ইন্সট্রাক্টর
১৯ জুলাই, ২০২২ ১০:৪১ অপরাহ্ণ
ইন্সট্রাক্টর
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অধ্যায়ঃ ষোড়শ অধ্যায়
কলাবতী কন্দজাতীয় ফুল গাছ। এ ফুলের আদিনিবাস আমেরিকার ফ্লোরিডা। যার পরিবার : Cannaceae, উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম : Canna indica. তবে এশিয়াজুড়ে রয়েছে এ ফুলের ব্যাপক বিস্তৃতি। তা ছাড়া বর্তমানে এশিয়ার জনপ্রিয় ফুলগুলোর মধ্যে কলাবতী অন্যতম। আমাদের দেশে বিচিত্র রঙের বিভিন্ন প্রজাতির কলাবতী ফুল চোখে পড়ে। লাল, হলুদ, গোলাপি, কমলা ও কালচে খয়েরি রঙের ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুল গন্ধহীন, পাপড়ি বড়, নমনীয় কোমল, গাছের কাণ্ডের অগ্রভাগে ফুল ধরে এবং একই গাছে একসঙ্গে এক বা একাধিক ফুল ফোটে। ফুটন্ত ফুল ঊর্ধ্বমুখী। কলাবতী ফুল ফোটার মৌসুম গ্রীষ্মকাল থেকে শুরু করে হেমন্তকাল পর্যন্ত। অর্থাৎ শীতকাল বাদে প্রায় সারা বছর কলাবতী ফোটে। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি ফুল দেখা যায়। ফুল ফোটা গাছ দেখতে খুবই মনোরম। গাছ উচ্চতায় প্রায় ৩ থেকে ৫ ফুট হয়ে থাকে। কলাবতীর পাতা বেশ বড় ও পুরু, মধ্যশিরা স্পষ্ট, অগ্রভাগ সূচালো, কলাপাতা সাদৃশ্য। এ ফুলগাছ শীতে মারা যায় এবং বসন্তের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে কন্দ হতে নতুন করে চারা গাছ গজায়। সাধারণত কন্দের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়। বাগানে একবার কন্দ বা চারা রোপণ করা হলে চারা ও গাছের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ঝোপালো আকার ধারণ করে। কলাবতী ফুলগাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু। রোগ, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ একেবারেই কম। প্রায় সব ধরনের মাটিতে কলাবতী ফুলগাছ জন্মে। অনুর্বর, আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে ও হালকা ছায়াযুক্ত স্থানেও এ ফুলগাছ ভালো বাড়তি হয়। তা ছাড়া কম পরিচর্যাতে এরা বেড়ে উঠতে পারে।
কলাবতী ফুলগাছের ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে এবং ফলে বীজ হয়। বাংলাদেশের প্রকৃতি পরিবেশে কলাবতী ফুলগাছ অনায়াসে জন্মাতে দেখা যায়। পারিবারিক বাগান, পুকুর পাড়, রাস্তার ধার, ছাদ ও বারান্দার সামনের টবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানসহ প্রায় সব স্থানে কমবেশি বিভিন্ন রঙের কলাবতী ফুলগাছ চোখে পড়ে।