Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৪ জুন, ২০২২ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

ছাড় দেবেন মান পাবেন। ধরে রাখবেন ক্ষয়ে যাবেন

সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমস্যা এড়ানোর ৭টি উপায়

----------------------------------------------------------> চাকরিতে অনেক সময়ই কলিগদের মাঝে বোঝাপড়ায় সমস্যা হয়ে থাকে।

হয়ত আপনার কলিগের সাথে একেবারে বেসিক সব মূল্যবোধে পার্থক্য আছে আপনার, অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে একের কাছে অন্যের ইগো বা পলিসির ধরনই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঠিকমতো প্ল্যানিংয়ের অভাব, সহকর্মীদের মাঝে ভালোমত যোগাযোগ না থাকা, স্টাফ নির্বাচনে গাফিলতি,অথবা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অথবা কাজের চাপএসব কারণেই মূলত সহকর্মীদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সমস্যাগুলি দেখা দেয়। এসব ইস্যু থেকে বের হয়ে আসার জন্য নিচের কয়েকটা নিয়ম আমাদের কাজে আসতে পারে==>

=> প্রথমেই প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবুন

মনে রাখবেন প্রতিষ্ঠান আপনার কর্মক্ষেত্র, এটা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। আমরা অনেকেই ভুল করে প্রতিষ্ঠানকে নিজের সম্পত্তি মনে করি। আর এখান থেকেই যাবতীয় দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। মনে রাখবেন কর্মক্ষেত্রে আপনি কাজ করেন মাত্র ঘন্টা। বাকী ১৬ ঘন্টাই আপনি ব্যক্তিগত সময় কাটান।

=> সমস্যা থাকলে স্বীকার করে নিন এই পুরানো কথা সবাই জানেন, কিন্তু এর গুরুত্বটা অনেকেই এড়িয়ে যেতে চান। একটা সমস্যা দেখা দিলে সেটাকে চিহ্নিত করার জন্য আগে সেই সমস্যার অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে। একই সাথে সমস্যাটাতে আপনার কতটুকু ভূমিকা আছে তাও খেয়াল করেন। মনে রাখবেন ভুল স্বীকার করে নেয়া মানেই হলো সমস্যার অর্ধেক সমাধান হয়ে জাওয়া। . => সবার মাঝে যোগাযোগের রাস্তা তৈরি করুন বহুমুখী সমস্যা সমাধানের জন্য সবাইকে একত্র করা ছাড়া কোনো উপায় নাই আসলে। দরকারে একটা মিটিং ডাকুন, সবাইকে অস্বস্তি ছাড়া কথা বলার সুযোগ দিন; সবাই যাতে নিজেকে একটা টিমের অংশ মনে করে। দেখা যাবে অনেকের কথা শুনার মধ্যেই পারস্পারিক যোগাযোগ বাডবে সেই সাথে সমস্যা সমাধানের চমৎকার কিছু রাস্থা বের হয়ে আসবে পাশাপাশি নিজেদের দূরত্বও কমে যাবে। =>ব্যক্তি নয়, মনোযোগ দিন সমস্যায় সমস্যার পেছনে যেকোনো একজন বা কয়েকজনকে দোষী ধরে নেওয়াটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক লাগে। কিন্তু বাস্তবে একটা প্ররতিষ্ঠানের জটিল স্ট্রাকচারে কেবলমাত্র কিছু ব্যক্তির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনো সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে না। কাজেই কোনো মানুষের স্বভাব পরিবর্তনের চেষ্টা না করে বরং পরিস্থিতির পরিবর্তনে ফোকাস করুন। দেখবেন আঁধার কেটে যাবে। => কারণ খুঁজে বের করুন কলিগদের কেউ হয়তো ঠিক সময়ে জরুরি ইমেইলের রিপ্লাই দেন না। এখানে তাকে অপরাধী বানানোর চাইতে তার পরিস্থিতি বিবেচনা করুন। দেখুন, তার কাজের চাপ বেশি হয়ে গেল কিনা। তার টু-ডু লিস্ট থেকে কোন কাজগুলি সরিয়ে নিলে সবচেয়ে দরকারি জিনিসগুলিতে মনোযোগ দেওয়া তার জন্য সুবিধাজনক হবেএই লাইনে চিন্তা করতে পারেন। => সামনাসামনি দেখা করে কথা বলুন ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে সহকর্মীদের সাথে আলাপের জন্য অফিসের পরিবেশ সবসময় উপযুক্ত হয় না। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ফোনকলে জরুরি আলোচনা কম করাই ভালো, অযথা কনফিউশন এড়ানো যায় এতে। তাই ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস কাজের চিন্তা থেকে সাময়িকভাবে দূরে থাকার জন্য হলেও নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে কলিগদের সাথে সমস্যা নিয়ে আলাপ করুন। এধরনের আলোচনায় কলিগদের সাইকোলজিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। => সব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আপনার না

সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নাই। একটা অফিসের সব ডিপার্টমেন্টের ভেজাল মেটানো আপনার পক্ষে সম্ভব না। নিজের দক্ষতা নিয়ন্ত্রণের জায়গাগুলি আলাদা করে নিন। সমাধানের মতো সমস্যা নির্বাচনেও সতর্ক হন। নয়তো অস্থিরতা আরো বাড়বে। => যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করুন সমস্যা চিহ্নিত করা, সবাইকে ইনভলভ করা এবং সমাধান খুঁজে বের করার পর যত দ্রুত সম্ভব কাজে লেগে পড়ুন। কলিগদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে যত বাড়তি সময় যাবে, আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ততই কমতে থাকবে। তবে কাজে নামার আগে একটা নির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে নেয়া জরুরি। সহকর্মীদের সঙ্গে সমস্যায় না জড়ানোর জন্য আপনি কী করেন? বা যদি সমস্যা তৈরি হয়ে যায় তা নিরসনে সাধারণত কী পন্থা অবলম্বন করেন?

তা নিয়ে ভাবুন।

মনে রাখবেন সমস্যা আপনার সমাধানের রাস্তাও আপনাকেই তৈরি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে একটা সুত্র মনে রাখতে পারেন -

" যত ছাড় দেবেন,ততো মান পাবেন,

যত ধরে রাখবেন, ততো ক্ষয়ে যাবেন"।।

প্রতিবেদনটি সংকলিত।

মোঃ সামছুল হসেন

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট