Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৪ জুলাই, ২০২৩ ০৯:২২ অপরাহ্ণ

মানসিংহ ও ঈসা খাঁ

ঈশা খাঁ-মানসিংহের যুদ্ধক্ষেত্র, বিপন্ন স্মৃতিচিহ্নগফরগাঁওয়ে দখলদাররা মুছে ফেলছে ৪শ’ বছরের ইতিহাস ঈশা খাঁ-মানসিংহের সেই যুদ্ধক্ষেত্র

গিয়াস উদ্দিন মামুদ শাহের রাজত্বের শেষভাগে- ১৫৩৬ সালের কাছাকাছি সময়ে ঈশা খাঁর জন্ম হয়। গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যুর পর সলিমান খাঁ নিজেকে সুলতানের  বৈধ উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন। সেই সময় দিল্লীতে পাঠান শের শাহ শূরী তখ্্ দখল  করেছেন। সলিমান খাঁ পাঠানদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন। বাংলার পাঠান শাসক ইসলাম শাহ শূরীর সঙ্গে যুদ্ধে তিনি নিহত হলেন। তার দুই নাবালক পুত্র ঈশা খাঁ আর ইসমাইল খাঁকে ক্রীতদাস হিসাবে বিক্রি করে তুরানে পাঠিয়ে দেয়া হলো।
ইসলাম শাহর মৃত্যুর পর বাংলায় কররানী বংশের শাসন শুরু হয়। তাজ খাঁ কররানী বাংলার শাসক হলে ঈশা খাঁর মামা (অনেকের মতে তার কাকা) তার অধীনে চাকরি নেন। সুলতানের রাজদফতরে থাকার সুবাদে সুযোগ বুঝে খোঁজখবর করে দুই ভাগ্নে- ঈশা খাঁ আর ইসমাইল খাঁকে তুরান থেকে বাংলায় ফিরিয়ে আনেন।
এরপর থেকে শুরু হয় ঈশা খাঁর অন্য এক জীবন। তাকে প্রতিশোধ নেয়ার দীক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা হয়। ঈশা খাঁ হয়ে ওঠেন ন্যায়পরায়ণ শাসক, যোদ্ধা। মোগল আমলে বাংলার বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ঈশা খাঁর বীরত্ব ৪০০ বছর ধরেই মুখে মুখে। মোগল সেনানায়ক মানসিংহকে লড়াইয়ে হারিয়ে তিনি অক্ষুণরেখেছিলেন বাংলার স্বাধীনতা। এই লড়াই যেখানে সংঘটিত  হয়েছিল সেটি ছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার  টাঙ্গাব গ্রামে। স্থানটি শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

নদীর পূর্ব তীরে ছিল রাজা মানসিংহের রাজধানী টোক নগরী (বর্তমানে কাপাসিয়া উপজেলার উত্তর-পূর্বাংশ)। মানসিংহ ১৫৯৫ সালে রাজস্থান থেকে তার রাজধানী টোক নগরীতে স্থানান্তর করে নিয়ে আসে। ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যার সঙ্গমস্থলে ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে ছিল টাঙ্গাব গ্রাম ও টোক নগর। ব্রহ্মপুত্র নদের অপরপারে ঈশা খাঁর বিখ্যাত দুর্গ এগারসিন্দুর। এটি পড়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, গফরগাঁও উপজেলার টাঙ্গাব গ্রামে ঈশা খাঁ-মানসিংহের যুদ্ধ হয়েছে ৪২০ বছর আগে। এ সময়টুকুর মধ্যে রাজনৈতিক অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। কিন্তু এ স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আজও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যা হয়েছে তা হলো ঐতিহাসিক  যুদ্ধের এই ময়দান দখলে ভূমি খেকোদের মহোৎসব। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৭২ সালে  গড়ে তোলা হয় সেখানে একটি শহীদ মিনার। বিগত ৫০ বছরে এর আশপাশের সব জায়গা দখলের কারণে শুধু শহীদ বেদিটুকু নিয়ে মিনারটি যুগ যুগ ধরে সাুক্ষী হয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের প্রায় ১৬ একর খাসজমির একাংশ বেদখল হয়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি। বাকি অংশে ফসল চাষ করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কিছু উৎসাহী মানুষ ছোট্ট একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেস্মৃতির পাতায় একটু হলেও আঁচড় কাটতে সক্ষম হলেও তা আজ দখলদারিত্বের কারণে সেটিও উপড়ে ফেলা হয়েছে।
ঈশা খাঁর অনুপস্থিতিতে মানসিংহ আক্রমণ করেন ঈশা খাঁর দুর্গ এগারসিন্দুর। সংবাদ পেয়ে ঈশা খাঁ দুর্গ রক্ষায় ছুটে আসেন। কিন্তু তার  সৈন্যরা এতই ক্লান্ত ছিল যে, তারা যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ঈশা খাঁ মানসিংহকে একক যুদ্ধের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট