহার করা হয়। যেগুলি বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ে নিকটস্থ নদী বা জলাধারে মিশে সেখানকার পানিও দুষিত করে। ফলে সেসব এলাকায় বসবাসরত গাছপালা, জীবজন্ত, মানুষ, অনুজীবসহ এবং সকল জীবিত বস্তু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই দূষিত পানির কারণে।


এছাড়া কিছু ধাতু আছে যেগুলি বাতাসের অক্সিজেনের সাথে মিশে  বিষ তৈরি করে। এতে বাতাস দূষিত হয়ে যায় এবং শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। যে সব জায়গায় বাতাস বেশি দূষিত হয়, অ্যাজমা এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যাজনিত রোগ দেখা দেয় সেখানে বেড়ে ওঠা শিশুদের।


দস্তা এবং ক্যালসিয়াম হচ্ছে এমন দুইটি ধাতু যা ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যে পাওয়া যায় এবং মানুষের মস্তিষ্কের জন্য এগুলি মারাত্মক ক্ষতিকর।

.

 

#২. বসবাসের জন্য জায়গা খালি করা


প্রতিদিন বর্জ্য ফেলার জন্য ব্যবহৃত জমির পরিমাণ বেড়ে চলছে। মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের থাকার জন্য, ফসল উৎপাদনের জন্য এবং গবাদী পশু পালনের জন্য এখন জমির তীব্র সংকট। ই-বর্জ্যের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে মানুষের থাকার জায়গার পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যেহেতু অনেক জমি বর্জ্যের বিষাক্ত কেমিক্যালে দূষিত হয়ে যায়।


ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যগুলি ঠিকভাবে ফেলে এবং রিসাইকেল করার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর আবাসস্থল রেখে যেতে পারি।

.


#৩. ম্যাটেরিয়াল পুনঃব্যবহার করা

 

আমাদের ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটে নানা ধরনের প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল থাকে, যেমন প্ল্যাস্টিক, ধাতু, বিভিন্ন কেমিক্যাল। ইলেক্ট্রনিক্সের ভেতরে যে সকল উপাদান থাকে এর অধিকাংশই আবার ব্যবহার করা যায়। ডিভাইসগুলিকে খুব সাবধানে আলাদা করার পর এর বিভিন্ন অংশ কাজে লাগানো যায়। যেমন এর ধাতব তারগুলি জোড়া লাগিয়ে আরো ইলেক্ট্রিক্যাল তার তৈরি করা যায়।


কাচ বা গ্লাস তৈরি করা বেশ জটিল। একটা সলিড গ্লাসের টুকরা তৈরি করতে অনেক শক্তি এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়। ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট থেকে গ্লাসের টুকরাগুলি সংগ্রহ করে, সেগুলি অন্য পণ্যে ব্যবহার করা যায়।


ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট দেখে বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল আলাদা করার পর এর পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নতুন পণ্য তৈরি করার খরচ এবং ঝামেলা দুইই কমাতে পারি।

সৌঃ CB

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট