Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৫ জুন, ২০২৩ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড।

উৎস থেকে এক বা একাধিক গন্তব্যে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটা প্রবাহের দিককে বলা হয় ডেটা ট্রান্সমিশন মোড। যে উপায়ে ডেটা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয় তা ট্রান্সমিশন মোড হিসাবে পরিচিত।ট্রান্সমিশন মোডটি কমিউনিকেশন মোড হিসাবেও পরিচিত। কমিউনিকেশনের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি চ্যানেলের একটি নির্দিস্ট দিক রয়েছে এবং ট্রান্সমিশন মিডিয়া দিক নির্ধারন করে থাকে। সুতরাং, ট্রান্সমিশন মোড একটি দিকনির্দেশক মোড হিসাবেও পরিচিত। ট্রান্সমিশন মোড ফিজিক্যাল লেয়ারে নির্ধারন করা হয়।

সিমপ্লেক্স মোড কী ? 

এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে, যোগাযোগটি একমুখী হয়, অর্থাত্এক দিকে ডেটা প্রবাহিত হয়। একটি ডিভাইস কেবলমাত্র ডেটা প্রেরণ করতে পারে তবে তা গ্রহণ করতে পারে না অথবা এটি ডেটা গ্রহণ করতে পারে তবে ডেটা প্রেরণ করতে পারে না।রেডিও স্টেশনটি একটি সিমপ্লেক্স চ্যানেল কারণ এটি শ্রোতাদের কাছে সংকেত প্রেরণ করে কিন্তু শ্রোতাদের কখনই সংকেত প্রেরণ করতে দেয় না। এছাড়া কীবোর্ড এবং মনিটর সিমপ্লেক্স মোডের উদাহরণ। কারণ একটি কীবোর্ড কেবল ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডেটা গ্রহণ করতে পারে এবং মনিটর কেবল পর্দায় ডেটা প্রদর্শন করতে পারে।

সিমপ্লেক্স মোডের সুবিধা:

সিমপ্লেক্স মোডে, স্টেশনটি কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকে ব্যবহার করতে পারে, ফলে এক সাথে অধিক ডেটা প্রেরণ করা যায়।

 

সিমপ্লেক্স মোডের অসুবিধা:

যোগাযোগ একমুখী, তাই এটি ডিভাইসসমূহের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ নেই।

 

হাফডুপ্লেক্স মোড কী ? 

 

এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে ডেটা উভয় দিকে প্রবাহিত হয় কিন্তু একসাথে নয়। কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকে একই সময়ে একদিকে ব্যবহার করা হয়। এই মোডে ত্রুটি(error) সনাক্তকরণ করা সম্ভব এবং যদি কোনও ত্রুটি(error) দেখা দেয় তবে প্রাপক প্রেরককে পুনরায় ডেটা প্রেরণের জন্য অনুরোধ করে।যেমনঃ ওয়াকি-টকির মাধ্যমে যোগাযোগ।ওয়াকি-টকিতে একটি পক্ষ কথা বলে এবং অন্য পক্ষ শোনে। বিরতি দেওয়ার পরে, অন্য পক্ষ কথা বলে এবং প্রথম পক্ষ শুনে। এক সাথে কথা বললে বিকৃত শব্দ তৈরি হবে যা বোঝা যায় না।

হাফডুপ্লেক্স মোডের সুবিধা:

হাফডুপ্লেক্স মোডে, উভয় ডিভাইসই ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে এবং ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকেও ব্যবহার করতে পারে।

হাফডুপ্লেক্স মোডের অসুবিধা:


হাফডুপ্লেক্স মোডে যখন একটি ডিভাইস ডেটা প্রেরণ করে, তখন অন্যটিকে অপেক্ষা করতে হবে, এতে সঠিক সময়ে ডেটা প্রেরণে বিলম্বের কারণ ঘটায়।


ফুল-ডুপ্লেক্স মোড কী ? 


এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে ডেটা একই সময়ে উভয় দিকে প্রবাহিত হয়। উভয় স্টেশন একই সাথে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে। ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে দুটি সিমপ্লেক্স চ্যানেল থাকে। যার একটি চ্যানেলের ট্র্যাফিক একদিকে প্রবাহিত হয় এবং অন্য চ্যানেলে ট্র্যাফিক বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।যেমন: মোবাইল ফোন, টেলিফোন ইত্যাদি যোগাযোগ ব্যবস্থা।ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের সর্বাধিক সাধারণ উদাহরণ  একটি টেলিফোন নেটওয়ার্ক। যখন দুজন লোক টেলিফোনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে, উভয়ই একই সাথে কথা বলতে এবং শুনতে পারে।


ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের সুবিধা:


v  উভয় স্টেশন একই সাথে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে।


v  ফুল-ডুপ্লেক্স মোডটি ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের দ্রুততম মোড।


ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের অসুবিধা:


ডিভাইসগুলোর মধ্যে যদি কোনও ডেডিকেটেড পথ উপস্থিত না থাকে, তবে কমিউনিকেশন চ্যানেলটির ক্ষমতা দুটি অংশে বিভক্ত হয়

ডেটা ডেলিভারি মোড কী ? 

যেকোন ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমে একটি প্রেরক ডেটা প্রেরণ করলে তা একই সময়ে এক বা একাধিক প্রাপক সহজেই গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু একই সময়ে একাধিক প্রেরক ডেটা প্রেরণ করলে তা এক বা একাধিক প্রাপক গ্রহণ করতে ডেটা কলিশন বা সংঘর্ষ হয়। তাই  প্রাপকের সংখ্যা ডেটা গ্রহনের অধিকারের উপর ভিত্তি করে ডেটা ডেলিভারি বা বিতরণ মোডকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

·         ইউনিকাষ্ট (Unicast)

·         মাল্টিকাস্ট (Multicast)

·         ব্রডকাষ্ট (Broadcast)

 

 ইউনিকাষ্ট (Unicast)

ইউনিকাস্ট পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট বা ওয়ান-টু-ওয়ান ট্রান্সমিশন মোড। অর্থাৎ কোন নেটওয়ার্কের একটি প্রেরক নোড (নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি ডিভাইসকে নোড বলা হয়) থেকে কেবলমাত্র একটি প্রাপক নোডে সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স বা ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে ডেটা প্রেরণ করা হয়। যখন একক প্রেরক এবং একক প্রাপকের অংশগ্রহণ থাকে তখন এই ধরণের মোডে তথ্য স্থানান্তরে অধিকার্যকর।উদাহরণস্বরূপ, একটি নেটওয়ার্কের 10.1.2.0 আইপি অ্যাড্রেস বিশিষ্ট একটি ডিভাইস যখন অন্য নেটওয়ার্কের 20.12.4.2 আইপি অ্যাড্রেস বিশিষ্ট একটি ডিভাইসে ডেটা প্যাকেট প্রেরণ করতে চায়, তখন নিচের চিত্রের মত ইউনিকাস্ট মোড দেখা যায়। এটি নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করার সবচেয়ে সাধারণ ফর্ম। সুইচের মতো ডিভাইসগুলো ইউনিকাস্ট ট্রান্সমিশন ব্যবহার করে। উদাহরণ:

·   একটি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা। (ওয়েবসার্ভার হল প্রেরক এবং আপনার কম্পিউটারটি হল প্রাপক)

· এফটিপি(FTP) সার্ভার থেকে একটি ফাইল ডাউনলোড করা। (এফটিপি(FTP) সার্ভার হল প্রেরক এবং আপনার কম্পিউটারটি হল প্রাপক)

 মাল্টিকাস্ট (Multicast)

মাল্টিকাষ্ট হলো পয়েন্ট-টু-সিলেক্টেড-মাল্টিপয়েন্ট ট্রান্সমিশন সিস্টেম অথবা ওয়ান-টু-সিলেক্টেড-মাল্টিপয়েন্ট ট্রান্সমিশন মোড। অর্থাৎ নেটওয়ার্কের একটি প্রেরক নোড থেকে নেটওয়ার্কের শুধুমাত্র সিলেক্টেড নোডে সিমপ্লেক্স বা হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে ডেটা প্রেরণ করা হয়, ডেটা ট্রান্সমিশনের এরুপ মোডকে বলা হয় মাল্টিকাষ্ট। এই ট্রান্সমিশন সিস্টেমে নেটওয়ার্কের সকল নোড ডেটা পায় না।এটি অধিক কার্যকর হয় যখন একটি নেটওয়ার্কের কোনও ডিভাইস ডেটা প্যাকেট অন্য নেটওয়ার্কের নির্দিস্ট কিছু ডিভাইসে স্থানান্তর করতে চায়। যেমন: মোবাইল কনফারেন্স, অডিও , ভিডিও কনফারেন্স ইত্যাদি।এছাড়া IGMP,MPLS প্রোটোকলসমূহ মাল্টিকাস্ট ট্রান্সমিশনের ধারণা ব্যবহার করে।

ব্রডকাষ্ট (Broadcast)

 ব্রডকাষ্ট হলো পয়েন্ট-টু-মাল্টিপয়েন্ট ট্রান্সমিশন সিস্টেম অথবা ওয়ান-টু-অল ট্রান্সমিশন মোড।  অর্থাৎ কোন নেটওয়ার্কের একটি প্রেরক নোড থেকে নেটওয়ার্কের সকল নোডে সিমপ্লেক্স মোডে ডেটা প্রেরণ করা হয়, ডেটা ট্রান্সমিশনের এরুপ মোডকে বলা হয় ব্রডকাষ্ট।এটি অধিক কার্যকর হয় যখন একটি নেটওয়ার্কের কোনও ডিভাইস ডেটা প্যাকেট অন্য নেটওয়ার্কের সকল ডিভাইসে স্থানান্তর করতে চায়।এই মোডটি মূলত ভিডিও এবং অডিও স্থানান্তরের জন্য টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেমেও ব্যবহৃত হয়। হাব বা ব্রিজের মতো ডিভাইসগুলোও এটি ব্যবহার করে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট